২০০তম অধ্যায়ের সামনে মেসি: রোজারিওর সেই ছোট্ট ছেলে থেকে কিংবদন্তি

কুড়ি বছর আগে জার্মানির বিশ্বকাপে এক কিশোর বদলি খেলোয়াড় হিসেবে মাঠে নেমেছিলেন। তার চোখে ছিল স্বপ্ন, পায়ে ছিল জাদু; কিন্তু সামনে কী অপেক্ষা করছে তা কেউ জানত না। দুই দশক পর সেই কিশোরই ফুটবল ইতিহাসের সবচেয়ে আলোচিত নাম। বিশ্বকাপ, কোপা আমেরিকা, অগণিত রেকর্ড আর কোটি মানুষের হৃদয় জয়ের পর এবার লিওনেল মেসি দাঁড়িয়ে আছেন আরেকটি ঐতিহাসিক মাইলফলকের সামনে- আর্জেন্টিনার জার্সিতে ২০০তম ম্যাচ। আগামীকাল ভোরে (বাংলাদেশ সময় বুধবার) আলজেরিয়ার বিপক্ষে বিশ্বকাপের ম্যাচে মাঠে নামলেই ২০০ ম্যাচের অনন্য ক্লাবে প্রবেশ করবেন আর্জেন্টাইন অধিনায়ক। আন্তর্জাতিক ফুটবলে এত দীর্ঘ সময় ধরে একই জাতীয় দলের হয়ে শীর্ষ পর্যায়ে খেলে যাওয়ার নজির খুব কমই আছে। মেসির আন্তর্জাতিক যাত্রা শুরু হয়েছিল ২০০৫ সালে। এরপর বিশ্বকাপের হতাশা, তিনটি বড় ফাইনালে পরাজয়, অবসরের ঘোষণা এবং সেখান থেকে প্রত্যাবর্তন- সবকিছুর মধ্য দিয়েই এগিয়েছে তার গল্প। ২০১৪ সালের বিশ্বকাপ ফাইনালের কান্না, ২০১৫ ও ২০১৬ কোপা আমেরিকার হৃদয়ভাঙা পরাজয়ের রাতের পর অবশেষে ২০২১ সালে কোপা আমেরিকা জয় এবং ২০২২ সালে বিশ্বকাপ ট্রফি তুলে ধরে তিনি পূর্ণতা দেন নিজের

২০০তম অধ্যায়ের সামনে মেসি: রোজারিওর সেই ছোট্ট ছেলে থেকে কিংবদন্তি

কুড়ি বছর আগে জার্মানির বিশ্বকাপে এক কিশোর বদলি খেলোয়াড় হিসেবে মাঠে নেমেছিলেন। তার চোখে ছিল স্বপ্ন, পায়ে ছিল জাদু; কিন্তু সামনে কী অপেক্ষা করছে তা কেউ জানত না। দুই দশক পর সেই কিশোরই ফুটবল ইতিহাসের সবচেয়ে আলোচিত নাম। বিশ্বকাপ, কোপা আমেরিকা, অগণিত রেকর্ড আর কোটি মানুষের হৃদয় জয়ের পর এবার লিওনেল মেসি দাঁড়িয়ে আছেন আরেকটি ঐতিহাসিক মাইলফলকের সামনে- আর্জেন্টিনার জার্সিতে ২০০তম ম্যাচ।

আগামীকাল ভোরে (বাংলাদেশ সময় বুধবার) আলজেরিয়ার বিপক্ষে বিশ্বকাপের ম্যাচে মাঠে নামলেই ২০০ ম্যাচের অনন্য ক্লাবে প্রবেশ করবেন আর্জেন্টাইন অধিনায়ক। আন্তর্জাতিক ফুটবলে এত দীর্ঘ সময় ধরে একই জাতীয় দলের হয়ে শীর্ষ পর্যায়ে খেলে যাওয়ার নজির খুব কমই আছে।

মেসির আন্তর্জাতিক যাত্রা শুরু হয়েছিল ২০০৫ সালে। এরপর বিশ্বকাপের হতাশা, তিনটি বড় ফাইনালে পরাজয়, অবসরের ঘোষণা এবং সেখান থেকে প্রত্যাবর্তন- সবকিছুর মধ্য দিয়েই এগিয়েছে তার গল্প। ২০১৪ সালের বিশ্বকাপ ফাইনালের কান্না, ২০১৫ ও ২০১৬ কোপা আমেরিকার হৃদয়ভাঙা পরাজয়ের রাতের পর অবশেষে ২০২১ সালে কোপা আমেরিকা জয় এবং ২০২২ সালে বিশ্বকাপ ট্রফি তুলে ধরে তিনি পূর্ণতা দেন নিজের ক্যারিয়ারকে।

এখন ৩৮ বছর বয়সী মেসি নিজের ষষ্ঠ বিশ্বকাপ খেলতে যাচ্ছেন, যা নিজেই একটি রেকর্ড। বিশ্বকাপে সর্বাধিক ম্যাচ খেলার রেকর্ডও (২৬টি) তার দখলে। আর্জেন্টিনার হয়ে গোল (১১৭), অ্যাসিস্ট (৬১টি) ও ম্যাচসংখ্যা (১৯৯) - প্রায় সব বড় রেকর্ডই তার নামের পাশে।

messi

বিশ্বকাপ শুরুর আগে চোট নিয়ে কিছু শঙ্কা থাকলেও প্রস্তুতি ম্যাচে গোল করে তিনি জানিয়ে দিয়েছেন, এখনও শেষ হয়ে যাননি। কোচ লিওনেল স্কালোনি বলেছেন, ‘মেসির ২০০তম ম্যাচ দেখার জন্য পুরো পৃথিবী অপেক্ষা করছে।’ আর্জেন্টাইন ডিফেন্ডার নিকোলাস ওতামেন্দিও তাকে দলের অনুপ্রেরণার উৎস হিসেবে বর্ণনা করেছেন।

বুধবার বিশ্বকাপে প্রথম ম্যাচটি তাই শুধু আর্জেন্টিনার বিশ্বকাপ অভিযান শুরুর গল্প নয়। এটি এক কিংবদন্তির দীর্ঘ পথচলার উদযাপনও। ২০০৬ বিশ্বকাপে যে ছেলেটি প্রথমবার বিশ্বমঞ্চে নিজেকে পরিচয় করিয়েছিল, ২০২৬-এ সেই মেসি ২০০তম আন্তর্জাতিক ম্যাচ খেলতে নামবেন বিশ্বচ্যাম্পিয়ন অধিনায়ক হিসেবে। আর ফুটবল বিশ্ব হয়তো আবারও দাঁড়িয়ে থাকবে তার জাদুর সাক্ষী হতে। নিশ্চিত, কানসাস সিটির অ্যারোহেড স্টেডিয়ামের দর্শকরাও গৌরবের সঙ্গে দাঁড়িয়ে ‘স্ট্যান্ডেনোভেশন’ জানাতে প্রস্তুত হয়ে আছেন!

টিটিটি/আইএইচএস

What's Your Reaction?

like

dislike

love

funny

angry

sad

wow