৪ মণের গরু হাঁকা হচ্ছে ১ লাখ ৪০ হাজার টাকা, শুরু হয়নি বেচাকেনা

ঢাকার একমাত্র স্থায়ী গবাদিপশুর হাট গাবতলীতে কোরবানির ঈদকে সামনে রেখে বেপারি ও গৃহস্থদের প্রস্তুতি চলছে। তবে এখনো গরু বেচাকেনা পুরোপুরি শুরু হয়নি। ঈদুল আজহার মাত্র পাঁচদিন বাকি থাকলেও হাটে এখনো ক্রেতাদের উপস্থিতি তুলনামূলক কম। অনেকে গরুর দাম যাচাই-বাছাই করছেন এবং বাজারদরের সঙ্গে মিলিয়ে দেখছেন। শনিবার (২৩ মে) গাবতলী পশুর হাট ঘুরে দেখা যায়, বেপারীরা গরু পরিচর্যায় ব্যস্ত সময় পার করছেন। তবে অনেক ঘাটাল এখনো খালি এবং পর্যাপ্ত গরু পুরোপুরি এসে পৌঁছায়নি। হাটে ক্রেতাদের উপস্থিতি সীমিত থাকায় কেনাবেচার তৎপরতা শুরু হয়নি। বিক্রেতারা জানান, কোরবানির জন্য তিন মণ মাংস পাওয়া যায় এমন গরুর দাম হাঁকা হচ্ছে প্রায় ১ লাখ ৫ হাজার থেকে ১ লাখ ১০ হাজার টাকা পর্যন্ত। আর চার মণ মাংস মিলবে এমন গরুর দাম ১ লাখ ৪০ হাজার থেকে ১ লাখ ৫০ হাজার টাকা পর্যন্ত উঠছে। গড়ে প্রতি মণ মাংসের দাম ৩২ হাজার থেকে ৩৫ হাজার টাকার মধ্যে ঘোরাফেরা করছে। তবে এখন পর্যন্ত কোনো ক্রেতাকে গরু কিনে হাট থেকে বাড়ি ফিরতে দেখা যায়নি। বরং হাটে দর্শনার্থী, ইউটিউবার ও গণমাধ্যমকর্মীদের উপস্থিতিই বেশি লক্ষ্য করা গেছে। সংশ্লিষ্টরা ধারণা করছেন, ঢাকায় গরু রাখা

৪ মণের গরু হাঁকা হচ্ছে ১ লাখ ৪০ হাজার টাকা, শুরু হয়নি বেচাকেনা

ঢাকার একমাত্র স্থায়ী গবাদিপশুর হাট গাবতলীতে কোরবানির ঈদকে সামনে রেখে বেপারি ও গৃহস্থদের প্রস্তুতি চলছে। তবে এখনো গরু বেচাকেনা পুরোপুরি শুরু হয়নি। ঈদুল আজহার মাত্র পাঁচদিন বাকি থাকলেও হাটে এখনো ক্রেতাদের উপস্থিতি তুলনামূলক কম। অনেকে গরুর দাম যাচাই-বাছাই করছেন এবং বাজারদরের সঙ্গে মিলিয়ে দেখছেন।

শনিবার (২৩ মে) গাবতলী পশুর হাট ঘুরে দেখা যায়, বেপারীরা গরু পরিচর্যায় ব্যস্ত সময় পার করছেন। তবে অনেক ঘাটাল এখনো খালি এবং পর্যাপ্ত গরু পুরোপুরি এসে পৌঁছায়নি। হাটে ক্রেতাদের উপস্থিতি সীমিত থাকায় কেনাবেচার তৎপরতা শুরু হয়নি।

