১৩৫০ টাকার টিএসপি বিক্রি ২১৯০ টাকায়

2 months ago 8
কৃষিনির্ভর এ দেশে বরাবরই যেন প্রতারণার শিকার হয়ে আসছে মাগুরার সাধারণ কৃষকরা। এ জেলায় কোনো শিল্প কলকারখানা না থাকায় কৃষিনির্ভর এই এলাকায় গড়ে উঠেছে সংশ্লিষ্ট বিভাগের মৌনতায় সরকারি অনুমোদিত ও অনুমোদনহীন অসাধু ব্যবসায়ীদের সারের সিন্ডিকেট। যেটা কৃত্রিম সংকট দেখিয়ে কোটি কোটি টাকা হাতিয়ে নিচ্ছে গরিব কৃষকদের থেকে। মাগুরায় ঈদ-পরবর্তী নিয়মিত অভিযানে নামে জাতীয় ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তরের মাগুরা জেলা কার্যালয়। তবে সহকারী পরিচালক সজল আহম্মেদের মাগুরার দায়িত্বভার বুঝে নেওয়ার পর থেকেই বারংবার অভিযানে যেন বেরিয়ে আসছে অসাধু ব্যবসায়ীদের সব থলের বিড়াল এবং সব অসাধু ব্যবসায়ীর নিকটেই তিনিই যেন এক মূর্তমান আতঙ্ক। যার মূল কারণ পূর্বে ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ কার্যালয় তৃণমূল পর্যায়ে এরকম অভিযান সম্পন্ন না করা। গত রমজান মাস থেকে শুরু করে ঈদ-পরবর্তী ছুটি শেষে আবারও সাধারণ মানুষের আস্থা অর্জনে মাঠ পর্যায়ের অভিযান অব্যাহত রেখেছেন এই কর্মকর্তা।  মঙ্গলবার (১৭ জুন) তিনি জেলার শ্রীপুর উপজেলার কাজলী বাজার এলাকায় অভিযান পরিচালনা করেন। বেলা সাড়ে ১১টা থেকে আড়াইটা পর্যন্ত পরিচালিত অভিযানে সার-কীটনাশক ডিলার, ফার্মেসি ও মুদি দোকানসহ অন্যান্য নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের প্রতিষ্ঠান তদারকি করা হয়। এসময় মেসার্স রহমান ট্রেডার্স নামক বিসিআইসি সার ডিলার প্রতিষ্ঠানে তদারকিকালে সরকার নির্ধারিত দামের চেয়ে অধিক দামে সার বিক্রয় অর্থাৎ ১ হাজার ৩৫০ টাকার টিএসপি সার ২ হাজার ১৯০ টাকা ও ১ হাজার ৫০ টাকা দামের ডিএপি সার ১ হাজার ২৫০ টাকায় বিক্রয়ের প্রমাণ পাওয়া যায়। এছাড়া সারের ক্রয়-বিক্রয় ভাউচার যথাযথভাবে প্রদান ও সংরক্ষণ না করার অপরাধে প্রতিষ্ঠানটির মালিক মুন্সি মো. মুশফিকুর রহমানকে ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ আইন ২০০৯ এর ৪০ ধারায় ৫০ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়।  কৃষকের স্বার্থ সংশ্লিষ্ট এই সারের দোকান অভিযানে উপস্থিত বাজারের সব শ্রেণিপেশার মানুষ যেন স্বস্তি ফিরে পেয়েছে। পরবর্তীতে তিনি ফার্মেসিসহ অন্যান্য প্রতিষ্ঠানে অভিযান পরিচালনা করেন।  এসময় মেসার্স বাবু ফার্মেসিতে মেয়াদ উত্তীর্ণ ওষুধ র‍্যাকে সংরক্ষণ করে বিক্রয় ও বিক্রয় নিষিদ্ধ ফিজিশিয়ান স্যাম্পল ওষুধ বিক্রয় এবং ফার্মেসিতে ভুয়া ডাক্তার বসিয়ে চিকিৎসা সেবা দিয়ে রোগীদের সঙ্গে প্রতারণা করার অপরাধে মালিক মো. রবিউল ইসলাম বাবুকে ৪৫ ও ৫১ ধারায় ৩০ হাজার টাকা জরিমানা করা হয় এবং সবাইকে ভবিষ্যতে এ ধরনের আইন অমান্যকারী কার্যকলাপ না করার ব্যাপারে সতর্ক করেন। অভিযানে ২টি প্রতিষ্ঠানকে ভোক্তা অধিকারবিরোধী বিভিন্ন অপরাধে মোট ৮০ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়। পর অন্যান্য পণ্যের প্রতিষ্ঠান তদারকি করা হয়। এসময় সবাইকে আইন মেনে ব্যবসা পরিচালনা, ন্যায্যমূল্যে পণ্য বিক্রয়, মূল্যতালিকা প্রদর্শন ও ক্রয়-বিক্রয় ভাউচার সংরক্ষণের বিষয়ে নির্দেশনা প্রদান করা হয়। মাগুরা ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ কার্যালয়ের এই অভিযানের সার্বিক সহযোগিতায় ছিলেন জেলা নিরাপদ খাদ্য কর্মকর্তা জনাব সুমন অধিকারী ও মাগুরা জেলা পুলিশের একটি টিম। ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ কর্মকর্তা সজল আহমেদ জানান, জেলা প্রশাসনের নির্দেশনায় মাগুরার প্রত্যেকটি প্রান্তের অসাধু ব্যবসায়ীদের নির্মূলের জন্যই জনস্বার্থে আমাদের বিভাগের এই অভিযান অব্যাহত থাকবে।
Read Entire Article