৭ দিন পর দেশে এলো মালোশিয়ায় সড়ক দুর্ঘটনায় নিহত প্রবাসী বেলায়েতের মরদেহ

সড়ক দুর্ঘটনায় মালয়েশিয়ায় নিহত হয়েছে ফরিদপুরের ভাঙ্গা উপজেলার প্রবাসী মো. বেলায়েত শেখ (৩৪), মৃত্যুর প্রায় ৭ দিন পর দেশে এসেছে মরদেহ। বুধবার (১১ মার্চ) রাত তিনটার সময় ঢাকার হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে তার মরদেহ পৌঁছায়। পরে লাশবাহী গাড়িতে করে সকাল ৭টায় চৌকিঘাটা নিজ বাড়িতে আনা হলে স্বজনদের আহাজারিতে পুরো এলাকায় শোকের ছায়া নেমে আসে। মৃত বেলায়েত শেখ চোকিঘাটা এলাকার মৃত ইউসুফ শেখের বড় ছেলে। পারিবারিক সূত্রে জানা যায়, প্রায় তিন বছর আগে স্ত্রী ও দুই কন্যা সন্তানকে রেখে সংসারের উন্নতির আশায় তিনি মালয়েশিয়া পাড়ি জমান। জেলার দিঘলকান্দা এলাকার এক দালালের মাধ্যমে তিনি বিদেশে যান। চুক্তি ছিল, পরবর্তীতে ভিসা জটিলতা নিরসন করে বৈধভাবে কাজের ব্যবস্থা করে দেওয়া হবে। এ জন্য দালাল চক্র বেলায়েত শেখের পরিবারের কাছ থেকে ৬ লাখ টাকা নেন বলে অভিযোগ। ওই টাকা জোগাড় করতে পরিবারকে ঋণ ও নিকট আত্মীদের কাছ থেকে ধারদেনা করতে হয়েছে। কিন্তু বিদেশে যাওয়ার পর প্রতিশ্রুতি অনুযায়ী কাজের বৈধ ভিসার কোনো ব্যবস্থা হয়নি। দীর্ঘ সময় অনিশ্চয়তার মধ্যে থাকতে হয় তাকে। পরিবার জানায়, মালয়েশিয়ায় তিনি একটি সবজি বাগানে অস্থায়ীভ

৭ দিন পর দেশে এলো মালোশিয়ায় সড়ক দুর্ঘটনায় নিহত প্রবাসী বেলায়েতের মরদেহ

সড়ক দুর্ঘটনায় মালয়েশিয়ায় নিহত হয়েছে ফরিদপুরের ভাঙ্গা উপজেলার প্রবাসী মো. বেলায়েত শেখ (৩৪), মৃত্যুর প্রায় ৭ দিন পর দেশে এসেছে মরদেহ।

বুধবার (১১ মার্চ) রাত তিনটার সময় ঢাকার হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে তার মরদেহ পৌঁছায়। পরে লাশবাহী গাড়িতে করে সকাল ৭টায় চৌকিঘাটা নিজ বাড়িতে আনা হলে স্বজনদের আহাজারিতে পুরো এলাকায় শোকের ছায়া নেমে আসে। মৃত বেলায়েত শেখ চোকিঘাটা এলাকার মৃত ইউসুফ শেখের বড় ছেলে।

পারিবারিক সূত্রে জানা যায়, প্রায় তিন বছর আগে স্ত্রী ও দুই কন্যা সন্তানকে রেখে সংসারের উন্নতির আশায় তিনি মালয়েশিয়া পাড়ি জমান। জেলার দিঘলকান্দা এলাকার এক দালালের মাধ্যমে তিনি বিদেশে যান। চুক্তি ছিল, পরবর্তীতে ভিসা জটিলতা নিরসন করে বৈধভাবে কাজের ব্যবস্থা করে দেওয়া হবে।

এ জন্য দালাল চক্র বেলায়েত শেখের পরিবারের কাছ থেকে ৬ লাখ টাকা নেন বলে অভিযোগ। ওই টাকা জোগাড় করতে পরিবারকে ঋণ ও নিকট আত্মীদের কাছ থেকে ধারদেনা করতে হয়েছে। কিন্তু বিদেশে যাওয়ার পর প্রতিশ্রুতি অনুযায়ী কাজের বৈধ ভিসার কোনো ব্যবস্থা হয়নি। দীর্ঘ সময় অনিশ্চয়তার মধ্যে থাকতে হয় তাকে।

পরিবার জানায়, মালয়েশিয়ায় তিনি একটি সবজি বাগানে অস্থায়ীভাবে কাজ করতেন। বৈধ কাগজপত্র না থাকায় প্রায়ই আতঙ্ক ও ঘরবন্দি অবস্থায় দিন কাটাতে হতো। ঋণের চাপ, ভবিষ্যৎ নিয়ে হতাশা ও পরিবারের চিন্তায় তিনি মানসিকভাবে ভেঙে পড়েন। এসব দুশ্চিন্তার মধ্যেই তিনি একটু সড়ক নির্মাণের কাজ পান। রাতের বেলা কাজ করতে হয় ভোর বেলায় কাজ থেকে ফেরার পথে গাড়ি চাপায় মারা যান পরিবাররে দাবি।

স্বামীর মরদেহ ঘরে ফিরতেই কান্নায় ভেঙে পড়েন স্ত্রী সাজেদা বেগম। তিনি বলেন, ‘সংসারের উন্নতির আশায় আমার স্বামী ঋণ করে বিদেশে গিয়েছিল। কাগজপত্র না থাকায় ঠিক মতো কাজ করতে পারে নি। ঋণ পরিশোধও করতে পারেনি। এমন সর্বনাশ যেন আর কারো না হয়।

What's Your Reaction?

like

dislike

love

funny

angry

sad

wow