২০ খেলাপির পেটে সরকারি ছয় ব্যাংকের ৯১ হাজার কোটি টাকা
দেশের রাষ্ট্রায়ত্ত ছয় বাণিজ্যিক ব্যাংক- সোনালী, জনতা, অগ্রণী, রূপালী, বেসিক ও বিডিবিএল শীর্ষ ঋণ খেলাপিদের চাপে এখন চিড়েচ্যাপ্টা। এসব ব্যাংকের মোট শ্রেণীকৃত ঋণের অর্ধেকেরও বেশি আটকে রয়েছে মাত্র ২০ জন বড় খেলাপির কাছে। ঋণ আদায় ব্যাহত হওয়ায় বড় অঙ্কের মূলধন ঘাটতিতে পড়েছে একাধিক ব্যাংক। আর্থিক সংকটের সঙ্গে লোকসানেও পড়েছে কোনো কোনোটি। জাগো নিউজের নিজস্ব অনুসন্ধান ও অর্থ মন্ত্রণালয়ের প্রতিবেদনেও উঠে এসেছে রাষ্ট্রায়ত্ত ছয় বাণিজ্যক ব্যাংকের দুরবস্থার চিত্র। অনুসন্ধানে পাওয়া গেছে, সোনালী, জনতা, অগ্রণী, রূপালী, বেসিক ও বিডিবিএল- এই ছয় ব্যাংকের মোট শ্রেণীকৃত ঋণের পরিমাণ দাঁড়িয়েছে এক লাখ ৪৬ হাজার ১৩৪ কোটি ৮ লাখ টাকা। বিপরীতে শীর্ষ ২০ খেলাপি ঋণের পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ৯১ হাজার ১৩৩ কোটি ২১ লাখ টাকা। এই শীর্ষ খেলাপিদের কাছ থেকে ২০২৫ সালে আদায় হয়েছে মাত্র ৪৬৮ কোটি ৭২ লাখ টাকা। অর্থাৎ আদায়ের পরিমাণ মাত্র শূন্য দশমিক ৫১ শতাংশ। রাষ্ট্রায়ত্ত ছয় বাণিজ্যিক ব্যাংকের মধ্যে সব থেকে খারাপ অবস্থায় রয়েছে জনতা ব্যাংক। ২০২৫ সাল শেষে ব্যাংকটিতে শীর্ষ ২০ খেলাপি ঋণের পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ৫৮ হাজার ৬৪২ কোটি টাকা। গত বছরে এই শীর্ষ
দেশের রাষ্ট্রায়ত্ত ছয় বাণিজ্যিক ব্যাংক- সোনালী, জনতা, অগ্রণী, রূপালী, বেসিক ও বিডিবিএল শীর্ষ ঋণ খেলাপিদের চাপে এখন চিড়েচ্যাপ্টা। এসব ব্যাংকের মোট শ্রেণীকৃত ঋণের অর্ধেকেরও বেশি আটকে রয়েছে মাত্র ২০ জন বড় খেলাপির কাছে। ঋণ আদায় ব্যাহত হওয়ায় বড় অঙ্কের মূলধন ঘাটতিতে পড়েছে একাধিক ব্যাংক। আর্থিক সংকটের সঙ্গে লোকসানেও পড়েছে কোনো কোনোটি।
জাগো নিউজের নিজস্ব অনুসন্ধান ও অর্থ মন্ত্রণালয়ের প্রতিবেদনেও উঠে এসেছে রাষ্ট্রায়ত্ত ছয় বাণিজ্যক ব্যাংকের দুরবস্থার চিত্র। অনুসন্ধানে পাওয়া গেছে, সোনালী, জনতা, অগ্রণী, রূপালী, বেসিক ও বিডিবিএল- এই ছয় ব্যাংকের মোট শ্রেণীকৃত ঋণের পরিমাণ দাঁড়িয়েছে এক লাখ ৪৬ হাজার ১৩৪ কোটি ৮ লাখ টাকা। বিপরীতে শীর্ষ ২০ খেলাপি ঋণের পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ৯১ হাজার ১৩৩ কোটি ২১ লাখ টাকা। এই শীর্ষ খেলাপিদের কাছ থেকে ২০২৫ সালে আদায় হয়েছে মাত্র ৪৬৮ কোটি ৭২ লাখ টাকা। অর্থাৎ আদায়ের পরিমাণ মাত্র শূন্য দশমিক ৫১ শতাংশ।
