৩৭ লাখ টাকা ব্যয়ে নির্মিত দ্বিতল ভবনে নেই ওপরে ওঠার সিঁড়ি

৩৭ লাখ টাকা খরচ করে নির্মাণ করা হয়েছে দ্বিতল ভবন। ছাদ আছে, দেয়াল আছে, কক্ষও আছে। শুধু নেই ওপরে ওঠার সিঁড়ি। ফলে চার বছর ধরেও ব্যবহার করা যাচ্ছে না ভবনের দ্বিতীয় তলা। অন্যদিকে শ্রেণিকক্ষ সংকটে নিচতলার কক্ষগুলোতে বাঁশের চাটাই দিয়ে অস্থায়ী পার্টিশন করে গাদাগাদি করে চলছে একাধিক শ্রেণির পাঠদান। এতে এক কক্ষের শব্দ যাচ্ছে আরেক কক্ষে। রাজবাড়ীর বালিয়াকান্দি উপজেলার তালতলা সপ্তপল্লী মাধ্যমিক বিদ্যালয়ে গিয়ে এমন চিত্র দেখা গেছে। বিদ্যালয় সূত্র জানায়, ১৯৯৯ সালে প্রতিষ্ঠিত এই বিদ্যালয়ে বর্তমানে ২৩৫ জন শিক্ষার্থী ও ১২ জন শিক্ষক রয়েছেন। অফিস ও শিক্ষক মিলনায়তন বাদে শিক্ষার্থীদের জন্য শ্রেণিকক্ষ রয়েছে মাত্র চারটি। প্রায় চার বছর আগে চার দফায় মোট ৩৭ লাখ টাকা সরকারি বরাদ্দে বিদ্যালয়টির এই দুই তলা ভবন নির্মাণ করা হয়। রাজবাড়ী জেলা পরিষদ থেকে তিন অর্থবছরে মোট ২৭ লাখ টাকা এবং শিক্ষা প্রকৌশল অধিদপ্তর থেকে ১০ লাখ টাকা বরাদ্দ দেওয়া হলেও ভবনের দ্বিতীয় তলার প্লাস্টার, রং, ফ্লোর এবং ওপরে ওঠার একমাত্র মাধ্যম সিঁড়িটি না বানিয়েই কাজ শেষ করা হয়। এদিকে শ্রেণিকক্ষ সংকটের কারণে একই ঘরের ভেতর অস্থা

৩৭ লাখ টাকা ব্যয়ে নির্মিত দ্বিতল ভবনে নেই ওপরে ওঠার সিঁড়ি

৩৭ লাখ টাকা খরচ করে নির্মাণ করা হয়েছে দ্বিতল ভবন। ছাদ আছে, দেয়াল আছে, কক্ষও আছে। শুধু নেই ওপরে ওঠার সিঁড়ি। ফলে চার বছর ধরেও ব্যবহার করা যাচ্ছে না ভবনের দ্বিতীয় তলা। অন্যদিকে শ্রেণিকক্ষ সংকটে নিচতলার কক্ষগুলোতে বাঁশের চাটাই দিয়ে অস্থায়ী পার্টিশন করে গাদাগাদি করে চলছে একাধিক শ্রেণির পাঠদান। এতে এক কক্ষের শব্দ যাচ্ছে আরেক কক্ষে।

রাজবাড়ীর বালিয়াকান্দি উপজেলার তালতলা সপ্তপল্লী মাধ্যমিক বিদ্যালয়ে গিয়ে এমন চিত্র দেখা গেছে।

