১ জুলাই থেকে ম্যানুয়াল চালান বন্ধ, সরকারি সব অর্থ জমা হবে ‘এ-চালানে’

সরকারি রাজস্ব ও অন্যান্য প্রাপ্তি আদায়ে আগামী ১ জুলাই থেকে সম্পূর্ণভাবে ম্যানুয়াল চালান পদ্ধতি বন্ধ করে শতভাগ ‘এ-চালান’ ব্যবস্থা চালুর সিদ্ধান্ত নিয়েছে সরকার। একই সঙ্গে সরকারি দপ্তরগুলোর বাণিজ্যিক ব্যাংকে থাকা সব অর্থ আগামী ৩০ জুনের মধ্যে ট্রেজারি সিঙ্গেল অ্যাকাউন্টে (টিএসএ) স্থানান্তরের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। গত ১৮ মে অর্থ মন্ত্রণালয়ের অর্থ বিভাগের সরকারি ঋণ ও আর্থিক সম্পদ ব্যবস্থাপনা অনুবিভাগ থেকে এ সংক্রান্ত একটি পরিপত্র জারি করা হয়। উপসচিব ইশরাত জাবিন স্বাক্ষরিত পরিপত্রে বলা হয়, সরকারের নগদ অর্থ ব্যবস্থাপনা শক্তিশালী করা, সরকারি অর্থের স্বচ্ছতা নিশ্চিত করা এবং ঋণের সুদজনিত ব্যয় কমানোর লক্ষ্যেই এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। পরিপত্রে বলা হয়, বাংলাদেশের সংবিধান অনুযায়ী সরকারের সব রাজস্ব ও অন্যান্য প্রাপ্তি ‘সংযুক্ত তহবিল’ অথবা ‘প্রজাতন্ত্রের সরকারি হিসাব’-এ জমা হওয়ার বিধান রয়েছে। ট্রেজারি রুলস অনুযায়ী এসব অর্থ বাংলাদেশ ব্যাংকে রক্ষিত ট্রেজারি সিঙ্গেল অ্যাকাউন্টের (টিএসএ) মাধ্যমে পরিচালিত হওয়ার কথা। এ হিসাবের বাইরে অন্য কোনো ব্যাংক হিসাবে সরকারি অর্থ লেনদেনের সুযোগ নেই। তবে সরকার লক্ষ্য করেছে

১ জুলাই থেকে ম্যানুয়াল চালান বন্ধ, সরকারি সব অর্থ জমা হবে ‘এ-চালানে’

সরকারি রাজস্ব ও অন্যান্য প্রাপ্তি আদায়ে আগামী ১ জুলাই থেকে সম্পূর্ণভাবে ম্যানুয়াল চালান পদ্ধতি বন্ধ করে শতভাগ ‘এ-চালান’ ব্যবস্থা চালুর সিদ্ধান্ত নিয়েছে সরকার। একই সঙ্গে সরকারি দপ্তরগুলোর বাণিজ্যিক ব্যাংকে থাকা সব অর্থ আগামী ৩০ জুনের মধ্যে ট্রেজারি সিঙ্গেল অ্যাকাউন্টে (টিএসএ) স্থানান্তরের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

গত ১৮ মে অর্থ মন্ত্রণালয়ের অর্থ বিভাগের সরকারি ঋণ ও আর্থিক সম্পদ ব্যবস্থাপনা অনুবিভাগ থেকে এ সংক্রান্ত একটি পরিপত্র জারি করা হয়।

উপসচিব ইশরাত জাবিন স্বাক্ষরিত পরিপত্রে বলা হয়, সরকারের নগদ অর্থ ব্যবস্থাপনা শক্তিশালী করা, সরকারি অর্থের স্বচ্ছতা নিশ্চিত করা এবং ঋণের সুদজনিত ব্যয় কমানোর লক্ষ্যেই এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।

পরিপত্রে বলা হয়, বাংলাদেশের সংবিধান অনুযায়ী সরকারের সব রাজস্ব ও অন্যান্য প্রাপ্তি ‘সংযুক্ত তহবিল’ অথবা ‘প্রজাতন্ত্রের সরকারি হিসাব’-এ জমা হওয়ার বিধান রয়েছে। ট্রেজারি রুলস অনুযায়ী এসব অর্থ বাংলাদেশ ব্যাংকে রক্ষিত ট্রেজারি সিঙ্গেল অ্যাকাউন্টের (টিএসএ) মাধ্যমে পরিচালিত হওয়ার কথা। এ হিসাবের বাইরে অন্য কোনো ব্যাংক হিসাবে সরকারি অর্থ লেনদেনের সুযোগ নেই।

তবে সরকার লক্ষ্য করেছে, এখনো কিছু দপ্তর পুরোনো ম্যানুয়াল কোড ব্যবহার করে অর্থ জমা দিচ্ছে। আবার অনেক ক্ষেত্রে টিএসএ ব্যবহার না করে বিভিন্ন বাণিজ্যিক ব্যাংকে নিজস্ব নামে হিসাব খুলে সরকারি অর্থ জমা রাখা হচ্ছে। এতে সরকারের প্রকৃত নগদ অর্থের অবস্থান নিরূপণ কঠিন হয়ে পড়ছে। একই সঙ্গে ব্যাংকে পড়ে থাকা অর্থ সরকার প্রয়োজনে ব্যবহার করতে না পারায় অভ্যন্তরীণ ও বৈদেশিক উৎস থেকে উচ্চসুদে ঋণ নিতে হচ্ছে।

পরিপত্রে আরও বলা হয়, ২০১৮-১৯ অর্থবছর থেকে সরকারি রাজস্ব ও অন্যান্য প্রাপ্তি অনলাইনে জমা দেওয়ার জন্য ৫৬ ডিজিটের কোডভিত্তিক ‘এ-চালান’ ব্যবস্থা চালু করা হয়েছে। এখন থেকে সব মন্ত্রণালয়, বিভাগ, অধিদপ্তর ও অধীনস্থ অফিসকে বাধ্যতামূলকভাবে এ ব্যবস্থার আওতায় আসতে হবে।

সরকারের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, কোনো দপ্তরে এ-চালানের বাইরে আলাদা রাজস্ব আদায় বা জমা ব্যবস্থাপনা চালু থাকলে তা অবিলম্বে বাতিল করতে হবে। পাশাপাশি বাণিজ্যিক ব্যাংকে সরকারি দপ্তরগুলোর রক্ষিত সব অর্থ আগামী ৩০ জুন ২০২৬-এর মধ্যে সংশ্লিষ্ট অর্থনৈতিক কোড ব্যবহার করে এ-চালানের মাধ্যমে বাংলাদেশ ব্যাংকে থাকা সরকারের টিএসএ হিসাবে স্থানান্তর নিশ্চিত করতে হবে।

পরিপত্রে বলা হয়েছে, এ আদেশ অবিলম্বে কার্যকর হবে।

এমএএস/ইএ

What's Your Reaction?

like

dislike

love

funny

angry

sad

wow