হৃদরোগ-স্ট্রোক সম্পর্কে আগেই সতর্কবার্তা দেয় লিঙ্গ

ইরেকটাইল ডিসফাংশন (উত্থানজনিত সমস্যা) হৃদ্‌রোগ, স্ট্রোক, ডায়াবেটিস এবং ডিমেনশিয়ার মতো গুরুতর রোগের প্রাথমিক সতর্কবার্তা হতে পারে। গবেষকদের মতে, রোগী ও চিকিৎসক—উভয়েরই এ বিষয়টিকে আরও গুরুত্বের সঙ্গে দেখা উচিত। ইরেকটাইল ডিসফাংশনকে নীরব মহামারি বলা যেতে পারে। বিভিন্ন জরিপ অনুযায়ী, ৪০ বছরের বেশি বয়সী অর্ধেকেরও বেশি পুরুষ কোনো না কোনো পর্যায়ে এ সমস্যায় ভোগেন। তবে খুব কম মানুষই এ নিয়ে পরিবারের সদস্য বা প্রিয়জনদের সঙ্গে কথা বলতে স্বাচ্ছন্দ্যবোধ করেন। এ বিষয়টি আলোচনায় এলেও অনেক সময় তা হাস্যরসের বিষয় হয়ে দাঁড়ায়। কিন্তু সাম্প্রতিক গবেষণাগুলো বলছে, একজন পুরুষের সামগ্রিক স্বাস্থ্যের গুরুত্বপূর্ণ সূচক হতে পারে তার লিঙ্গের কার্যক্ষমতা। ইরেকটাইল ডিসফাংশন ডায়াবেটিস, হার্ট অ্যাটাক, স্ট্রোক এমনকি ডিমেনশিয়ার মতো রোগের আগাম সতর্কসংকেত হতে পারে। রোমের ইউনিভার্সিটি অব টর ভারগাটার যৌনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞ ইমানুয়েলে জান্নিনি বলেন, এটি যেন ‘কয়লাখনির ক্যানারি পাখি’—অর্থাৎ বড় বিপদের আগাম বার্তাবাহক। তার মতে, ইরেকটাইল ডিসফাংশনের ভালোভাবে পরীক্ষা-নিরীক্ষা করা হলে চিকিৎসকেরা অনেক গুরুতর রোগ আগেভাগেই শনাক্ত করতে পারেন।

হৃদরোগ-স্ট্রোক সম্পর্কে আগেই সতর্কবার্তা দেয় লিঙ্গ

ইরেকটাইল ডিসফাংশন (উত্থানজনিত সমস্যা) হৃদ্‌রোগ, স্ট্রোক, ডায়াবেটিস এবং ডিমেনশিয়ার মতো গুরুতর রোগের প্রাথমিক সতর্কবার্তা হতে পারে। গবেষকদের মতে, রোগী ও চিকিৎসক—উভয়েরই এ বিষয়টিকে আরও গুরুত্বের সঙ্গে দেখা উচিত।

ইরেকটাইল ডিসফাংশনকে নীরব মহামারি বলা যেতে পারে। বিভিন্ন জরিপ অনুযায়ী, ৪০ বছরের বেশি বয়সী অর্ধেকেরও বেশি পুরুষ কোনো না কোনো পর্যায়ে এ সমস্যায় ভোগেন। তবে খুব কম মানুষই এ নিয়ে পরিবারের সদস্য বা প্রিয়জনদের সঙ্গে কথা বলতে স্বাচ্ছন্দ্যবোধ করেন।

এ বিষয়টি আলোচনায় এলেও অনেক সময় তা হাস্যরসের বিষয় হয়ে দাঁড়ায়। কিন্তু সাম্প্রতিক গবেষণাগুলো বলছে, একজন পুরুষের সামগ্রিক স্বাস্থ্যের গুরুত্বপূর্ণ সূচক হতে পারে তার লিঙ্গের কার্যক্ষমতা। ইরেকটাইল ডিসফাংশন ডায়াবেটিস, হার্ট অ্যাটাক, স্ট্রোক এমনকি ডিমেনশিয়ার মতো রোগের আগাম সতর্কসংকেত হতে পারে।

