১৫ দিন পর দাদির জিম্মায় ঘরে ফিরল শিশু আয়েশা
অবশেষে আদালতের নির্দেশে দাদির জিম্মায় ১৫ দিন পর নিজ ঘরে ফিরল চট্টগ্রামের আনোয়ারায় কনকনে শীতে সড়কের পাশ থেকে উদ্ধার হওয়া শিশু আয়েশা (৪)। এসময় মামলার আসামি শিশুটির বাবা খোরশেদ আলমকে কারাগার থেকে আদালতে হাজির করা হয়। তবে শুনানি শেষে আদালত তার জামিন আবেদন নামঞ্জুর করে পুনরায় কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন। সোমবার (১২ জানুয়ারি) দুপুরে চট্টগ্রাম জেলা দায়রা জজ আদালতের নারী ও শিশু অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-১ সাক্ষ্য-প্রমাণ পর্যালোচনা শেষে শিশুটিকে তার দাদি পারভিনা আক্তারের কাছে বুঝিয়ে দেওয়া হয়। হস্তান্তরের সময় আদালতে উপস্থিত ছিলেন বারখাইন ইউনিয়ন পরিষদের নারী সদস্য আফরোজা আক্তার মিতা, শিশুদের আশ্রয়দাতা সিএনজিচালক মো. মহিম উদ্দীন, খাগড়াছড়ির মানিকছড়ি উপজেলার চৌকিদার হাশেম। আবেগাপ্লুত দাদি পারভিনা আক্তার বলেন, আমাদের ভুলের কারণে এক নাতিকে হারিয়েছি। নাতনিকে ফিরে পাওয়ার আশায় বুকভরা কষ্ট নিয়ে দিন কাটিয়েছি। আজ আদালতের মাধ্যমে তাকে আমার কাছে বুঝিয়ে দেওয়ায় আল্লাহর কাছে শুকরিয়া আদায় করছি। শিশুদের উদ্ধারকারী ও আশ্রয়দাতা সিএনজিচালক মো. মহিম উদ্দিন বলেন, রাতে রাস্তার পাশে দুই শিশুকে অসহায় অবস্থায় দেখে মানবিক দায়ি
অবশেষে আদালতের নির্দেশে দাদির জিম্মায় ১৫ দিন পর নিজ ঘরে ফিরল চট্টগ্রামের আনোয়ারায় কনকনে শীতে সড়কের পাশ থেকে উদ্ধার হওয়া শিশু আয়েশা (৪)। এসময় মামলার আসামি শিশুটির বাবা খোরশেদ আলমকে কারাগার থেকে আদালতে হাজির করা হয়। তবে শুনানি শেষে আদালত তার জামিন আবেদন নামঞ্জুর করে পুনরায় কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন।
সোমবার (১২ জানুয়ারি) দুপুরে চট্টগ্রাম জেলা দায়রা জজ আদালতের নারী ও শিশু অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-১ সাক্ষ্য-প্রমাণ পর্যালোচনা শেষে শিশুটিকে তার দাদি পারভিনা আক্তারের কাছে বুঝিয়ে দেওয়া হয়। হস্তান্তরের সময় আদালতে উপস্থিত ছিলেন বারখাইন ইউনিয়ন পরিষদের নারী সদস্য আফরোজা আক্তার মিতা, শিশুদের আশ্রয়দাতা সিএনজিচালক মো. মহিম উদ্দীন, খাগড়াছড়ির মানিকছড়ি উপজেলার চৌকিদার হাশেম।
আবেগাপ্লুত দাদি পারভিনা আক্তার বলেন, আমাদের ভুলের কারণে এক নাতিকে হারিয়েছি। নাতনিকে ফিরে পাওয়ার আশায় বুকভরা কষ্ট নিয়ে দিন কাটিয়েছি। আজ আদালতের মাধ্যমে তাকে আমার কাছে বুঝিয়ে দেওয়ায় আল্লাহর কাছে শুকরিয়া আদায় করছি।
শিশুদের উদ্ধারকারী ও আশ্রয়দাতা সিএনজিচালক মো. মহিম উদ্দিন বলেন, রাতে রাস্তার পাশে দুই শিশুকে অসহায় অবস্থায় দেখে মানবিক দায়িত্ব থেকে তাদের উদ্ধার করি। নিজের সন্তান মনে করেই নিরাপদ স্থানে রাখি এবং প্রশাসনকে জানাই। আজ আয়েশাকে তার পরিবারের কাছে তুলে দিতে পেরে স্বস্তি পাচ্ছি।
আদালত সূত্র জানায়, শিশুটির নিরাপত্তা ও ভবিষ্যৎ কল্যাণ বিবেচনায় দাদির জিম্মায় দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। আদালতের নির্দেশনা অনুযায়ী নির্ধারিত আইনগত প্রক্রিয়া অনুসরণ করে হস্তান্তর কার্যক্রম সম্পন্ন করা হয়।
এ বিষয়ে আনোয়ারা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) তাহমিনা আক্তার বলেন, আদালতের মাধ্যমে শিশু আয়েশাকে দাদির কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে। সে এখন খাগড়াছড়ির মানিকছড়িতে দাদির সঙ্গে বসবাস করবে। শিশুটির বাবা এখনো জামিন পাননি। শিশুটির বাবা জামিনে মুক্ত হলে তার কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা করা হবে। এ বিষয়ে একটি সংস্থার সঙ্গে প্রশাসনের যোগাযোগ হয়েছে।
প্রসঙ্গত, গত ২৮ ডিসেম্বর রাতে চট্টগ্রামের আনোয়ারা পিএবি সড়কের পাশ থেকে অভিভাবকহীন অবস্থায় শিশু আয়েশা ও তার ছোট ভাই মোর্শেদকে উদ্ধার করেন এক সিএনজিচালক। পরে বিষয়টি জানাজানি হলে জেলা ও উপজেলা প্রশাসন মানবিক বিবেচনায় শিশু দুটির দায়িত্ব গ্রহণ করে। উদ্ধারের পর চিকিৎসাধীন অবস্থায় ছোট ভাই মোর্শেদের মৃত্যু হলে ঘটনাটি ব্যাপক আলোড়ন সৃষ্টি করে। এ ঘটনায় আদালতের নির্দেশে শিশুদের বাবা-মায়ের বিরুদ্ধে অরক্ষিত অবস্থায় শিশু পরিত্যাগ ও নির্যাতনের অভিযোগে মামলা দায়ের করা হয়। বর্তমানে শিশুটির বাবা কারাগারে রয়েছেন।
What's Your Reaction?