হামলার লক্ষ্য নির্ধারণে যেভাবে ইরানকে সহায়তা দিচ্ছে রাশিয়া

মধ্যপ্রাচ্যে চলমান যুদ্ধের প্রেক্ষাপটে রাশিয়া গোপনে ইরানকে স্যাটেলাইট তথ্য সরবরাহ করে সহায়তা করছে বলে অভিযোগ ইউক্রেনের। ইউক্রেনীয় গোয়েন্দা সংস্থার এক মূল্যায়নে বলা হয়েছে, রুশ স্যাটেলাইটগুলো মধ্যপ্রাচ্যের বিভিন্ন সামরিক ঘাঁটি ও গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনার ওপর অন্তত ২৪ বার নজরদারি চালিয়েছে। ২১ থেকে ৩১ মার্চের মধ্যে ১১টি দেশে মোট ৪৬টি স্থাপনা পর্যবেক্ষণ করা হয়, যার মধ্যে মার্কিন সামরিক ঘাঁটি, বিমানবন্দর ও তেলক্ষেত্র অন্তর্ভুক্ত। প্রতিবেদন অনুযায়ী, এসব স্থানের ওপর নজরদারির কয়েক দিনের মধ্যেই ইরান ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলা চালিয়েছে—যা একটি স্পষ্ট প্যাটার্ন নির্দেশ করে। একটি পশ্চিমা সামরিক সূত্র এবং আঞ্চলিক নিরাপত্তা সূত্রও জানিয়েছে, রাশিয়ার স্যাটেলাইট তৎপরতা অস্বাভাবিকভাবে বেড়েছে এবং সংগৃহীত তথ্য ইরানের সঙ্গে ভাগ করা হয়েছে। বিশেষভাবে উল্লেখ করা হয়েছে, সৌদি আরবের কিং খালিদ মিরিটারি সিটি এলাকায় একাধিকবার নজরদারি চালানো হয়েছে, যেখানে যুক্তরাষ্ট্রের তৈরি থাড ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা শনাক্তের চেষ্টা করা হয়েছে বলে ধারণা করা হচ্ছে। এছাড়া তুরস্ক, জর্ডান, কুয়েত ও সংযুক্ত আরব আমিরাতসহ বিভিন্ন দেশেও

হামলার লক্ষ্য নির্ধারণে যেভাবে ইরানকে সহায়তা দিচ্ছে রাশিয়া

মধ্যপ্রাচ্যে চলমান যুদ্ধের প্রেক্ষাপটে রাশিয়া গোপনে ইরানকে স্যাটেলাইট তথ্য সরবরাহ করে সহায়তা করছে বলে অভিযোগ ইউক্রেনের।

ইউক্রেনীয় গোয়েন্দা সংস্থার এক মূল্যায়নে বলা হয়েছে, রুশ স্যাটেলাইটগুলো মধ্যপ্রাচ্যের বিভিন্ন সামরিক ঘাঁটি ও গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনার ওপর অন্তত ২৪ বার নজরদারি চালিয়েছে। ২১ থেকে ৩১ মার্চের মধ্যে ১১টি দেশে মোট ৪৬টি স্থাপনা পর্যবেক্ষণ করা হয়, যার মধ্যে মার্কিন সামরিক ঘাঁটি, বিমানবন্দর ও তেলক্ষেত্র অন্তর্ভুক্ত।

প্রতিবেদন অনুযায়ী, এসব স্থানের ওপর নজরদারির কয়েক দিনের মধ্যেই ইরান ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলা চালিয়েছে—যা একটি স্পষ্ট প্যাটার্ন নির্দেশ করে।

একটি পশ্চিমা সামরিক সূত্র এবং আঞ্চলিক নিরাপত্তা সূত্রও জানিয়েছে, রাশিয়ার স্যাটেলাইট তৎপরতা অস্বাভাবিকভাবে বেড়েছে এবং সংগৃহীত তথ্য ইরানের সঙ্গে ভাগ করা হয়েছে।

বিশেষভাবে উল্লেখ করা হয়েছে, সৌদি আরবের কিং খালিদ মিরিটারি সিটি এলাকায় একাধিকবার নজরদারি চালানো হয়েছে, যেখানে যুক্তরাষ্ট্রের তৈরি থাড ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা শনাক্তের চেষ্টা করা হয়েছে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

এছাড়া তুরস্ক, জর্ডান, কুয়েত ও সংযুক্ত আরব আমিরাতসহ বিভিন্ন দেশেও নজরদারি চালানো হয়েছে। একইসঙ্গে গুরুত্বপূর্ণ জলপথ হরমুজ প্রণালিতে রুশ স্যাটেলাইটের সক্রিয় উপস্থিতি লক্ষ্য করা গেছে।

ইউক্রেনের দাবি, স্যাটেলাইট তথ্য বিনিময়ের জন্য রাশিয়া ও ইরানের মধ্যে একটি স্থায়ী যোগাযোগ চ্যানেল রয়েছে, যেখানে তেহরানে অবস্থানরত রুশ সামরিক গোয়েন্দারাও যুক্ত থাকতে পারে।

এদিকে সাইবার ক্ষেত্রেও দুই দেশের সহযোগিতা বেড়েছে বলে অভিযোগ। ইউক্রেনীয় মূল্যায়নে বলা হয়, রুশ ও ইরানি হ্যাকার গ্রুপগুলো টেলিগ্রামের মাধ্যমে সমন্বয় করছে এবং উপসাগরীয় অঞ্চলের অবকাঠামো ও টেলিযোগাযোগ খাতে হামলা বাড়িয়েছে।

তবে যুক্তরাষ্ট্রের পক্ষ থেকে এই অভিযোগ খারিজ করা হয়েছে। হোয়াইট হাউজের এক মুখপাত্র বলেন, কোনো দেশ থেকে পাওয়া সহায়তা যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক কার্যক্রমের সাফল্যে প্রভাব ফেলছে না।

২০২২ সালে ইউক্রেনে রাশিয়ার আগ্রাসনের পর থেকেই মস্কো ও তেহরানের সামরিক সম্পর্ক ঘনিষ্ঠ হয়েছে।

সূত্র: রয়টার্স

এমএসএম

What's Your Reaction?

like

dislike

love

funny

angry

sad

wow