৫ সন্তানকে আগলে রাখা ফরিদা বেগমের ঘরে ফিরছে চার কফিন
নিয়তির কী নির্মম পরিহাস! যে ছেলেরা একদিন মায়ের মুখে হাসি ফোটাতে আর পরিবারের সচ্ছলতা ফেরাতে দূর প্রবাসে পাড়ি জমিয়েছিলেন, আজ তারা ফিরছেন কাঠের কফিনে বন্দি হয়ে। ওমানে গাড়ির ভেতর এসি এক্সজস্ট থেকে নির্গত কার্বন মনোক্সাইড গ্যাসে শ্বাসরুদ্ধ হয়ে প্রাণ হারানো চট্টগ্রামের রাঙ্গুনিয়া উপজেলার লালানগর ইউনিয়নের ৫ নম্বর ওয়ার্ডের উত্তর রাঙ্গুনিয়া বন্দেরাজাপাড়া এলাকার একই পরিবারের চার প্রবাসী ভাইয়ের লাশ অবশেষে কফিনবন্দি করা হয়েছে। মঙ্গলবার রাতেই তাদের মরদেহ দেশে পৌঁছানোর কথা রয়েছে। এদিকে চারজন রেমিট্যান্স যোদ্ধা সন্তানকে হারিয়ে এখনো শোকে স্তব্ধ পুরো গ্রাম। চারপাশের বাতাস যেন ভারী হয়ে আছে স্বজন আর প্রতিবেশীদের আহাজারিতে। চার ভাইয়ের এই অকাল ও ট্রাজিক মৃত্যুতে পুরো রাঙ্গুনিয়া উপজেলাজুড়ে গভীর শোকের ছায়া বিরাজ করছে। এই পুরো ঘটনার সবচেয়ে হৃদয়বিদারক দিক হলো— বৃদ্ধ ও অসুস্থ মা ফরিদা বেগম এখনো জানেন না যে তার চার সন্তান আর ইহজগতে নেই। সন্তানদের ছোটবেলায় স্বামী মারা যাওয়ার পর চরম কষ্ট আর ত্যাগ-তিতিক্ষা সহ্য করে এই পাঁচ সন্তানকে আগলে ধরে বেঁচে ছিলেন এই বৃদ্ধা মা। সন্তানদের সুখের দিন যখন সমাগত, তখনই নেমে এলো এ
নিয়তির কী নির্মম পরিহাস! যে ছেলেরা একদিন মায়ের মুখে হাসি ফোটাতে আর পরিবারের সচ্ছলতা ফেরাতে দূর প্রবাসে পাড়ি জমিয়েছিলেন, আজ তারা ফিরছেন কাঠের কফিনে বন্দি হয়ে।
ওমানে গাড়ির ভেতর এসি এক্সজস্ট থেকে নির্গত কার্বন মনোক্সাইড গ্যাসে শ্বাসরুদ্ধ হয়ে প্রাণ হারানো চট্টগ্রামের রাঙ্গুনিয়া উপজেলার লালানগর ইউনিয়নের ৫ নম্বর ওয়ার্ডের উত্তর রাঙ্গুনিয়া বন্দেরাজাপাড়া এলাকার একই পরিবারের চার প্রবাসী ভাইয়ের লাশ অবশেষে কফিনবন্দি করা হয়েছে। মঙ্গলবার রাতেই তাদের মরদেহ দেশে পৌঁছানোর কথা রয়েছে।
এদিকে চারজন রেমিট্যান্স যোদ্ধা সন্তানকে হারিয়ে এখনো শোকে স্তব্ধ পুরো গ্রাম। চারপাশের বাতাস যেন ভারী হয়ে আছে স্বজন আর প্রতিবেশীদের আহাজারিতে। চার ভাইয়ের এই অকাল ও ট্রাজিক মৃত্যুতে পুরো রাঙ্গুনিয়া উপজেলাজুড়ে গভীর শোকের ছায়া বিরাজ করছে।