রাষ্ট্রায়ত্ত ছয় বাণিজ্যিক ব্যাংকের মধ্যে সব থেকে খারাপ অবস্থায় রয়েছে জনতা ব্যাংক। ২০২৫ সাল শেষে ব্যাংকটিতে শীর্ষ ২০ খেলাপি ঋণের পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ৫৮ হাজার ৬৪২ কোটি টাকা। গত বছরে এই শীর্ষ ২০ খেলাপির কাছ থেকে ব্যাংকটি আদায় করতে পেরেছে মাত্র ৫৫ কোটি ৭৪ লাখ টাকা। এর আগে ২০২৪ সালে ৫৫ কোটি ৭৪ লাখ এবং ২০২৩ সালে ৩৮ কোটি ৮৪ লাখ টাকা আদায় করা সম্ভব হয়।
শীর্ষ ঋণ খেলাপিদের কাছ থেকে সব থেকে বেশি অর্থ আদায় করতে পেরেছে রূপালী ব্যাংক। ব্যাংকটির শীর্ষ ২০ খেলাপির কাছে ৮ হাজার ৭৭৪ কোটি ৩৮ লাখ টাকা পাওনা রয়েছে। এর মধ্যে ২০২৫ সালে আদায় হয়েছে ৩৬১ কোটি ৭ লাখ টাকা। এর আগে ২০২৪ সালে ৪৫ কোটি ৭০ লাখ টাকা এবং ২০২৩ সালে ৬৮ কোটি ৪৮ লাখ টাকা আদায় হয়।
বাকি চার ব্যাংকের মধ্যে শীর্ষ ২০ খেলাপির কাছে সোনালী ব্যাংকের পাওনা ৬ হাজার ৭৪৩ কোটি টাকা। এর মধ্যে ২০২৫ সালে আদায় হয়েছে ৯ কোটি ৪ লাখ টাকা। এর আগে ২০২৪ সালে ৭ কোটি ৬০ লাখ এবং ২০২৩ সালে আদায় হয় ৩৫ কোটি ২৮ লাখ টাকা।
আগ্রণী ব্যাংকের শীর্ষ ২০ খেলাপি ঋণের পরিমাণ ১৩ হাজার ৯০৭ কোটি ৩১ লাখ টাকা। শীর্ষ খেলাপিদের কাছ থেকে ব্যাংকটি ২০২৫ সালে ৩১ কোটি ১৪ লাখ টাকা আদায় করে। এছাড়া, ২০২৪ সালে ৪৩ কোটি ৮৬ লাখ টাকা এবং ২০২৩ সালে ১৮ কোটি ৩ লাখ টাকা আদায় করতে পারে ব্যাংকটি।
বিডিবিএলের শীর্ষ ২০ খেলাপি ঋণের পরিমাণ ৪৮৬ কোটি ৬৯ লাখ টাকা। ব্যাংকটি শীর্ষ ঋণ খেলাপিদের কাছে থেকে ২০২৫ সালে আদায় করে ৬ কোটি ৯১ লাখ টাকা। এর আগের বছর ২০২৪ সালে ৩ কোটি ৯৩ লাখ টাকা এবং ২০২৩ সালে ৯০ কোটি ৭৫ লাখ টাকা আদায় করে।
বেসিক ব্যাংকের শীর্ষ ২০ খেলাপি ঋণের পরিমাণ ২ হাজার ৫৭৯ কোটি ৮৩ লাখ টাকা। ব্যাংকটি শীর্ষ ঋণ খেলাপিদের কাছ থেকে ২০২৫ সালে ৪ কোটি ৮২ লাখ টাকা আদায় করে। এছাড়া, ২০২৪ সালে ২ কোাটি ৯৪ লাখ টাকা এবং ২০২৩ সালে ৫ কোটি ৮৪ লাখ টাকা আদায় করতে পারে বেসিক ব্যাংক।
