১০০ মিলিলিটারের মিনিপ্যাকে ভোজ্যতেল বিক্রির দাবি

স্বল্প আয়ের মানুষের ভিটামিন ‌‘এ’ ঘাটতি কমাতে কম দামের ছোট প্যাকেটে ভোজ্যতেল বাজারজাতের ওপর গুরুত্বারোপ করেছেন বিশেষজ্ঞরা। তাদের মতে, বর্তমানে দেশের বড় একটি অংশ এখনো খোলা ভোজ্যতেল ব্যবহার করে। এতে ভিটামিন ‘এ’- এর কার্যকারিতা কমে যায়। এছাড়া খোলা তেল সহজেই ময়লা ও দূষিত হয়। রোববার (২৮ জুন) রাজধানীর সেগুনবাগিচায় কনজুমারস অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ (ক্যাব) ও ন্যাশনাল হার্ট ফাউন্ডেশনের যৌথ উদ্যোগে অনুষ্ঠিত আলোচনা সভায় এসব বিষয় উঠে আসে। আলোচনা সভায় সভাপতিত্ব করেন ক্যাবের সভাপতি এ এইচ এম সফিকুজ্জামান। মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন বাংলাদেশ নিরাপদ খাদ্য কর্তৃপক্ষের প্রতিষ্ঠাতা চেয়ারম্যান ও ন্যাশনাল হার্ট ফাউন্ডেশনের পরামর্শক মুশতাক আহমেদ মুহাম্মদ ইফতিখার। সভায় বিশেষজ্ঞরা বলেন, ১০০ থেকে ৫০০ মিলিলিটার ধারণক্ষমতার পাউচ, মিনি-প্যাক বা স্যাশে বাজারে চালু করা হলে স্বল্প আয়ের মানুষ অল্প টাকায় নিরাপদ ও ভিটামিনসমৃদ্ধ ভোজ্যতেল কিনতে পারবে। ছোট প্যাকেট হওয়ায় তেল দ্রুত ব্যবহার করা সম্ভব হবে এবং ভিটামিন নষ্ট হওয়ার আশঙ্কাও থাকবে না। তবে ছোট প্যাকেট ব্যবহারে প্লাস্টিক বর্জ্য ব্যবস্থাপনা, প্যাকেট লিকেজ এবং ভোক্তাদের

১০০ মিলিলিটারের মিনিপ্যাকে ভোজ্যতেল বিক্রির দাবি

স্বল্প আয়ের মানুষের ভিটামিন ‌‘এ’ ঘাটতি কমাতে কম দামের ছোট প্যাকেটে ভোজ্যতেল বাজারজাতের ওপর গুরুত্বারোপ করেছেন বিশেষজ্ঞরা। তাদের মতে, বর্তমানে দেশের বড় একটি অংশ এখনো খোলা ভোজ্যতেল ব্যবহার করে। এতে ভিটামিন ‘এ’- এর কার্যকারিতা কমে যায়। এছাড়া খোলা তেল সহজেই ময়লা ও দূষিত হয়।

রোববার (২৮ জুন) রাজধানীর সেগুনবাগিচায় কনজুমারস অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ (ক্যাব) ও ন্যাশনাল হার্ট ফাউন্ডেশনের যৌথ উদ্যোগে অনুষ্ঠিত আলোচনা সভায় এসব বিষয় উঠে আসে। আলোচনা সভায় সভাপতিত্ব করেন ক্যাবের সভাপতি এ এইচ এম সফিকুজ্জামান। মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন বাংলাদেশ নিরাপদ খাদ্য কর্তৃপক্ষের প্রতিষ্ঠাতা চেয়ারম্যান ও ন্যাশনাল হার্ট ফাউন্ডেশনের পরামর্শক মুশতাক আহমেদ মুহাম্মদ ইফতিখার।

সভায় বিশেষজ্ঞরা বলেন, ১০০ থেকে ৫০০ মিলিলিটার ধারণক্ষমতার পাউচ, মিনি-প্যাক বা স্যাশে বাজারে চালু করা হলে স্বল্প আয়ের মানুষ অল্প টাকায় নিরাপদ ও ভিটামিনসমৃদ্ধ ভোজ্যতেল কিনতে পারবে। ছোট প্যাকেট হওয়ায় তেল দ্রুত ব্যবহার করা সম্ভব হবে এবং ভিটামিন নষ্ট হওয়ার আশঙ্কাও থাকবে না।

তবে ছোট প্যাকেট ব্যবহারে প্লাস্টিক বর্জ্য ব্যবস্থাপনা, প্যাকেট লিকেজ এবং ভোক্তাদের সচেতনতার মতো কিছু চ্যালেঞ্জ রয়েছে। এসব সমস্যা মোকাবিলায় উন্নত মানের প্যাকেজিং, ‘রিটার্ন অ্যান্ড সেল’ বা ‘ক্যাশ-ব্যাক’ ব্যবস্থা চালু এবং জনসচেতনতা বাড়ানোর পরামর্শ দিয়েছেন বিশেষজ্ঞরা।

