১৮ মণের ‘ভয়ংকর’ ও ১৭ মণের ‘বাদশা বাবু’র দাম ১৬ লাখ

আসন্ন পবিত্র ঈদুল আজহাকে সামনে রেখে পটুয়াখালীর কলাপাড়ায় আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে এসেছে ‘ভয়ংকর’ ও ‘বাদশা বাবু’ নামে বিশাল আকৃতির দুটি গরু। গরু দুটির মোট দাম হাঁকা হয়েছে ১৬ লাখ টাকা। উপজেলার মহিপুর থানা সদর ইউনিয়নের নিজ-শিববাড়িয়া গ্রামের গাববাড়িয়া স্লুইসগেট সংলগ্ন খামারি মো. ইব্রাহিম হাওলাদারের খামারে বেড়ে ওঠা ফ্রিজিয়ান জাতের ‘ভয়ংকর’-এর ওজন প্রায় ১৮ মণ। বিশাল গড়নের এ গরুটির দাম চাওয়া হচ্ছে ৯ লাখ টাকা। অপরদিকে শাহিওয়াল জাতের ‘বাদশা বাবু’-এর ওজন প্রায় ১৭ মণ, যার দাম নির্ধারণ করা হয়েছে ৭ লাখ টাকা। খামার সূত্রে জানা গেছে, প্রায় চার বছর ধরে যত্ন, পরিচর্যা ও প্রাকৃতিক খাবারের মাধ্যমে গরু দুটি বড় করা হয়েছে। মোটাতাজাকরণে কোনো ধরনের ক্ষতিকর ইনজেকশন বা কৃত্রিম পদ্ধতি ব্যবহার করা হয়নি। প্রতিদিন নিয়মিত গোসল, পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা ও পুষ্টিকর খাবারের ব্যবস্থা করা হয়েছে। খামারি মো. ইব্রাহিম হাওলাদার বলেন, গরু দুটি আমাদের পরিবারের সদস্যের মতো। শুরু থেকেই প্রাকৃতিক উপায়ে লালন-পালন করেছি। ভুট্টার সাইলেজ, কাঁচা ঘাস, খড়, ভুসি ও বিভিন্ন পুষ্টিকর খাবার দেওয়া হয়েছে। চার বছরে গরু দুটির পেছনে প্রায় ১২ লাখ টাকা ব্য

১৮ মণের ‘ভয়ংকর’ ও ১৭ মণের ‘বাদশা বাবু’র দাম ১৬ লাখ

আসন্ন পবিত্র ঈদুল আজহাকে সামনে রেখে পটুয়াখালীর কলাপাড়ায় আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে এসেছে ‘ভয়ংকর’ ও ‘বাদশা বাবু’ নামে বিশাল আকৃতির দুটি গরু। গরু দুটির মোট দাম হাঁকা হয়েছে ১৬ লাখ টাকা।

উপজেলার মহিপুর থানা সদর ইউনিয়নের নিজ-শিববাড়িয়া গ্রামের গাববাড়িয়া স্লুইসগেট সংলগ্ন খামারি মো. ইব্রাহিম হাওলাদারের খামারে বেড়ে ওঠা ফ্রিজিয়ান জাতের ‘ভয়ংকর’-এর ওজন প্রায় ১৮ মণ।

বিশাল গড়নের এ গরুটির দাম চাওয়া হচ্ছে ৯ লাখ টাকা। অপরদিকে শাহিওয়াল জাতের ‘বাদশা বাবু’-এর ওজন প্রায় ১৭ মণ, যার দাম নির্ধারণ করা হয়েছে ৭ লাখ টাকা।

খামার সূত্রে জানা গেছে, প্রায় চার বছর ধরে যত্ন, পরিচর্যা ও প্রাকৃতিক খাবারের মাধ্যমে গরু দুটি বড় করা হয়েছে। মোটাতাজাকরণে কোনো ধরনের ক্ষতিকর ইনজেকশন বা কৃত্রিম পদ্ধতি ব্যবহার করা হয়নি। প্রতিদিন নিয়মিত গোসল, পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা ও পুষ্টিকর খাবারের ব্যবস্থা করা হয়েছে।

