১৩ কোটিতে কেনা শাহরুখের ‘মান্নাত’র বর্তমান মূল্য কত

1 day ago 3

বলিউড বাদশা শাহরুখ খানের প্রাসাদসম বাড়ি ‘মান্নাত’। এটি মুম্বাইয়ের বান্দ্রার সবচেয়ে অভিজাত এলাকার অন্যতম আকর্ষণও বটে। বলা হয়ে থাকে, মুম্বাই দর্শন অসম্পূর্ণ থেকে যাবে, যদি মান্নাতের গেটের বাইরে দাঁড়িয়ে একটা ছবি না তোলা হয়! কেউ কেউ বলেন, ‘এ কথা আসলেই সত্য’।

শাহরুখের মান্নাত আরব সাগরমুখী। এ ছয় তলা বাড়িটি রাজপ্রাসাদের চেয়ে কোনো অংশেই কম নয়। রূপকথার নায়কের স্বপ্নের রাজমহলটি আধুনিকতা আর ঐতিহ্যের এক অদ্ভুত মিশেলে নির্মিত হয়েছে।

মুম্বাইয়ের বান্দ্রায় শাহরুখ খানের এ বাংলো প্রস্তাবিত মেরামত ও সংস্কার কাজের কারণে মার্চ মাস থেকে খবরের শিরোনামে রয়েছে। ২০০১ সালে প্রায় ১৩ কোটি রুপিতে বাংলোটি কিনেছিলেন কিং খান। ২০০৫ সালের একটি ডকুমেন্টারি ‘দ্য ইনার ওয়ার্ল্ড অফ শাহরুখ খান’-এ অভিনেতা মান্নাতের মহিমা ব্যাখ্যা করেছিলেন। শাহরুখের বয়ানে, বাড়িটি তার জীবনের সবচেয়ে কঠিন ক্রয় করা জিনিসের মধ্যে একটি। এটি তার কাছে ভালোবাসার বিষয়।

বাড়িটি প্রসঙ্গে এ অভিনেতা বলেন, ‘আমার বাবা-মা মারা যাওয়ার পর আমার কোনো বাড়ি ছিল না। আমি মনে মনে সবসময় একটি বাড়ির প্রত্যাশা করেছিলাম। যেটি আমার পরিবারের জন্য একটি মনের মতো জায়গা হবে। আমার যখন বাচ্চা হয়েছিল তখন আমি এই বাড়িটি পেয়েছিলাম এবং একদিন, আমার নাতি-নাতনিরা এখানে পুরানো পার্সি পরিবারের মতো বাস করবে।’

ভারতের অন্যতম ধনী অভিনেতা শাহরুখ খান। গৌরী ও শাহরুখের স্বপ্নের এই বাড়ির মালিকানা বদল হয়ত প্রশ্নাতীত। লস অ্যাঞ্জেলস থেকে লন্ডন, দুবাই বিশ্বের বিভিন্ন প্রান্তে শাহরুখের নিজস্ব বাড়ি রয়েছে। তবে শাহরুখের নিজের মুখে বলেছেন, ‘মান্নাত এমন একটি বাড়ি যা তিনি কখনোই বিক্রি করবেন না কারণ সম্পত্তির সাথে তার মনের টান রয়েছে। মান্নাত শব্দের অর্থ প্রার্থনা, এ বাড়ি আদতেই তার প্রার্থনার ফল।’

রিয়েল এস্টেট বিশেষজ্ঞ এবং স্থানীয় দালালরা জানিয়েছেন, এখন বাড়িটি বিক্রি করলে ২০০ কোটি রুপিরও বেশি দাম পাওয়া যাবে। শাহরুখ খান যদি এটি বিক্রি করার পরিকল্পনা করেন তবে একটি সেলিব্রিটি প্রিমিয়ামও যোগ হবে। জমির আকার এবং বিল্ট আপ এরিয়া ছাড়াও সেলিব্রিটি প্রিমিয়ামও বড় ভূমিকা পালন করে। স্থানীয় দালালদের মতে, বিশেষ করে বলিউড অভিনেতারা বান্দ্রায় বাংলো বিক্রি খুব কমই করেন।

