৬০ বছরের অপেক্ষা কি ঘুচবে ইংল্যান্ডের?

১৯৬৬ সালের সেই সোনালি সন্ধ্যা। ওয়েম্বলির সবুজ ঘাসে ববি মুরের হাতে উঠেছিল তখনকার বিশ্বকাপ জুলে রিমে ট্রফি। ঘরের মাঠে প্রথম এবং শেষবার বিশ্বকাপ জয়ের পর কেটে গেছে দীর্ঘ ৬০ বছর। ইংলিশ ফুটবলারদের জন্য সেই সোনালি ট্রফিটা এখনো যেন মরিচীকা। অথচ ইংলিশ প্রিমিয়ার লিগের (ইপিএল) দাপটে বিশ্ব ফুটবল এখন ইংলিশদেরই নিয়ন্ত্রণে। ম্যানচেস্টার সিটি, আর্সেনাল, লিভারপুলের তারকারাই কাঁপাচ্ছেন মাঠ। কিন্তু বিশ্বের সেরা তারকাদের সাথে কাঁধ মিলিয়ে খেলা ইংলিশ ফুটবলাররা জাতীয় দলের জার্সিতে নামলেই কেন যেন খেই হারিয়ে ফেলেন! ষাটোর্ধ্ব কোনো ইংলিশ সমর্থক ছাড়া দেশটির বর্তমান প্রজন্মের কেউই কখনো বিশ্বকাপ উদযাপনের স্বাদ পায়নি। ঘরোয়া লিগ বিশ্বের সেরা হলেও আন্তর্জাতিক মঞ্চে ইংল্যান্ডের গল্পটা কেবলই বুকভাঙা যন্ত্রণার। সেমিফাইনালে পেনাল্টি শুটআউটের ট্র্যাজেডি কিংবা ফাইনালের দোরগোড়া থেকে ফিরে আসা; এভাবেই বারবার চূর্ণ হয়েছে থ্রি-লায়ন্সদের স্বপ্ন। তবে এবারের দলটা সম্পূর্ণ আলাদা। হ্যারি কেইনের নেতৃত্বাধীন দলটির আক্রমণভাগ যেকোনো প্রতিপক্ষের জন্য ত্রাস। কেইনের খুনে ফিনিশিং, জুড বেলিংহ্যামের মিডফিল্ড মাস্টারি আর ফিল ফোডেন ও বুকায়ো

৬০ বছরের অপেক্ষা কি ঘুচবে ইংল্যান্ডের?

১৯৬৬ সালের সেই সোনালি সন্ধ্যা। ওয়েম্বলির সবুজ ঘাসে ববি মুরের হাতে উঠেছিল তখনকার বিশ্বকাপ জুলে রিমে ট্রফি। ঘরের মাঠে প্রথম এবং শেষবার বিশ্বকাপ জয়ের পর কেটে গেছে দীর্ঘ ৬০ বছর। ইংলিশ ফুটবলারদের জন্য সেই সোনালি ট্রফিটা এখনো যেন মরিচীকা।

অথচ ইংলিশ প্রিমিয়ার লিগের (ইপিএল) দাপটে বিশ্ব ফুটবল এখন ইংলিশদেরই নিয়ন্ত্রণে। ম্যানচেস্টার সিটি, আর্সেনাল, লিভারপুলের তারকারাই কাঁপাচ্ছেন মাঠ। কিন্তু বিশ্বের সেরা তারকাদের সাথে কাঁধ মিলিয়ে খেলা ইংলিশ ফুটবলাররা জাতীয় দলের জার্সিতে নামলেই কেন যেন খেই হারিয়ে ফেলেন!

