৩৬ ঘণ্টার বৃষ্টিতে নাকাল বগুড়া
টানা ৩৬ ঘণ্টার বৃষ্টিতে কার্যত জলমগ্ন হয়ে পড়েছে বগুড়া শহর। কখনো মুষলধারে, কখনো ঝিরিঝিরি বৃষ্টিতে শহরের প্রধান সড়ক ও গুরুত্বপূর্ণ এলাকাগুলো পানির নিচে তলিয়ে গেছে। এতে চরম ভোগান্তিতে পড়েছেন নগরবাসী। পরিস্থিতি সরেজমিন দেখতে মধ্যরাতে জলাবদ্ধ এলাকায় নেমে পরিদর্শন করেন বগুড়া সিটি করপোরেশনের নবনিযুক্ত প্রশাসক এম আর ইসলাম স্বাধীন। পানিতে নেমে ড্রেনেজ ব্যবস্থার সমস্যা খতিয়ে দেখার তার সেই উদ্যোগ সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমেও ব্যাপক প্রশংসা কুড়িয়েছে। বগুড়া আবহাওয়া অফিস জানিয়েছে, বুধবার সকাল ৬টা থেকে বৃহস্পতিবার দুপুর পর্যন্ত ৩৬ ঘণ্টায় শহরে ১৩৪ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়েছে। অতিবৃষ্টি এবং ড্রেনেজ ব্যবস্থার অকার্যকারিতার কারণে শহরের সাতমাথা, শেরপুর রোড, বড়গোলা, সূত্রাপুর, চকসূত্রাপুর, কান্দাপাড়া, পার্ক রোড, নারুলিসহ বিভিন্ন এলাকায় পানি জমে যায়। পানিতে তলিয়ে যায় একাধিক প্রধান সড়ক। এতে রিকশা, ব্যাটারিচালিত অটোরিকশাসহ ছোট যানবাহনের চলাচল প্রায় বন্ধ হয়ে পড়ে। অনেক পথচারীকে হাঁটুসমান পানি মাড়িয়ে গন্তব্যে পৌঁছাতে দেখা যায়। নগরবাসীর দুর্ভোগের খবর পেয়ে বুধবার গভীর রাতে জলাবদ্ধ বিভিন্ন এলাকা পরিদর্শনে
টানা ৩৬ ঘণ্টার বৃষ্টিতে কার্যত জলমগ্ন হয়ে পড়েছে বগুড়া শহর। কখনো মুষলধারে, কখনো ঝিরিঝিরি বৃষ্টিতে শহরের প্রধান সড়ক ও গুরুত্বপূর্ণ এলাকাগুলো পানির নিচে তলিয়ে গেছে। এতে চরম ভোগান্তিতে পড়েছেন নগরবাসী।
পরিস্থিতি সরেজমিন দেখতে মধ্যরাতে জলাবদ্ধ এলাকায় নেমে পরিদর্শন করেন বগুড়া সিটি করপোরেশনের নবনিযুক্ত প্রশাসক এম আর ইসলাম স্বাধীন। পানিতে নেমে ড্রেনেজ ব্যবস্থার সমস্যা খতিয়ে দেখার তার সেই উদ্যোগ সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমেও ব্যাপক প্রশংসা কুড়িয়েছে।
বগুড়া আবহাওয়া অফিস জানিয়েছে, বুধবার সকাল ৬টা থেকে বৃহস্পতিবার দুপুর পর্যন্ত ৩৬ ঘণ্টায় শহরে ১৩৪ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়েছে। অতিবৃষ্টি এবং ড্রেনেজ ব্যবস্থার অকার্যকারিতার কারণে শহরের সাতমাথা, শেরপুর রোড, বড়গোলা, সূত্রাপুর, চকসূত্রাপুর, কান্দাপাড়া, পার্ক রোড, নারুলিসহ বিভিন্ন এলাকায় পানি জমে যায়।
পানিতে তলিয়ে যায় একাধিক প্রধান সড়ক। এতে রিকশা, ব্যাটারিচালিত অটোরিকশাসহ ছোট যানবাহনের চলাচল প্রায় বন্ধ হয়ে পড়ে। অনেক পথচারীকে হাঁটুসমান পানি মাড়িয়ে গন্তব্যে পৌঁছাতে দেখা যায়।
