৭.৭ মাত্রার ভূমিকম্পের পর আঘাত হানল আরও ৩ শক্তিশালী আফটারশক
ইন্দোনেশিয়ার ফ্লোরেস দ্বীপের উপকূলে শক্তিশালী ভূমিকম্পে অন্তত ২০ জন নিহত হয়েছেন। আহত হয়েছেন আরও ছয়জন। ধ্বংসস্তূপের নিচে আরও অনেকে আটকা থাকতে পারেন বলে জানিয়েছে স্থানীয় উদ্ধারকারী সংস্থা। প্রধান ভূমিকম্পের ওপর ওই অঞ্চলে আরও অন্তত তিনটি শক্তিশালী আফটারশক আঘাত হেনেছে বলে জানিয়েছে কর্তৃপক্ষ। শনিবার (১৫ আগস্ট) স্থানীয় সময় ভোর ৫টা ৫৮ মিনিটে ইন্দোনেশিয়ায় আঘাত হানে ভয়াবহ এক ভূমিকম্প। যুক্তরাষ্ট্রের ভূতাত্ত্বিক জরিপ সংস্থা ইউএসজিএসের তথ্য অনুযায়ী, রিখটার স্কেলে ভূমিকম্পটির মাত্রা ছিল ৭ দশমিক ৭। এর উৎপত্তিস্থল ছিল পূর্ব নুসা তেংগারা প্রদেশের এন্দে শহর থেকে প্রায় ৬৮ কিলোমিটার উত্তর-উত্তর-পশ্চিমে। কেন্দ্রের গভীরতা ছিল মাত্র ১০ কিলোমিটার। আধা ঘণ্টায় ৩ আফটারশক প্রধান ভূমিকম্পের পর আধা ঘণ্টার মধ্যে তিনটি শক্তিশালী আফটারশক অনুভূত হয়। এগুলোর মাত্রা ছিল যথাক্রমে ৫ দশমিক ৯, ৫ দশমিক ৬ ও ৬ দশমিক ১। মাউমেরে বন্দরনগরীর আশপাশে উদ্ধারকারী দল এখন পর্যন্ত ২০ জনের মরদেহ উদ্ধার করেছে। তবে ভূমিকম্পের উৎপত্তিস্থলের সবচেয়ে কাছের নাজেওয়েও রিজেন্সিতে এখনো পৌঁছাতে পারেননি উদ্ধারকারীরা। সেখানে যোগাযোগব্যবস্থা ক্ষতিগ্রস্ত
ইন্দোনেশিয়ার ফ্লোরেস দ্বীপের উপকূলে শক্তিশালী ভূমিকম্পে অন্তত ২০ জন নিহত হয়েছেন। আহত হয়েছেন আরও ছয়জন। ধ্বংসস্তূপের নিচে আরও অনেকে আটকা থাকতে পারেন বলে জানিয়েছে স্থানীয় উদ্ধারকারী সংস্থা। প্রধান ভূমিকম্পের ওপর ওই অঞ্চলে আরও অন্তত তিনটি শক্তিশালী আফটারশক আঘাত হেনেছে বলে জানিয়েছে কর্তৃপক্ষ।
শনিবার (১৫ আগস্ট) স্থানীয় সময় ভোর ৫টা ৫৮ মিনিটে ইন্দোনেশিয়ায় আঘাত হানে ভয়াবহ এক ভূমিকম্প। যুক্তরাষ্ট্রের ভূতাত্ত্বিক জরিপ সংস্থা ইউএসজিএসের তথ্য অনুযায়ী, রিখটার স্কেলে ভূমিকম্পটির মাত্রা ছিল ৭ দশমিক ৭।
এর উৎপত্তিস্থল ছিল পূর্ব নুসা তেংগারা প্রদেশের এন্দে শহর থেকে প্রায় ৬৮ কিলোমিটার উত্তর-উত্তর-পশ্চিমে। কেন্দ্রের গভীরতা ছিল মাত্র ১০ কিলোমিটার।
আধা ঘণ্টায় ৩ আফটারশক
প্রধান ভূমিকম্পের পর আধা ঘণ্টার মধ্যে তিনটি শক্তিশালী আফটারশক অনুভূত হয়। এগুলোর মাত্রা ছিল যথাক্রমে ৫ দশমিক ৯, ৫ দশমিক ৬ ও ৬ দশমিক ১।
