৯ বছর প্রেমের পর বিয়ে, দুমাসেই স্বামীর করুণ পরিণতি

৯ বছর প্রেমের পর তরুণীকে বিয়ে করেন এক তরুণ। কিন্তু বিয়ের মাত্র দুই মাসের মাথায় স্ত্রীর হাতে করুণ পরিণতি বরণ করেছেন ওই স্বামী। শুনতে অবিশ্বাস্য মনে হলেও বাস্তবেই এমন ঘটনা ঘটেছে।  রোববার (০১ ফেব্রুয়ারি) এনডিটিভির এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়েছে।  প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ভারতের উত্তরপ্রদেশের বরেলি জেলায় এক চাঞ্চল্যকর খুনের ঘটনা ঘটেছে। ৯ বছরের প্রেমের সম্পর্কের পর গত ২৫ নভেম্বর বিয়ে করেছিলেন জিতেন্দ্র কুমার যাদব (৩৩) এবং জ্যোতি নামের এক দম্পতি। কিন্তু বিয়ের মাত্র দুই মাসের মধ্যেই জিতেন্দ্রের মৃত্যুর মধ্য দিয়ে এ সম্পর্ক চিরতরে শেষ হয়ে যায়। এনডিটিভি জানিয়েছে, জিতেন্দ্র আত্মহত্যা করেছেন বলে প্রথমে প্রতিবেশীদের জানানো হয়। তার লাশ ভাড়া বাড়ির জানালার গ্রিল থেকে মাফলার দিয়ে ঝোলানো অবস্থায় পাওয়া যায়। কিন্তু পোস্টমর্টেম রিপোর্টে জানা যায়, মৃত্যুর কারণ শ্বাসরোধ, আত্মহত্যা নয়। পুলিশের তদন্তে ভয়ংকর সত্য  বেরিয়ে এসেছে। বলা হয়েছে, জ্যোতি নিজেই স্বামী জিতেন্দ্রকে শ্বাসরোধ করে খুন করেছেন। এসময় তার বাবা কালীচরণ, মা চমেলি এবং ভাই দীপক তাকে হাত-পা ধরে চেপে রেখেছিলেন। খুনের পর লাশকে জানালা

৯ বছর প্রেমের পর বিয়ে, দুমাসেই স্বামীর করুণ পরিণতি

৯ বছর প্রেমের পর তরুণীকে বিয়ে করেন এক তরুণ। কিন্তু বিয়ের মাত্র দুই মাসের মাথায় স্ত্রীর হাতে করুণ পরিণতি বরণ করেছেন ওই স্বামী। শুনতে অবিশ্বাস্য মনে হলেও বাস্তবেই এমন ঘটনা ঘটেছে। 

রোববার (০১ ফেব্রুয়ারি) এনডিটিভির এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়েছে। 

প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ভারতের উত্তরপ্রদেশের বরেলি জেলায় এক চাঞ্চল্যকর খুনের ঘটনা ঘটেছে। ৯ বছরের প্রেমের সম্পর্কের পর গত ২৫ নভেম্বর বিয়ে করেছিলেন জিতেন্দ্র কুমার যাদব (৩৩) এবং জ্যোতি নামের এক দম্পতি। কিন্তু বিয়ের মাত্র দুই মাসের মধ্যেই জিতেন্দ্রের মৃত্যুর মধ্য দিয়ে এ সম্পর্ক চিরতরে শেষ হয়ে যায়।

এনডিটিভি জানিয়েছে, জিতেন্দ্র আত্মহত্যা করেছেন বলে প্রথমে প্রতিবেশীদের জানানো হয়। তার লাশ ভাড়া বাড়ির জানালার গ্রিল থেকে মাফলার দিয়ে ঝোলানো অবস্থায় পাওয়া যায়। কিন্তু পোস্টমর্টেম রিপোর্টে জানা যায়, মৃত্যুর কারণ শ্বাসরোধ, আত্মহত্যা নয়।

পুলিশের তদন্তে ভয়ংকর সত্য  বেরিয়ে এসেছে। বলা হয়েছে, জ্যোতি নিজেই স্বামী জিতেন্দ্রকে শ্বাসরোধ করে খুন করেছেন। এসময় তার বাবা কালীচরণ, মা চমেলি এবং ভাই দীপক তাকে হাত-পা ধরে চেপে রেখেছিলেন। খুনের পর লাশকে জানালার গ্রিল থেকে ঝুলিয়ে আত্মহত্যা বলে চালানোর চেষ্টা করা হয়।

জিতেন্দ্র এবং জ্যোতির সম্পর্ক ছাত্রজীবন থেকে শুরু হয়েছিল। জিতেন্দ্র ভারতীয় ভেটেরিনারি রিসার্চ ইনস্টিটিউটে (আইভিআরআই) কন্ট্রাক্ট কর্মী ছিলেন। আর জ্যোতি উত্তরপ্রদেশ রোড ট্রান্সপোর্ট কর্পোরেশনে কন্ট্রাক্ট বাস কন্ডাক্টর ছিলেন। বিয়ের পর টাকা নিয়ে ঝগড়া শুরু হয়। পুলিশের দাবি, জিতেন্দ্র জ্যোতির অ্যাকাউন্ট থেকে ২০ হাজার টাকা তুলে অনলাইন জুয়ায় হারিয়ে ফেলেন। এই নিয়ে বারবার ঝগড়া হয়।

এরপর গত ২৬ জানুয়ারি টাকা নিয়ে তুমুল ঝগড়া হয়। জ্যোতি তার বাবা-মা ও ভাইকে ডেকে আনেন। ঝগড়া হাতাহাতিতে রূপ নেয়। একপর্যায়ে, পরিবারের সদস্যরা জিতেন্দ্রকে চেপে ধরে রাখেন। আর জ্যোতি রাগের মাথায় তাকে শ্বাসরোধ করে খুন করেন। তারপর সবাই মিলে লাশ ঝুলিয়ে আত্মহত্যা বলে চালানোর চেষ্টা করেন।

জিতেন্দ্রের ভাই অজয় কুমার অভিযোগ দায়ের করলে পুলিশ প্রথমে আত্মহত্যায় প্ররোচনা দেওয়ার মামলা করে। কিন্তু পোস্টমর্টেমের পর খুনের অভিযোগে মামলা পরিবর্তন করা হয়। জেরায় জ্যোতি অপরাধ স্বীকার করেছেন বলে পুলিশ জানিয়েছে।

এনডিটিভি জানিয়েছে, এ ঘটনায় জ্যোতি, তার বাবা কালীচরণ এবং মা চমেলিকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। ভাই দীপককে এখনও খুঁজছে পুলিশ।
 

What's Your Reaction?

like

dislike

love

funny

angry

sad

wow