হাসপাতালে ‘ইনজেকশন দেওয়ার পরপরই’ রোগীর মৃত্যু, স্বজনদের উত্তেজনা

বরিশাল শের-ই-বাংলা মেডিকেল কলেজ (শেবাচিম) হাসপাতালে নার্স কর্তৃক ঘুমের ইনজেকশন দেওয়ার পরপরই আব্দুর রহিম (৫৫) নামের এক রোগীর মৃত্যুর অভিযোগ উঠেছে।  স্বজনদের দাবি, ভুল ইনজেকশন প্রয়োগের কারণে তার মৃত্যু হয়েছে। এ ঘটনায় রোগীর মৃত্যুর পরপরই চিকিৎসকেরা তার ভর্তি ও চিকিৎসা ব্যবস্থাপত্রের (প্রেসক্রিপশন) ফাইল গায়েব করে ফেলেছেন বলেও অভিযোগ উঠেছে। শনিবার (৪ জুলাই) রাত সাড়ে ১০টার দিকে বরিশাল শের-ই-বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের পুরুষ মেডিসিন ইউনিট-৪-এ এই ঘটনা ঘটে। এ নিয়ে গভীর রাত পর্যন্ত হাসপাতালে মৃতের স্বজন এবং আউটসোর্সিং কর্মচারীদের মধ্যে উত্তেজনা সৃষ্টি হয়। তবে, ভুল চিকিৎসায় রোগীর মৃত্যুর অভিযোগ অস্বীকার করেছেন মেডিসিন বিভাগের দায়িত্বরত চিকিৎসক। মৃত আব্দুর রহিম (৫৫) পিরোজপুরের স্বরূপকাঠি উপজেলার মাহমুদকাঠী গ্রামের বাসিন্দা। গত ৩ জুলাই স্বরূপকাঠী হাসপাতাল থেকে তাকে জ্বর এবং প্রস্রাবের পথে ইনফেকশন নিয়ে বরিশাল শের-ই-বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয় বলে জানিয়েছেন মৃত আব্দুর রহিমের মেয়ে এবং স্ত্রী। মৃত আব্দুর রহিমের মেয়ে জানান, তার বাবা হঠাৎ মারা যাওয়ার মতো সমস্যা ছিল না। স্বরূপকাঠি হাসপ

হাসপাতালে ‘ইনজেকশন দেওয়ার পরপরই’ রোগীর মৃত্যু, স্বজনদের উত্তেজনা

বরিশাল শের-ই-বাংলা মেডিকেল কলেজ (শেবাচিম) হাসপাতালে নার্স কর্তৃক ঘুমের ইনজেকশন দেওয়ার পরপরই আব্দুর রহিম (৫৫) নামের এক রোগীর মৃত্যুর অভিযোগ উঠেছে। 

স্বজনদের দাবি, ভুল ইনজেকশন প্রয়োগের কারণে তার মৃত্যু হয়েছে। এ ঘটনায় রোগীর মৃত্যুর পরপরই চিকিৎসকেরা তার ভর্তি ও চিকিৎসা ব্যবস্থাপত্রের (প্রেসক্রিপশন) ফাইল গায়েব করে ফেলেছেন বলেও অভিযোগ উঠেছে।

শনিবার (৪ জুলাই) রাত সাড়ে ১০টার দিকে বরিশাল শের-ই-বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের পুরুষ মেডিসিন ইউনিট-৪-এ এই ঘটনা ঘটে। এ নিয়ে গভীর রাত পর্যন্ত হাসপাতালে মৃতের স্বজন এবং আউটসোর্সিং কর্মচারীদের মধ্যে উত্তেজনা সৃষ্টি হয়। তবে, ভুল চিকিৎসায় রোগীর মৃত্যুর অভিযোগ অস্বীকার করেছেন মেডিসিন বিভাগের দায়িত্বরত চিকিৎসক।

মৃত আব্দুর রহিম (৫৫) পিরোজপুরের স্বরূপকাঠি উপজেলার মাহমুদকাঠী গ্রামের বাসিন্দা। গত ৩ জুলাই স্বরূপকাঠী হাসপাতাল থেকে তাকে জ্বর এবং প্রস্রাবের পথে ইনফেকশন নিয়ে বরিশাল শের-ই-বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয় বলে জানিয়েছেন মৃত আব্দুর রহিমের মেয়ে এবং স্ত্রী।

