২০টি চীনা যুদ্ধবিমান কিনছে বাংলাদেশ, উদ্বিগ্ন ভারত

বাংলাদেশ বিমান বাহিনীর আধুনিকায়নের অংশ হিসেবে চীনের তৈরি ২০টি জে-১০সিই (J-10CE) মাল্টিরোল ফাইটার জেট ক্রয়ের উদ্যোগ দক্ষিণ এশিয়ার কৌশলগত ভারসাম্যে নতুন মাত্রা যোগ করতে পারে। প্রায় ২ দশমিক ২ বিলিয়ন মার্কিন ডলারের সম্ভাব্য এই চুক্তিকে ভারত কেবল সামরিক সরঞ্জাম সংগ্রহ হিসেবে নয়, বরং অঞ্চলে চীনের ক্রমবর্ধমান প্রভাবের অংশ হিসেবেও দেখছে। এ নিয়ে বৃহস্পতিবার (১৮ জুন) ডিফেন্স সিকিউরিটি এশিয়া একটি প্রতিবেদন প্রকাশ করেছে। প্রতিবেদন অনুযায়ী, ২০২৪ সালে রাজনৈতিক পরিবর্তনের পর অন্তর্বর্তী সরকারের সময় যুদ্ধবিমান কেনার আলোচনা গতি পায়। পরবর্তীতে নির্বাচনের পর গঠিত সরকারও বিমান বাহিনীর আধুনিকায়ন পরিকল্পনা অব্যাহত রাখে। এর ফলে ঢাকা ও বেইজিংয়ের প্রতিরক্ষা সহযোগিতা আরও গভীর হওয়ার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। বাংলাদেশ বিমান বাহিনীর দীর্ঘমেয়াদি ‘ফোর্সেস গোল ২০৩০’ কর্মসূচির আওতায় পুরোনো এফ-৭ এবং সীমিত সংখ্যক মিগ-২৯ যুদ্ধবিমানের বিকল্প হিসেবে আধুনিক জে-১০সিই সংগ্রহের পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে। আকাশসীমার নিরাপত্তা, সামুদ্রিক স্বার্থ রক্ষা এবং আধুনিক যুদ্ধ সক্ষমতা বৃদ্ধির লক্ষ্যেই এই উদ্যোগ। প্রস্তাবিত চুক্তির আওতায় যুদ্ধবিমান

২০টি চীনা যুদ্ধবিমান কিনছে বাংলাদেশ, উদ্বিগ্ন ভারত

বাংলাদেশ বিমান বাহিনীর আধুনিকায়নের অংশ হিসেবে চীনের তৈরি ২০টি জে-১০সিই (J-10CE) মাল্টিরোল ফাইটার জেট ক্রয়ের উদ্যোগ দক্ষিণ এশিয়ার কৌশলগত ভারসাম্যে নতুন মাত্রা যোগ করতে পারে। প্রায় ২ দশমিক ২ বিলিয়ন মার্কিন ডলারের সম্ভাব্য এই চুক্তিকে ভারত কেবল সামরিক সরঞ্জাম সংগ্রহ হিসেবে নয়, বরং অঞ্চলে চীনের ক্রমবর্ধমান প্রভাবের অংশ হিসেবেও দেখছে।

এ নিয়ে বৃহস্পতিবার (১৮ জুন) ডিফেন্স সিকিউরিটি এশিয়া একটি প্রতিবেদন প্রকাশ করেছে।

প্রতিবেদন অনুযায়ী, ২০২৪ সালে রাজনৈতিক পরিবর্তনের পর অন্তর্বর্তী সরকারের সময় যুদ্ধবিমান কেনার আলোচনা গতি পায়। পরবর্তীতে নির্বাচনের পর গঠিত সরকারও বিমান বাহিনীর আধুনিকায়ন পরিকল্পনা অব্যাহত রাখে। এর ফলে ঢাকা ও বেইজিংয়ের প্রতিরক্ষা সহযোগিতা আরও গভীর হওয়ার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে।