মাউমেরে বন্দরনগরীর আশপাশে উদ্ধারকারী দল এখন পর্যন্ত ২০ জনের মরদেহ উদ্ধার করেছে। তবে ভূমিকম্পের উৎপত্তিস্থলের সবচেয়ে কাছের নাজেওয়েও রিজেন্সিতে এখনো পৌঁছাতে পারেননি উদ্ধারকারীরা।
সেখানে যোগাযোগব্যবস্থা ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ায় পরিস্থিতির তথ্য পাওয়াও কঠিন হয়ে পড়েছে।
বাড়তে পারে প্রাণহানি
পূর্ব নুসা তেংগারা পুলিশের প্রধান রুদি দারমোকো জানিয়েছেন, ভূমিকম্পে ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে এবং বেশ কিছু ভবন ধসে পড়েছে। বিভিন্ন শহর ও গ্রামে বিদ্যুৎ ও যোগাযোগব্যবস্থা ব্যাহত হয়েছে। এর ফলে ক্ষয়ক্ষতির পূর্ণ চিত্র পাওয়া এবং উদ্ধার তৎপরতা চালানো কঠিন হয়ে পড়েছে।
কর্মকর্তারা আশঙ্কা করছেন, উদ্ধার অভিযান আরও এগিয়ে গেলে মৃতের সংখ্যা বাড়তে পারে।
ইন্দোনেশিয়ার জাতীয় দুর্যোগ প্রশমন সংস্থা বিএনপিবি জানিয়েছে, নাজেওয়েও এলাকায় প্রায় দুই হাজার বাসিন্দাকে নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নেওয়া হয়েছে।
এ ছাড়া বেশ কয়েকটি বাড়ি, গুদাম ও সরকারি স্থাপনা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।
সুনামি সতর্কতা জারি, পরে প্রত্যাহার
ভূমিকম্পের পর ইন্দোনেশিয়ার আবহাওয়া, জলবায়ু ও ভূ-পদার্থবিদ্যা সংস্থা বিএমকেজি ক্ষতিগ্রস্ত উপকূলীয় এলাকায় সুনামি সতর্কতা জারি করে। বাসিন্দাদের সমুদ্রসৈকত ও নদীর তীর থেকে দূরে সরে উঁচু স্থানে আশ্রয় নেওয়ার পরামর্শ দেওয়া হয়।
পরে অবশ্য সুনামি সতর্কতা প্রত্যাহার করা হয়েছে। কর্তৃপক্ষ স্থানীয় পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করছে। পাশাপাশি পরবর্তী পরাঘাতের ঝুঁকিও মূল্যায়ন করা হচ্ছে।
‘রিং অব ফায়ার’-এ ইন্দোনেশিয়া
২৭ কোটির বেশি মানুষের দেশ ইন্দোনেশিয়া প্রায় ১৭ হাজার দ্বীপ নিয়ে গঠিত। দেশটি প্রশান্ত মহাসাগরীয় ‘রিং অব ফায়ার’-এর ওপর অবস্থিত। এ কারণে ইন্দোনেশিয়া বিশ্বের সবচেয়ে ভূমিকম্পপ্রবণ দেশগুলোর একটি।
ফ্লোরেস দ্বীপের একই উপকূলীয় এলাকায় ১৯৯২ সালের ডিসেম্বরেও শক্তিশালী ভূমিকম্প হয়েছিল। ওই ভূমিকম্পের পর সৃষ্ট সুনামিতে ২ হাজার ৫০০-এর বেশি মানুষ নিহত হয়েছিল।
এবারের ভূমিকম্পের পর সেই পুরোনো দুর্যোগের স্মৃতিও নতুন করে সামনে এসেছে।
সূত্র: আল-জাজিরা
কেএএ/
What's Your Reaction?