এই পুরো ঘটনার সবচেয়ে হৃদয়বিদারক দিক হলো— বৃদ্ধ ও অসুস্থ মা ফরিদা বেগম এখনো জানেন না যে তার চার সন্তান আর ইহজগতে নেই। সন্তানদের ছোটবেলায় স্বামী মারা যাওয়ার পর চরম কষ্ট আর ত্যাগ-তিতিক্ষা সহ্য করে এই পাঁচ সন্তানকে আগলে ধরে বেঁচে ছিলেন এই বৃদ্ধা মা। সন্তানদের সুখের দিন যখন সমাগত, তখনই নেমে এলো এই অন্ধকার। কিন্তু বুধবার ভোরে যখন লালানগরের নিজ বাড়ির উঠানে ফ্রিজার অ্যাম্বুলেন্স এসে থামবে, যখন একে একে চারটি কফিন নামানো হবে, তখন এই অসুস্থ মা কীভাবে নিজের চার সন্তানের লাশ গ্রহণ করবেন? এই পাহাড়সম শোক কি তিনি সইতে পারবেন? এই প্রশ্ন এখন লালানগরের প্রতিটি মানুষের মুখে মুখে।
পারিবারিক সূত্রে জানা গেছে, চার ভাইকে চিরনিদ্রায় শায়িত করার জন্য তাদের পারিবারিক কবরস্থানে পাশাপাশি ৪টি কবর খনন করার প্রস্তুতি আজ থেকেই শুরু হচ্ছে। একইসঙ্গে আজই চূড়ান্ত করা হবে তাদের জানাজার সময়সূচি। অত্যন্ত মর্মান্তিক এই জানাজায় অংশ নেওয়ার কথা রয়েছে রাঙ্গুনিয়ার সাংসদ হুমাম কাদের চৌধুরীসহ স্থানীয় প্রশাসনের ঊর্ধ্বতন ব্যক্তিরা ও সর্বস্তরের মানুষের।
সোমবার (১৮ মে) সরেজমিনে লালানগর ইউনিয়নের বন্দেরাজাপাড়া এলাকায় গিয়ে দেখা গেছে, এলাকার চায়ের দোকান থেকে শুরু করে পাড়ার মোড়ে—সবখানেই এখন শুধুই এই চার ভাইয়ের গল্প। তাদের ছোটবেলার বন্ধু, আত্মীয়-স্বজন ও এলাকাবাসীর মাঝে চলছে এই ভাইদের স্মৃতিচারণ। শৈশবের দিনগুলোর কথা মনে করে কান্নায় ভেঙে পড়ছেন বন্ধুরা।
তবে ওমান সরকারের দেওয়া পোস্টমর্টেম রিপোর্ট নিয়ে স্থানীয়দের অনেকের মনেই দানা বেঁধেছে নানা প্রশ্ন ও সংশয়। রিপোর্টের তথ্যানুযায়ী, গাড়ির ভেতর এসির এক্সজস্ট থেকে নির্গত কার্বন মনোক্সাইড গ্যাসে শ্বাসরুদ্ধ হয়ে তাদের মৃত্যু হয়েছে। কিন্তু একসঙ্গে একটি গাড়ির ভেতর চার ভাইয়ের এভাবে মৃত্যুর কারণ কোনোভাবেই মেনে নিতে পারছেন না তাদের দীর্ঘদিনের পরিচিত প্রতিবেশী ও শুভাকাঙ্ক্ষীরা।
উল্লেখ্য, ওমানে দীর্ঘদিন ধরে ব্যবসা-বাণিজ্য করে আসা এই চার ভাই- রাশেদুল ইসলাম, সাহেদুল ইসলাম, মো. সিরাজ ও মো. শহিদ গত মঙ্গলবার রাতে কেনাকাটা শেষে ওমানের মুলাদ্দাহ এলাকায় গাড়িতে ঘুমানোর সময় এই দুর্ঘটনার শিকার হন। পাঁচ ভাইয়ের মধ্যে দুইজন বিবাহিত এবং বাকি তিনজনের মধ্যে দুই ভাইয়ের বিয়ের যাবতীয় কেনাকাটা ও প্রস্তুতি প্রায় সম্পন্ন হয়েছিল। কিন্তু বিয়ের সানাই বাজার আগেই পুরো পরিবারটি এক নিমেষে ধ্বংসস্তূপে পরিণত হলো। পুরো রাঙ্গুনিয়াবাসী এখন চাতক পাখির মতো চেয়ে আছেন বুধবার ভোরের সেই বুকফাটা মুহূর্তটির দিকে, যখন চার ভাই শেষবারের মতো ফিরবেন তাদের চেনা লালানগরের মাটিতে।
What's Your Reaction?