হাসিনাকে সংবাদ সম্মেলনের সুযোগ দেওয়া ভারতের শিষ্টাচারবহির্ভূত আচরণ
শেখ হাসিনাকে সংবাদ সম্মেলন করার সুযোগ দিয়ে বাংলাদেশের সঙ্গে ভারত শিষ্টাচারবহির্ভূত আচরণ প্রদর্শন করেছে উল্লেখ করে এর তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানিয়েছেন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর সেক্রেটারি জেনারেল মিয়া গোলাম পরওয়ার। শুক্রবার (৭ আগস্ট) এক বিবৃতিতে তিনি এ প্রতিবাদ জানান। এটি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে জামায়াতের অফিসিয়াল পেজে প্রকাশ করা হয়। বিবৃতিতে গোলাম পরওয়ার বলেন, ‘বাংলাদেশ প্রতিবেশী ভারতসহ বিশ্বের সব দেশের সঙ্গে সমমর্যাদার ভিত্তিতে পারস্পরিক সম্মানজনক কূটনৈতিক সম্পর্ক এবং দ্বিপক্ষীয় স্বার্থ রক্ষায় অঙ্গীকারাবদ্ধ। একই সঙ্গে বাংলাদেশ সব দেশের স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্বের প্রতি শ্রদ্ধাশীল। কিন্তু দিল্লিতে বসে শেখ হাসিনার মতো একজন দণ্ডপ্রাপ্ত পলাতক আসামির বাংলাদেশের জনগণের বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্রে লিপ্ত থাকা এবং সেই ষড়যন্ত্র বন্ধে বাংলাদেশের কূটনৈতিক আহ্বানকে ভারত সরকার আমলে না নিয়ে তাকে আশ্রয় দেওয়া অব্যাহত রাখা আন্তর্জাতিক নিয়মনীতি ও কূটনৈতিক শিষ্টাচারের চরম লঙ্ঘন। আমরা ভারত সরকারের এমন কূটনৈতিক আচরণের তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানাচ্ছি।’ ‘শেখ হাসিনার নেতৃত্বাধীন ফ্যাসিস্ট সরকার বিগত সাড়ে ১৬ বছর
শেখ হাসিনাকে সংবাদ সম্মেলন করার সুযোগ দিয়ে বাংলাদেশের সঙ্গে ভারত শিষ্টাচারবহির্ভূত আচরণ প্রদর্শন করেছে উল্লেখ করে এর তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানিয়েছেন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর সেক্রেটারি জেনারেল মিয়া গোলাম পরওয়ার।
শুক্রবার (৭ আগস্ট) এক বিবৃতিতে তিনি এ প্রতিবাদ জানান। এটি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে জামায়াতের অফিসিয়াল পেজে প্রকাশ করা হয়।
বিবৃতিতে গোলাম পরওয়ার বলেন, ‘বাংলাদেশ প্রতিবেশী ভারতসহ বিশ্বের সব দেশের সঙ্গে সমমর্যাদার ভিত্তিতে পারস্পরিক সম্মানজনক কূটনৈতিক সম্পর্ক এবং দ্বিপক্ষীয় স্বার্থ রক্ষায় অঙ্গীকারাবদ্ধ। একই সঙ্গে বাংলাদেশ সব দেশের স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্বের প্রতি শ্রদ্ধাশীল। কিন্তু দিল্লিতে বসে শেখ হাসিনার মতো একজন দণ্ডপ্রাপ্ত পলাতক আসামির বাংলাদেশের জনগণের বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্রে লিপ্ত থাকা এবং সেই ষড়যন্ত্র বন্ধে বাংলাদেশের কূটনৈতিক আহ্বানকে ভারত সরকার আমলে না নিয়ে তাকে আশ্রয় দেওয়া অব্যাহত রাখা আন্তর্জাতিক নিয়মনীতি ও কূটনৈতিক শিষ্টাচারের চরম লঙ্ঘন। আমরা ভারত সরকারের এমন কূটনৈতিক আচরণের তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানাচ্ছি।’
