হামলা চালালে এই অঞ্চল ছাড়তে বাধ্য হবে, ইরানি সামরিক বাহিনীর হুঁশিয়ারি

মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের হুমকির প্রতিক্রিয়ায় কড়া হুঁশিয়ারি দিয়েছে ইরান। মধ্যপ্রাচ্যে যুক্তরাষ্ট্র ও তার মিত্রদের সামরিক ও জ্বালানি অবকাঠামোয় ভয়াবহ হামলার হুঁশিয়ারি দিয়েছে দেশটি। এছাড়াও হামলা হলে হরমুজ প্রণালি নিয়ে ট্রাম্পের হিসাব-নিকাশের উল্টোটা হবে বলেও জানিয়েছে দেশটির সামরিক বাহিনী। ইরানের সশস্ত্র বাহিনীর পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, ওয়াশিংটন কোনো ভুল পদক্ষেপ নিলে তেহরান এমন ব্যবস্থা নেবে, যাতে যুক্তরাষ্ট্র ও তার সহযোগীরা এই অঞ্চলের তেল ও গ্যাস সম্পদ থেকে দীর্ঘকাল ‘বঞ্চিত’ থাকে এবং অঞ্চল ছাড়তে বাধ্য হয়। ইরানের আধা-সরকারি বার্তা সংস্থা তাসনিম নিউজ এজেন্সিতে প্রকাশিত এক বিবৃতিতে সশস্ত্র বাহিনীর যৌথ কমান্ডের মুখপাত্র ইব্রাহিম জোলফাগারি দাবি করেন, ‘অপারেশন ট্রু প্রমিজ ৪’-এর আওতায় ইরান আজ মধ্যপ্রাচ্যজুড়ে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের বিভিন্ন স্বার্থসংশ্লিষ্ট লক্ষ্যবস্তুতে ব্যালেস্টিক মিসাইল, ক্রুজ মিসাইল এবং ড্রোন হামলা চালিয়েছে। বিশেষ করে ইসরায়েলের মধ্যাঞ্চল ও দক্ষিণাঞ্চলের ৩০টিরও বেশি কৌশলগত স্থানে নিখুঁতভাবে আঘাত হানা হয়েছে। সম্প্রতি ডোনাল্ড ট্রাম্প ইরানের বিদ্যুৎ কেন্দ্র ও অন্যা

হামলা চালালে এই অঞ্চল ছাড়তে বাধ্য হবে, ইরানি সামরিক বাহিনীর হুঁশিয়ারি
মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের হুমকির প্রতিক্রিয়ায় কড়া হুঁশিয়ারি দিয়েছে ইরান। মধ্যপ্রাচ্যে যুক্তরাষ্ট্র ও তার মিত্রদের সামরিক ও জ্বালানি অবকাঠামোয় ভয়াবহ হামলার হুঁশিয়ারি দিয়েছে দেশটি। এছাড়াও হামলা হলে হরমুজ প্রণালি নিয়ে ট্রাম্পের হিসাব-নিকাশের উল্টোটা হবে বলেও জানিয়েছে দেশটির সামরিক বাহিনী। ইরানের সশস্ত্র বাহিনীর পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, ওয়াশিংটন কোনো ভুল পদক্ষেপ নিলে তেহরান এমন ব্যবস্থা নেবে, যাতে যুক্তরাষ্ট্র ও তার সহযোগীরা এই অঞ্চলের তেল ও গ্যাস সম্পদ থেকে দীর্ঘকাল ‘বঞ্চিত’ থাকে এবং অঞ্চল ছাড়তে বাধ্য হয়। ইরানের আধা-সরকারি বার্তা সংস্থা তাসনিম নিউজ এজেন্সিতে প্রকাশিত এক বিবৃতিতে সশস্ত্র বাহিনীর যৌথ কমান্ডের মুখপাত্র ইব্রাহিম জোলফাগারি দাবি করেন, ‘অপারেশন ট্রু প্রমিজ ৪’-এর আওতায় ইরান আজ মধ্যপ্রাচ্যজুড়ে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের বিভিন্ন স্বার্থসংশ্লিষ্ট লক্ষ্যবস্তুতে ব্যালেস্টিক মিসাইল, ক্রুজ মিসাইল এবং ড্রোন হামলা চালিয়েছে। বিশেষ করে ইসরায়েলের মধ্যাঞ্চল ও দক্ষিণাঞ্চলের ৩০টিরও বেশি কৌশলগত স্থানে নিখুঁতভাবে আঘাত হানা হয়েছে। সম্প্রতি ডোনাল্ড ট্রাম্প ইরানের বিদ্যুৎ কেন্দ্র ও অন্যান্য অবকাঠামো লক্ষ্যবস্তু করার যে হুমকি দিয়েছেন, তার কড়া জবাব দিয়েছে ইরানি সামরিক সূত্র। তাসনিমের প্রশ্নের জবাবে জানানো হয়, ট্রাম্পের এই হুমকি কোনো শক্তি নয়, বরং তার চরম হতাশা ও অসহায়ত্বের বহিঃপ্রকাশ। এদিকে ইরানের এক সামরিক সূত্র অত্যন্ত কড়া ভাষায় সতর্ক করে দিয়ে বলেছেন, ‘ট্রাম্প যদি এক গর্ত থেকে অন্য গর্তে পড়তে চান, তবে আমরা তার জন্য এমন এক ‘ব্ল্যাক হোল’ বা কৃষ্ণগহ্বর তৈরি করে রেখেছি যেখান থেকে তার বেরিয়ে আসা অসম্ভব হবে।’ ইরান জানিয়েছে, ট্রাম্পের সম্ভাব্য যেকোনো ‘পাগলামির’ পাল্টা জবাব দিতে তারা কিছু ‘চমৎকার চমক’ প্রস্তুত করে রেখেছে। ইরানের নতুন লক্ষ্যবস্তুর তালিকায় এখন সৌদি আরবের আরামকো ও ইয়ানবু তেল স্থাপনা এবং সংযুক্ত আরব আমিরাতের ফুজাইরাহ পাইপলাইন অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। ইরান স্পষ্ট করে দিয়েছে, মার্কিন প্রেসিডেন্ট কোনো অপরাধ করলে যুক্তরাষ্ট্র ও তার অংশীদারদের ওপর ব্যাপক হামলা চালাতে তারা কুণ্ঠাবোধ করবে না। হরমুজ প্রণালি নিয়ে ট্রাম্পের হিসাব-নিকাশকেও চ্যালেঞ্জ জানিয়েছে তেহরান। সামরিক সূত্রের দাবি, ট্রাম্প ভাবছেন হুমকির মাধ্যমে হরমুজ প্রণালি খুলে যাবে এবং তেলের দাম কমবে। কিন্তু বাস্তবতা হবে তার উল্টো। ইরান সতর্ক করেছে, ট্রাম্প যদি তার হুমকির বাস্তবায়ন করেন, তবে বিশ্ববাজারে তেলের দাম ব্যারেল প্রতি ২০০ ডলারে গিয়ে ঠেকবে। বর্তমানে ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যকার এই উত্তেজনা বিশ্ব রাজনীতি ও অর্থনীতিতে এক চরম অনিশ্চয়তার সৃষ্টি করেছে। তেহরান তাদের এই ‘গোল্ডেন স্ট্র্যাটেজি’র মাধ্যমে সাফ জানিয়ে দিয়েছে, সার্বভৌমত্ব রক্ষায় তারা যেকোনো স্তরের সামরিক ও অর্থনৈতিক যুদ্ধে লড়তে প্রস্তুত।

What's Your Reaction?

like

dislike

love

funny

angry

sad

wow