রোমের ইউনিভার্সিটি অব টর ভারগাটার যৌনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞ ইমানুয়েলে জান্নিনি বলেন, এটি যেন ‘কয়লাখনির ক্যানারি পাখি’—অর্থাৎ বড় বিপদের আগাম বার্তাবাহক। তার মতে, ইরেকটাইল ডিসফাংশনের ভালোভাবে পরীক্ষা-নিরীক্ষা করা হলে চিকিৎসকেরা অনেক গুরুতর রোগ আগেভাগেই শনাক্ত করতে পারেন।

তবে যৌনস্বাস্থ্য নিয়ে কথা বলতে অনীহা থাকায় অনেক পুরুষই এই গুরুত্বপূর্ণ সুযোগ হারাচ্ছেন।

ইরেকটাইল ডিসফাংশনের প্রকৃত বিস্তার নির্ধারণ করা কঠিন, কারণ এটি কীভাবে সংজ্ঞায়িত ও পরিমাপ করা হচ্ছে তার ওপর ফলাফল নির্ভর করে। বিভিন্ন গবেষণায় প্রাপ্তবয়স্ক পুরুষদের মধ্যে এ সমস্যার হার ৩ শতাংশ থেকে ৭৬.৫ শতাংশ পর্যন্ত পাওয়া গেছে।

তবে প্রায় এক হাজার ২০০ জনকে নিয়ে পরিচালিত একটি বড় জরিপে দেখা গেছে, ৪০ বছর বয়সী পুরুষদের ৩৯ শতাংশ নিয়মিত কিছু মাত্রায় উত্থানজনিত সমস্যার সম্মুখীন হন। ৭০ বছর বয়সে এ হার বেড়ে দাঁড়ায় ৬৭ শতাংশে।

মূলত এটি অনেক ক্ষেত্রেই রক্তপ্রবাহের সমস্যা।

লিঙ্গের ভেতরে কর্পোরা ক্যাভারনোসা নামে দুটি স্পঞ্জের মতো অংশ থাকে। যৌন উত্তেজনার সময় মস্তিষ্ক সংকেত পাঠালে লিঙ্গের ধমনিগুলোর চারপাশের পেশি শিথিল হয় এবং সেখানে রক্তপ্রবাহ বৃদ্ধি পায়। রক্ত জমে যাওয়ার ফলে লিঙ্গ শক্ত হয়।

এই রক্তপ্রবাহে বাধা সৃষ্টি হলে উত্থান অর্জন বা ধরে রাখা কঠিন হয়ে পড়ে।

অনেক ক্ষেত্রে এর পেছনে মানসিক কারণও থাকে। চাপ বা উদ্বেগের সময় অ্যাড্রেনালিন ও কর্টিসল হরমোনের প্রভাবে রক্তনালি সংকুচিত হয়ে যায়, ফলে লিঙ্গে পর্যাপ্ত রক্ত পৌঁছায় না। দীর্ঘস্থায়ী মানসিক চাপ টেস্টোস্টেরন উৎপাদনও কমিয়ে দিতে পারে, যা যৌন আকাঙ্ক্ষা হ্রাস করে।

এ ছাড়া মানসিক অস্থিরতা বা উদ্বেগের কারণে যৌনমিলনে মনোযোগ ধরে রাখাও কঠিন হয়ে পড়ে।

বিবর্তনের দৃষ্টিকোণ থেকে এর একটি ব্যাখ্যা রয়েছে। বিপজ্জনক পরিস্থিতিতে শরীর যাতে বেঁচে থাকার জন্য শক্তি সংরক্ষণ করতে পারে, সে কারণেই চাপের সময় যৌন উত্তেজনা কমে যায়।

হৃদ্‌রোগ ও মস্তিষ্কের সঙ্গে সম্পর্ক

অনেক ক্ষেত্রে ইরেকটাইল ডিসফাংশন আরও বড় স্বাস্থ্যসমস্যার ইঙ্গিত দেয়।

এর একটি কারণ হলো অ্যাথেরোস্ক্লেরোসিস, যেখানে রক্তনালি শক্ত ও সংকুচিত হয়ে যায়। এর ফলে হৃদ্‌রোগের ঝুঁকি বেড়ে যায়। যেহেতু লিঙ্গের ধমনিগুলো শরীরের সবচেয়ে সরু রক্তনালিগুলোর মধ্যে অন্যতম, তাই সেগুলো আগে ক্ষতিগ্রস্ত হয়।