শ্রেণিকৃত ঋণের চিত্র
২০২৫ সাল শেষে সোনালী ব্যাংকের শ্রেণিকৃত ঋণের পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ১৭ হাজার ৯০০ কেটি টাকা। ব্যাংকটি ২০২৫ সালে এক হাজার ১৯০ কোটি টাকা, ২০২৪ সালে ৫৮০ কোটি টাকা এবং ২০২৩ সালে ৫৬৭ কোটি টাকা শ্রেণিকৃত ঋণ আদায় করতে পেরেছে।
অনেক দেশেই ইচ্ছাকৃত খেলাপিদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হয়, ফলে তারা আর সহজে ব্যবসা পরিচালনা করতে পারেন না। আমাদের পার্শ্ববর্তী দেশ ভারতেই এ ধরনের খেলাপিদের জীবন হেল করে দেওয়া হয়। - সোনালী ব্যাংকের সাবেক চেয়ারম্যান মোহাম্মদ মুসলিম চৌধুরী
জনতা ব্যাংক ২০২৫ সালে শ্রেণিকৃত ঋণ আদায় করতে পেরেছে ৫৬৬ কোটি ২১ লাখ টাকা। এছাড়া, ২০২৪ সালে ৩০২ কোটি ৯৫ লাখ টাকা এবং ২০২৩ সালে ২১৫ কোটি টাকা শ্রেণিকৃত ঋণ আদায় করতে পেরেছে। ২০২৫ সাল শেষে ব্যাংকটির শ্রেণিকৃত ঋণের পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ৭২ হাজার ৫৩৯ কোটি টাকা।
২০২৫ সাল শেষে আগ্রণী ব্যাংকের শ্রেণিকৃত ঋণের পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ২৬ হাজার ৭৭২ কোটি টাকা। ব্যাংকটি ২০২৫ সালে ৬৯৯ কোটি ৯১ লাখ টাকা, ২০২৪ সালে ৪৪১ কোটি টাকা এবং ২০২৩ সালে ৩৮৯ কোটি টাকা শ্রেণিকৃত ঋণ আদায় করতে পেরেছে।
রূপালী ব্যাংকে ২০২৫ সাল শেষে শ্রেণিকৃত ঋণের পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ১৯ হাজার ৬৭০ কোটি ১৮ লাখ টাকা। ব্যাংকটি ২০২৫ সালে এক হাজার ২৭২ কোটি ৭৪ লাখ টাকা, ২০২৪ সালে ৩৮১ কোটি ৪২ লাখ টাকা এবং ২০২৩ সালে ৫০৭ কোটি ৩৯ লাখ টাকা শ্রেণিকৃত ঋণ আদায় করে।
আরও পড়ুন
মামলায় ঝুলে আছে এক লাখ ৪৩ হাজার কোটি টাকার ‘মন্দ ঋণ’
বাজেট ২০২৬-২৭: বিনিয়োগ, মূল্যস্ফীতি ও সুশাসনের ত্রিমুখী চ্যালেঞ্জ
দুই মাসে ব্যাংকের বাইরে নগদ বেড়েছে ১৩৬০০ কোটি টাকা
বিডিবিএল ২০২৫ সালে ৩১৬ কোটি ৭ লাখ টাকা শ্রেণিকৃত ঋণ আদায় করে। এছাড়া, ২০২৪ সালে ১৪৫ কোটি ৫০ লাখ টাকা এবং ২০২৩ সালে ১৭৩ কোটি ৯০ লাখ টাকা শ্রেণিকৃত ঋণ আদায় করে। ২০২৫ সাল শেষে ব্যাংকটিতে শ্রেণিকৃত ঋণের পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ৯৯৮ কোটি টাকা।