খামারি মো. ইব্রাহিম হাওলাদার বলেন, গরু দুটি আমাদের পরিবারের সদস্যের মতো। শুরু থেকেই প্রাকৃতিক উপায়ে লালন-পালন করেছি। ভুট্টার সাইলেজ, কাঁচা ঘাস, খড়, ভুসি ও বিভিন্ন পুষ্টিকর খাবার দেওয়া হয়েছে। চার বছরে গরু দুটির পেছনে প্রায় ১২ লাখ টাকা ব্যয় হয়েছে।

তিনি আরও বলেন, কোরবানির ঈদকে সামনে রেখে গরু দুটি বিক্রির জন্য প্রস্তুত করেছি। যারা স্বাস্থ্যসম্মত ও আকর্ষণীয় গরু খুঁজছেন, তারা সরাসরি খামারে এসে দেখতে পারবেন।

গরু দুটির পরিচর্যায় নিয়োজিত কর্মচারী সোলেমান খান জানান, দিন-রাত পরিশ্রম করে গরু দুটি বড় করা হয়েছে। নিয়মিত পরিচর্যা ও খাবারের প্রতি বিশেষ নজর রাখার কারণেই গরুগুলো সুস্থ ও আকর্ষণীয় হয়ে উঠেছে।

তিনি আশা প্রকাশ করেন, ঈদের বাজারে গরু দুটি ভালো দামেই বিক্রি হবে।

স্থানীয় বাসিন্দা হাবিব সরদার বলেন, আমাদের এলাকায় এত বড় ও সুন্দর গরু সচরাচর দেখা যায় না। ইব্রাহিম অনেক কষ্ট করে গরু দুটি বড় করেছেন। প্রতিদিন দূর-দূরান্ত থেকে মানুষ এগুলো দেখতে আসছে।

স্থানীয় যুবক মো. মাইনুদ্দিন আতিকের ভাষ্য, ‌‘ভয়ংকর’ দেখতে সত্যিই রাজকীয়। গরু দুটির সৌন্দর্য ও স্বাস্থ্য দেখে সবাই মুগ্ধ হচ্ছে।

গরু দুটির নিয়মিত তদারকিতে থাকা স্থানীয় পশু চিকিৎসক আহসান হাবিব জানান, সম্পূর্ণ প্রাকৃতিক খাবার ও সঠিক পরিচর্যার মাধ্যমে গরু দুটি বড় করা হয়েছে। বর্তমানে গরুগুলো শতভাগ সুস্থ ও স্বাস্থ্যবান।

উপজেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা ডা. মারুফ বিল্লাহ খান বলেন, এ বছর কলাপাড়ার কোরবানির পশুর বাজারে ‘ভয়ংকর’ আর ‘বাদশা বাবু’ অন্যতম আকর্ষণ হয়ে উঠেছে। গরু দুটির বৃদ্ধিতে কোনো ধরনের ক্ষতিকর হরমোন বা বিশেষ ওষুধ ব্যবহার করা হয়নি। সম্পূর্ণ প্রাকৃতিক উপায়ে লালন-পালন করা হয়েছে। এটি অন্য খামারিদের জন্যও একটি ইতিবাচক উদাহরণ।

তিনি আরও বলেন, চলতি বছরে উপজেলায় ২০ হাজারের বেশি পশু কোরবানির জন্য প্রস্তুতি সম্পন্ন করা হয়েছে। এর মধ্যে ১২ হাজার গরু সামান্য কিছু মহিষ এবং ৮ হাজার ছাগল ও ভেড়া।

আসাদুজ্জামান মিরাজ/এনএইচআর/জেআইএম

What's Your Reaction?

like

dislike

love

funny

angry

sad

wow