১৩ বছর পর ভারত ছাড়লেন খামেনির মৃত্যুতে উচ্ছ্বসিত অভিনেত্রী

প্রায় ১৩ বছর ভারতে থাকার পর দেশটি ছাড়ার ঘোষণা দিয়েছেন ইরানি বংশোদ্ভূত অভিনেত্রী মান্দানা করিমী। তিনি ইরানের সর্বোচ্চ ধর্মীয় নেতা আয়াতুল্লাহ আলি খামেনির মৃত্যুতে উচ্ছ্বাস প্রকাশ করে আলোচনায় এসেছিলেন। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রকাশ করা এক আবেগঘন ভিডিওবার্তায় মান্দানা বলেন, ‘আমি কোনোদিন ভাবিনি আমাকে বলতে হবে—বিদায় ভারত।’ মঙ্গলবার (১২ মে) ইনস্টাগ্রামে আয়োজিত ‘আস্ক মি এনিথিং’ নামে সেশনে এক ভক্তের প্রশ্নের জবাবে বিমানবন্দর থেকে ভিডিও পোস্ট করেন মান্দানা। সেখানে তিনি জানান, দীর্ঘ সময় ধরে ভারতকে নিজের দ্বিতীয় ঘর হিসেবে দেখেছেন তিনি। তবে এখন নতুন দেশ, নতুন জীবন ও নতুন শুরুর পথে হাঁটার সময় এসেছে বলে মনে করছেন। মান্দানা বলেন, ভারত তার জীবনের ব্যক্তিগত ও পেশাগতভাবে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায়গুলোর একটি। এখানেই তিনি নিজের ক্যারিয়ার গড়েছেন, বন্ধুত্ব তৈরি করেছেন এবং একজন শিল্পী ও নারী হিসেবে নিজেকে নতুনভাবে আবিষ্কার করেছেন। তাই ভারত ছাড়ার সিদ্ধান্ত তার জন্য অত্যন্ত আবেগপূর্ণ বলে জানান তিনি। সম্প্রতি ইরানের রাজনৈতিক ও সামাজিক পরিস্থিতি নিয়ে প্রকাশ্যে কথা বলায়ও আলোচনায় ছিলেন এই অভিনেত্রী। তিনি দাবি কর