বেসিক ব্যাংকে ২০২৫ সাল শেষে শ্রেণিকৃত ঋণের পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ৮ হাজার ২৫৪ কোটি ৯০ লাখ টাকা। ব্যাংকটি ২০২৫ সালে ১২৩ কোটি ২৭ লাখ টাকা, ২০২৪ সালে ১৪৯ কোটি ৫৮ লাখ টাকা এবং ২০২৩ সালে ১৯২ কোটি টাকা শ্রেণিকৃত ঋণ আদায় করে।
মূলধন পরিস্থিতি
রাষ্ট্রায়ত্ত ছয় বাণিজ্যিক ব্যাংকের মধ্যে বড় অঙ্কের মূলধন ঘাটতিতে রয়েছে জনতা, অগ্রণী, রূপালী ও বেসিক ব্যাংক। ২০২৫ সালের ডিসেম্বর শেষে অগ্রণী ব্যাংকের মূলধন ঘাটতি ২৩ হাজার ১৩২ কোটি ৪৪ লাখ টাকা। এছাড়া, রূপালী ব্যাংকের ১৯ হাজার ৬০ কোটি ২৯ লাখ টাকা এবং বেসিক ব্যাংকের ৯ হাজার ৪২৪ কোটি টাকা প্রকৃত মূলধন ঘাটতি রয়েছে।
জনতা ব্যাংকের প্রকৃত মূলধন ঘাটতির তথ্য পাওয়া যায়নি, তবে ২০২৫ সালের সেপ্টেম্বর শেষে রেগুলেটরি ফরবিয়ারেন্সের পর ব্যাংকটির মূলধন ঘাটতি দাঁড়িয়েছে ১৯ হাজার ৯৭৩ কোটি ৬ লাখ টাকা। রেগুলেটরি ফরবিয়ারেন্সের পর অগ্রণী ব্যাংকের মূলধন ঘাটতি দাঁড়িয়েছে ৮ হাজার ১২৫ কোটি ৩২ লাখ টাকা, রূপালী ব্যাংকের ৬ হাজার ৫৪৮ কোটি ৫১ লাখ টাকা এবং বেসিক ব্যাংকের ৩ হাজার ৯৪৪ কোটি ৫৩ লাখ টাকা।
এর আগে ২০২৪ সালে সোনালী ব্যাংকের ৫ হাজার ৯৪৯ কোটি টাকা, জনতা ব্যাংকের ৫১ হাজার ৬৯২ কোটি টাকা, অগ্রণী ব্যাংকের ২১ হাজার ৪২৯ কোটি ৩২ লাখ টাকা, রূপালী ব্যাংকের ১৭ হাজার ৩৩১ কোটি ৪৮ লাখ টাকা এবং বেসিক ব্যাংকের ৮ হাজার ৬২১ কোটি টাকা প্রকৃত মূলধন ঘাটতি ছিল।
এছাড়া, ২০২৩ সালে সোনালী ব্যাংকের মূলধন ঘাটতি ছিল ৪ হাজার ৪৩৪ কোটি টাকা। জনতা ব্যাংকের ৯ হাজার ৫৩৯ কোটি টাকা, অগ্রণী ব্যাংকের ১২ হাজার ৬৯৮ কোটি টাকা, রূপালী ব্যাংকের ৬ হাজার ৫২১ কোটি ৪০ লাখ টাকা এবং বেসিক ব্যাংকের মূলধন ঘাটতি ছিল ৭ হাজার ৪৫৩ কোটি টাকা।
অর্থাৎ, ব্যাংকগুলোর প্রকৃত মূলধন ঘাটতির পরিমাণ বছরের ব্যবধানে বাড়তে দেখা যাচ্ছে। অবশ্য ২০২৫ সালে মূলধন ঘাটতি থেকে বেরিয়ে এসেছে সোনালী ব্যাংক। আলোচ্য বছর শেষে ব্যাংকটির প্রকৃত মূলধন ৮৩ কোটি টাকা উদ্বৃত্ত রয়েছে।
আমানতের চিত্র
