১০ দিনের মধ্যে আদালতে অভিযোগপত্র দাখিল

চট্টগ্রামের আনোয়ারায় মা-মেয়ে হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় ১০ দিনের মধ্যে আদালতে অভিযোগপত্র দাখিল করেছে পুলিশ। বৃহস্পতিবার (২৫ জুন) দুপুরে আনোয়ারা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. জুনায়েত চৌধুরী বিষয়টি নিশ্চিত করেন।  গত ১৩ জুন রাত আনুমানিক ১০টার দিকে উপজেলার পরৈকোড়া ইউনিয়নের চেনামতি গ্রামের নিজ বসতঘরে এনি বড়ুয়া ও তার মেয়ে প্রিয়ন্তী বড়ুয়াকে ছুরিকাঘাতে হত্যা করা হয়। এ সময় পিয়াস বড়ুয়া নামে তাদের পাঁচ বছরের শিশুও গুরুতর আহত হয়।  আলোচিত এঘটনায় প্রিয়ন্তী বড়ুয়ার স্বামী সুজন বড়ুয়া বাদী হয়ে প্রতিবেশি তেজু বড়ুয়াকে (৪০) প্রধান আসামি করে আনোয়ারা থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন। পুলিশ প্রযুক্তিগত তদন্ত, আসামির ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি এবং ময়নাতদন্তের প্রতিবেদনের ওপর ভিত্তি করে দ্রুততম সময়ের মধ্যে এই তদন্ত শেষ করা মাত্র ১০ দিনের মধ্যে বুধবার আদালতে অভিযোগপত্র দাখিল করেন। পুলিশ জানায়, তদন্ত প্রতিবেদন অনুযায়ী চারজন পুলিশ সদস্যসহ ২২ জন সাক্ষীর জবানবন্দি গ্রহণ করা হয়। আসামি আদালতে ফৌজদারি কার্যবিধির ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দেন। ময়নাতদন্তের রিপোর্ট, হাসপাতালের রিপোর্ট, আলামত, সাক্ষ

১০ দিনের মধ্যে আদালতে অভিযোগপত্র দাখিল

চট্টগ্রামের আনোয়ারায় মা-মেয়ে হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় ১০ দিনের মধ্যে আদালতে অভিযোগপত্র দাখিল করেছে পুলিশ। বৃহস্পতিবার (২৫ জুন) দুপুরে আনোয়ারা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. জুনায়েত চৌধুরী বিষয়টি নিশ্চিত করেন। 

গত ১৩ জুন রাত আনুমানিক ১০টার দিকে উপজেলার পরৈকোড়া ইউনিয়নের চেনামতি গ্রামের নিজ বসতঘরে এনি বড়ুয়া ও তার মেয়ে প্রিয়ন্তী বড়ুয়াকে ছুরিকাঘাতে হত্যা করা হয়। এ সময় পিয়াস বড়ুয়া নামে তাদের পাঁচ বছরের শিশুও গুরুতর আহত হয়। 

আলোচিত এঘটনায় প্রিয়ন্তী বড়ুয়ার স্বামী সুজন বড়ুয়া বাদী হয়ে প্রতিবেশি তেজু বড়ুয়াকে (৪০) প্রধান আসামি করে আনোয়ারা থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন। পুলিশ প্রযুক্তিগত তদন্ত, আসামির ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি এবং ময়নাতদন্তের প্রতিবেদনের ওপর ভিত্তি করে দ্রুততম সময়ের মধ্যে এই তদন্ত শেষ করা মাত্র ১০ দিনের মধ্যে বুধবার আদালতে অভিযোগপত্র দাখিল করেন।

পুলিশ জানায়, তদন্ত প্রতিবেদন অনুযায়ী চারজন পুলিশ সদস্যসহ ২২ জন সাক্ষীর জবানবন্দি গ্রহণ করা হয়। আসামি আদালতে ফৌজদারি কার্যবিধির ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দেন। ময়নাতদন্তের রিপোর্ট, হাসপাতালের রিপোর্ট, আলামত, সাক্ষপ্রমাণ ও স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দিসহ সব তথ্য-উপাত্ত বিশ্লেষণ করে মামলার তদন্ত সম্পন্ন করা হয়। 

অভিযোগপত্রে দণ্ডবিধির ৩২৩, ৩০৭ ও ৩০২ ধারায় আসামির বিরুদ্ধে অভিযোগ আনা হয়েছে। তদন্তে উঠে আসে সুজন বড়ুয়ার কাছে থাকা তেজু বড়ুয়ার স্ট্যাম্প ছিনিয়ে নিতে গিয়ে প্রথমে সুজন বড়ুয়ার স্ত্রী এনি বড়ুয়াকে ছুরিকাঘাত করে এসময় তার মেয়ে প্রিয়ন্তী বড়ুয়া এগিয়ে আসলে তাকেও ছুরিকাঘাত করা হয়। হামলার সময় তাদের সঙ্গে থাকা ৫ বছরের শিশু গুরুতর আহত হয়।

পুলিশ জানায়, গত ১৩ জুন রাত আনুমানিক ১০টার দিকে আনোয়ারা উপজেলার পরৈকোড়া ইউনিয়নের চেনামতি গ্রামে নিজ বসতঘরে এনি বড়ুয়া ও তার মেয়ে প্রিয়ন্তী বড়ুয়াকে ছুরিকাঘাতে হত্যা করা হয়। এ সময় পিয়াস বড়ুয়া নামে পাঁচ বছরের শিশুও গুরুতর আহত হয়। ঘটনার নম্বর ৯৯৯-এ ফোন পেয়ে আনোয়ারা থানা পুলিশ ও জেলা গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি) ঘটনাস্থলে গিয়ে যৌথ অভিযান শুরু করেন। তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তায় ঘটনার মূল আসামি তেজু বড়ুয়াকে (৪০) শনাক্ত করা হয় এবং ঘটনার পরদিন পটিয়া রেল স্টেশন এলাকা থেকে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়। জিজ্ঞাসাবাদে তিনি হত্যাকাণ্ডের দায় স্বীকার করলে তার দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে ১৫ জুন রাত সোয়া তিনটার দিকে পটিয়া রেল স্টেশনের পাশের একটি ডোবা থেকে নিহতদের ব্যবহৃত স্মার্টফোন এবং ঘটনাস্থলের পাশে চানখালি খাল থেকে হত্যাকাণ্ডে ব্যবহৃত রক্তমাখা ছুরিটিও উদ্ধার করা হয়। পরে আদালতে হাজির করা হলে আসামি ফৌজদারি কার্যবিধির ১৬৪ ধারায় নিজের অপরাধ স্বীকার করে জবানবন্দি দেন তিনি।

আনোয়ারা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. জুনায়েত চৌধুরী বলেন, আমরা গুরুত্ব ও পেশাদারিত্বের সঙ্গে কাজ করেছি। এটি আলোচিত ও নৃশংস ঘটনা ছিল। অভিযোগপত্রে দণ্ডবিধির ৩২৩, ৩০৭ ও ৩০২ ধারায় আসামির বিরুদ্ধে অভিযোগ আনা হয়েছে।

What's Your Reaction?

like

dislike

love

funny

angry

sad

wow