৩৫ বছর পর বাবার আসন পুনরুদ্ধার করলেন ছেলে
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ময়মনসিংহ-৯ (নান্দাইল) আসনে বিএনপি মনোনীত প্রার্থী ইয়াসের খান চৌধুরী বেসরকারি ফলাফলে বিজয়ী হয়েছেন। দীর্ঘ প্রায় ৩৫ বছর পর তিনি তাঁর বাবা সাবেক সংসদ সদস্য আনোয়ারুল হোসেন খান চৌধুরী–এর আসন পুনরুদ্ধার করলেন। রিটার্নিং কর্মকর্তার কার্যালয় সূত্রে জানা গেছে, ধানের শীষ প্রতীকে ইয়াসের খান চৌধুরী পেয়েছেন ৮৫ হাজার ৪৭৩ ভোট। তাঁর নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী জামায়াত সমর্থিত জোটের বাংলাদেশ ডেভেলপমেন্ট পার্টির (বিডিপি) চেয়ারম্যান এ কে এম আনোয়ার হোসেন চান পেয়েছেন ৭০ হাজার ১৫২ ভোট। ভোটের ব্যবধান দাঁড়িয়েছে ১৫ হাজার ৩২১। উল্লেখ্য, ১৯৯১ সালের জাতীয় সংসদ নির্বাচনে একই আসন থেকে বিএনপির প্রার্থী হিসেবে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হয়েছিলেন আনোয়ারুল হোসেন খান চৌধুরী। তিনি শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান–এর উপদেষ্টা হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। পাশাপাশি তিনি ময়মনসিংহ উত্তর জেলা বিএনপির প্রতিষ্ঠাকালীন সভাপতি ছিলেন। স্বাধীনতার সর্বাধিনায়ক এম এ জি ওসমানী–এর একান্ত সচিব হিসেবেও দায়িত্ব পালন করেন তিনি। এছাড়া ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সিনেট ও সিন্ডিকেটের নির্বাচিত সদস্য ছিলেন এবং শিক্ষা ও সাংগঠনিক কর্মকাণ্ডে সক্রি
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ময়মনসিংহ-৯ (নান্দাইল) আসনে বিএনপি মনোনীত প্রার্থী ইয়াসের খান চৌধুরী বেসরকারি ফলাফলে বিজয়ী হয়েছেন। দীর্ঘ প্রায় ৩৫ বছর পর তিনি তাঁর বাবা সাবেক সংসদ সদস্য আনোয়ারুল হোসেন খান চৌধুরী–এর আসন পুনরুদ্ধার করলেন।
রিটার্নিং কর্মকর্তার কার্যালয় সূত্রে জানা গেছে, ধানের শীষ প্রতীকে ইয়াসের খান চৌধুরী পেয়েছেন ৮৫ হাজার ৪৭৩ ভোট। তাঁর নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী জামায়াত সমর্থিত জোটের বাংলাদেশ ডেভেলপমেন্ট পার্টির (বিডিপি) চেয়ারম্যান এ কে এম আনোয়ার হোসেন চান পেয়েছেন ৭০ হাজার ১৫২ ভোট। ভোটের ব্যবধান দাঁড়িয়েছে ১৫ হাজার ৩২১।
উল্লেখ্য, ১৯৯১ সালের জাতীয় সংসদ নির্বাচনে একই আসন থেকে বিএনপির প্রার্থী হিসেবে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হয়েছিলেন আনোয়ারুল হোসেন খান চৌধুরী। তিনি শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান–এর উপদেষ্টা হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। পাশাপাশি তিনি ময়মনসিংহ উত্তর জেলা বিএনপির প্রতিষ্ঠাকালীন সভাপতি ছিলেন। স্বাধীনতার সর্বাধিনায়ক এম এ জি ওসমানী–এর একান্ত সচিব হিসেবেও দায়িত্ব পালন করেন তিনি। এছাড়া ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সিনেট ও সিন্ডিকেটের নির্বাচিত সদস্য ছিলেন এবং শিক্ষা ও সাংগঠনিক কর্মকাণ্ডে সক্রিয় ভূমিকা রাখেন। রাজনৈতিক পরিবারে বেড়ে ওঠা ইয়াসের খান চৌধুরী পেশাগত জীবনে একজন তথ্যপ্রযুক্তি বিজ্ঞানী। দীর্ঘদিন যুক্তরাজ্যে অবস্থানকালে তিনি বিবিসি টেলিভিশন নেটওয়ার্ক, লন্ডনের তথ্যপ্রযুক্তি বিভাগে দায়িত্ব পালন করেন। পরবর্তীতে দেশে ফিরে তিনি এলাকার রাজনীতিতে সক্রিয় হন এবং তৃণমূল পর্যায়ে সাংগঠনিক কার্যক্রম জোরদার করেন। পারিবারিকভাবে রাজনীতির সঙ্গে তাঁর সম্পর্ক গভীর।
তাঁর চাচা খুররম খান চৌধুরী চারবারের সংসদ সদস্য ছিলেন। আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর বিএনপির মনোনয়ন প্রত্যাশীদের মধ্যে প্রতিযোগিতা থাকলেও সংগঠনে সক্রিয়তা, গ্রহণ যোগ্যতা ও সাংগঠনিক দক্ষতার কারণে দলীয় মনোনয়ন পান ইয়াসের খান চৌধুরী। মনোনয়ন পাওয়ার পর ছয়জন প্রতিদ্বন্দ্বীর সঙ্গে নির্বাচনী মাঠে ব্যাপক গণসংযোগ, পথসভা ও প্রচারণা চালান তিনি। ভোটারদের দ্বারে দ্বারে গিয়ে উন্নয়ন, সুশাসন ও মানবিক রাজনীতির প্রতিশ্রুতি দেন। নবনির্বাচিত সংসদ সদস্য ইয়াসের খান চৌধুরী বলেন, “বাবার স্বপ্ন ছিল আমি আধুনিক ও উন্নত শিক্ষায় শিক্ষিত হয়ে দেশের জন্য কাজ করি। ছোটবেলা থেকে তাঁর মানবিক রাজনীতি ও মানুষের জন্য আত্মনিবেদিত জীবন কাছ থেকে দেখেছি।
সাধারণ মানুষের পাশে দাঁড়ানোই ছিল তাঁর রাজনীতির মূল দর্শন। বাবার রেখে যাওয়া সেই আদর্শ ও কর্মকাণ্ড বাস্তবায়ন করাই এখন আমার অঙ্গীকার।”৩৫ বছর পর একই আসনে বাবা থেকে ছেলের এই বিজয়কে ঘিরে নান্দাইলে বিএনপি নেতাকর্মী ও সমর্থকদের মধ্যে আনন্দ-উচ্ছ্বাস বিরাজ করছে। স্থানীয়দের মতে, এটি শুধু একটি নির্বাচনী জয় নয়; বরং একটি রাজনৈতিক ঐতিহ্যের ধারাবাহিকতার প্রতিফলন।
What's Your Reaction?