১৪ হাজার কর্মী ছাঁটাই করছে নোকিয়া

  ফিনল্যান্ডের টেলিকম প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠান নোকিয়া বিশ্বব্যাপী তাদের কর্মীসংখ্যা উল্লেখযোগ্যভাবে কমানোর পরিকল্পনা করছে। বিভিন্ন আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদনে বলা হচ্ছে, সংস্থাটি ধাপে ধাপে প্রায় ১৪ হাজার কর্মী ছাঁটাই করতে পারে। এই সংখ্যা নোকিয়ার মোট কর্মীবাহিনীর প্রায় এক-পঞ্চমাংশের সমান, যা প্রযুক্তি খাতে সাম্প্রতিক সময়ের অন্যতম বড় কর্মীসংকোচন হিসেবে দেখা হচ্ছে। বর্তমানে নোকিয়ার বিশ্বজুড়ে কর্মীসংখ্যা প্রায় ৭৪ হাজারের কিছু বেশি। এর মধ্যে ভারতের বিভিন্ন প্রযুক্তি কেন্দ্র ও গবেষণা ইউনিটে প্রায় ১৭ হাজার কর্মী কাজ করছেন। ফলে এই পুনর্গঠন পরিকল্পনার প্রভাব ভারতের কর্মীদের ওপরও পড়তে পারে বলে বিশ্লেষকদের ধারণা। প্রযুক্তি খাতে ব্যয় কমানো ও ব্যবসায়িক কাঠামো পুনর্গঠনের যে প্রবণতা তৈরি হয়েছে, নোকিয়ার সিদ্ধান্ত সেই ধারাবাহিকতারই অংশ। গত কয়েক বছরে বিশ্বের বড় বড় প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠানও একই পথে হেঁটেছে। এরই মধ্যে অ্যামাজন, মাইক্রোসফট এবং গুগলের মতো প্রযুক্তি জায়ান্টরা হাজার হাজার কর্মী ছাঁটাই করেছে। একইভাবে মেটাও বড় পরিসরে কর্মীসংকোচনের পরিকল্পনা বাস্তবায়ন করছে বলে বিভিন্ন প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছ

১৪ হাজার কর্মী ছাঁটাই করছে নোকিয়া

 

ফিনল্যান্ডের টেলিকম প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠান নোকিয়া বিশ্বব্যাপী তাদের কর্মীসংখ্যা উল্লেখযোগ্যভাবে কমানোর পরিকল্পনা করছে। বিভিন্ন আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদনে বলা হচ্ছে, সংস্থাটি ধাপে ধাপে প্রায় ১৪ হাজার কর্মী ছাঁটাই করতে পারে। এই সংখ্যা নোকিয়ার মোট কর্মীবাহিনীর প্রায় এক-পঞ্চমাংশের সমান, যা প্রযুক্তি খাতে সাম্প্রতিক সময়ের অন্যতম বড় কর্মীসংকোচন হিসেবে দেখা হচ্ছে।

বর্তমানে নোকিয়ার বিশ্বজুড়ে কর্মীসংখ্যা প্রায় ৭৪ হাজারের কিছু বেশি। এর মধ্যে ভারতের বিভিন্ন প্রযুক্তি কেন্দ্র ও গবেষণা ইউনিটে প্রায় ১৭ হাজার কর্মী কাজ করছেন। ফলে এই পুনর্গঠন পরিকল্পনার প্রভাব ভারতের কর্মীদের ওপরও পড়তে পারে বলে বিশ্লেষকদের ধারণা।

প্রযুক্তি খাতে ব্যয় কমানো ও ব্যবসায়িক কাঠামো পুনর্গঠনের যে প্রবণতা তৈরি হয়েছে, নোকিয়ার সিদ্ধান্ত সেই ধারাবাহিকতারই অংশ। গত কয়েক বছরে বিশ্বের বড় বড় প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠানও একই পথে হেঁটেছে। এরই মধ্যে অ্যামাজন, মাইক্রোসফট এবং গুগলের মতো প্রযুক্তি জায়ান্টরা হাজার হাজার কর্মী ছাঁটাই করেছে। একইভাবে মেটাও বড় পরিসরে কর্মীসংকোচনের পরিকল্পনা বাস্তবায়ন করছে বলে বিভিন্ন প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, নোকিয়ার এই সিদ্ধান্তের পেছনে রয়েছে ব্যবসার কাঠামোগত পরিবর্তন। ২০২৩ সালে কোম্পানিটি তাদের ক্লাউড ও নেটওয়ার্ক সার্ভিসেস ইউনিটকে মোবাইল নেটওয়ার্ক বিভাগে একীভূত করে। এই একীভূতকরণের ফলে বিভিন্ন বিভাগে একই ধরনের কাজের পুনরাবৃত্তি তৈরি হয়। ফলে কার্যক্রমকে আরও দক্ষ ও ব্যয়-সাশ্রয়ী করতে কর্মীসংখ্যা কমানোর পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে।

নোকিয়ার কর্মীসংখ্যা গত কয়েক বছর ধরেই ধীরে ধীরে কমছে। ২০১৮ সালে সংস্থাটিতে প্রায় ১ লাখ ৩ হাজার কর্মী ছিল। সময়ের সঙ্গে সঙ্গে বিভিন্ন পুনর্গঠন ও ব্যয় সংকোচনের ফলে সেই সংখ্যা কমে বর্তমানে প্রায় ৭৪ হাজারে নেমে এসেছে। একই সময়ে ভারতে কর্মীসংখ্যাও সামান্য কমেছে প্রায় ৫০০ জনের মতো।

ইউরোপের বেশ কয়েকটি দেশেও এই ছাঁটাইয়ের প্রভাব পড়তে পারে। বিশেষ করে গ্রিস, ইতালি, জার্মানি এবং ফ্রান্সে প্রায় ১,৪০০ কর্মী চাকরি হারানোর ঝুঁকিতে রয়েছেন বলে ধারণা করা হচ্ছে।

অন্যদিকে নোকিয়ার প্রধান প্রতিদ্বন্দ্বী এরিকসন-ও খরচ কমানোর লক্ষ্যে কর্মীসংকোচনের পথ বেছে নিয়েছে। গত বছরই প্রতিষ্ঠানটি প্রায় ৫ হাজার কর্মী ছাঁটাই করেছিল এবং ভবিষ্যতেও আরও পুনর্গঠনের সম্ভাবনা রয়েছে বলে জানা গেছে।

কেএসকে

What's Your Reaction?

like

dislike

love

funny

angry

sad

wow