বিক্রেতারা জানান, কোরবানির জন্য তিন মণ মাংস পাওয়া যায় এমন গরুর দাম হাঁকা হচ্ছে প্রায় ১ লাখ ৫ হাজার থেকে ১ লাখ ১০ হাজার টাকা পর্যন্ত। আর চার মণ মাংস মিলবে এমন গরুর দাম ১ লাখ ৪০ হাজার থেকে ১ লাখ ৫০ হাজার টাকা পর্যন্ত উঠছে। গড়ে প্রতি মণ মাংসের দাম ৩২ হাজার থেকে ৩৫ হাজার টাকার মধ্যে ঘোরাফেরা করছে।

তবে এখন পর্যন্ত কোনো ক্রেতাকে গরু কিনে হাট থেকে বাড়ি ফিরতে দেখা যায়নি। বরং হাটে দর্শনার্থী, ইউটিউবার ও গণমাধ্যমকর্মীদের উপস্থিতিই বেশি লক্ষ্য করা গেছে। সংশ্লিষ্টরা ধারণা করছেন, ঢাকায় গরু রাখার জায়গা সংকটের কারণে সাধারণত ঈদের দুই দিন আগে কেনাবেচা বেশি জমে ওঠে।

মিরপুর পল্লবী থেকে গাবতলী হাটে গরু দেখতে এসেছেন কাপড় ব্যবসায়ী হাজী মিরন মিয়া। সঙ্গে তার দুই সন্তানও রয়েছে। তিনি জানান, প্রতি বছরের মতো এবারও কোরবানির জন্য নির্দিষ্ট বাজেট নিয়ে এসেছেন এবং সেই বাজেট অনুযায়ী গরুর দাম যাচাই করছেন।

গাবতলী পশুর হাটে সারিবদ্ধভাবে রাখা কোরবানির গরু, ছবি: জাগো নিউজ

তিনি বলেন, এখন গরু কিনে রাখার সুযোগ নেই। তবে বেপারীরা বর্তমানে দাম কিছুটা বেশি হাঁকছেন। তবে ঈদের আগ মুহূর্তে দাম কিছুটা কমতে পারে।

এদিকে, হাটে বরাবরের মতো এবারও ছোট ও মাঝারি আকারের গরুর চাহিদা বেশি। বিশেষ করে ৪ থেকে ৬ মণ মাংস পাওয়া যায় এমন গরুর প্রতি ক্রেতাদের আগ্রহ বেশি। এসব গরুর ক্ষেত্রে মাংসের দাম গড়ে ৩৫ হাজার টাকা মণ পড়ছে বলে জানা গেছে।

চুয়াডাঙ্গার দামুড়হুদা থেকে আসা বেপারী শফি বিশ্বাস বলেন, আমি গাবতলী হাটে ১৪টি দেশি ষাঁড় গরু এনেছি। প্রতিটি গরুতে প্রায় ৬ মণ মাংস পাওয়া যাবে। এসব গরুর দাম ২ লাখ ১০ হাজার থেকে ২ লাখ ২০ হাজার টাকার মধ্যে হাঁকা হচ্ছে।

তিনি বলেন, হাটে ক্রেতা একেবারেই কম। প্রতি মণ গরুর মাংসের দাম ৩৫ হাজার টাকা না হলে আমাদের লোকসানে পড়তে হবে। গরুর খাবারের দাম মানুষের খাবারের চেয়েও বেশি হয়ে গেছে। পাশাপাশি ওষুধ ও চিকিৎসা খরচও অনেক বেড়েছে।

গাবতলীর হাটে ভারতীয় সাদা বলদ গরু বিক্রির জন্য তুলতে দেখা গেছে। তবে এসব গরু সরাসরি ভারত থেকে সদ্য আনা নয়, প্রায় ১ থেকে দেড় বছর আগে দেশে আনা হয়েছিল।

বেপারীরা জানান, প্রথমে দেশে আনার সময় গরুগুলোর শরীরে শুধু হাড় ছিল। এরপর ধানের কুড়া, খেসারি, ভুট্টা, ধান ও ভুসিমিশ্রিত দানাদার খাবার খাইয়ে সেগুলোকে ধীরে ধীরে মোটাতাজা করা হয়। এখন এসব গরু দেশীয় পরিবেশের সঙ্গে মানিয়ে নিয়েছে।

