৩০ লাখ টাকা পেল কারখানায় হাত হারানো সেই নাঈম
ছয় বছরের আইনি লড়াই শেষে হাইকোর্টের নির্দেশে ৩০ লাখ টাকা ক্ষতিপূরণ পেয়েছেন কিশোরগঞ্জের ভৈরব উপজেলার একটি ওয়ার্কশপে কাজ করতে গিয়ে ডান হাত হারানো কিশোর নাঈম।
সোমবার (০৬ জুলাই) ১৫ লাখ টাকার চেকসহ মোট ৩০ লাখ টাকা দিয়েছে মালিকপক্ষ।
তথ্যটি নিশ্চিত করে কিশোর নাঈমের আইনজীবী ওমর ফারুক জানান, ৬ বছরের আইনি লড়াই আজ সফল হলো। আদালতের রায়ে মোট ৩০ লাখ টাকা পেল নাহিদ। সোমবার ১৫ লাখ টাকার চেক দেওয়া হয়েছে। এর আগে দুই দফায় ১৫ লাখ টাকা পেয়েছেন। মোট ৩০ লাখ টাকা ক্ষতিপূরণ পেল নাহিদ। এ ছাড়া পড়ালেখার খরচের জন্য প্রতি মাসে ৭ হাজার টাকা করে পাবে।
এর আগে গত বছরের ১০ ফেব্রুয়ারি আদালতের আদেশের পরও নাঈম হাসান নাহিদকে ৩০ লাখ টাকা ক্ষতিপূরণ না দেওয়ায় কারখানার মালিক হাজী ইয়াকুবকে তলব করেন আপিল বিভাগ। আদালত অবমাননার আবেদনের শুনানি নিয়ে বিচারপতি মো. আশফাকুল ইসলামের নেতৃত্বাধীন আপিল বিভাগ এ আদেশ দেন।
২০২৪ সালের ১৯ নভেম্বর নাঈম হাসান নাহিদকে ৩০ লাখ টাকা ফিক্সড ডিপোজিট করে দিতে হাইকোর্টের রায় বহাল রাখেন আপিল বিভাগ।
জ্যেষ্ঠ বিচারপতি মো. আশফাকুল ইসলামের নেতৃত্বাধীন আপিল বিভাগ এ আদেশ দেন।
একই বছরের ১২ জানুয
ছয় বছরের আইনি লড়াই শেষে হাইকোর্টের নির্দেশে ৩০ লাখ টাকা ক্ষতিপূরণ পেয়েছেন কিশোরগঞ্জের ভৈরব উপজেলার একটি ওয়ার্কশপে কাজ করতে গিয়ে ডান হাত হারানো কিশোর নাঈম।
সোমবার (০৬ জুলাই) ১৫ লাখ টাকার চেকসহ মোট ৩০ লাখ টাকা দিয়েছে মালিকপক্ষ।
তথ্যটি নিশ্চিত করে কিশোর নাঈমের আইনজীবী ওমর ফারুক জানান, ৬ বছরের আইনি লড়াই আজ সফল হলো। আদালতের রায়ে মোট ৩০ লাখ টাকা পেল নাহিদ। সোমবার ১৫ লাখ টাকার চেক দেওয়া হয়েছে। এর আগে দুই দফায় ১৫ লাখ টাকা পেয়েছেন। মোট ৩০ লাখ টাকা ক্ষতিপূরণ পেল নাহিদ। এ ছাড়া পড়ালেখার খরচের জন্য প্রতি মাসে ৭ হাজার টাকা করে পাবে।
এর আগে গত বছরের ১০ ফেব্রুয়ারি আদালতের আদেশের পরও নাঈম হাসান নাহিদকে ৩০ লাখ টাকা ক্ষতিপূরণ না দেওয়ায় কারখানার মালিক হাজী ইয়াকুবকে তলব করেন আপিল বিভাগ। আদালত অবমাননার আবেদনের শুনানি নিয়ে বিচারপতি মো. আশফাকুল ইসলামের নেতৃত্বাধীন আপিল বিভাগ এ আদেশ দেন।
২০২৪ সালের ১৯ নভেম্বর নাঈম হাসান নাহিদকে ৩০ লাখ টাকা ফিক্সড ডিপোজিট করে দিতে হাইকোর্টের রায় বহাল রাখেন আপিল বিভাগ।
