৫৮ চা বাগানের প্রভিডেন্ট ফান্ডের টাকা বকেয়া, অনিশ্চয়তায় শ্রমিকরা
চা শ্রমিকদের ভবিষ্যৎ আর্থিক নিরাপত্তার অন্যতম ভরসা প্রভিডেন্ট ফান্ডে দীর্ঘদিন ধরে জমা হচ্ছে না বিপুল সংখ্যক টাকা। ১৬৭টি চা বাগানের মধ্যে ৫৮টিতে পিএফ বকেয়া থাকায় শত কোটি টাকার সঞ্চয় অনিশ্চিত হয়ে পড়েছে, ফলে অবসরোত্তর জীবন ও জরুরি প্রয়োজনে অর্থ পাওয়া নিয়ে চরম উদ্বেগে রয়েছেন হাজারো শ্রমিক। জানা গেছে, দীর্ঘদিন ধরে শ্রমিকদের বেতনের একটি অংশ কেটে এই তহবিলে জমা রাখার কথা থাকলেও অভিযোগ উঠেছে ১৬৭ চা বাগানের মধ্যে ৫৮টি চা বাগান মালিক এই প্রভিডেন্ট ফান্ডের বিপুল অঙ্কের টাকা জমা দেয়নি। ফলে অবসরের পর কিংবা জরুরি প্রয়োজনে নিজেদের সঞ্চিত অর্থ পাওয়া নিয়ে চরম অনিশ্চয়তায় রয়েছেন চা শ্রমিকরা। চা শ্রমিক নেতারা জানান, শ্রমিকদের টাকা মাসের শেষে ঠিকই কেটে নেওয়া হয় অথচ বাগান মালিক পক্ষ এই টাকা নিয়মিত ব্যাংকে জমা করেনি। এতে করে শ্রমিকের টাকা দিয়ে বাগান পক্ষ ব্যবসা করেন আবার শ্রমিকেরা সময়মতো টাকা পান না। চা শ্রমিক ভবিষ্যৎ তহবিল নিয়ন্ত্রক অফিস সূত্রে জানা গেছে, নিয়মিত চা শ্রমিকদের বেতনের ৭.৫ শতাংশ কর্তন করে নেওয়া হয়। বাগান কর্তৃপক্ষ আরও ৭.৫ শতাংশ মোট ১৫ শতাংশ অর্থ তহবিলে জমা দেওয়ার কথা। শ্রমিক ও মালিক পক্ষের প্রদে
চা শ্রমিকদের ভবিষ্যৎ আর্থিক নিরাপত্তার অন্যতম ভরসা প্রভিডেন্ট ফান্ডে দীর্ঘদিন ধরে জমা হচ্ছে না বিপুল সংখ্যক টাকা। ১৬৭টি চা বাগানের মধ্যে ৫৮টিতে পিএফ বকেয়া থাকায় শত কোটি টাকার সঞ্চয় অনিশ্চিত হয়ে পড়েছে, ফলে অবসরোত্তর জীবন ও জরুরি প্রয়োজনে অর্থ পাওয়া নিয়ে চরম উদ্বেগে রয়েছেন হাজারো শ্রমিক।
জানা গেছে, দীর্ঘদিন ধরে শ্রমিকদের বেতনের একটি অংশ কেটে এই তহবিলে জমা রাখার কথা থাকলেও অভিযোগ উঠেছে ১৬৭ চা বাগানের মধ্যে ৫৮টি চা বাগান মালিক এই প্রভিডেন্ট ফান্ডের বিপুল অঙ্কের টাকা জমা দেয়নি। ফলে অবসরের পর কিংবা জরুরি প্রয়োজনে নিজেদের সঞ্চিত অর্থ পাওয়া নিয়ে চরম অনিশ্চয়তায় রয়েছেন চা শ্রমিকরা।
চা শ্রমিক নেতারা জানান, শ্রমিকদের টাকা মাসের শেষে ঠিকই কেটে নেওয়া হয় অথচ বাগান মালিক পক্ষ এই টাকা নিয়মিত ব্যাংকে জমা করেনি। এতে করে শ্রমিকের টাকা দিয়ে বাগান পক্ষ ব্যবসা করেন আবার শ্রমিকেরা সময়মতো টাকা পান না।
চা শ্রমিক ভবিষ্যৎ তহবিল নিয়ন্ত্রক অফিস সূত্রে জানা গেছে, নিয়মিত চা শ্রমিকদের বেতনের ৭.৫ শতাংশ কর্তন করে নেওয়া হয়। বাগান কর্তৃপক্ষ আরও ৭.৫ শতাংশ মোট ১৫ শতাংশ অর্থ তহবিলে জমা দেওয়ার কথা। শ্রমিক ও মালিক পক্ষের প্রদেয় মোট ১৫ শতাংশ জমা টাকার উপর আরও ১৫ শতাংশ অর্থ বাগান কর্তৃপক্ষকে প্রশাসনিক ব্যয় হিসেবে একত্রে জমা দিতে হয়।
জানা গেছে, শ্রম অধিদপ্তরের অতিরিক্ত সচিবকে চেয়ারম্যান করে গঠিত একটি ট্রাস্টি বোর্ড এই ভবিষ্য তহবিল পরিচালনা করেন। বোর্ডে চা বাগান মালিক পক্ষের ৩ জন, চা স্টাফ অ্যাসোসিয়েশন থেকে ১ জন, চা শ্রমিক ইউনিয়ন থেকে ২ জন প্রতিনিধি এবং চা শিল্প বহির্ভূত ২ জন স্বতন্ত্র বিশিষ্ট ব্যক্তি অন্তর্ভুক্ত রয়েছে। শ্রম সচিবে হয়ে ভবিষ্যৎ তহবিল নিয়ন্ত্রক দায়িত্ব পালন করেন।