বিদ্যালয় সূত্র জানায়, ১৯৯৯ সালে প্রতিষ্ঠিত এই বিদ্যালয়ে বর্তমানে ২৩৫ জন শিক্ষার্থী ও ১২ জন শিক্ষক রয়েছেন। অফিস ও শিক্ষক মিলনায়তন বাদে শিক্ষার্থীদের জন্য শ্রেণিকক্ষ রয়েছে মাত্র চারটি। প্রায় চার বছর আগে চার দফায় মোট ৩৭ লাখ টাকা সরকারি বরাদ্দে বিদ্যালয়টির এই দুই তলা ভবন নির্মাণ করা হয়। রাজবাড়ী জেলা পরিষদ থেকে তিন অর্থবছরে মোট ২৭ লাখ টাকা এবং শিক্ষা প্রকৌশল অধিদপ্তর থেকে ১০ লাখ টাকা বরাদ্দ দেওয়া হলেও ভবনের দ্বিতীয় তলার প্লাস্টার, রং, ফ্লোর এবং ওপরে ওঠার একমাত্র মাধ্যম সিঁড়িটি না বানিয়েই কাজ শেষ করা হয়।

৩৭ লাখ টাকা ব্যয়ে নির্মিত দ্বিতল ভবনে নেই ওপরে ওঠার সিঁড়ি

এদিকে শ্রেণিকক্ষ সংকটের কারণে একই ঘরের ভেতর অস্থায়ী বেড়া দিয়ে দুই পাশে আলাদা ক্লাস নেওয়ায় এক পাশের শিক্ষক ও শিক্ষার্থীদের চেঁচামেচির শব্দ অন্য পাশে গিয়ে পড়ে। এতে পড়াশোনায় মন দিতে পারছে না শিক্ষার্থীরা।

শিক্ষার্থীরা বলে, আমাদের স্কুলের দ্বিতীয় তলা ভবনের কোনো সিঁড়ি না থাকায় সেখানে যেতে পারি না। যার কারণে এক রুমের ভেতর বেড়া দিয়ে ক্লাস হয়। শব্দে পড়াশোনায় মন দিতে পারি না। সিঁড়ি থাকলে আমরা আলাদা আলাদা বসে ক্লাস করতে পারতাম। এতে পড়াশোনা ভালো হতো।

৩৭ লাখ টাকা ব্যয়ে নির্মিত দ্বিতল ভবনে নেই ওপরে ওঠার সিঁড়ি

বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক কৃষ্ণ বন্ধু রায় বলেন, সিঁড়ি ছাড়া দোতলা ভবনটি এখন আমাদের গলার কাঁটা হয়ে দাঁড়িয়েছে। ঠিকাদারের চেয়ে দায়িত্বপ্রাপ্ত প্রকৌশলীদের গাফিলতিই এর জন্য বেশি দায়ী।

তিনি জানান, এই ভবনের সিঁড়ি নির্মাণের জন্য ২০২৩ সালের জুলাই থেকে শুরু করে সবশেষ চলতি বছরের গত ৬ মে পর্যন্ত উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও), শিক্ষা প্রকৌশল অধিদপ্তর, জেলা পরিষদ ও জেলা প্রশাসকের কাছে একাধিকবার লিখিত আবেদন করেও কোনো সমাধান মেলেনি।

৩৭ লাখ টাকা ব্যয়ে নির্মিত দ্বিতল ভবনে নেই ওপরে ওঠার সিঁড়ি

সহকারী শিক্ষক বসির আল হেলাল ও দুলাল বিশ্বাস বলেন, সাতটি শ্রেণিকক্ষ প্রয়োজন থাকলেও আছে মাত্র চারটি। শব্দের মধ্যে এভাবে গাদাগাদি করে ক্লাস নেওয়ায় পড়াশোনার মান খারাপ হচ্ছে।

বালিয়াকান্দি উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) চৌধুরী মুস্তাফিজুর রহমান এ বিষয়ে জাগো নিউজকে বলেন, সিঁড়ি না থাকায় বিদ্যালয়টিতে শ্রেণিকক্ষ সংকট তৈরি হয়েছে, বিষয়টি আমাদের জানা আছে। আমরা উপজেলা পরিষদের মাধ্যমে অথবা সরকারের অন্য কোনো দপ্তরের বরাদ্দ নিয়ে দ্রুত সেখানে একটি সিঁড়ি নির্মাণের ব্যবস্থা করব।

রুবেলুর রহমান/কেএইচকে/জেআইএম

What's Your Reaction?

like

dislike

love

funny

angry

sad

wow