৪২ বছর পর আবারও অভিনয়ে সৈয়দ জামিল আহমেদ

দেশের নাট্যাঙ্গনের অন্যতম প্রথিতযশা নাট্যনির্দেশক সৈয়দ জামিল আহমেদ দীর্ঘ ৪২ বছর পর আবারও অভিনয়ে ফিরছেন। নির্দেশকের পরিচয়ের বাইরে এবার তাকে দেখা যাবে মঞ্চে একজন অভিনেতার ভূমিকায়। স্পর্ধা একাডেমির নতুন প্রযোজনা ‘গোলমাথা আর চোখামাথা’ নাটকে অতিথি চরিত্রে অভিনয় করছেন তিনি। জার্মান নাট্যকার বের্টল্ট ব্রেখটের নাটক অবলম্বনে নির্মিত এই প্রযোজনায় সৈয়দ জামিল আহমেদ একজন বিচারকের চরিত্রে অভিনয় করবেন। নাটকটির বাংলা অনুবাদ করেছেন অনিরুদ্ধ অনু। পরিকল্পনা ও নির্দেশনায় রয়েছেন মহসিনা আক্তার। দীর্ঘ বিরতির পর অভিনয়ে ফেরার বিষয়ে সৈয়দ জামিল আহমেদ জানান, সর্বশেষ ১৯৮৪ সালে ‘ফণীমনসা’ নাটকে অভিনয় করেছিলেন তিনি। এরপর আর অভিনয়ের জন্য মঞ্চে ওঠা হয়নি। প্রায় চার দশক পর আবারও অভিনয়ের সুযোগ পেয়ে তিনি বেশ আনন্দিত। তবে এই ফিরে আসার পেছনে বিশেষ একটি কারণও রয়েছে। নিজের ছাত্রীর নির্দেশনায় কাজ করতে পেরে গর্ববোধ করছেন বলে জানিয়েছেন তিনি। সৈয়দ জামিল আহমেদের ভাষায়, ‘আমার ছাত্রীর নির্দেশনায় কাজ করছি, এটা আমার জন্য গৌরবের বিষয়। মহসিনা আমার চেয়ে ভিন্ন পদ্ধতিতে কাজ করেন। তার সঙ্গে কাজের অভিজ্ঞতা খুবই আনন্দের। এই নাটকে বেবি বুমার থে

৪২ বছর পর আবারও অভিনয়ে সৈয়দ জামিল আহমেদ

দেশের নাট্যাঙ্গনের অন্যতম প্রথিতযশা নাট্যনির্দেশক সৈয়দ জামিল আহমেদ দীর্ঘ ৪২ বছর পর আবারও অভিনয়ে ফিরছেন। নির্দেশকের পরিচয়ের বাইরে এবার তাকে দেখা যাবে মঞ্চে একজন অভিনেতার ভূমিকায়। স্পর্ধা একাডেমির নতুন প্রযোজনা ‘গোলমাথা আর চোখামাথা’ নাটকে অতিথি চরিত্রে অভিনয় করছেন তিনি।

জার্মান নাট্যকার বের্টল্ট ব্রেখটের নাটক অবলম্বনে নির্মিত এই প্রযোজনায় সৈয়দ জামিল আহমেদ একজন বিচারকের চরিত্রে অভিনয় করবেন। নাটকটির বাংলা অনুবাদ করেছেন অনিরুদ্ধ অনু। পরিকল্পনা ও নির্দেশনায় রয়েছেন মহসিনা আক্তার।

দীর্ঘ বিরতির পর অভিনয়ে ফেরার বিষয়ে সৈয়দ জামিল আহমেদ জানান, সর্বশেষ ১৯৮৪ সালে ‘ফণীমনসা’ নাটকে অভিনয় করেছিলেন তিনি। এরপর আর অভিনয়ের জন্য মঞ্চে ওঠা হয়নি। প্রায় চার দশক পর আবারও অভিনয়ের সুযোগ পেয়ে তিনি বেশ আনন্দিত।

তবে এই ফিরে আসার পেছনে বিশেষ একটি কারণও রয়েছে। নিজের ছাত্রীর নির্দেশনায় কাজ করতে পেরে গর্ববোধ করছেন বলে জানিয়েছেন তিনি। সৈয়দ জামিল আহমেদের ভাষায়, ‘আমার ছাত্রীর নির্দেশনায় কাজ করছি, এটা আমার জন্য গৌরবের বিষয়। মহসিনা আমার চেয়ে ভিন্ন পদ্ধতিতে কাজ করেন। তার সঙ্গে কাজের অভিজ্ঞতা খুবই আনন্দের। এই নাটকে বেবি বুমার থেকে জেনজি-চার প্রজন্মের শিল্পীদের একসঙ্গে কাজ করতে দেখা যাবে, যা সত্যিই দারুণ একটি অভিজ্ঞতা।’

তিনি মনে করেন, একজন নির্দেশকের নিয়মিত মঞ্চে অভিনয় করাও প্রয়োজন। কারণ অভিনয়ের মাধ্যমে শিল্পীদের নানা সংকট ও চ্যালেঞ্জ আরও গভীরভাবে উপলব্ধি করা যায়। সেই অভিজ্ঞতা একজন নির্দেশক হিসেবেও কাজে লাগে।

‘গোলমাথা আর চোখামাথা’ নাটকটির পাঁচটি প্রদর্শনী অনুষ্ঠিত হবে বাংলাদেশ মহিলা সমিতির নীলিমা ইব্রাহিম মিলনায়তনে। আগামী ২৩ জুলাই সন্ধ্যা সাড়ে ৭টায় প্রথম প্রদর্শনী হবে। এরপর ২৪ জুলাই বিকেল ৪টা ও সন্ধ্যা সাড়ে ৭টায় এবং ২৫ জুলাই বিকেল ৪টা ও সন্ধ্যা সাড়ে ৭টায় আরও চারটি প্রদর্শনী অনুষ্ঠিত হবে।

নাটকটিতে সৈয়দ জামিল আহমেদের পাশাপাশি অভিনয় করছেন তিতাস জিয়া, ফাইযা চৌধুরী, ফাতিমা নুজহাত কাদেরী, শামস ইমন, ইভা আফরোজ খান, নুসরাত জাহানসহ আরও অনেকে।

এর আগে স্পর্ধা একাডেমি অব পারফর্মিং আর্টসের প্রথম ব্যাচের শিক্ষার্থীদের নিয়ে নাটকটি মঞ্চস্থ করেছিলেন নির্দেশক মহসিনা আক্তার। এবার নতুন আয়োজনে নাটকটি আবারও দর্শকের সামনে আসছে।

সৈয়দ জামিল আহমেদ দেশের নাট্যচর্চায় অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ নাম। ‘চাকা’, ‘বিষাদসিন্ধু’, ‘এক হাজার অউর এক থি রাত’, ‘বেহুলার ভাসান’, ‘সঙ ভঙ চঙ’, ‘রিজওয়ান’, ‘জীবন ও রাজনৈতিক বাস্তবতা’, ‘বিস্ময়কর সবকিছু’ এবং ‘আমি বীরাঙ্গনা বলছি’সহ অসংখ্য আলোচিত নাটকের নির্দেশনা দিয়েছেন তিনি। এছাড়া বাংলাদেশ শিল্পকলা একাডেমির মহাপরিচালকের দায়িত্বও পালন করেছেন।

 এমএমএফ

What's Your Reaction?

like

dislike

love

funny

angry

sad

wow