১৫ বছর ভাত না খেয়ে বেঁচে আছে বাঁধন

মাছ-ভাতে বাঙালি। ভাত ছাড়া একবেলা চলা যেখানে কষ্টকর, সেখানে টানা ১৫ বছর ধরে ভাতের একটি দানাও মুখে তোলেনি নাটোরের সিংড়া উপজেলার এক কিশোর। আশ্চর্যের বিষয়, ভাত না খেলেও সে সম্পূর্ণ সুস্থ, স্বাভাবিক এবং চঞ্চল জীবনযাপন করছে। ঘটনাটি এখন এলাকাজুড়ে কৌতূহলের জন্ম দিয়েছে। নাটোরের সিংড়া উপজেলার ডাহিয়া ইউনিয়নের বেড়াবাড়ি গ্রামের কৃষক বুদ্দু মোল্লার ছেলে পারভেজ মোল্লা বাঁধন। বয়স ১৫ বছর। স্থানীয় বিয়াশ উচ্চ বিদ্যালয়ের নবম শ্রেণির শিক্ষার্থী। জন্মের পর সবকিছুই ছিল স্বাভাবিক। কিন্তু ‘মুখে ভাত’ অনুষ্ঠানের সময় থেকেই শুরু হয় ব্যতিক্রমী এক ঘটনা। প্রথমবার ভাত মুখে দেওয়ার চেষ্টা করলেই কান্না শুরু করত বাঁধন, পরে বমিও করে ফেলত। বয়স বাড়লেও ভাতের প্রতি সেই অনীহা কাটেনি। জোর করে খাওয়ানোর চেষ্টা করলে এখনও বমি করে দেয়, যে ভাত খেতে জোর করে তার সঙ্গে কথা পর্যন্ত বলে না বাঁধন। বর্তমানে সে ভাতের কোনো রকম গন্ধও সহ্য করতে পারে না। মা পারুল বেগম বলেন, ছোটোবেলা থেকে অনেক চেষ্টা করেছি। ডাক্তার, কবিরাজ দেখিয়েছি। জোর করে ভাত খাওয়াতে গেলে বমি করতো। এখন ভাতের গন্ধও সহ্য করতে পারে না। পরিবারের অন্য সদস্যরা নিয়মিত ভাত খেলেও বাঁ

১৫ বছর ভাত না খেয়ে বেঁচে আছে বাঁধন
মাছ-ভাতে বাঙালি। ভাত ছাড়া একবেলা চলা যেখানে কষ্টকর, সেখানে টানা ১৫ বছর ধরে ভাতের একটি দানাও মুখে তোলেনি নাটোরের সিংড়া উপজেলার এক কিশোর। আশ্চর্যের বিষয়, ভাত না খেলেও সে সম্পূর্ণ সুস্থ, স্বাভাবিক এবং চঞ্চল জীবনযাপন করছে। ঘটনাটি এখন এলাকাজুড়ে কৌতূহলের জন্ম দিয়েছে। নাটোরের সিংড়া উপজেলার ডাহিয়া ইউনিয়নের বেড়াবাড়ি গ্রামের কৃষক বুদ্দু মোল্লার ছেলে পারভেজ মোল্লা বাঁধন। বয়স ১৫ বছর। স্থানীয় বিয়াশ উচ্চ বিদ্যালয়ের নবম শ্রেণির শিক্ষার্থী। জন্মের পর সবকিছুই ছিল স্বাভাবিক। কিন্তু ‘মুখে ভাত’ অনুষ্ঠানের সময় থেকেই শুরু হয় ব্যতিক্রমী এক ঘটনা। প্রথমবার ভাত মুখে দেওয়ার চেষ্টা করলেই কান্না শুরু করত বাঁধন, পরে বমিও করে ফেলত। বয়স বাড়লেও ভাতের প্রতি সেই অনীহা কাটেনি। জোর করে খাওয়ানোর চেষ্টা করলে এখনও বমি করে দেয়, যে ভাত খেতে জোর করে তার সঙ্গে কথা পর্যন্ত বলে না বাঁধন। বর্তমানে সে ভাতের কোনো রকম গন্ধও সহ্য করতে পারে না। মা পারুল বেগম বলেন, ছোটোবেলা থেকে অনেক চেষ্টা করেছি। ডাক্তার, কবিরাজ দেখিয়েছি। জোর করে ভাত খাওয়াতে গেলে বমি করতো। এখন ভাতের গন্ধও সহ্য করতে পারে না। পরিবারের অন্য সদস্যরা নিয়মিত ভাত খেলেও বাঁধনের খাবারের তালিকা একেবারেই আলাদা। সকালে মুড়ি, দুপুরে রুটি ও সবজি, কখনো সুজি, দুধ কিংবা ফলমূল। বিয়ে বাড়ি বা দাওয়াতেও ভাত এড়িয়ে শুধু মাছ, মাংস ও সবজি খেয়ে থাকে সে। বাবা বুদ্দু মোল্লা বলেন, আমরা ভাত খাই, আর ছেলে মুড়ি বা রুটি খায়। এসব না থাকলে না খেয়েই থাকে। ছেলেটাকে নিয়ে চিন্তায় আছি। ভাত না খেলেও থেমে নেই তার স্বাভাবিক জীবন। প্রতিদিন স্কুলে যায়, বাবার কৃষিকাজে সহযোগিতা করে। চলনবিল অঞ্চলে বন্যার সময় নৌকাতেও কাজ করে পরিবারের পাশে দাঁড়ায়। প্রতিবেশীরা বলেন, ছোটোবেলা থেকেই ওকে এমন দেখছি। ভাত খায় না, কিন্তু অন্য সবার মতোই কাজ করে, চলাফেরা করে। চিকিৎসকরা জানান, এটি এক ধরনের ‘ফুড ফোবিয়া’ বা নির্দিষ্ট খাবারের প্রতি তীব্র মানসিক অনীহা হতে পারে। তবে ভাত না খেলেও অন্যান্য খাবার থেকে প্রয়োজনীয় পুষ্টি পাওয়ায় এখন পর্যন্ত শারীরিকভাবে সুস্থ রয়েছে বাঁধন। সিংড়া উপজেলা পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. মুজাহিদুল ইসলাম খোকন কালবেলাকে বলেন, ‘এটি ফুড ফোবিয়ার মতো একটি অবস্থা হতে পারে। দুধ, সুজি, ফলমূলসহ অন্যান্য খাবার থেকে সে প্রয়োজনীয় পুষ্টি পাচ্ছে। তবে দীর্ঘমেয়াদে কোনো জটিলতা হচ্ছে কিনা তা জানতে নিয়মিত স্বাস্থ্য পরীক্ষা ও পুষ্টিবিদের পরামর্শ প্রয়োজন।’ ভাত ছাড়া বাঙালির জীবন কল্পনা করাই কঠিন। অথচ জন্মের পর থেকে ১৫ বছর ধরে ভাত স্পর্শ না করেও স্বাভাবিক জীবনযাপন করছে কিশোর বাঁধন। চিকিৎসাবিজ্ঞানের দৃষ্টিতে এটি বিরল ঘটনা হলেও, স্থানীয়দের কাছে সে এখন এক বিস্ময়ের নাম।

What's Your Reaction?

like

dislike

love

funny

angry

sad

wow