৫ বছরের কর রোডম্যাপ ঘোষণা, ধনীদের ওপর বাড়তি চাপ
দেশের করব্যবস্থায় দীর্ঘমেয়াদি স্থিতিশীলতা আনতে এবং করদাতাদের ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা সহজ করতে প্রথমবারের মতো পাঁচ বছরের জন্য আয়কর রোডম্যাপ ঘোষণা করেছে সরকার। একই সঙ্গে মূল্যস্ফীতির চাপ বিবেচনায় সাধারণ করদাতাদের করমুক্ত আয়ের সীমা ধাপে ধাপে বাড়ানোর প্রস্তাব করা হয়েছে। তবে উচ্চ আয়ের ব্যক্তিদের ওপর করের বোঝা বাড়িয়ে তিন কোটি টাকার বেশি আয়ের ক্ষেত্রে সর্বোচ্চ করহার ৩৫ শতাংশ নির্ধারণের প্রস্তাব রাখা হয়েছে। বৃহস্পতিবার (১১ জুন) জাতীয় সংসদে বিএনপি নেতৃত্বাধীন নতুন সরকারের প্রথম বাজেট উপস্থাপন করে এসব প্রস্তাব করেন অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী। আগামী ২০২৬-২৭ অর্থবছরের বাজেট বক্তব্যে অর্থমন্ত্রী বলেন, ‘করদাতারা যাতে ভবিষ্যৎ মেয়াদে তাদের কী হারে কর দিতে হবে, কর পরিশোধ করতে হবে, তা সঠিকভাবে পূর্বানুমান করতে পারেন, সে লক্ষ্যে ব্যক্তিকরদাতাদের জন্য আগামী পাঁচ বছরের আয়কর প্রস্তাব করছি।’ প্রস্তাব অনুযায়ী, ২০২৬-২৭ ও ২০২৭-২৮ করবর্ষে সাধারণ করদাতাদের করমুক্ত আয়ের সীমা বর্তমান তিন লাখ ৫০ হাজার টাকা থেকে বাড়িয়ে তিন লাখ ৭৫ হাজার টাকা করা হবে। এরপর ২০২৮-২৯ ও ২০২৯-৩০ করবর্ষে এ সীমা চার লাখ টাকা এবং ২০৩০-৩১ ক
দেশের করব্যবস্থায় দীর্ঘমেয়াদি স্থিতিশীলতা আনতে এবং করদাতাদের ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা সহজ করতে প্রথমবারের মতো পাঁচ বছরের জন্য আয়কর রোডম্যাপ ঘোষণা করেছে সরকার।
একই সঙ্গে মূল্যস্ফীতির চাপ বিবেচনায় সাধারণ করদাতাদের করমুক্ত আয়ের সীমা ধাপে ধাপে বাড়ানোর প্রস্তাব করা হয়েছে। তবে উচ্চ আয়ের ব্যক্তিদের ওপর করের বোঝা বাড়িয়ে তিন কোটি টাকার বেশি আয়ের ক্ষেত্রে সর্বোচ্চ করহার ৩৫ শতাংশ নির্ধারণের প্রস্তাব রাখা হয়েছে।
বৃহস্পতিবার (১১ জুন) জাতীয় সংসদে বিএনপি নেতৃত্বাধীন নতুন সরকারের প্রথম বাজেট উপস্থাপন করে এসব প্রস্তাব করেন অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী।
আগামী ২০২৬-২৭ অর্থবছরের বাজেট বক্তব্যে অর্থমন্ত্রী বলেন, ‘করদাতারা যাতে ভবিষ্যৎ মেয়াদে তাদের কী হারে কর দিতে হবে, কর পরিশোধ করতে হবে, তা সঠিকভাবে পূর্বানুমান করতে পারেন, সে লক্ষ্যে ব্যক্তিকরদাতাদের জন্য আগামী পাঁচ বছরের আয়কর প্রস্তাব করছি।’
প্রস্তাব অনুযায়ী, ২০২৬-২৭ ও ২০২৭-২৮ করবর্ষে সাধারণ করদাতাদের করমুক্ত আয়ের সীমা বর্তমান তিন লাখ ৫০ হাজার টাকা থেকে বাড়িয়ে তিন লাখ ৭৫ হাজার টাকা করা হবে। এরপর ২০২৮-২৯ ও ২০২৯-৩০ করবর্ষে এ সীমা চার লাখ টাকা এবং ২০৩০-৩১ করবর্ষে চার লাখ ৫০ হাজার টাকায় উন্নীত হবে।
বিশেষ শ্রেণির করদাতাদের জন্যও বাড়তি সুবিধার প্রস্তাব এসেছে। নারী ও ৬৫ বছরের বেশি বয়সী প্রবীণ নাগরিকদের করমুক্ত আয়ের সীমা আগামী দুই করবর্ষে চার লাখ ২৫ হাজার টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে। ২০৩০-৩১ করবর্ষে তা বেড়ে পাঁচ লাখ টাকায় পৌঁছাবে।
তৃতীয় লিঙ্গ ও প্রতিবন্ধী করদাতাদের জন্য আগামী দুই করবর্ষে করমুক্ত আয়ের সীমা পাঁচ লাখ টাকা এবং ২০৩০-৩১ করবর্ষে পাঁচ লাখ ৭৫ হাজার টাকা করার প্রস্তাব করা হয়েছে। অন্যদিকে গেজেটভুক্ত যুদ্ধাহত বীর মুক্তিযোদ্ধা ও জুলাই যোদ্ধাদের জন্য করমুক্ত আয়ের সীমা ধাপে ধাপে বাড়িয়ে ছয় লাখ টাকা পর্যন্ত নেওয়ার প্রস্তাব করা হয়েছে।
নতুন কর কাঠামোয় মধ্যবিত্ত ও নিম্ন-মধ্যবিত্ত করদাতাদের জন্য কিছুটা স্বস্তি থাকলেও উচ্চ আয়ের ব্যক্তিদের ওপর করের চাপ বাড়ছে। ২০২৬-২৭ ও ২০২৭-২৮ করবর্ষে প্রথম তিন লাখ ৭৫ হাজার টাকা আয় করমুক্ত থাকবে। এরপর ধাপে ধাপে ১০, ১৫, ২০ ও ২৫ শতাংশ হারে কর আরোপ করা হবে। ৩৫ লাখ ৭৫ হাজার টাকার বেশি আয়ের ক্ষেত্রে সর্বোচ্চ করহার ৩০ শতাংশ বহাল থাকবে।
তবে ২০২৮-২৯ করবর্ষ থেকে উচ্চ আয়ের ব্যক্তিদের জন্য নতুন স্তর যুক্ত করা হয়েছে। তিন কোটি টাকার বেশি আয়ের ওপর সর্বোচ্চ ৩৫ শতাংশ কর আরোপের প্রস্তাব করা হয়েছে, যা ২০৩০-৩১ করবর্ষেও বহাল থাকবে। ফলে উচ্চ আয়ের করদাতাদের জন্য করের বোঝা আরও বাড়বে।
এসএম/একিউএফ
What's Your Reaction?
