৬০ বছর গোসল করেননি আমু হাজি, হয়েছিল তার করুণ পরিণতি
দীর্ঘ পাঁচ দশকেরও বেশি সময় গোসল না করে ইরানের এক ব্যক্তি আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমে আকর্ষণে পরিণত হন। বিভিন্ন প্রতিবেদনে তাকে ‘বিশ্বের সবচেয়ে নোংরা মানুষ’ নামে পরিচিত করা হতো। কিন্তু জীবনের শেষ মুহূর্তে প্রতিবেশীদের চাপে তিনি গোসল করতে বাধ্য হন। সেই ঘটনায় তার জীবন স্বাভাবিক হয়নি, বরং করুণ পরিণতির মুখোমুখি হয়েছিলেন তিনি। আমু হাজির মৃত্যুকালে বয়স হয়েছিল ৯৪ বছর। এর আগে তাকে বাস্তবতার মুখোমুখি হতে হয়েছিল। ২০২২ সালে তার মৃত্যুর পর প্রকাশিত বিবিসির প্রতিবেদনে বলা হয়, দক্ষিণ ইরানের ফার্স প্রদেশে বসবাসকারী আমু হাজি মৃত্যুর মাত্র কয়েক মাস আগে জীবনে প্রথমবারের মতো দীর্ঘ সময় পর গোসল করেছিলেন। প্রতিবেদনে বলা হয়, অর্ধশতাব্দীর বেশি সময় ধরে আমু হাজি সাবান ও পানি ব্যবহার থেকে বিরত ছিলেন। তার বিশ্বাস ছিল, গোসল করলে তিনি অসুস্থ হয়ে পড়বেন। এ কারণে গ্রামবাসীরা বহুবার চেষ্টা করলেও তাকে পরিষ্কার করতে পারেননি। তবে স্থানীয় গণমাধ্যমের তথ্য অনুযায়ী, শেষ পর্যন্ত আশপাশের মানুষের চাপেই কয়েক মৃত্যুর মাস আগে তিনি গোসল করতে রাজি হন। এরপরই অসুস্থ হয়ে পড়েন তিনি। পরে তার মৃত্যু হয়। ২০১৪ সালে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে আমু হাজ
দীর্ঘ পাঁচ দশকেরও বেশি সময় গোসল না করে ইরানের এক ব্যক্তি আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমে আকর্ষণে পরিণত হন। বিভিন্ন প্রতিবেদনে তাকে ‘বিশ্বের সবচেয়ে নোংরা মানুষ’ নামে পরিচিত করা হতো। কিন্তু জীবনের শেষ মুহূর্তে প্রতিবেশীদের চাপে তিনি গোসল করতে বাধ্য হন। সেই ঘটনায় তার জীবন স্বাভাবিক হয়নি, বরং করুণ পরিণতির মুখোমুখি হয়েছিলেন তিনি।
আমু হাজির মৃত্যুকালে বয়স হয়েছিল ৯৪ বছর। এর আগে তাকে বাস্তবতার মুখোমুখি হতে হয়েছিল। ২০২২ সালে তার মৃত্যুর পর প্রকাশিত বিবিসির প্রতিবেদনে বলা হয়, দক্ষিণ ইরানের ফার্স প্রদেশে বসবাসকারী আমু হাজি মৃত্যুর মাত্র কয়েক মাস আগে জীবনে প্রথমবারের মতো দীর্ঘ সময় পর গোসল করেছিলেন।
প্রতিবেদনে বলা হয়, অর্ধশতাব্দীর বেশি সময় ধরে আমু হাজি সাবান ও পানি ব্যবহার থেকে বিরত ছিলেন। তার বিশ্বাস ছিল, গোসল করলে তিনি অসুস্থ হয়ে পড়বেন। এ কারণে গ্রামবাসীরা বহুবার চেষ্টা করলেও তাকে পরিষ্কার করতে পারেননি।
তবে স্থানীয় গণমাধ্যমের তথ্য অনুযায়ী, শেষ পর্যন্ত আশপাশের মানুষের চাপেই কয়েক মৃত্যুর মাস আগে তিনি গোসল করতে রাজি হন। এরপরই অসুস্থ হয়ে পড়েন তিনি। পরে তার মৃত্যু হয়।
২০১৪ সালে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে আমু হাজি জানিয়েছিলেন, তার প্রিয় খাবার ছিল শজারু (পোরকুপাইন) মাংস। তিনি বসবাস করতেন কখনো মাটির গর্তে, আবার কখনো গ্রামের মানুষের বানিয়ে দেওয়া একটি ইটের ঘরে। ওই গ্রামটির নাম দেজগাহ।
তেহরান টাইমসকে দেওয়া সেই সাক্ষাৎকারে তিনি বলেন, জীবনের শুরুর দিকের কিছু ‘মানসিক আঘাত’ থেকেই তার জীবনযাপনের এই ব্যতিক্রমী সিদ্ধান্তগুলো এসেছে।
আইআরএনএ জানায়, দীর্ঘদিন গোসল না করার কারণে তার শরীরের চামড়া ধুলো ও পুঁজে ঢেকে গিয়েছিল। তার খাবারের তালিকায় ছিল পচা মাংস, আর পান করতেন একটি পুরোনো তেলের ক্যান থেকে নেওয়া অপরিষ্কার পানি।
ধূমপানও ছিল তার অভ্যাস। বিভিন্ন সময় তাকে একসঙ্গে একাধিক সিগারেট টানতে দেখা গেছে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছিল।
সংবাদ সংস্থাটি জানায়, কেউ তাকে গোসল করাতে বা পরিষ্কার পানি দিতে চাইলে তিনি মন খারাপ করতেন। এ ধরনের চেষ্টা তাকে মানসিকভাবে বিচলিত করত।
তবে তিনি সত্যিই বিশ্বের সবচেয়ে দীর্ঘ সময় গোসল না করা ব্যক্তি ছিলেন কি না, এ নিয়ে বিতর্ক রয়েছে। ২০০৯ সালে ভারতের এক ব্যক্তির বিষয়ে খবর পাওয়া গিয়েছিল, যিনি তখন পর্যন্ত ৩৫ বছর গোসল ও দাঁত ব্রাশ না করার দাবি করেছিলেন। তবে তার বর্তমান অবস্থার বিষয়ে নির্ভরযোগ্য তথ্য পাওয়া যায়নি।
What's Your Reaction?