হাইপারসনিক ক্ষেপণাস্ত্রের পরীক্ষা চালালো উত্তর কোরিয়া

বৈশ্বিক জটিল রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে হাইপারসনিক ক্ষেপণাস্ত্রের পরীক্ষামূলক উৎক্ষেপণ করেছে উত্তর কোরিয়া। এ পরীক্ষামূলক ক্ষেপণাস্ত্র উৎক্ষেপণ সরাসরি তদারকি করেছেন দেশটির প্রেসিডেন্ট কিম জং উন।ক্ষেপণাস্ত্রগুলো উত্তর কোরিয়ার পূর্বদিকে সমুদ্রে প্রায় ১,০০০ কিলোমিটার দূরের লক্ষ্যবস্তুতে আঘাত হানে। উত্তর কোরিয়ার রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যম কোরিয়ান সেন্ট্রাল নিউজ এজেন্সি (কেসিএনএ) সোমবার (৫ জানুয়ারি) এই তথ্য নিশ্চিত করেছে। তবে এক দিন আগেই দক্ষিণ কোরিয়া ও প্রতিবেশী দেশগুলো জানিয়েছে, তারা উত্তর কোরিয়ার একাধিক ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র উৎক্ষেপণ শনাক্ত করেছে। রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যমে দেওয়া বিবৃতিতে দেশটির প্রেসিডেন্ট কিম জং উন জানিয়েছেন, সাম্প্রতিক ভূ-রাজনৈতিক সংকট ও জটিল আন্তর্জাতিক পরিস্থিতির প্রেক্ষাপটে দেশের পারমাণবিক প্রতিরোধক্ষমতা জোরদারের জন্য এমন পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। কিম জং উন বলেন, ‘আজকের উৎক্ষেপণ পরীক্ষার মাধ্যমে জাতীয় প্রতিরক্ষার জন্য একটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ প্রযুক্তিগত কাজ সম্পন্ন হয়েছে। আমাদের সামরিক সক্ষমতা বিশেষ করে আক্রমণাত্মক অস্ত্র ব্যবস্থা নিরন্তর উন্নত করতে হবে। সাম্প্রতিক ভূ-রাজনৈতিক সংকট ও বি

হাইপারসনিক ক্ষেপণাস্ত্রের পরীক্ষা চালালো উত্তর কোরিয়া

বৈশ্বিক জটিল রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে হাইপারসনিক ক্ষেপণাস্ত্রের পরীক্ষামূলক উৎক্ষেপণ করেছে উত্তর কোরিয়া। এ পরীক্ষামূলক ক্ষেপণাস্ত্র উৎক্ষেপণ সরাসরি তদারকি করেছেন দেশটির প্রেসিডেন্ট কিম জং উন।ক্ষেপণাস্ত্রগুলো উত্তর কোরিয়ার পূর্বদিকে সমুদ্রে প্রায় ১,০০০ কিলোমিটার দূরের লক্ষ্যবস্তুতে আঘাত হানে।

উত্তর কোরিয়ার রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যম কোরিয়ান সেন্ট্রাল নিউজ এজেন্সি (কেসিএনএ) সোমবার (৫ জানুয়ারি) এই তথ্য নিশ্চিত করেছে। তবে এক দিন আগেই দক্ষিণ কোরিয়া ও প্রতিবেশী দেশগুলো জানিয়েছে, তারা উত্তর কোরিয়ার একাধিক ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র উৎক্ষেপণ শনাক্ত করেছে।

রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যমে দেওয়া বিবৃতিতে দেশটির প্রেসিডেন্ট কিম জং উন জানিয়েছেন, সাম্প্রতিক ভূ-রাজনৈতিক সংকট ও জটিল আন্তর্জাতিক পরিস্থিতির প্রেক্ষাপটে দেশের পারমাণবিক প্রতিরোধক্ষমতা জোরদারের জন্য এমন পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে।

কিম জং উন বলেন, ‘আজকের উৎক্ষেপণ পরীক্ষার মাধ্যমে জাতীয় প্রতিরক্ষার জন্য একটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ প্রযুক্তিগত কাজ সম্পন্ন হয়েছে। আমাদের সামরিক সক্ষমতা বিশেষ করে আক্রমণাত্মক অস্ত্র ব্যবস্থা নিরন্তর উন্নত করতে হবে। সাম্প্রতিক ভূ-রাজনৈতিক সংকট ও বিভিন্ন আন্তর্জাতিক পরিস্থিতির কারণে শক্তিশালী ও নির্ভরযোগ্য পারমাণবিক প্রতিরোধ বজায় রাখা বা সম্প্রসারণ করা একটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ কৌশল।’

কেসিএনএ জানিয়েছে, প্রস্তুতি যাচাই, ক্ষেপণাস্ত্র বাহিনীর অপারেশনাল দক্ষতা বৃদ্ধি এবং দেশের যুদ্ধ-প্রতিরোধ ক্ষমতার কার্যকারিতা মূল্যায়নের লক্ষ্যে রোববার (৪ ডিসেম্বর) হাইপারসনিক অস্ত্র ব্যবস্থার এই মহড়া পরিচালনা করা হয়।

এদিকে উত্তর কোরিয়া এমন সময় ক্ষেপণাস্ত্র পরীক্ষা চালিয়েছে যখন দক্ষিণ কোরিয়ার প্রেসিডেন্ট লি জে মিয়ং চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিংয়ের সঙ্গে শীর্ষ বৈঠকের উদ্দেশ্যে বেইজিংয়ে যাচ্ছেন। সাম্প্রতিক সপ্তাহগুলোতে দূরপাল্লার কৌশলগত ক্রুজ ক্ষেপণাস্ত্র ও নতুন আকাশ প্রতিরক্ষা ক্ষেপণাস্ত্রের পরীক্ষাও চালিয়েছে উত্তর কোরিয়া। পাশাপাশি তাদের প্রথম পারমাণবিক শক্তিচালিত সাবমেরিন নির্মাণে অগ্রগতির ছবিও প্রকাশ করেছে।

এই ক্ষেপণাস্ত্র উৎক্ষেপণের আগে রোববার (৪ ডিসেম্বর) ভেনেজুয়েলায় মার্কিন হামলা এবং দেশটির প্রেসিডেন্ট নিকোলাস মাদুরোকে অপহরণের নিন্দা জানিয়েছে উত্তর কোরিয়া। পিয়ংইয়ং এটিকে সার্বভৌমত্বের গুরুতর লঙ্ঘন আখ্যা দিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের দুর্বৃত্ত ও নৃশংস চরিত্রের উদাহরণ বলে উল্লেখ করে।

দক্ষিণ কোরিয়ার কোরিয়া ইনস্টিটিউট ফর ন্যাশনাল ইউনিফিকেশনের বিশেষজ্ঞ হং মিন মনে করেন, ভেনেজুয়ায় যুক্তরাষ্ট্রের হামলার প্রতিক্রিয়ায় উত্তর কোরিয়া এই পরীক্ষা চালিয়েছে। রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যমে প্রকাশিত ছবির বিশ্লেষণ অনুযায়ী, ক্ষেপণাস্ত্রটি সম্ভবত ‘হোয়াসং-১১’ যা গত অক্টোবরে এক সামরিক কুচকাওয়াজে প্রদর্শিত হয়েছিল।

কেএম 

What's Your Reaction?

like

dislike

love

funny

angry

sad

wow