‘শেখ হাসিনার নেতৃত্বাধীন ফ্যাসিস্ট সরকার বিগত সাড়ে ১৬ বছর বাংলাদেশের মানুষের ওপর চরম জুলুম-নির্যাতন, হত্যা, খুন ও গুম চালিয়েছে। সবশেষ ২০২৪ সালের জুলাই-আগস্টে দেশপ্রেমিক জনগণের ওপর গণহত্যা চালিয়েছে। এই গণহত্যায় প্রায় দেড় হাজার মানুষ নিহত এবং ৩০ হাজারের বেশি মানুষ আহত হয়েছেন, যা জাতীয় ও আন্তর্জাতিক গণমাধ্যম, জাতিসংঘের ফ্যাক্ট-ফাইন্ডিং মিশন, আন্তর্জাতিক মানবাধিকার কমিশনসহ বিভিন্ন সংগঠনের প্রতিবেদনে উঠে এসেছে,’ যোগ করা হয় বিবৃতিতে।
জামায়াতের সেক্রেটারি জেনারেল বলেন, ‘শেখ হাসিনাকে ফেরত চেয়ে বাংলাদেশের অন্তর্বর্তীকালীন সরকার একাধিকবার ভারত সরকারের কাছে চিঠি দিয়েছে। কিন্তু সেই আহ্বান উপেক্ষা করে পলাতক শেখ হাসিনাকে আশ্রয় দিয়ে ভারত সরকার মূলত বাংলাদেশের পরিবর্তে নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগকে পৃষ্ঠপোষকতা দিয়ে আসছে বলে প্রতীয়মান হচ্ছে। একই সঙ্গে ভারত ও বাংলাদেশের মধ্যে বিদ্যমান দ্বিপক্ষীয় বন্দী বিনিময় চুক্তিও উপেক্ষা করা হচ্ছে। আমরা প্রত্যাশা করি, ভারত সরকার তার অবস্থান সংশোধন করবে এবং দণ্ডপ্রাপ্ত শেখ হাসিনাকে বাংলাদেশের হাতে তুলে দেবে।’
তিনি বিবৃতিতে আরও বলেন, ‘জুলাই গণঅভ্যুত্থানের দ্বিতীয় বর্ষপূর্তি পালিত হলেও বর্তমান সরকার খুনি শেখ হাসিনাকে দেশে ফিরিয়ে আনতে ব্যর্থ হয়েছে। ফলে পালিয়ে থেকে দেশ ও দেশের জনগণের বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্র করার সুযোগ পাচ্ছে খুনি শেখ হাসিনা। পলাতক শেখ হাসিনাকে দেশে ফেরত আনতে বর্তমান সরকারকে কার্যকর উদ্যোগ গ্রহণের আহ্বান জানাচ্ছি। ইন্টারপোলের মাধ্যমে রেড নোটিশ জারি করে দণ্ডপ্রাপ্ত হাসিনাকে ফিরিয়ে আনার ব্যবস্থা করতে হবে। একই সঙ্গে জাতিসংঘের সহযোগিতা নিতে হবে। সরকার যদি কূটনৈতিক শৈথিল্য প্রদর্শন করে, তাহলে জনগণের কাঠগড়ায় সরকারকে কঠোর জবাবদিহির মুখোমুখি হতে হবে।’
চব্বিশের অভ্যুত্থানে হাজারো প্রাণ ও রক্তের বিনিময়ে অর্জিত নতুন বাংলাদেশে কোনো ফ্যাসিবাদ কায়েম, পুরোনো ফ্যাসিবাদের পুনরুত্থান, বিকাশ কিংবা আড়ালে-আবডালে কোনো তৎপরতা চালানোর সুযোগ বিপ্লবীরা দেবে না বলে উল্লেখ করেন গোলাম পরওয়ার।
তিনি বলেন, ‘খুনি শেখ হাসিনা ভারতে বসে বাংলাদেশের বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্রের যে ছায়া ফেলতে চায়, তা সফল হবে না। আমরা বাংলাদেশের মুক্তিকামী জনগণকে সদা সজাগ থেকে ফ্যাসিস্টদের ষড়যন্ত্র প্রতিহত করতে ঐক্যবদ্ধ থাকার আহ্বান জানাচ্ছি। একই সঙ্গে জুলাই গণঅভ্যুত্থানের দ্বিতীয় বর্ষে পুরোনো ফ্যাসিবাদের শিকড় উপড়ে ফেলে নব্য ফ্যাসিবাদের বিরুদ্ধে সোচ্চার হয়ে ঐক্যবদ্ধ, ইনসাফপূর্ণ, দুর্নীতিমুক্ত এবং সবার জন্য নিরাপদ বাংলাদেশ গড়ে তুলতে এগিয়ে আসার জন্য দেশবাসীর প্রতি উদাত্ত আহ্বান জানাচ্ছি।’
একিউএফ/
What's Your Reaction?