খেলাপি ঋণে জর্জরিত হয়ে পড়লেও রাষ্ট্রায়ত্ত ছয় বণিজ্যিক ব্যাংকের আমানতের পরিমাণ বাড়তে দেখা যাচ্ছে। ২০২৫ সাল শেষে সোনালী ব্যাংকের আমানতের পরিমাণ (আন্তঃব্যাংক আমানত বাদে) এক লাখ ৭৬ হাজার ৩০৭ কোটি টাকা। এছাড়া, জনতা ব্যাংকের এক লাখ ২৫ হাজার ৮১৯ কোটি টাকা, অগ্রণী ব্যাংকের এক লাখ ১৩ হাজার ৬৮ কোটি টাকা, রূপালী ব্যাংকের ৭১ হাজার ২৬৪ কোটি ৫৯ লাখ টাকা, বিডিবিএলের ৩ হাজার ১৫৮ কোটি ১২ লাখ টাকা এবং বেসিক ব্যাংকের ১৫ হাজার ৪৭৫ কোটি টাকা আমানত দাঁড়িয়েছে।
এর আগে ২০২৪ সালে সোনালী ব্যাংকের এক লাখ ৬১ হাজার ৭৬ কোটি টাকা, জনতা ব্যাংকের এক লাখ ৯ হাজার ২০৬ কোটি টাকা, অগ্রণী ব্যাংকের ৯৮ হাজার ৭০৯ কোটি টাকা, রূপালী ব্যাংকের ৬৮ হাজার ৫৮৯ কোটি ৮৩ লাখ টাকা, বিডিবিএলের ২ হাজার ৭৫৩ কোটি টাকা এবং বেসিক ব্যাংকের ১৩ হাজার ৫৫৩ কোটি টাকা আমানত ছিল।
ছয় ব্যাংকের শীর্ষ ২০ খেলাপির কাছেই প্রায় এক লাখ কোটি টাকা আটকে আছে, যা বড় ধরনের ঝুঁকি তৈরি করেছে। মাত্র ২০ জন ঋণগ্রহীতার কাছে এত বড় অঙ্কের টাকা আটকে থাকা ব্যাংক খাতের জন্য অবশ্যই দুর্বলতা। - অগ্রণী ব্যাংকের চেয়ারম্যান সৈয়দ আবু নাসের বখতিয়ার আহমেদ
২০২৩ সালে সোনালী ব্যাংকের এক লাখ ৪৬ হাজার ৬৭৪ কোটি টাকা, জনতা ব্যাংকের এক লাখ ৯ হাজার ৬৯২ কোটি টাকা, অগ্রণী ব্যাংকের ৯৭ হাজার ৪৯৭ কোটি টাকা, রূপালী ব্যাংকের ৬৫ হাজার ৯২১ কোটি ৮৯ লাখ টাকা, বিডিবিএলের ৩ হাজার ৫৪ কোটি টাকা এবং বেসিক ব্যাংকের আমানত ছিল ১৪ হাজার ৬৯৩ কোটি টাকা।
ঋণ পরিস্থিতি
২০২৫ সাল শেষে সোনালী ব্যাংক ৯৫ হাজার ৩৯৮ কোটি টাকা ঋণ বিতরণ করেছে (স্টাফ ঋণ ছাড়া)। একই সময়ে জনতা ব্যাংক ৯৭ হাজার ৯৩৩ কোটি টাকা, অগ্রণী ব্যাংক ৭৩ হাজার ৭২৬ কোটি টাকা, রূপালী ব্যাংক ৪৭ হাজার ২১৪ কোটি ৬৭ লাখ টাকা, বিডিবিএল ২ হাজার ১৪০ কোটি ৫৬ লাখ টাকা এবং বেসিক ব্যাংক ১২ হাজার ৪০৭ কোটি টাকা ঋণ বিতরণ করেছে।
এর আগে, ২০২৪ সালে সোনালী ব্যাংক ৯০ হাজার ৮৪২ কোটি টাকা, জনতা ব্যাংক ৯৪ হাজার ১৬৯ কোটি টাকা, অগ্রণী ব্যাংক ৭২ হাজার ৬২৫ কোটি টাকা ঋণ বিতরণ করে। এছাড়া রূপালী ব্যাংক ৪৭ হাজার ৫১৮ কোটি ১৩ লাখ টাকা, বিডিবিএল ২ হাজার ১৭৪ কোটি টাকা এবং বেসিকি ব্যাংক ঋণ বিতরণ করে ১২ হাজার ৫৪১ কোটি টাকা।
অবলোপন ঋণের চিত্র
