২২ বছর পর অক্ষয়-রাবিনার পুনর্মিলন, আলোচনায় সেই সংলাপ

নব্বই দশকের বলিউডের সবচেয়ে জনপ্রিয় জুটিগুলোর একটি ছিলেন অক্ষয় কুমার ও রবীনা ট্যান্ডন। ‘মোহরা’, ‘বারুদ’ ও ‘খিলাড়িও কা খিলাড়ি’র মতো একাধিক ব্যবসাসফল সিনেমায় তাদের রসায়ন যেমন দর্শকদের মুগ্ধ করেছিল, তেমনি বাস্তব জীবনের প্রেমও ছিল সেই সময়ের অন্যতম আলোচিত বিষয়। দীর্ঘ ২২ বছর পর আবারও একসঙ্গে বড়পর্দায় ফিরেছেন এই দুই তারকা। ২০২৬ সালের বহুল প্রতীক্ষিত কমেডি ছবি ‘ওয়েলকাম টু দ্য জঙ্গল’-এ তাদের পুনর্মিলন দর্শকদের মধ্যে তৈরি করেছে বাড়তি উচ্ছ্বাস। আর সিনেমার একটি সংলাপই এখন সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে আলোচনার কেন্দ্রবিন্দু। সিনেমার এক দৃশ্যে রাবিনার চরিত্র জোয়া অক্ষয়ের চরিত্র রাজীবকে উদ্দেশ করে বলেন, ‘কুড়ি বছর ধরে কোথায় ছিলে তুমি?’ গল্পের প্রয়োজনে লেখা এই সংলাপটি দর্শকদের কাছে যেন অক্ষয়-রাবিনার বাস্তব জীবনের অতীত সম্পর্কেরই ইঙ্গিত হয়ে ধরা দিয়েছে। ফলে সিনেমা হলে মুহূর্তটি বাড়তি আবেগ ও নস্টালজিয়া তৈরি করেছে। এ প্রসঙ্গে সিনেমার পরিচালক আহমেদ খান বলেন, অক্ষয় ও রাবিনা তার দীর্ঘদিনের বন্ধু। তাদের প্রেমের সময়টাও তিনি খুব কাছ থেকে দেখেছেন। পরিচালকের ভাষায়, ‘আমরা প্রায় একই সময়ে ইন্ডাস্ট্রিতে এসেছিলাম। তখনকার অনে

২২ বছর পর অক্ষয়-রাবিনার পুনর্মিলন, আলোচনায় সেই সংলাপ

নব্বই দশকের বলিউডের সবচেয়ে জনপ্রিয় জুটিগুলোর একটি ছিলেন অক্ষয় কুমার ও রবীনা ট্যান্ডন। ‘মোহরা’, ‘বারুদ’ ও ‘খিলাড়িও কা খিলাড়ি’র মতো একাধিক ব্যবসাসফল সিনেমায় তাদের রসায়ন যেমন দর্শকদের মুগ্ধ করেছিল, তেমনি বাস্তব জীবনের প্রেমও ছিল সেই সময়ের অন্যতম আলোচিত বিষয়।

দীর্ঘ ২২ বছর পর আবারও একসঙ্গে বড়পর্দায় ফিরেছেন এই দুই তারকা। ২০২৬ সালের বহুল প্রতীক্ষিত কমেডি ছবি ‘ওয়েলকাম টু দ্য জঙ্গল’-এ তাদের পুনর্মিলন দর্শকদের মধ্যে তৈরি করেছে বাড়তি উচ্ছ্বাস। আর সিনেমার একটি সংলাপই এখন সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে আলোচনার কেন্দ্রবিন্দু।

সিনেমার এক দৃশ্যে রাবিনার চরিত্র জোয়া অক্ষয়ের চরিত্র রাজীবকে উদ্দেশ করে বলেন, ‘কুড়ি বছর ধরে কোথায় ছিলে তুমি?’ গল্পের প্রয়োজনে লেখা এই সংলাপটি দর্শকদের কাছে যেন অক্ষয়-রাবিনার বাস্তব জীবনের অতীত সম্পর্কেরই ইঙ্গিত হয়ে ধরা দিয়েছে। ফলে সিনেমা হলে মুহূর্তটি বাড়তি আবেগ ও নস্টালজিয়া তৈরি করেছে।