নগরবাসীর দুর্ভোগের খবর পেয়ে বুধবার গভীর রাতে জলাবদ্ধ বিভিন্ন এলাকা পরিদর্শনে বের হন সিটি প্রশাসক এম আর ইসলাম স্বাধীন। এ সময় তার সঙ্গে ছিলেন সিটি কর্পোরেশনের প্রধান প্রকৌশলীসহ ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা। তারা ক্ষতিগ্রস্ত এলাকাগুলো ঘুরে দেখেন, স্থানীয় বাসিন্দাদের সঙ্গে কথা বলেন এবং জলাবদ্ধতার কারণগুলো সরেজমিন পর্যবেক্ষণ করেন।
পরিদর্শনের সময় প্রশাসক নিজেই পানিতে নেমে ড্রেনেজ ব্যবস্থার প্রতিবন্ধকতাগুলো চিহ্নিত করার চেষ্টা করেন। তার এই ব্যতিক্রমী উদ্যোগের ছবি ও ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে অনেকেই তা ইতিবাচক হিসেবে দেখেন।
পরিদর্শন শেষে প্রশাসক জলাবদ্ধতার পরিস্থিতি নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেন এবং সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের দ্রুত কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশ দেন। একই সঙ্গে শহরে দীর্ঘদিন ধরে জলাবদ্ধতার পেছনের কারণগুলো দ্রুত শনাক্ত করে স্থায়ী সমাধানের উদ্যোগ নিতে কড়া নির্দেশনা দেন।
এদিকে সম্প্রতি বগুড়া শহরের যানজট নিরসন ও ফুটপাত দখলমুক্ত করতে উচ্ছেদ অভিযান শুরু করেছে সিটি করপোরেশন। অভিযানের ফলে বুধবার সকাল থেকে দুপুর পর্যন্ত শহরের ব্যস্ত এলাকাগুলোতে যান চলাচলে কিছুটা স্বস্তি ফিরেছিল। তবে আকস্মিক ভারী বৃষ্টিতে সেই স্বস্তি মিলিয়ে গিয়ে নতুন করে দুর্ভোগে পড়েন নগরবাসী।
স্থানীয়দের প্রত্যাশা, যেভাবে যানজট নিরসনে অভিযান শুরু হয়েছে, একইভাবে জলাবদ্ধতা সমস্যার সমাধানেও দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া হবে।
সিটি করপোরেশনের প্রশাসক এম আর ইসলাম স্বাধীন বলেন, ‘বগুড়া শহরের জলাবদ্ধতা ও যানজট একদিনের সমস্যা নয়। প্রায় ২০ থেকে ২৫ বছরের পুরোনো এই সংকট নিরসনে আমি নগরবাসীর কাছে তিন মাস সময় চেয়েছি। সবার সহযোগিতা পেলে নির্ধারিত সময়ের মধ্যেই দৃশ্যমান পরিবর্তন আনা সম্ভব হবে।’
তিনি আরও বলেন, ‘শহরের অধিকাংশ ড্রেন ফাস্টফুডের পরিত্যক্ত প্যাকেট ও বিভিন্ন বর্জ্যে আটকে থাকায় পানি নিষ্কাশনে বাধা সৃষ্টি হচ্ছে। ফলে সামান্য ভারী বৃষ্টিতেই জলাবদ্ধতার সৃষ্টি হচ্ছে। একটি পরিচ্ছন্ন, আধুনিক ও স্মার্ট বগুড়া গড়ে তুলতে নাগরিকদের সচেতনতা ও সহযোগিতাও সমানভাবে প্রয়োজন।’
What's Your Reaction?