রাষ্ট্রায়ত্ত ছয় ব্যাংকের মধ্যে সব থেকে বেশি অবলোপন ঋণ আছে সোনালী ব্যাংকের। ২০২৫ সাল শেষে ব্যাংকটির অবলোপন ঋণ দাঁড়িয়েছে ৯ হাজার ৪৮১ কোটি টাকা। এছাড়া জনতা ব্যাংকের ৩ হাজার ১৬১ কোটি ২৯ লাখ টাকা, অগ্রণী ব্যাংকের ৪ হাজার ৬৮৭ কোটি টাকা, রূপালী ব্যাংকের ৪৯৩ কোটি ৮৯ লাখ টাকা, বিডিবিএলের এক হাজার ৪০৭ কোটি ৫ লাখ টাকা এবং বেসিক ব্যাংকের ২ হাজার ৪৪২ কোটি টাকার ঋণ অবলোপন করা হয়েছে।
আরও পড়ুন
যুদ্ধের প্রভাবে আইএমএফের ঋণ সহায়তা বাড়তে পারে ২০ বিলিয়ন ডলার
৪৩ দিনেই সরকারের ব্যাংকঋণ ৪১ হাজার কোটি টাকা
কনটেইনার সংকটে টালমাটাল আমদানি-রপ্তানি
যদিও ২০২৫ সালে সোনালী ব্যাংক ৯০ কোটি টাকা, জনতা ব্যাংক ৫৯ কোটি ৩৯ লাখ টাকা, অগ্রণী ব্যাংক ৬৩ কোটি ২৬ লাখ টাকা, রূপালী ব্যাংক ২৫ কোটি ২০ লাখ টাকা, বিডিবিএল ৪ কোটি ১ লাখ টাকা এবং বেসিক ব্যাংক ৩ কোটি ১৮ লাখ টাকা অবলোপন করা ঋণ আদায় করতে পেরেছে।
এর আগে, ২০২৪ সালে সোনালী ব্যাংক ৪১ কোটি টাকা, জনতা ব্যাংক ৬৫ কোটি ৯৭ লাখ টাকা, অগ্রণী ব্যাংক ৪১ কোটি টাকা, রূপালী ব্যাংক ৪৪ কোটি ২৬ লাখ টাকা, বিডিবিএল ৭ কোটি ১৯ লাখ টাকা এবং বেসিক ব্যাংক ১২ কোটি ২০ লাখ টাকা অবলোপন করা ঋণ আদায় করতে পারে।
মুনাফার চিত্র
২০২৫ সাল শেষে ৮ হাজার ১৭ কোটি টাকা পরিচালন মুনাফা করেছে সোনালী ব্যাংক। এছাড়া, অগ্রণী ব্যাংক ২ হাজার ৫০২ কোটি টাকা এবং রূপালী ব্যাংক ১৭৮ কোটি ৭৬ লাখ টাকা পরিচালন মুনাফা করেছে। বিপরীতে জনতা ব্যাংক ৩ হাজার ৫৯৯ কোটি টাকা, বিডিবিএল ৫২ কোটি ৬৭ লাখ টাকা এবং বেসিক ব্যাংকের ৭৮৬ কোটি ৭৭ লাখ টাকা পরিচালন লোকসান হয়েছে।
যোগাযোগ করা হলে সোনালী ব্যাংকের সাবেক চেয়ারম্যান মোহাম্মদ মুসলিম চৌধুরী জাগো নিউজকে বলেন, পাবলিক লিমিটেড কোম্পানি হিসেবে ঘোষণা করা হলেও অনেক ব্যাংক এখনো সরকারি বিভাগের মতো পরিচালিত হচ্ছে। এ অবস্থা থেকে বেরিয়ে আসতে হলে দক্ষ ও অভিজ্ঞ ব্যক্তিদের নিয়ে স্বাধীন ও পেশাদার পরিচালনা পর্ষদ গঠন করতে হবে। একই সঙ্গে ব্যবস্থাপনা পরিচালকদের নিয়োগ ও অপসারণে বোর্ডকে পূর্ণ ক্ষমতা দিতে হবে।
তিনি বলেন, বর্তমানে অল্প কিছু বড় খেলাপির কাছে বিপুল অঙ্কের ঋণ আটকে রয়েছে, যা আদায় করা কঠিন হয়ে পড়েছে। এ ধরনের খেলাপিদের বিরুদ্ধে বিশেষ ব্যবস্থা ছাড়া অর্থ পুনরুদ্ধার প্রায় অসম্ভব।
