২০০ শতাংশ শুল্ক আরোপের হুমকিতে থামে ভারত-পাকিস্তান সংঘাত : ট্রাম্প
শুল্ক আরোপের হুমকি দিয়ে গত বছর ভারত ও পাকিস্তানের মধ্যে শুরু হওয়া সংঘাত থামিয়েছিলেন বলে দাবি করেছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। যুদ্ধ না থামালে পারমাণবিক শক্তিধর দুই প্রতিবেশীর ওপর ২০০ শতাংশ শুল্ক আরোপের হুমকি দিয়েছিলেন তিনি। খবর এনডিটিভির। বৃহস্পতিবার ওয়াশিংটনে শান্তি পর্ষদের বৈঠকে ট্রাম্প ওই যুদ্ধে ভূপাতিত বিমানের সংখ্যাও আগের থেকে বাড়িয়ে ১১টিতে নিয়ে গেছেন। যদিও যুদ্ধবিরতিতে তৃতীয় পক্ষের হস্তক্ষেপ এবং পাকিস্তানের সঙ্গে মে মাসের সেই সংঘাতে বিমান হারানোর সব দাবিই ভারত খারিজ করে আসছে। নিজের তথাকথিত মধ্যস্থতা সংক্রান্ত দক্ষতা নিয়ে বড়াই করে বৃহস্পতিবার শান্তি পর্ষদের অনুষ্ঠানের এক পর্যায়ে ট্রাম্প পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শেহবাজ শরীফকে দাঁড়াতে বলে বিব্রতকর অবস্থার মধ্যে ফেলে দেন। অন্য অনেক দেশে রাষ্ট্র ও সরকারপ্রধানের সঙ্গে শেহবাজও এদিন ট্রাম্পের অনুষ্ঠানে ছিলেন। মার্কিন প্রেসিডেন্ট বলেন, পাকিস্তান ও ভারত যুদ্ধটি ছিল বেশ বড় কিছু। আসলে আপনার (শেহবাজ শরীফ) দাঁড়ানো উচিত বলে মনে হয়। আসুন, প্লিজ, এক সেকেন্ডের জন্য দাঁড়ান। পাকিস্তান ও ভারত। আপনাকে অনেক ধন্যবাদ। নয়া দিল্লি ও ইসলাম
শুল্ক আরোপের হুমকি দিয়ে গত বছর ভারত ও পাকিস্তানের মধ্যে শুরু হওয়া সংঘাত থামিয়েছিলেন বলে দাবি করেছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। যুদ্ধ না থামালে পারমাণবিক শক্তিধর দুই প্রতিবেশীর ওপর ২০০ শতাংশ শুল্ক আরোপের হুমকি দিয়েছিলেন তিনি। খবর এনডিটিভির।
বৃহস্পতিবার ওয়াশিংটনে শান্তি পর্ষদের বৈঠকে ট্রাম্প ওই যুদ্ধে ভূপাতিত বিমানের সংখ্যাও আগের থেকে বাড়িয়ে ১১টিতে নিয়ে গেছেন। যদিও যুদ্ধবিরতিতে তৃতীয় পক্ষের হস্তক্ষেপ এবং পাকিস্তানের সঙ্গে মে মাসের সেই সংঘাতে বিমান হারানোর সব দাবিই ভারত খারিজ করে আসছে।
নিজের তথাকথিত মধ্যস্থতা সংক্রান্ত দক্ষতা নিয়ে বড়াই করে বৃহস্পতিবার শান্তি পর্ষদের অনুষ্ঠানের এক পর্যায়ে ট্রাম্প পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শেহবাজ শরীফকে দাঁড়াতে বলে বিব্রতকর অবস্থার মধ্যে ফেলে দেন। অন্য অনেক দেশে রাষ্ট্র ও সরকারপ্রধানের সঙ্গে শেহবাজও এদিন ট্রাম্পের অনুষ্ঠানে ছিলেন।
মার্কিন প্রেসিডেন্ট বলেন, পাকিস্তান ও ভারত যুদ্ধটি ছিল বেশ বড় কিছু। আসলে আপনার (শেহবাজ শরীফ) দাঁড়ানো উচিত বলে মনে হয়। আসুন, প্লিজ, এক সেকেন্ডের জন্য দাঁড়ান। পাকিস্তান ও ভারত। আপনাকে অনেক ধন্যবাদ।
নয়া দিল্লি ও ইসলামাবাদের মধ্যে যুদ্ধবিরতিতে মধ্যস্থতা করে ট্রাম্প আড়াই কোটি মানুষের জীবন বাঁচিয়েছেন বলে শেহবাজের দাবির কথা তুলে ধরে নিজের যুক্তিকে জোরের সঙ্গে উপস্থাপনও করেন তিনি।