ষাটোর্ধ্ব কোনো ইংলিশ সমর্থক ছাড়া দেশটির বর্তমান প্রজন্মের কেউই কখনো বিশ্বকাপ উদযাপনের স্বাদ পায়নি। ঘরোয়া লিগ বিশ্বের সেরা হলেও আন্তর্জাতিক মঞ্চে ইংল্যান্ডের গল্পটা কেবলই বুকভাঙা যন্ত্রণার। সেমিফাইনালে পেনাল্টি শুটআউটের ট্র্যাজেডি কিংবা ফাইনালের দোরগোড়া থেকে ফিরে আসা; এভাবেই বারবার চূর্ণ হয়েছে থ্রি-লায়ন্সদের স্বপ্ন।

তবে এবারের দলটা সম্পূর্ণ আলাদা। হ্যারি কেইনের নেতৃত্বাধীন দলটির আক্রমণভাগ যেকোনো প্রতিপক্ষের জন্য ত্রাস। কেইনের খুনে ফিনিশিং, জুড বেলিংহ্যামের মিডফিল্ড মাস্টারি আর ফিল ফোডেন ও বুকায়ো সাকার উইং-জাদু; তারা ইতোমধ্যে শেষ ষোলোতে নিজেদের জাত চিনিয়েছেন।

রক্ষণভাগেও অভিজ্ঞতার কমতি নেই। জন স্টোনস ও কাইল ওয়াকাররা অতন্দ্র প্রহরী।এর ওপর ডাগআউটে মাস্টারমাইন্ড থমাস টুখেলের ট্যাকটিক্যাল প্ল্যানিং যদি ঠিকঠাক কাজ করে, তবে এবার সত্যিই সম্ভাবনা উজ্জ্বল।

কিন্তু পথটা মোটেও মসৃণ নয়। চ্যালেঞ্জ ছুঁড়ছে কিলিয়ান এমবাপের ফ্রান্স, ভিনিসিয়ুস-রদ্রিগোদের ব্রাজিল কিংবা আর্জেন্টিনার মেসি-মার্তিনেজ
ম্যাজিক। বিশ্বমঞ্চের শেষ হাসি হাসতে হলে এদের কাউকে না কাউকেও হারাতেই হবে। তার ওপর ইংল্যান্ডের পুরনো রোগ তো আছেই; নকআউটের চাপ ও পেনাল্টি শুটআউটের ভীতি।

৬০ বছর পর ট্রফি ছুঁতে হলে ইংল্যান্ডকে জিততে হবে টানা চার ম্যাচ। যার প্রথম বাধা মেক্সিকো। এই ম্যাচটি ইংলিশদের জন্য কেবল প্রতিপক্ষের বিরুদ্ধে নয়, প্রকৃতির বিরুদ্ধেও লড়াই। সমুদ্র পৃষ্টের ২২০০ মিটারের বেশি উচ্চতায় খেলতে হবে। মেক্সিকো সিটির উচ্চতা হ্যারি কেইনদের জন্য বড় শারীরিক পরীক্ষাও নেবে।

মেক্সিকো এবার টুর্নামেন্টের সহ-আয়োজক। ঘরের মাঠে প্রায় এক লাখ মারকুটে দর্শকের গগনবিদারী সমর্থন থাকবে তাদের পেছনে। গতিময় ফুটবল আর নিরেট রক্ষণভাগের মেক্সিকানরা কন্ডিশনের সুবিধা নিয়ে ইংল্যান্ডকে কোণঠাসা করতে মুখিয়ে আছে।

টুখেলের শিষ্যদের জন্য এটি অ্যাসিড টেস্ট। কেইন-বেলিংহ্যামদের মাঠের নৈপুণ্যের পাশাপাশি সামলাতে হবে দর্শকদের চাপ ও মেক্সিকো সিটির বাতাস। এই অগ্নিপরীক্ষায় উতরে গেলে কোয়ার্টারফাইনালে তাদের জন্য অপেক্ষা করছে ব্রাজিল কিংবা নরওয়ে।

ইপিএলের তীব্র লড়াইয়ে নিজেদের ঝালিয়ে নেওয়া এই সোনালি প্রজন্ম কি পারবে ৬০ বছরের খরা কাটিয়ে ট্রফিটা 'হোম'-এ ফিরিয়ে আনতে? পুরো ফুটবলবিশ্ব এখন সেই ইতিহাসের অপেক্ষায়।

আরআই/এমএমআর

What's Your Reaction?

like

dislike

love

funny

angry

sad

wow