২৭ হাজার স্কোয়ার মিটার জায়গাজুড়ে অবস্থিত ‘মান্নাত’। এর ভেতরে রয়েছে জিম, সুইমিং পুল, বিশাল বাগান, একাধিক কামরা, জিমখানা, শাহরুখের অফিস, লাইব্রেরি, এমনকী আস্ত সিনেমা হল। আরব সাগরের তীরে অবস্থিত মুম্বাইয়ের সবচেয়ে সুন্দর প্রাসাদ বলে মনে করা হয় ‘মান্নাত’কে। শাহরুখের ট্রফি আর অ্যাওয়ার্ড রাখার জন্যই মান্নাতে রয়েছে একটা আলাদা কামরা। ৪২ জন আরাম করে বসে সিনেমা দেখবে-এত বড় হোম থিয়েটার আর কোথায় পাবেন মান্নাত ছাড়া? সেই থিয়েটারের দেওয়াল সাজানো ক্লাসিক হিন্দি সিনেমার পোস্টার দিকে, দেখলেন হৃদয় শান্ত ও শীতল যায়।

শাহরুখ খানের মুম্বাইয়ের বাংলো মান্নাতের আসল নাম ছিল ‘ভিলা ভিয়েনা’। তিনি ২০০১ সালে বাই খোরশেদ ভানু সানজানা ট্রাস্টের কাছ থেকে সম্পত্তিটি কিনেছিলেন এবং প্রাথমিকভাবে এর নামকরণ করেছিলেন ‘জান্নাত’। এটি তার সৌভাগ্য বয়ে আনার পরে, ২০০৫ সালে তিনি নাম পরিবর্তন করে ‘মান্নাত’ (যার অর্থ প্রার্থনা) রাখেন।

১৯১৪ সালে নির্মিত মন্ন নরিম্যান ডুবাসের মালিকানাধীন ছিল এবং এটি গ্রেড-৩ হেরিটেজ সম্পত্তি হিসেবে শ্রেণিবদ্ধ করা হয়েছে, যার অর্থ মূল বাংলোটি পরিবর্তন করা যায় না। তবে শাহরুখ খান মূল কাঠামোর পেছনে একটি ছয়তলা সংযুক্তি যুক্ত করে এস্টেট সম্প্রসারণ করেছেন, যা মান্নাত অ্যানেক্স নামে পরিচিত। ঐতিহ্য এবং আধুনিকতার এই মিশ্রণ মান্নাতকে মুম্বাইয়ের অন্যতম আইকনিক সেলিব্রিটি হোমে পরিণত করেছে।

বান্দ্রা ব্যান্ডস্ট্যান্ডের সবচেয়ে উল্লেখযোগ্য ল্যান্ডমার্ক শাহরুখ খানের ‘মান্নাত’। মান্নাতেরও একটা দারুণ ইতিহাস রয়েছে। এটি ১৯ শতকের শেষের দিকে মান্ডির রাজা নির্মাণ করেছিলেন বলে মনে করা হয়। অন্য একটি প্রচলিত গল্প থেকে জানা যায়, বাংলোটি ১৯১৭ সালে মানেকজি বোতলওয়ালা নামে এক পার্সি ভদ্রলোক নির্মাণ বা অধিগ্রহণ করেছিলেন। আশি ও নব্বইয়ের দশকে হিন্দি চলচ্চিত্রের শুটিংয়ের জন্য বাংলোটি ব্যবহার করা হত। ‘মি. ইন্ডিয়া’ ও ‘তেজাব’র মতো বিখ্যাত চলচ্চিত্র এখানে চিত্রিত হয়েছে। এর আগে শাহরুখ খান নিজেই ‘ইয়েস বস’ সিনেমার শুটিং মান্নাতে করেছেন।

এমএমএফ/জিকেএস

Read Entire Article