প্রায় ১ লাখ ৫৫ হাজার মানুষের তথ্য বিশ্লেষণ করে করা এক গবেষণায় দেখা গেছে, ইরেকটাইল ডিসফাংশনে ভোগা পুরুষদের করোনারি হৃদ্‌রোগ হওয়ার ঝুঁকি ৫৯ শতাংশ বেশি এবং স্ট্রোক হওয়ার ঝুঁকি ৩৪ শতাংশ বেশি।

যুক্তরাজ্যের ম্যানচেস্টার মেট্রোপলিটন ইউনিভার্সিটির প্রজননবিজ্ঞান বিশেষজ্ঞ মাইকেল ক্যারল বলেন, ভালো উত্থানক্ষমতা আসলে ভালো রক্তনালির স্বাস্থ্যেরই একটি সূচক।

কিছু গবেষণায় আরও দেখা গেছে, ইরেকটাইল ডিসফাংশন ভবিষ্যতে জ্ঞানীয় ক্ষমতা হ্রাস বা ডিমেনশিয়ারও পূর্বাভাস হতে পারে। তাইওয়ানের একটি গবেষণায় দেখা যায়, যাদের এ সমস্যা ছিল, তাদের মধ্যে সাত বছরের মধ্যে ডিমেনশিয়া হওয়ার ঝুঁকি ৬৮ শতাংশ বেশি।

ডায়াবেটিসের সঙ্গে শক্তিশালী সম্পর্ক

ডায়াবেটিসের ঝুঁকিতে থাকা ব্যক্তিদের জন্য ইরেকটাইল ডিসফাংশন পর্যবেক্ষণ করা বিশেষ গুরুত্বপূর্ণ।

রক্তে অতিরিক্ত শর্করা রক্তনালি ও স্নায়ুর ক্ষতি করতে পারে। এর ফলে রক্তনালির স্থিতিস্থাপকতা কমে যায় এবং লিঙ্গে রক্তপ্রবাহ বাধাগ্রস্ত হয়।

স্পেনের সান্ট পাও রিসার্চ ইনস্টিটিউটের গবেষক বোগদান ভ্লাচো বলেন, ডায়াবেটিস ও ইরেকটাইল ডিসফাংশনের সম্পর্ক অত্যন্ত শক্তিশালী। টাইপ-২ ডায়াবেটিসে আক্রান্ত পুরুষদের এ সমস্যায় ভোগার সম্ভাবনা অন্যদের তুলনায় প্রায় তিন গুণ বেশি।”

গবেষণায় আরও দেখা গেছে, ডায়াবেটিসের পাশাপাশি ইরেকটাইল ডিসফাংশন থাকলে স্নায়ু ক্ষতি, চোখের রেটিনার সমস্যা, ক্ষত সারতে দেরি হওয়া এবং অঙ্গচ্ছেদের ঝুঁকিও বাড়ে।

তবুও ডায়াবেটিস রোগীদের ক্ষেত্রে নিয়মিতভাবে এ সমস্যার বিষয়ে জিজ্ঞাসা করা এখনো চিকিৎসাব্যবস্থার অংশ হয়ে ওঠেনি।

চিকিৎসা ও করণীয়

যুক্তরাজ্যের ইউরোলজি ফাউন্ডেশনের এক জরিপে দেখা গেছে, লজ্জা ও অস্বস্তির কারণে ইরেকটাইল ডিসফাংশনে ভোগা অর্ধেকের বেশি পুরুষ চিকিৎসা নেন না।

বিশেষজ্ঞদের মতে, এ সমস্যা দেখা দিলে অবশ্যই চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া উচিত। এতে যেমন সমস্যার সমাধান পাওয়া যেতে পারে, তেমনি শরীরের অন্য কোনো গুরুতর রোগও আগেভাগে শনাক্ত হতে পারে।

চিকিৎসকের কাছে গেলে তিনি উচ্চ রক্তচাপ, অ্যাথেরোস্ক্লেরোসিস, স্থূলতা বা ডায়াবেটিসের মতো ঝুঁকিপূর্ণ কারণগুলো পরীক্ষা করতে পারেন। অনেক ক্ষেত্রে স্বাস্থ্যকর খাদ্যাভ্যাস, নিয়মিত ব্যায়াম এবং রক্তে শর্করার মাত্রা নিয়ন্ত্রণের মাধ্যমে উল্লেখযোগ্য উন্নতি সম্ভব।

সূত্র: বিবিসি

এমএসএম

What's Your Reaction?

like

dislike

love

funny

angry

sad

wow