৫০০ বছরের পুরোনো ‘ইমামবাড়ি’ সংরক্ষণের দাবি

ব্রিটিশ আমলে এ দেশে জমিদারি প্রথা ছিল। তখন জমিদারদের প্রচণ্ড প্রতাপ ছিল। এখন সেই প্রথা নেই কিন্তু আছে তাদের নির্মাণ করা পরিত্যক্ত স্মৃতিচিহ্ন। প্রায় ৫০০ বছরের পুরোনো স্থাপনাটি অযত্ন, অবহেলা আর সংরক্ষণের অভাবে জৌলুস হারিয়েছে অনেক আগেই। কারুকার্য খচিত জরাজীর্ণ দেওয়ালে বেড়ে উঠছে লতাপাতা। ইট-সুরকির ভগ্নস্তূপের দিকে তাকালে অতীত টের পাওয়া যায়। একসময় জৌলুস ছিল, প্রাণের স্ফূরণ ছিল, অথচ আজ কিছুই নেই। সিরাজগঞ্জের তাড়াশ উপজেলার বারুহাস গ্রামে আছে এমন এক স্মৃতিচিহ্ন। যা ‘ইমামবাড়ি’ নামে পরিচিত। মোগল সম্রাট জাহাঙ্গীরের অনুদানে নির্মিত বাড়িটির সঙ্গে জড়িয়ে আছে ইসলাম প্রচারের সুফি-সাধক হযরত শাহ ইমামের (রহ.) অনেক ইতিহাস। সরেজমিনে জানা যায়, সংস্কারের অভাবে পুরোনো ইমামবাড়ির একটি মসজিদ সম্পূর্ণ ধ্বংস হয়ে গেছে। শুধু গম্বুজের মতো ছোট একটি ঘর ঠাঁয় দাঁড়িয়ে থাকলেও গাছের নিচে ঢাকা পড়েছে। ইমামবাড়িটি পুনর্নির্মাণ করে দখল হওয়া জায়গা উদ্ধারের জোর দাবি জানিয়েছেন স্থানীয়রা। জানা যায়, হযরত শাহ ইমামের (রহ.) জন্ম ইয়েমেনে। তিনি ১৫ শতকের দিকে ইসলাম প্রচারে আসার পর চলনবিলের নিভৃত পল্লি বারুহাস গ্রামে অবস্থান করেন। এ অঞ্চলের

৫০০ বছরের পুরোনো ‘ইমামবাড়ি’ সংরক্ষণের দাবি

ব্রিটিশ আমলে এ দেশে জমিদারি প্রথা ছিল। তখন জমিদারদের প্রচণ্ড প্রতাপ ছিল। এখন সেই প্রথা নেই কিন্তু আছে তাদের নির্মাণ করা পরিত্যক্ত স্মৃতিচিহ্ন। প্রায় ৫০০ বছরের পুরোনো স্থাপনাটি অযত্ন, অবহেলা আর সংরক্ষণের অভাবে জৌলুস হারিয়েছে অনেক আগেই। কারুকার্য খচিত জরাজীর্ণ দেওয়ালে বেড়ে উঠছে লতাপাতা। ইট-সুরকির ভগ্নস্তূপের দিকে তাকালে অতীত টের পাওয়া যায়। একসময় জৌলুস ছিল, প্রাণের স্ফূরণ ছিল, অথচ আজ কিছুই নেই।

সিরাজগঞ্জের তাড়াশ উপজেলার বারুহাস গ্রামে আছে এমন এক স্মৃতিচিহ্ন। যা ‘ইমামবাড়ি’ নামে পরিচিত। মোগল সম্রাট জাহাঙ্গীরের অনুদানে নির্মিত বাড়িটির সঙ্গে জড়িয়ে আছে ইসলাম প্রচারের সুফি-সাধক হযরত শাহ ইমামের (রহ.) অনেক ইতিহাস।