প্রতি গরুর দাম ৪ লাখ টাকা পর্যন্ত হাঁকা হচ্ছে। প্রতিটি গরুতে প্রায় ৭ থেকে ৮ মণ মাংস পাওয়া যাবে বলে জানান বিক্রেতারা।

লক্ষ্মীপুরের বেপারী মোহাম্মদ বেলায়েত হোসেন মজাদার বলেন, ‘আমরা ভারত থেকে গরু এনে খামারে লালন-পালন করে মোটাতাজা করেছি। শুরুতে শুধু হাড় কিনেছিলাম, এখন এগুলো দেশি পরিবেশে বড় হয়েছে। অন্যান্য গরুর তুলনায় এসব ভারতীয় বলদের দামও তুলনামূলক কম।’

কোরবানিতে গরুর দাম কেমন হবে— এমন প্রশ্নে মজুমদার জানান, ‘বর্তমানে কাঁচা ঘাস সহজে পাওয়া যাচ্ছে না এবং খড়ের দামও অনেক বেড়েছে। পাশাপাশি শ্রমিকের মজুরি, বিদ্যুৎ বিল ও চিকিৎসা খরচসহ সব ধরনের ব্যয় বেড়েছে। এবার লাভ করা কঠিন হয়ে পড়েছে। চালান উঠলেই আলহামদুলিল্লাহ।’

এদিকে, বিভিন্ন হাটবাজারে কোরবানির পশুর হাট জমে উঠতে শুরু করেছে। তবে পশুর দাম নিয়ে ক্রেতা ও বিক্রেতা উভয়ের মধ্যেই অসন্তোষ দেখা যাচ্ছে। ক্রেতাদের অভিযোগ, পশুর দাম অনেক বেশি। অন্যদিকে, বিক্রেতারা বলছেন, খাদ্যসহ সব ধরনের খরচ বেড়ে যাওয়ায় সে তুলনায় পশুর দাম কমই রয়েছে।

বাগেররজাট মোল্লারহাটের আব্দুর রহিম বেপারী। তিনি হাটে এবার ১৫টি গরু তুলেছেন দুই দিন আগে। কিন্তু এখনো কোনো ক্রেতা মেলেনি। রহিম বেপারী বলেন, গরুর কেউ দাম বলেনি। আজকে দুদিন বসে আছি।

গাবতলী হাটের প্রবেশদ্বারেই বড় আকারের গরু রাখা হয়েছে। তবে এসব বড় গরুর খাটালে ক্রেতাদের উপস্থিতি তুলনামূলক কম। সেখানে ক্রেতার চেয়ে ইউটিউবার ও টিকটকারদের উপস্থিতিই বেশি লক্ষ্য করা গেছে।

কুষ্টিয়া সদরের বেপারী গোলাপ কসাই বলেন, আমি ২৫টি গরু হাটে তুলেছি। প্রতিটি গরুতে প্রায় ৫ মণ মাংস পাওয়া যাবে। এসব গরুর দাম হাঁকা হচ্ছে ১ লাখ ৭৫ হাজার টাকা পর্যন্ত।

তিনি বলেন, ‘এমনিতে সবসময় মাংসের মণ ৩২ হাজার টাকার মধ্যে থাকে। কিন্তু ঈদের সময় ৩৫ হাজার টাকা মণ না হলে বিক্রি করে টিকতে পারা যায় না। ছিন্নির (ঈদ) গরু ৩৫ হাজার টাকা মণ না হলে পোষায় না। তিনদিন ধরে হাটে এলেও তেমন ক্রেতা পাওয়া যাচ্ছে না।

এমওএস/এমএএইচ/

What's Your Reaction?

like

dislike

love

funny

angry

sad

wow