বাংলাদেশ বিমান বাহিনীর দীর্ঘমেয়াদি ‘ফোর্সেস গোল ২০৩০’ কর্মসূচির আওতায় পুরোনো এফ-৭ এবং সীমিত সংখ্যক মিগ-২৯ যুদ্ধবিমানের বিকল্প হিসেবে আধুনিক জে-১০সিই সংগ্রহের পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে। আকাশসীমার নিরাপত্তা, সামুদ্রিক স্বার্থ রক্ষা এবং আধুনিক যুদ্ধ সক্ষমতা বৃদ্ধির লক্ষ্যেই এই উদ্যোগ।

প্রস্তাবিত চুক্তির আওতায় যুদ্ধবিমান ছাড়াও পাইলট ও কারিগরি প্রশিক্ষণ, রক্ষণাবেক্ষণ সুবিধা, লজিস্টিক সহায়তা এবং উন্নত অস্ত্র ব্যবস্থা সরবরাহের বিষয় রয়েছে। জানা গেছে, দীর্ঘমেয়াদি কিস্তিতে অর্থ পরিশোধের সুযোগ থাকায় জাতীয় অর্থনীতির ওপর তাৎক্ষণিক বড় চাপ পড়বে না।

এদিকে বাংলাদেশের এই সামরিক আধুনিকায়ন ভারতের প্রতিরক্ষা মহলে উদ্বেগ সৃষ্টি করেছে। বিশেষ করে ভারতের উত্তর-পূর্বাঞ্চলকে মূল ভূখণ্ডের সঙ্গে সংযুক্তকারী শিলিগুড়ি করিডোরের নিরাপত্তা নিয়ে নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে। ভারতীয় সামরিক বিশ্লেষকদের মতে, বাংলাদেশের উত্তরাঞ্চলে আধুনিক যুদ্ধবিমান মোতায়েন হলে তা কৌশলগত ভারসাম্যে প্রভাব ফেলতে পারে।

জে-১০সিই একটি ৪.৫ প্রজন্মের আধুনিক যুদ্ধবিমান। এতে উন্নত অ্যাক্টিভ ইলেকট্রনিক্যালি স্ক্যানড অ্যারে (AESA) রাডার, আধুনিক ইলেকট্রনিক যুদ্ধ ব্যবস্থা এবং দূরপাল্লার পিএল-১৫ এয়ার-টু-এয়ার ক্ষেপণাস্ত্র ব্যবহারের সক্ষমতা রয়েছে। একাধিক লক্ষ্যবস্তু শনাক্ত ও মোকাবিলার পাশাপাশি নেটওয়ার্ক-কেন্দ্রিক যুদ্ধ পরিচালনায়ও এটি কার্যকর বলে বিবেচিত হয়।

বিশ্লেষকদের মতে, বাংলাদেশের প্রতিরক্ষা সরঞ্জামের বড় অংশ ইতোমধ্যেই চীন থেকে সংগ্রহ করা হয়। সাবমেরিন, ট্যাংক, যুদ্ধজাহাজ ও ক্ষেপণাস্ত্র ব্যবস্থার পর আধুনিক যুদ্ধবিমান যুক্ত হলে দুই দেশের সামরিক সহযোগিতা আরও শক্তিশালী হবে।

তবে ঢাকা বরাবরই বলে আসছে, প্রতিরক্ষা সক্ষমতা বৃদ্ধি একটি সার্বভৌম সিদ্ধান্ত এবং এটি কোনো দেশের বিরুদ্ধে নয়। অন্যদিকে, আঞ্চলিক পর্যবেক্ষকদের মতে, দক্ষিণ এশিয়ায় নিরাপত্তা ও সামরিক প্রতিযোগিতার নতুন বাস্তবতায় বাংলাদেশের এই পদক্ষেপ ভবিষ্যতে ভূরাজনৈতিক সমীকরণে গুরুত্বপূর্ণ প্রভাব ফেলতে পারে।

What's Your Reaction?

like

dislike

love

funny

angry

sad

wow