এ প্রসঙ্গে সিনেমার পরিচালক আহমেদ খান বলেন, অক্ষয় ও রাবিনা তার দীর্ঘদিনের বন্ধু। তাদের প্রেমের সময়টাও তিনি খুব কাছ থেকে দেখেছেন।

পরিচালকের ভাষায়, ‘আমরা প্রায় একই সময়ে ইন্ডাস্ট্রিতে এসেছিলাম। তখনকার অনেক স্মৃতিই আমার জানা। কিন্তু এখন আমাদের সবার বয়স হয়েছে, সংসার হয়েছে, সন্তান হয়েছে। আজ পেছনে ফিরে তাকালে সেই সময়টাকে খুব ছেলেমানুষি মনে হয়।’

তবে ওই সংলাপটি পর্দায় আনতে প্রথমে কিছুটা দ্বিধায় ছিলেন অক্ষয় ও রাবিনা। শেষ পর্যন্ত তাদের রাজি করান পরিচালক নিজেই।

আহমেদ খান বলেন, ‘আমি ওদের বলেছিলাম, আমার জন্য এটুকু করবে না? এরপর আমরা ঠিক করলাম, দর্শকদের মনে করিয়ে দেওয়া যাক-২০ বছর পর তারা আবার একসঙ্গে ফিরেছে। খুব সচেতনভাবেই দৃশ্যটি তৈরি করা হয়েছিল। এর ভেতরে একটি সূক্ষ্ম ইঙ্গিত ছিল, যা দর্শক ঠিকই বুঝে নিয়েছেন।’

উল্লেখ্য, ১৯৯৫ সালে অক্ষয় কুমার ও রাবিনা ট্যান্ডনের প্রেমের সম্পর্ক শুরু হয়। তবে নানা জল্পনা-কল্পনা ও সংবাদমাধ্যমের চর্চার মধ্যেই ১৯৯৮ সালে তাদের বিচ্ছেদ ঘটে। এত বছর পর সেই অতীতকে পেছনে ফেলে একই দৃশ্যে অভিনয় করায় দুই তারকার প্রশংসা করেছেন আহমেদ খান।

শুটিং সেটে তাদের সম্পর্ক কেমন ছিল, সেটিও জানিয়েছেন পরিচালক। তার ভাষায়, অক্ষয় ও রবীনার মধ্যে কোনো ধরনের আনুষ্ঠানিকতা ছিল না। তারা এখনো আগের মতোই স্বাভাবিকভাবে কথা বলেন।

আহমেদ খান বলেন, ‘অক্ষয় সেটে এসেই রাবিনাকে ডাকত, ‘‘কী করছিস? এদিকে আয়।’’ ওদের মধ্যে কোনো দূরত্ব ছিল না। অক্ষয়, সুনীল শেঠি আর রাবিনা মানেই ‘‘মোহরা’’ টিম। তাই সিনেমাটিতে ‘‘মোহরা’’ নিয়েও একটি মজার রেফারেন্স রাখা হয়েছে।’

‘ওয়েলকাম টু দ্য জঙ্গল’ সিনেমাতে প্রায় ৩৪ জন জনপ্রিয় অভিনেতা-অভিনেত্রী অভিনয় করেছেন। এত বড় তারকাবহুল কাস্টকে একসঙ্গে নিয়ে কাজ করা সহজ ছিল না। তবে শুটিংয়ের অভিজ্ঞতা স্মরণ করে পরিচালক জানান, পুরো সেটজুড়েই ছিল বন্ধুত্বপূর্ণ ও প্রাণবন্ত পরিবেশ।

তিনি বলেন, ‘অক্ষয়, সুনীল শেঠি ও পরেশ রাওয়ালকে একসঙ্গে দেখলেই মনে হতো যেন ‘‘হেরা ফেরি’’র শুটিং চলছে। আবার অক্ষয় ও আরশাদ ওয়ার্সিকে দেখলে ‘‘জলি এলএলবি’’র কথা মনে পড়ত। তুষার কাপুর, শ্রেয়াস তালপাড়ে ও জনি লিভারকে একসঙ্গে দেখলে ‘‘গোলমাল’’র আবহ তৈরি হত। সবাই দারুণ উপভোগ করে কাজ করেছেন। সেটের পরিবেশটাই ছিল অসাধারণ।’

এমএমএফ

What's Your Reaction?

like

dislike

love

funny

angry

sad

wow