২৫ দিনেই রায়: শিশু নিছামনি ধর্ষণ-হত্যায় ৩ জনের মৃত্যুদণ্ড

ময়মনসিংহের ধোবাউড়া উপজেলায় পাঁচ বছর বয়সী শিশু নিছামনিকে সংঘবদ্ধ ধর্ষণের পর নদীর পানিতে চুবিয়ে হত্যার আলোচিত মামলায় তিন আসামিকে মৃত্যুদণ্ড দিয়েছেন আদালত। একই সঙ্গে প্রত্যেককে ২ লাখ টাকা করে অর্থদণ্ড করা হয়েছে। এছাড়া মামলার অপ্রাপ্তবয়স্ক এক আসামিকে ১০ বছরের কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে। বৃহস্পতিবার (৯ জুলাই) দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে ময়মনসিংহ চিফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালত ভবনের শিশু সহিংসতা দমন ট্রাইব্যুনালের বিচারক সুদীপ্তা সরকারের আদালত প্রাপ্তবয়স্ক তিন আসামি- আরিফ মিয়া (১৯), রাকিব মিয়া (২১) ও মো. সাঈম মিয়ার (১৯) উপস্থিতিতে এ রায় ঘোষণা করেন। একই দিনে পৃথকভাবে জেলা ও দায়রা জজ আদালতের নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালের বিচারক এমএলবি মেছবাহ উদ্দিন আহমেদের আদালত মামলার অপ্রাপ্তবয়স্ক আসামি মারুফ মিয়াকে ১০ বছরের কারাদণ্ড দেন। মামলায় রাষ্ট্রপক্ষে শুনানি পরিচালনা করেন নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালের স্পেশাল পাবলিক প্রসিকিউটর (পিপি) বজলুল করিম চৌধুরী। আসামিপক্ষে ছিলেন অ্যাডভোকেট মকবুল হোসেন সরকার। পুলিশ জানায়, গত ১৪ জুন বিকেলে বাড়ির পাশ থেকে নিখোঁজ হয় পাঁচ বছরের শিশু নিছামনি। পরিবারের

২৫ দিনেই রায়: শিশু নিছামনি ধর্ষণ-হত্যায় ৩ জনের মৃত্যুদণ্ড

ময়মনসিংহের ধোবাউড়া উপজেলায় পাঁচ বছর বয়সী শিশু নিছামনিকে সংঘবদ্ধ ধর্ষণের পর নদীর পানিতে চুবিয়ে হত্যার আলোচিত মামলায় তিন আসামিকে মৃত্যুদণ্ড দিয়েছেন আদালত। একই সঙ্গে প্রত্যেককে ২ লাখ টাকা করে অর্থদণ্ড করা হয়েছে। এছাড়া মামলার অপ্রাপ্তবয়স্ক এক আসামিকে ১০ বছরের কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে।

বৃহস্পতিবার (৯ জুলাই) দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে ময়মনসিংহ চিফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালত ভবনের শিশু সহিংসতা দমন ট্রাইব্যুনালের বিচারক সুদীপ্তা সরকারের আদালত প্রাপ্তবয়স্ক তিন আসামি- আরিফ মিয়া (১৯), রাকিব মিয়া (২১) ও মো. সাঈম মিয়ার (১৯) উপস্থিতিতে এ রায় ঘোষণা করেন।

একই দিনে পৃথকভাবে জেলা ও দায়রা জজ আদালতের নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালের বিচারক এমএলবি মেছবাহ উদ্দিন আহমেদের আদালত মামলার অপ্রাপ্তবয়স্ক আসামি মারুফ মিয়াকে ১০ বছরের কারাদণ্ড দেন।

মামলায় রাষ্ট্রপক্ষে শুনানি পরিচালনা করেন নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালের স্পেশাল পাবলিক প্রসিকিউটর (পিপি) বজলুল করিম চৌধুরী। আসামিপক্ষে ছিলেন অ্যাডভোকেট মকবুল হোসেন সরকার।

পুলিশ জানায়, গত ১৪ জুন বিকেলে বাড়ির পাশ থেকে নিখোঁজ হয় পাঁচ বছরের শিশু নিছামনি। পরিবারের সদস্যরা সম্ভাব্য সব স্থানে খোঁজাখুঁজি করেও তার সন্ধান পাননি। পরে সন্ধ্যা সাড়ে ৭টার দিকে বাড়ি থেকে প্রায় ৫০০ গজ দূরে কংস নদের একটি বাঁক থেকে স্থানীয়রা নদীর তলদেশে পুঁতে রাখা অবস্থায় শিশুটির মরদেহ উদ্ধার করেন।

স্বজনরা মরদেহ দাফনের প্রস্তুতির সময় শিশুটির শরীরের স্পর্শকাতর স্থানে আঘাতের চিহ্ন দেখতে পান। পরে দাফন স্থগিত রেখে পুলিশকে খবর দেওয়া হয়। রাত সাড়ে ১২টার দিকে পুলিশ মরদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য পাঠায়।

পরদিন ১৫ জুন রাতে শিশুটির বাবা ধোবাউড়া থানায় দলবদ্ধ ধর্ষণ ও হত্যার অভিযোগে মামলা করেন। মামলায় অজ্ঞাতনামাদের আসামি করা হলেও সন্দেহভাজন চার তরুণের নাম উল্লেখ করা হয়।

তদন্তে চারজনকে গ্রেপ্তারের পর পুলিশ তাদের কাছ থেকে ধর্ষণ ও হত্যার ঘটনার স্বীকারোক্তিমূলক তথ্য পায়। পরে আসামিদের আদালতে হাজির করা হলে তারা বিচারকের কাছে ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দেন।

ময়নাতদন্ত ও ডিএনএ প্রতিবেদন হাতে পাওয়ার পর গত ২৩ জুন চার আসামির বিরুদ্ধে আদালতে অভিযোগপত্র (চার্জশিট) দাখিল করে পুলিশ। মামলায় রাষ্ট্রপক্ষে ১৯ জন সাক্ষ্য দেন। অপরদিকে আসামিপক্ষে চারজন সাফাই সাক্ষী আদালতে সাক্ষ্য প্রদান করেন।

উল্লেখ্য, ঘটনার মাত্র ২৫ দিনের মধ্যে বিচারিক কার্যক্রম সম্পন্ন করে পৃথক দুই আদালত এ বহুল আলোচিত মামলার রায় ঘোষণা করেন।

What's Your Reaction?

like

dislike

love

funny

angry

sad

wow