জ্যেষ্ঠ বিচারপতি মো. আশফাকুল ইসলামের নেতৃত্বাধীন আপিল বিভাগ এ আদেশ দেন।
একই বছরের ১২ জানুয়ারি হাত হারানো নাহিদকে ৩০ লাখ টাকা ফিক্সড ডিপোজিট করে দিতে নির্দেশ দেন হাইকোর্ট। ওই বছরের এপ্রিল মাসের মধ্যে ১৫ লাখ টাকার ডিপোজিট এবং ডিসেম্বর মাসের মধ্যে ১৫ লাখ টাকার ডিপোজিট করে দিতে বলা হয়। ১০ বছর পর নাঈম হাসান নাহিদ ডিপোজিটের টাকা উত্তোলন করতে পারবে। একইসঙ্গে শিশুটি এইচএসসি পাস না করা পর্যন্ত তাকে প্রতি মাসে ৭ হাজার টাকা করে দিতে বলা হয়।
ভৈরবের নূর ইঞ্জিনিয়ারিং ওয়ার্কশপের মালিককে এ আদেশ বাস্তবায়ন করতে বলা হয়।
এ বিষয়ে জারি করা রুল নিষ্পত্তি করে বিচারপতি নাইমা হায়দার ও বিচারপতি কাজী জিনাত হকের সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্ট বেঞ্চ এ রায় ঘোষণা করেন।
সেদিন আদালতে রিট আবেদনকারীর পক্ষে শুনানি করেন আইনজীবী ব্যারিস্টার অনীক আর হক ও অ্যাডভোকেট মো. বাকির উদ্দিন ভূঁইয়া। সঙ্গে ছিলেন আইনজীবী তামজিদ হাসান।
২০২৩ সালের ৫ ডিসেম্বর শিশু নাঈম হাসানকে ক্ষতিপূরণ দিতে রুলের ওপর শুনানি হয়। শুনানি শেষে আদালত বিষয়টি রায়ের জন্য অপেক্ষমাণ রাখেন।
‘ভৈরবে শিশুশ্রমের করুণ পরিণতি’ শিরোনামে ২০২০ সালের ১ নভেম্বর একটি জাতীয় দৈনিকে প্রতিবেদন ছাপা হয়। প্রতিবেদন অনুযায়ী, তখন নাঈম হাসানের বয়স ১০ বছর। সে চতুর্থ শ্রেণিতে পড়ত। তার বাড়ি ব্রাহ্মণবাড়িয়ার আশুগঞ্জ উপজেলার আড়াইসিধা গ্রামে। তার বাবা আনোয়ার হোসেনের পেশা জুতার ব্যবসা। করোনাভাইরাসের প্রাদুর্ভাব শুরুর সময়ে আনোয়ার কর্মহীন হয়ে পড়েন। এ সময় সংসারের চাপ সামলাতে নাঈমকে তার মা-বাবা কিশোরগঞ্জের ভৈরবের একটি ওয়ার্কশপে কাজে দেন। এ ওয়ার্কশপে কাজ করতে গিয়েই তার ডান হাতটি মেশিনে ঢুকে যায়। শেষে অস্ত্রোপচারের মাধ্যমে কনুই থেকে বিচ্ছিন্ন করে ফেলা হয় ডান হাতটি।
প্রকাশিত প্রতিবেদনটি যুক্ত করে ক্ষতিপূরণের নির্দেশনা চেয়ে ২০২০ সালের ডিসেম্বরে শিশুটির বাবা হাইকোর্টে রিট করেন। রিটের প্রাথমিক শুনানি নিয়ে ওই বছরের ২৭ ডিসেম্বর হাইকোর্ট রুল দেন। রুলে শিশুটিকে দুই কোটি টাকা ক্ষতিপূরণ দিতে কেন নির্দেশ দেওয়া হবে না, তা জানতে চাওয়া হয়। চার সপ্তাহের মধ্যে বিবাদীদের রুলের জবাব দিতে বলা হয়। একইসঙ্গে ২০২০ সালের ২৮ সেপ্টেম্বরের ওই ঘটনা নিজ কার্যালয়ের একজন কর্মকর্তা দিয়ে অনুসন্ধান করতে কিশোরগঞ্জের জেলা প্রশাসককে নির্দেশ দেওয়া হয়।\