এই অর্থনীতিবিদ বলেন, অনেক দেশেই ইচ্ছাকৃত খেলাপিদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হয়, ফলে তারা আর সহজে ব্যবসা পরিচালনা করতে পারেন না। আমাদের পার্শ্ববর্তী দেশ ভারতেই এ ধরনের খেলাপিদের জীবন হেল করে (নরক বানিয়ে) দেওয়া হয়।
তিনি আরও বলেন, খেলাপি ঋণের কারণে ব্যাংকগুলোর মূলধন ঘাটতি তৈরি হচ্ছে। এতে সরকারকে করদাতাদের অর্থ দিয়ে পুনঃমূলধনীকরণ করতে হচ্ছে, যা তৈরি করেছে একটি ক্ষতিকর চক্র।
অবলোপন ঋণের বিষয়ে মুসলিম চৌধুরী বলেন, এটি নেতিবাচক নয়, বরং ব্যাংকের ব্যালেন্স শিট পরিষ্কার করার একটি উপায়। তবে অবলোপন মানে এই নয় যে খেলাপির দায় মওকুফ করা হচ্ছে। বরং প্রকৃত অবস্থা তুলে ধরতে এবং আর্থিক স্বচ্ছতা বজায় রাখতে এটি প্রয়োজনীয়।
তিনি বলেন, শক্তিশালী আইন, কার্যকর বিচারব্যবস্থা, পেশাদার ব্যাংক পরিচালনা এবং কঠোর জবাবদিহি ছাড়া ব্যাংক খাতের এই সংকট থেকে মুক্তি পাওয়া সম্ভব নয়।
অগ্রণী ব্যাংকের চেয়ারম্যান সৈয়দ আবু নাসের বখতিয়ার আহমেদ জাগো নিউজকে বলেন, ছয় ব্যাংকের শীর্ষ ২০ খেলাপির কাছেই প্রায় এক লাখ কোটি টাকা আটকে আছে, যা বড় ধরনের ঝুঁকি তৈরি করেছে। মাত্র ২০ জন ঋণগ্রহীতার কাছে এত বড় অঙ্কের টাকা আটকে থাকা ব্যাংক খাতের জন্য অবশ্যই দুর্বলতা।
তিনি বলেন, ইচ্ছাকৃত খেলাপিদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নিতে হবে। তবে যেসব গ্রাহক ব্যবসায়িক বা অর্থনৈতিক কারণে সমস্যায় পড়েছেন, তাদের পুনরুদ্ধারের সুযোগ দিতে সহায়তা করাও জরুরি।
অগ্রণী ব্যাংকের ঋণ আদায়ে নেওয়া পদক্ষেপের বিষয়ে জানতে চাইলে সৈয়দ আবু নাসের বখতিয়ার আহমেদ জানান, অগ্রণী ব্যাংক এরই মধ্যে প্রায় ১০ হাজার কোটি টাকার ঋণ পুনঃতফসিল (রিশিডিউল) করতে সক্ষম হয়েছে এবং নগদ আদায় হয়েছে এক হাজার কোটি টাকার বেশি। চলতি বছরের শেষে আদায়ের পরিমাণ আরও বাড়বে।
তিনি বলেন, আমরা লক্ষ্য নির্ধারণ করে কাজ করছি। পরিচালনা পর্ষদ ও কর্মকর্তারা সক্রিয়ভাবে কাজ করছেন। আশা করছি ডিসেম্বরের মধ্যে আরও ভালো অগ্রগতি দেখা যাবে।
এমএএস/কেএসআর
What's Your Reaction?