সরেজমিনে জানা যায়, সংস্কারের অভাবে পুরোনো ইমামবাড়ির একটি মসজিদ সম্পূর্ণ ধ্বংস হয়ে গেছে। শুধু গম্বুজের মতো ছোট একটি ঘর ঠাঁয় দাঁড়িয়ে থাকলেও গাছের নিচে ঢাকা পড়েছে। ইমামবাড়িটি পুনর্নির্মাণ করে দখল হওয়া জায়গা উদ্ধারের জোর দাবি জানিয়েছেন স্থানীয়রা।

জানা যায়, হযরত শাহ ইমামের (রহ.) জন্ম ইয়েমেনে। তিনি ১৫ শতকের দিকে ইসলাম প্রচারে আসার পর চলনবিলের নিভৃত পল্লি বারুহাস গ্রামে অবস্থান করেন। এ অঞ্চলের অধিবাসীরা ছিল হিন্দু সম্প্রদায়ের। তিনি তাদের মধ্য ইসলামের বাণী ও আদর্শ প্রচার করেন। অনেকে ইসলাম গ্রহণ করেন। তিনি চলনবিলের উত্তর ও মধ্যম স্থানকে ইসলাম প্রচারের জন্য বেছে নেন।

আরও পড়ুন
শতবর্ষী ঐতিহ্যের স্মারক যে মসজিদ 
শীতে ঘুরে আসুন পৃত্থিমপাশা জমিদারবাড়ি 

সেসময় চতুর্থ মোগল সম্রাট জাহাঙ্গীর ক্ষমতায় আসীন হয়ে বিভিন্ন অঞ্চল পরিদর্শন করেন। সেই সুবাধে চলনবিলের পরগনা পরিদর্শনে আসেন। কর্মকর্তাদের কাছে জানতে পারেন বারুহাস গ্রামে অবস্থান করছেন ইয়েমেন থেকে আসা ধর্মপ্রচারক। পরে তিনি সাক্ষাতের ইচ্ছা পোষণ করলে পানিতে ঘেরা একটি উন্মুক্ত ভিটায় জুব্বা-পাগড়িপরা শাহ ইমামকে (রহ.) লক্ষ্য করে জলযান সেখানে ভেড়ানো হয়।

ইসলাম প্রচারককে সম্রাট সাদরে অর্ভ্যথনা জানান। সম্রাট জাহাঙ্গীর এ অঞ্চলে ইসলাম প্রচারের অগ্রতিতে সেখানে একটি মসজিদ নির্মাণের উদ্যোগ নেন। শাহ ইমামের (রহ.) এবাদতের জন্য কয়েকটি পাকা ঘর নির্মাণ ও পুকুর খনন করারও ব্যবস্থা করেন। এ ছাড়া ইসলাম প্রচারের জন্য তাকে ৮০ একর জায়গা করমুক্ত হিসেবে দান করেন। জীবনের শেষ সময় পর্যন্ত তিনি সেখানেই বসবাস করেন। ধ্বংসপ্রাপ্ত মসজিদের পূর্ব-উত্তর পাশে তার ও কয়েকজন শিষ্যের কবর আছে।

বারুহাস গ্রামের মোকাদ্দেস আলী জাগো নিউজকে বলেন, ‘ইমামবাড়ির সবগুলো স্থাপনাই বিলুপ্ত হয়ে গেছে। সমাধির সামনে সাড়ে আট বিঘা আয়তনের একটি পুকুর আছে। সেটিও স্থানীয় প্রভাবশালীরা দখল করে নিয়েছে। সরকারিভাবে জায়গাগুলো উদ্ধার ও স্থাপনাগুলো পুনর্নির্মাণ করে হজরত শাহ ইমামের (রহ.) স্মৃতি সংরক্ষণ করা হোক।’

তাড়াশ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা নুসরাত জাহান জাগো নিউজকে বলেন, ‘বিষয়টি আমার জানা নেই। তবে খোঁজ-খবর নিয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’

এমএএম/এসইউ

What's Your Reaction?

like

dislike

love

funny

angry

sad

wow