১৩ বছর পর ভারত ছাড়লেন খামেনির মৃত্যুতে উচ্ছ্বসিত অভিনেত্রী
প্রায় ১৩ বছর ভারতে থাকার পর দেশটি ছাড়ার ঘোষণা দিয়েছেন ইরানি বংশোদ্ভূত অভিনেত্রী মান্দানা করিমী। তিনি ইরানের সর্বোচ্চ ধর্মীয় নেতা আয়াতুল্লাহ আলি খামেনির মৃত্যুতে উচ্ছ্বাস প্রকাশ করে আলোচনায় এসেছিলেন। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রকাশ করা এক আবেগঘন ভিডিওবার্তায় মান্দানা বলেন, ‘আমি কোনোদিন ভাবিনি আমাকে বলতে হবে—বিদায় ভারত।’ মঙ্গলবার (১২ মে) ইনস্টাগ্রামে আয়োজিত ‘আস্ক মি এনিথিং’ নামে সেশনে এক ভক্তের প্রশ্নের জবাবে বিমানবন্দর থেকে ভিডিও পোস্ট করেন মান্দানা। সেখানে তিনি জানান, দীর্ঘ সময় ধরে ভারতকে নিজের দ্বিতীয় ঘর হিসেবে দেখেছেন তিনি। তবে এখন নতুন দেশ, নতুন জীবন ও নতুন শুরুর পথে হাঁটার সময় এসেছে বলে মনে করছেন। মান্দানা বলেন, ভারত তার জীবনের ব্যক্তিগত ও পেশাগতভাবে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায়গুলোর একটি। এখানেই তিনি নিজের ক্যারিয়ার গড়েছেন, বন্ধুত্ব তৈরি করেছেন এবং একজন শিল্পী ও নারী হিসেবে নিজেকে নতুনভাবে আবিষ্কার করেছেন। তাই ভারত ছাড়ার সিদ্ধান্ত তার জন্য অত্যন্ত আবেগপূর্ণ বলে জানান তিনি। সম্প্রতি ইরানের রাজনৈতিক ও সামাজিক পরিস্থিতি নিয়ে প্রকাশ্যে কথা বলায়ও আলোচনায় ছিলেন এই অভিনেত্রী। তিনি দাবি করেন, ইরানে মানবাধিকার ও নারীর স্বাধীনতা নিয়ে সরব হওয়ায় প্রায় এক দশক ধরে তার নিজের দেশে প্রবেশে নিষেধাজ্ঞা রয়েছে। ফলে চাইলে ইরানেও ফিরতে পারছেন না তিনি। নিজের দেশে ঢুকতে না পারায় গত ১৬ বছর ধরে ছিলেন ভারতে। চলতি বছর মার্চ মাসে ইরানের সর্বোচ্চ ধর্মীয় নেতা আয়াতুল্লাহ আলি খামেনির মৃত্যুতে উচ্ছ্বাস প্রকাশ করে আলোচনার জন্ম দেন ইরানি বংশোদ্ভূত এ অভিনেত্রী।  এক সাক্ষাৎকারে মান্দানা বলেন, ‘ইরান আমার ঘর, কিন্তু আমার কণ্ঠস্বর ও অবস্থানের কারণে বহু বছর ধরে সেখানে প্রবেশ করতে পারছি না। তাই এই যাত্রা শুধু দেশ পরিবর্তনের নয়, বরং এমন এক ভবিষ্যতের জন্য লড়াই, যেখানে একদিন স্বাধীনভাবে নিজের দেশে ফিরতে পারব।’ তিনি আরও জানান, ইরানে বর্তমানে পরিস্থিতি আরও কঠোর হয়ে উঠেছে। রাস্তায় নিরাপত্তা বাহিনীর উপস্থিতি বেড়েছে, ইন্টারনেট বন্ধ করে দেওয়া হচ্ছে এবং মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের ঘটনাও বাড়ছে বলে উদ্বেগ প্রকাশ করেন তিনি। চলতি বছরের মার্চে নিরাপত্তাজনিত শঙ্কা ও প্রাণনাশের হুমকির কথা উল্লেখ করে ভারত ছাড়ার ইঙ্গিত দিয়েছিলেন মান্দানা। সে সময় তিনি বলেছিলেন, দীর্ঘদিন ধরে কোনো ধরনের সমর্থন পাচ্ছেন না এবং মানসিকভাবে ভেঙে পড়েছেন। তবে ভারত ছাড়লেও দেশটির সঙ্গে সম্পর্ক পুরোপুরি শেষ হচ্ছে না বলে জানিয়েছেন তিনি। মান্দানার ভাষায়, ‘আমি চিরতরে বিদায় বলায় বিশ্বাস করি না। ভারত সবসময় আমার জীবনের একটি অংশ হয়ে থাকবে।’ বলিউড ছেড়ে দিচ্ছেন কি না—এমন প্রশ্নের জবাবে মান্দানা বলেন, তিনি নিজেকে কোনো নির্দিষ্ট গণ্ডিতে আটকে রাখতে চান না। চলচ্চিত্র, মডেলিং, ডিজাইন কিংবা আন্তর্জাতিক পর্যায়ের সৃজনশীল কাজ—যে কোনো অর্থবহ প্রজেক্টে ভবিষ্যতে কাজ করতে আগ্রহী তিনি। উল্লেখ্য, বিগ বস–এর নবম আসরে অংশ নিয়ে ভারতে ব্যাপক পরিচিতি পান মান্দানা করিমি। ‘কেয়া কুল হ্যায় হম’, ‘ভাগ জনি’, ‘রয়’-এর মতো ছবিতে অভিনয় করেছেন মন্দনা। বলিউডে বেশ কিছু কাজ করলেও গত কয়েক বছর ধরে তিনি অভিনয়ের চেয়ে ডিজাইন, স্টাইলিং ও অ্যাক্টিভিজমে বেশি মনোযোগী ছিলেন। ১৯৮৮ সালে ইরানের তেহরানে জন্মগ্রহণ করা এই অভিনেত্রী কঠোর নিয়ম ও প্রশাসনের সঙ্গে মতাদর্শগত পার্থক্যের কারণে ২০১৩ সালে দেশ ছেড়ে চলে আসেন। প্রতিবাদী ভূমিকার কারণে প্রায় ১০ বছর আগে থেকেই তিনি নিজের দেশে নিষিদ্ধ এবং সেখানে তার ফেরার কোনো উপায় নেই।

What's Your Reaction?

like

dislike

love

funny

angry

sad

wow