মৃত আব্দুর রহিমের মেয়ে জানান, তার বাবা হঠাৎ মারা যাওয়ার মতো সমস্যা ছিল না। স্বরূপকাঠি হাসপাতালের চিকিৎসকরা জানিয়েছিলেন বাবার প্রস্রাবের পথে সমস্যার কারণে জ্বর আসে। তবে বড় কোনো সমস্যা না। পরে স্বরূপকাঠি থেকে ৩ জুলাই শের-ই-বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে তাকে ভর্তি করা হয়।

তিনি বলেন, মৃত্যুর কিছু সময় আগে বাবা নিজেই হেঁটে পাশের একটি বেডে গিয়ে বসেন। তখন ওই বেডের রোগী ভেবে বাবার শরীরে ইনজেকশন পুশ করতে চান। তখন তাকে জানানো হয় বাবা এই বেডের রোগী না। এরপর আমরা বাবাকে আমাদের বেডে এনে নিয়ে এলে নার্স সেখানে এসে কোনো কারণ ছাড়াই ইনজেকশন পুশ করেন। এ ক্ষেত্রে ভর্তির ব্যবস্থাপত্রও দেখার প্রয়োজন মনে করেননি নার্স।

আব্দুর রহিমের স্ত্রী জানান, যখন ইনজেকশন পুশ করা হয় তখনই রোগী আব্দুর রহিমের অবস্থা খারাপ হয়ে যায়। তিনি খিচুনি দিয়ে নিস্তেজ হয়ে পড়েন। দ্রুত সেই নার্সকে ডাকতে গেলে তিনি জানান, রোগী বেঁচে নেই। নার্স রোগীর কাছে না গিয়েই কীভাবে তার মৃত্যু নিশ্চিত হলেন- এমন প্রশ্ন তোলেন রোগীর স্বজনরা। পরে চিকিৎসক এসে রোগীর মৃত্যু নিশ্চিত করেন। এরপর পরই ক্ষুব্ধ হন রোগীর স্বজনরা। তারা উত্তেজিত হলে দায়িত্বরত ইন্টার্ন চিকিৎসকরাও রুমের মধ্যে আত্মগোপন করেন।

নাম প্রকাশ না করার শর্তে রোগীর শরীরে ইনজেকশন পুশ করা নার্স জানান, চিকিৎসকরা রোগীর শরীরে ঘুমের ইনজেকশন পুশ করার জন্য ব্যবস্থাপত্রে লিখে দিয়েছেন। সেই অনুযায়ী রোগীর শরীরে সেডিল ইনজেকশন পুশ করা হয়েছে। এখানে নার্সদের কোনো ভুল নেই। নার্সরা শুধু অর্ডার ফলো করেছেন। তাছাড়া রোগীর লোকেরাই ডাক্তারের রুমে গিয়ে ইনজেকশন লিখিয়ে এনেছেন। আর রোগীর ব্যবস্থাপত্রও মৃত্যু সনদ লেখার জন্য চিকিৎসক নিয়ে যান। 

তবে চিকিৎসকের রুমে গিয়ে ইনজেকশন লিখিয়ে আনার বিষয়ে নার্সদের বক্তব্য ভিত্তিহীন দাবি করেছেন মৃত ব্যক্তির স্ত্রী এবং সন্তান।

মেডিসিন বিভাগের সংশ্লিষ্ট ইউনিটের সহকারী রেজিস্ট্রার ডা. অতনু বলেন, রোগীর জ্বর, চিনতে না পারা এবং শ্বাসকষ্ট সমস্যা নিয়ে হাসপাতালে ভর্তি হন। এসব সমস্যার কারণে রোগীর খিচুনি হতে পারে। আর এটা এ ধরনের রোগীর সাধারণ উপসর্গ। এ সমস্যা তৈরি হলে রোগীর লোক এসে আমাদের জানান। তখন রোগীকে ডায়াজেপাম ইনজেকশন দেওয়ার জন্য ব্যবস্থাপত্রে লিখে দেন ডিউটি ডক্টর। নার্স আইভি না করে ইএম (শিরায়) ইনজেকশন দিয়েছেন। এ কারণে রোগী মারা যাওয়ার কথা না। এই রোগীর মস্তিস্কে ইনফেকশন ছিল। এ কারণে কার্ডিয়াকঅ্যারেস্ট হয়ে রোগী মারা যেতে পারেন। এখানে চিকিৎসক বা নার্সদের কোনো ভুল দেখছি না।

What's Your Reaction?

like

dislike

love

funny

angry

sad

wow