নিয়ন্ত্রক অফিস সূত্র জানায়, এই বোর্ড শ্রমিকদের পক্ষে অনাদয়ী বকেয়া আদায়ে বাগান মালিকদের সঙ্গে দেন দরবার ও মামলা বা প্রশাসনিক ব্যবস্থা নিয়ে থাকে। ভবিষ্যৎ তহবিল নিয়ন্ত্রক কার্যালয়ের ২৮ ফেব্রুয়ারির হালনাগাদ তথ্য মতে ৫৮টি চা বাগানের শ্রমিকদের পিএফ-এর টাকা বকেয়া রয়েছে।
শ্রমিক ইউনিয়ন ও চা বাগান স্টাফ অ্যাসোসিয়েশনের মতে এই বকেয়ার পরিমাণ শত কোটি টাকার ছাড়িয়ে যাবে।
বিভাগীয় শ্রম দপ্তরের উপপরিচালক (নিয়ন্ত্রক প্রফিডেন্ড) মহব্বত হোসাইন জাগো নিউজকে বলেন, আমরা বকেয়া টাকা পরিশোধের জন্য ৬টি চা বাগানের বিরুদ্ধে শ্রম আইনে মামলা করেছি। এছাড়া ৫৮টি চা বাগান কর্তৃপক্ষকে চিঠি পাঠিয়েছি বকেয়া টাকা পরিশোধের জন্য। নিয়ম হলো প্রতি মাসে ভবিষ্যৎ তহবিলে টাকা পরিশোধ করার কথা। তবে অনেকেই তা পরিশোধ করেননি। অনেক বাগানের কাছে ২ বছর থেকে ৩ মাস পর্যন্ত বকেয়া টাকা বাকি রয়েছে।
চা সংশ্লিষ্টরা বলেছেন, কিছু বাগানে আর্থিক সংকটের কারণে পিএফের টাকা সময়মতো জমা হয়নি। আবার কোথাও ব্যবস্থাপনার দুর্বলতা ও তদারকির অভাবও দায়ী।
চা শ্রমিক ইউনিয়নের সহ-সভাপতি পঙ্কজ কুন্দ বলেন, চা শ্রমিকদের আয় এমনিতেই কম। তার মধ্যেও সামান্য টাকা প্রভিডেন্ট ফান্ডে জমা রাখা হয়, সেটিও পাওয়া যদি অনিশ্চিত হয়ে পড়ে তবে শ্রমিকদের জীবনে বড় ধরনের সংকট সৃষ্টি করবে। এনিয়ে আমরা মালিকপক্ষ ও তহবিল নিয়ন্ত্রকের সে নিয়মিত যোগাযোগ রক্ষা করে যাচ্ছি।
আলীনগর চা বাগানের শ্রমিক সত্য নারায়ন। তিনি বলেন, চাকরি থেকে অবসর নেওয়ার এক বছর পর প্রভিডেন্ট ফান্ডের টাকা পেয়েছি। নিয়ম হলো অবসর নেওয়ার ৩ মাসের মধ্যে টাকা পরিশোধ করার কথা অথচ আমাকে এক বছর পরে টাকা দেওয়া হয়েছে।
বাংলাদেশ চা শ্রমিক ইউনিয়নের সাবেক সাধারণ সম্পাদক চা শ্রমিক নেতা রামভজন কৈরি বলেন, প্রভিডেন্ট ফান্ডের টাকা প্রতি মাসেরটা মাসেই জমা করা নিয়ম। অথচ শ্রমিকের অংশের টাকা ঠিকই কেটে নেওয়া হয়। এই টাকা ও বাগান পক্ষের টাকা ফান্ডে জমা হওয়ার কথা থাকলেও ২-৩ মাসেও জমা হয় না। এই টাকা সময়মতো জমা হলে ইন্টারেস্টর টাকাও বৃদ্ধি হতো। তবে দুঃখের বিষয় সময়মতো শ্রমিকেরা টাকা পায় না, আবার টাকা জমাও হয় না।
বকেয়া তালিকায় থাকা সাতগাঁও চা বাগানের ব্যবস্থাপক সিদ্দিকুর রহমান বলেন, নানা কারণে দীর্ঘদিন ধরে বাগানে লোকসান গুনতে হচ্ছে। উৎপাদন খরচ থেকে চায়ের দাম কম। তবে শিগগির শ্রমিকদের পিএফ-এর বকেয়া জমা দিতে পদক্ষেপ নিয়েছি।
এ বিষয়ে মহব্বত হোসাইন বলেন, ৫ ও ৭ জুলাই ট্রাস্ট্রি বোর্ডেও ৪৪০তম বোর্ড সভার সিদ্ধান্ত অনুযায়ী অনাদায়ী অর্থ আদায়ে তাগিদ পত্র পাঠানো ও বাগানের আর্থিক পরিস্থিতি সরেজমিন পরিদর্শন করা হয়েছিল। এর ফলে সর্বশেষ ২৮ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত অনাদায়ী ১০ কোটি টাকা আদায় সম্ভব হয়েছে।
তিনি বলেন, কিছু বাগান লোকসানের মুখে পড়েছেন, অন্যদিকে শ্রমিকদের স্বার্থও দেখা হচ্ছে। সব কিছু বিবেচনায় রেখে আমরা অনাদায়ী আদায়ে কাজ করে যাচ্ছি।
এম ইসলাম/এনএইচআর/এমএস
What's Your Reaction?