আপনি ওই কথা বলেছিলেন। আমি বলেছি আড়াই কোটি জীবন, প্রকৃতপক্ষে আরও অনেক বেশি হতে পারতো। ভারত ও পাকিস্তানের মধ্যে যুদ্ধ তখন বাড়ছিল, বিমান ভূপাতিত হচ্ছিল, বলেছেন ট্রাম্প।
আগে অবশ্য তিনি দক্ষিণ এশিয়ার পারমাণবিক শক্তিধর দুই দেশের সংঘাত থামিয়ে এক কোটি মানুষের জীবন বাঁচানোর কৃতিত্ব দাবি করেছিলেন। কয়েক মাসের ব্যবধানে এই সংখ্যা আড়াই গুণ হয়ে গেছে।
ট্রাম্পের দাবি, যু্দ্ধবিরতি অর্জনে তিনি তার শুল্ক নীতিকে কাজে লাগিয়েছেন। আমি তাদের দুজনের সঙ্গে ফোনে কথা বলি। দুজনকেই আমি অল্পবিস্তর চিনি। প্রধানমন্ত্রী মোদীকে আমি ভালোই চিনি। আমি তাদের ফোন করি এবং বলি, শুনুন, আপনারা যদি যুদ্ধ না থামান তাহলে আমি আপনাদের দুজনের সঙ্গে কোনো বাণিজ্য চুক্তি করছি না এবং এরপর হঠাৎই আমরা একটি সমঝোতায় পৌঁছাই।
আমি বলি যদি আপনারা যুদ্ধ করেন, আমি আপনাদের প্রত্যেকের দেশের ওপর ২০০ শতাংশ শুল্ক বসাবো। তারা দুজনই যুদ্ধ করতে চাইছিল। কিন্তু যখন অর্থের প্রসঙ্গ আসে, অর্থের মতো কিছুই হয় না। যখন প্রসঙ্গ আসে অনেক অর্থ হারানোর, তখন তারা বলে, আমরা সম্ভবত লড়তে চাই না। ১১টি যুদ্ধবিমান ভূপাতিত হয়েছে, খুবই দামি যুদ্ধবিমান, বলেন ট্রাম্প।
পাকিস্তান-ভারত যুদ্ধে ভূপাতিত বিমানের সংখ্যা ট্রাম্প বাড়িয়েই চলেছেন। প্রথমে তিনি ৫টি বিমান ভূপাতিত হয়েছিল বলে জানিয়েছিলেন, এরপর সেটি বেড়ে হয় ৭। এর কয়েকদিন পর তিনি ৮টি বিমান ভূপাতিত হয়েছিল বলে জানান। সর্বশেষ কয়েকদিন আগে তিনি ভূপাতিত বিমানের সংখ্যা ১০-এ তুলেছিলেন।
মার্কিন প্রেসিডেন্ট বারবার বলছেন, দ্বিতীয় মেয়াদে হোয়াইট হাউসে ঢোকার পর প্রথম বছরেই তিনি ৮টি যুদ্ধ থামিয়েছেন।
এর মধ্যে ভারত-পাকিস্তান যুদ্ধ থামানোর কৃতিত্বই তিনি ৮০ বারের বেশি নিয়েছেন বলে জানাচ্ছে এনডিটিভি। গত বছরের ১০ মে তিনিই প্রথম সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বলেছিলেন, যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যস্থতায় আলোচনার পর দুই প্রতিবেশী ভারত ও পাকিস্তান শিগগির পূর্ণাঙ্গ যুদ্ধবিরতিতে রাজি হয়েছে।
তবে ভারত বারবারই বলে আসছে, পাকিস্তানের সঙ্গে তাদের গত বছরের সংঘাত থেমেছে দুই দেশের সামরিক বাহিনীর ডিরেক্টরস জেনারেল অব মিলিটারি অপারেশনসের (ডিজিএমও) মধ্যে সরাসরি কথাবার্তার পর, তৃতীয় কোনো পক্ষের মধ্যস্থতায় নয়।
এপ্রিলে ভারত নিয়ন্ত্রিত কাশ্মীরে এক সন্ত্রাসী হামলায় ২৬ বেসামরিক নিহত হওয়ার পর ৭ মে নয়া দিল্লি পাকিস্তান ও পাকিস্তান-নিয়ন্ত্রিত কাশ্মীরে তাদের ভাষায় সন্ত্রাসী অবকাঠামোতে হামলা চালানোর পর যুদ্ধ বেধে যায়। দুই দেশের ওই পাল্টাপাল্টি গোলাগুলি ও বিমান হামলা চারদিন পর থামে।
What's Your Reaction?