সভায় অতিথিরা বলেন, নীতিনির্ধারক, ভোজ্যতেল উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠান, প্যাকেজিং শিল্প, ভোক্তা অধিকার সংগঠন ও গণমাধ্যমের সমন্বিত উদ্যোগের মাধ্যমে স্বল্পমূল্যের নিরাপদ প্যাকেজিং চালু করা গেলে ভিটামিন ‘এ’- এর ঘাটতি কমানোর পাশাপাশি জনস্বাস্থ্যের উন্নয়নেও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখা সম্ভব হবে।

ক্যাবের সহ-সভাপতি নাজের হোসেন বলেন, খোলা তেল বিক্রির নিষেধাজ্ঞার বিষয়ে সরকারের যে আইন রয়েছে, সেটি ধামাচাপা দিয়ে রেখেছিলো অন্তর্বর্তী সরকার। আমরা চাই সেই আইন অনুযায়ী যথাযথ ব্যবস্থা গ্রহণ করুক সরকার।

বিশেষ অতিথির বক্তব্যে ন্যাশনাল হার্ট ফাউন্ডেশন হাসপাতাল অ্যান্ড রিসার্চ ইনস্টিটিউটের বিভাগীয় প্রধান অধ্যাপক ডা. সোহেল রেজা চৌধুরী বলেন, সুস্থ শরীরের জন্য খোলা তেল পরিহার করতেই হবে। পাশাপাশি তেল খাওয়ার পরিমাণও কমাতে হবে। কারণ, স্বাস্থ্যকর তেল বেশি খেলেও শরীরে চর্বিসহ নানান অসুখ দেখা দিতে পারে।

বাংলাদেশ প্লাস্টিক গুডস ম্যানুফেকচার অ্যান্ড এক্সপোর্টস অ্যাসোসিয়েশনের সিনিয়র ভাইস প্রেসিডেন্ট কে এম ইকবাল হোসেন বলেন, বিদেশে গিয়ে প্লাস্টিক সেক্টরেই কাজ করছে অনেক বাংলাদেশি। কিন্তু দেশে এ বিষয়ে কোনো সুযোগ নেই। বরং সেক্টরটিকে দিন দিন সংকুচিত করা হচ্ছে পরিবেশের দোহাই দিয়ে। অথচ, জাপানসহ উন্নত বিশ্বের বহু দেশে প্রতিনিয়ত বাড়ছে প্লাস্টিকের ব্যবহার। ছোট প্যাকের তেলের জন্য রিসাইক্লিং পদ্ধতির প্লাস্টিকের ব্যবহার নিশ্চিত করা গেলে অবশ্যই ভালো হবে।

প্রধান অতিথির বক্তব্যে বাংলাদেশ নিরাপদ খাদ্য কর্তৃপক্ষের সদস্য অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ শোয়েব বলেন, আমাদের প্রধান লক্ষ্য ভোক্তার জন্য নিরাপদ খাদ্য নিশ্চিত করা। এ ক্ষেত্রে দীর্ঘ সময় কাজ করছে ক্যাব। আমাদের সবার লক্ষ্যই এক। তাই ভোক্তার অধিকার প্রতিষ্ঠায় আমাদের একে অন্যের জন্য সহযোগিতা অব্যাহত থাকবে।

সভাপতির বক্তব্যে ক্যাবের সভাপতি এ এইচ এম সফিকুজ্জামান বলেন, জনস্বাস্থ্যের কথা বিবেচনা করলে খোলা তেল পরিহার করে বোতলজাত স্বাস্থ্যকর তেল ব্যবহার নিশ্চিত করা অতি জরুরি। এ বিষয়ে সরকারের কঠোর নির্দেশনাও রয়েছে। কিন্তু বাস্তবে তার বাস্তবায়ন নেই। আমরা চাই, স্বল্প আয়ের জনগোষ্ঠীও স্বাস্থ্যকর জীবন-যাপন করুক। এ জন্যেই ন্যাশনাল হার্ট ফাউন্ডেশনের সঙ্গে যুক্ত হয়েছি। আমাদের এই কার্যক্রম দেশজুড়ে ছড়িয়ে দেওয়া হবে এবং এ বিষয়ে কার্যকর ব্যবস্থা নিতে বাধ্য করা হবে।

অনুষ্ঠানে আরও উপস্থিত ছিলেন- জাতীয় ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তরের পরিচালক মাসুম আরেফিন, বিএসটিআইয়ের সহকারী পরিচালক প্রকৌশলী শশীকান্ত দাস, যশোর বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের সহকারী অধ্যাপক ড. রাশিদা পারভীন, পটুয়াখালী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের ড. মো. নাজমুস সাকিব, গ্লোবাল অ্যালায়েন্স ফর ইমপ্রুভড নিউট্রিশন (গেইন)-এর প্রতিনিধি লাইলুন নাহার এবং বিভিন্ন এনজিও ও সরকারি-বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের প্রতিনিধিরা।

এনএইচ/কেএসআর

What's Your Reaction?

like

dislike

love

funny

angry

sad

wow