৭ বছরের শিশুকে অপহরণ-ধর্ষণ-হত্যা, গ্রেপ্তার-৩
কক্সবাজারের নবগঠিত মাতামুহুরী উপজেলার পূর্ব বড়ভেওলা ইউনিয়নে নিখোঁজের একদিন পর সাত বছর বয়সী শিশু ওয়াহিদুল ইসলামের মরদেহ উদ্ধারের ঘটনায় অপহরণ, ধর্ষণ ও হত্যার পর লাশ গুমের অভিযোগে মামলা দায়ের করা হয়েছে। এ ঘটনায় তিনজনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। মঙ্গলবার (১৬ জুন) চকরিয়া থানায় নিহত শিশুর বাবা বাদী হয়ে মামলাটি দায়ের করেন। মামলায় পূর্ব বড়ভেওলা এলাকার ছৈয়দ হোসেন ওরফে মানিক ওরফে কাবিলা, তারেকুল ইসলাম ও মো. আরমানকে আসামি করা হয়েছে। তিনজনই বর্তমানে পুলিশের হেফাজতে রয়েছেন। পারিবারিক সূত্রে জানা যায়, গত ১৪ জুন বিকেল আনুমানিক ৫টার দিকে শিশুটি বাড়ির পাশের এলাকায় খেলতে বের হয়। সন্ধ্যার পরও বাড়িতে ফিরে না আসায় পরিবারের সদস্যরা আত্মীয়স্বজনের বাড়িসহ বিভিন্ন স্থানে খোঁজাখুঁজি শুরু করেন। পরদিনও তার কোনো সন্ধান পাওয়া যাচ্ছিল না। পরে স্থানীয়দের সন্দেহের ভিত্তিতে কয়েকজনকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হলে ঘটনার মোড় ঘুরে যায়। আটক এক ব্যক্তির দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে মঙ্গলবার সকাল ৯টার দিকে পূর্ব বড়ভেওলা ইউনিয়নের ৮ নম্বর ওয়ার্ডের দক্ষিণ চরপাড়া এলাকার মাতামুহুরী খালের পাশে একটি পানিভর্তি গর্ত থেকে শিশুটির মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ
কক্সবাজারের নবগঠিত মাতামুহুরী উপজেলার পূর্ব বড়ভেওলা ইউনিয়নে নিখোঁজের একদিন পর সাত বছর বয়সী শিশু ওয়াহিদুল ইসলামের মরদেহ উদ্ধারের ঘটনায় অপহরণ, ধর্ষণ ও হত্যার পর লাশ গুমের অভিযোগে মামলা দায়ের করা হয়েছে। এ ঘটনায় তিনজনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।
মঙ্গলবার (১৬ জুন) চকরিয়া থানায় নিহত শিশুর বাবা বাদী হয়ে মামলাটি দায়ের করেন।
মামলায় পূর্ব বড়ভেওলা এলাকার ছৈয়দ হোসেন ওরফে মানিক ওরফে কাবিলা, তারেকুল ইসলাম ও মো. আরমানকে আসামি করা হয়েছে। তিনজনই বর্তমানে পুলিশের হেফাজতে রয়েছেন।
পারিবারিক সূত্রে জানা যায়, গত ১৪ জুন বিকেল আনুমানিক ৫টার দিকে শিশুটি বাড়ির পাশের এলাকায় খেলতে বের হয়। সন্ধ্যার পরও বাড়িতে ফিরে না আসায় পরিবারের সদস্যরা আত্মীয়স্বজনের বাড়িসহ বিভিন্ন স্থানে খোঁজাখুঁজি শুরু করেন। পরদিনও তার কোনো সন্ধান পাওয়া যাচ্ছিল না।
পরে স্থানীয়দের সন্দেহের ভিত্তিতে কয়েকজনকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হলে ঘটনার মোড় ঘুরে যায়। আটক এক ব্যক্তির দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে মঙ্গলবার সকাল ৯টার দিকে পূর্ব বড়ভেওলা ইউনিয়নের ৮ নম্বর ওয়ার্ডের দক্ষিণ চরপাড়া এলাকার মাতামুহুরী খালের পাশে একটি পানিভর্তি গর্ত থেকে শিশুটির মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ।
মামলার এজাহার অনুযায়ী, শিশুটিকে পরিকল্পিতভাবে অপহরণের পর পাশবিক নির্যাতন চালিয়ে হত্যা করা হয়। পরে অপরাধের আলামত গোপন ও মরদেহ গুমের উদ্দেশ্যে খালের পাশের ওই গর্তে ফেলে রাখা হয়। সুরতহাল প্রতিবেদনে শিশুর শরীরে একাধিক আঘাতের চিহ্ন পাওয়া গেছে বলে উল্লেখ করা হয়েছে।
পুলিশের একটি নির্ভরযোগ্য সূত্র জানায়, গ্রেপ্তার তিন আসামি প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে অপহরণ, ধর্ষণ ও হত্যাকাণ্ডে নিজেদের সম্পৃক্ততার কথা স্বীকার করেছে। তদন্তের স্বার্থে তাদের আদালতে হাজির করে ফৌজদারি কার্যবিধির ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি রেকর্ডের আবেদন করা হবে।
এ ছাড়া ঘটনার সঙ্গে অন্য কেউ জড়িত আছে কিনা, তা খতিয়ে দেখতে তদন্ত অব্যাহত রয়েছে বলে জানিয়েছে পুলিশ।
পুলিশ জানায়, নিহত শিশুর মরদেহ উদ্ধার করে কক্সবাজার সদর হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়। সেখানে ময়নাতদন্ত সম্পন্ন হয়েছে। ময়নাতদন্তের পূর্ণাঙ্গ প্রতিবেদন পাওয়ার পর মৃত্যুর প্রকৃত কারণ সম্পর্কে বিস্তারিত জানা যাবে।
মামলার আইনগত দিক সম্পর্কে অ্যাডভোকেট মঈনুল আমিন বলেন, শিশুটিকে অপহরণের পর সংঘবদ্ধভাবে যে জঘন্য অপরাধ সংঘটিত হয়েছে, তা অত্যন্ত নৃশংস। চকরিয়া থানায় দায়ের করা মামলায় নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইন, ২০০০ (সংশোধিত) এবং দণ্ডবিধির ৩০২, ২০১ ও ৩৪ ধারায় অভিযোগ আনা হয়েছে। আদালতে অভিযোগ প্রমাণিত হলে আসামিদের সর্বোচ্চ শাস্তি মৃত্যুদণ্ড হতে পারে।
চকরিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মনির হোসেন জানান, এ ঘটনায় জড়িত সন্দেহে অভিযুক্তদের গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তাদের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে। প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে তারা ঘটনার সঙ্গে সম্পৃক্ত থাকার কথা স্বীকার করেছে। পরবর্তী আইনগত প্রক্রিয়া শেষে তাদের আদালতে সোপর্দ করা হবে।
What's Your Reaction?