৬০ লাখ ব্যারেল তেল নিয়ে হরমুজ পার হলো সৌদি পতাকাবাহী ৩ সুপারট্যাংকার

সৌদি আরবের পতাকাবাহী তিনটি সুপারট্যাংকার হরমুজ প্রণালি অতিক্রম করেছে। ওই তিন ট্যাংকারে প্রায় ৬০ লাখ ব্যারেল অপরিশোধিত তেল বহন করা হচ্ছে। বৃহস্পতিবার (১৮ জুন) জাহাজ-ট্র্যাকিং তথ্যের বরাত দিয়ে সংবাদ প্রকাশ করেছে বার্তা সংস্থা রয়টার্স। সংস্থাটি জানায়, সৌদি বন্দরগুলো থেকে হরমুজ প্রণালি হয়ে সাম্প্রতিক সময়ে এটিই ছিল সবচেয়ে বড় তেলবাহী জাহাজ চলাচল। ইরানের সঙ্গে সংঘাতের অবসান ঘটাতে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের একটি চুক্তিতে স্বাক্ষর করার কয়েক ঘণ্টা পর এই সুপারট্যাংকারগুলোর যাত্রা শুরু হয়। ইরানের ওপর চাপিয়ে দেওয়া যুদ্ধের কারণে হরমুজ প্রণালি দিয়ে উপসাগরীয় অঞ্চল থেকে শত শত মিলিয়ন ব্যারেল তেল রপ্তানি ব্যাহত হয়। এমন অবস্থায় সৌদি আরব মূলত লোহিত সাগর তীরবর্তী ইয়ানবু বন্দর টার্মিনাল দিয়ে তেল রপ্তানি করে আসছিল। এই বন্দর ব্যবহার করে সৌদি আরব বিকল্প পথে তেল রপ্তানি স্থিতিশীল রেখেছিল। প্রসঙ্গত, জেনেভা শহরে আলোচনা চলা অবস্থায় গত ২৮ ফেব্রুয়ারি ইরানে হামলা চালায় মার্কিন-ইসরায়েলি যৌথবাহিনী। এতে আয়াতুল্লাহ আলি খামেনিসহ বেশকিছু শীর্ষ কর্মকর্তা নিহত হন। এর প্রতিবাদে ৩৯ দিনে ইসরায়েল ও মধ্যপ্রা

৬০ লাখ ব্যারেল তেল নিয়ে হরমুজ পার হলো সৌদি পতাকাবাহী ৩ সুপারট্যাংকার

সৌদি আরবের পতাকাবাহী তিনটি সুপারট্যাংকার হরমুজ প্রণালি অতিক্রম করেছে। ওই তিন ট্যাংকারে প্রায় ৬০ লাখ ব্যারেল অপরিশোধিত তেল বহন করা হচ্ছে। বৃহস্পতিবার (১৮ জুন) জাহাজ-ট্র্যাকিং তথ্যের বরাত দিয়ে সংবাদ প্রকাশ করেছে বার্তা সংস্থা রয়টার্স।

সংস্থাটি জানায়, সৌদি বন্দরগুলো থেকে হরমুজ প্রণালি হয়ে সাম্প্রতিক সময়ে এটিই ছিল সবচেয়ে বড় তেলবাহী জাহাজ চলাচল। ইরানের সঙ্গে সংঘাতের অবসান ঘটাতে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের একটি চুক্তিতে স্বাক্ষর করার কয়েক ঘণ্টা পর এই সুপারট্যাংকারগুলোর যাত্রা শুরু হয়।

ইরানের ওপর চাপিয়ে দেওয়া যুদ্ধের কারণে হরমুজ প্রণালি দিয়ে উপসাগরীয় অঞ্চল থেকে শত শত মিলিয়ন ব্যারেল তেল রপ্তানি ব্যাহত হয়। এমন অবস্থায় সৌদি আরব মূলত লোহিত সাগর তীরবর্তী ইয়ানবু বন্দর টার্মিনাল দিয়ে তেল রপ্তানি করে আসছিল। এই বন্দর ব্যবহার করে সৌদি আরব বিকল্প পথে তেল রপ্তানি স্থিতিশীল রেখেছিল।

প্রসঙ্গত, জেনেভা শহরে আলোচনা চলা অবস্থায় গত ২৮ ফেব্রুয়ারি ইরানে হামলা চালায় মার্কিন-ইসরায়েলি যৌথবাহিনী। এতে আয়াতুল্লাহ আলি খামেনিসহ বেশকিছু শীর্ষ কর্মকর্তা নিহত হন। এর প্রতিবাদে ৩৯ দিনে ইসরায়েল ও মধ্যপ্রাচ্যে থাকা মার্কিন ঘাঁটিগুলোতে ১০০ দফা হামলা চালায় ইরান।

এরপর ইরানের ১০ দফা প্রস্তাবের ভিত্তিতে ৭ এপ্রিল যুদ্ধবিরতির প্রস্তাব দেন ট্রাম্প। পাকিস্তানের মধ্যস্থতায় ৮ এপ্রিল যুদ্ধবিরতি কার্যকর হয় এবং ১১ এপ্রিল ইসলামাবাদে সরাসরি বৈঠক করেন দুই দেশের প্রতিনিধিরা। আলোচনা ফলপ্রসূ না হওয়া ১৩ এপ্রিল হরমুজে নৌ-অবরোধ আরোপ করা হয়। এরপর কয়েক দফা যুদ্ধবিরতির সময় বাড়ান ট্রাম্প।

সর্বশেষ, ইরানের ১৪ দফা শর্তের ভিত্তিতে চলতি সপ্তাহে একটি সমঝোতা স্মারক নিয়ে সমঝোতায় পৌছায় দুই পক্ষ। অ্যাক্সিওস এর সংবাদের তথ্য মতে, ১৪ দফার ভিত্তিতে দুই পক্ষ ৬০ দিনের জন্য আলোচনায় সম্মত হয়েছে এবং ইরানের ওপর হামলা তথা যুদ্ধ বন্ধের বিনিময়ে হরমুজ প্রণালি খুলে দেওয়া হয়েছে।

ইরানের লিগ্যাল মেডিসিন সংস্থার তথ্যমতে, ২৮ ফেব্রুয়ারি থেকে ১০ এপ্রিল পর্যন্ত সংঘাতে মোট ৩ হাজার ৩৭৫ জন নিহত হন, যার মধ্যে ২ হাজার ৮৭৫ জন পুরুষ এবং ৪৯৬ জন নারী। এছাড়া জরুরি চিকিৎসা বিভাগের তথ্য অনুযায়ী, এই যুদ্ধে ১১৮ জন চিকিৎসাকর্মী আহত হন এবং ২৬ জন নিহত হন।

কেএম 

What's Your Reaction?

like

dislike

love

funny

angry

sad

wow