অচল সড়কবাতি, ‘ভুতুড়ে’ লিংক রোডে আতঙ্ক
সড়কের বেশিরভাগ জায়গাতেই নেই বাতি সংযোগ দেওয়ার কয়েকদিনের মাথায় চুরি হয়ে যায় তার অন্ধকার সড়কে অপরাধ বাড়ছে নারায়ণগঞ্জের অন্যতম প্রধান গুরুত্বপূর্ণ সড়ক ঢাকা-নারায়ণগঞ্জ লিংক রোড। সড়কটি নারায়ণগঞ্জ জেলা শহরকে ঢাকা-চট্টগ্রাম ও ঢাকা-সিলেট মহাসড়কের সঙ্গে সংযুক্ত করেছে। কিন্তু বর্তমানে এ সড়কটিতে নেই কোনো নিরাপত্তা। প্রায় আট কিলোমিটার দীর্ঘ সড়কের বেশিরভাগ জায়গাতেই নেই সড়কবাতি। যে কারণে রাতের বেলা সড়কটিকে নেমে আসে গভীর অন্ধকার। অন্ধকারে সড়কটি জনসাধারণের জন্য বিপজ্জনক হয়ে উঠছে। গুরুত্বপূর্ণ এ সড়কের পাশে জেলা প্রশাসকের কার্যালয়, জেলা ও দায়রা জজ আদালত, পুলিশ সুপারের কার্যালয়, সিভিল সার্জন অফিস, জেলা নির্বাচন অফিস, জেলা পরিষদ, এলজিইডি, জেলা কারাগার, গণপূর্ত অধিদপ্তর, পাসপোর্ট অফিস, বিআরটিএ অফিস, বিজিবি-৬২, পিবিআই অফিস, পরিবেশ অধিদপ্তর, মাদক নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তর, যুব উন্নয়ন অধিদপ্তরসহ অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ সরকারি-বেসরকারি প্রতিষ্ঠান রয়েছে। সড়কের মধ্যবর্তী স্থানে রয়েছে রিয়াগোপ স্টেডিয়াম। ঢাকার পাশের এ অঞ্চলে গড়ে উঠেছে অসংখ্য শিল্পকারখানা ও নতুন বসতি। ফলে বিদ্যমান সড়কে যানবাহন সংখ্যা ক্রমান্বয়ে বেড়ে চলেছ
- সড়কের বেশিরভাগ জায়গাতেই নেই বাতি
- সংযোগ দেওয়ার কয়েকদিনের মাথায় চুরি হয়ে যায় তার
- অন্ধকার সড়কে অপরাধ বাড়ছে
নারায়ণগঞ্জের অন্যতম প্রধান গুরুত্বপূর্ণ সড়ক ঢাকা-নারায়ণগঞ্জ লিংক রোড। সড়কটি নারায়ণগঞ্জ জেলা শহরকে ঢাকা-চট্টগ্রাম ও ঢাকা-সিলেট মহাসড়কের সঙ্গে সংযুক্ত করেছে। কিন্তু বর্তমানে এ সড়কটিতে নেই কোনো নিরাপত্তা। প্রায় আট কিলোমিটার দীর্ঘ সড়কের বেশিরভাগ জায়গাতেই নেই সড়কবাতি। যে কারণে রাতের বেলা সড়কটিকে নেমে আসে গভীর অন্ধকার। অন্ধকারে সড়কটি জনসাধারণের জন্য বিপজ্জনক হয়ে উঠছে।
গুরুত্বপূর্ণ এ সড়কের পাশে জেলা প্রশাসকের কার্যালয়, জেলা ও দায়রা জজ আদালত, পুলিশ সুপারের কার্যালয়, সিভিল সার্জন অফিস, জেলা নির্বাচন অফিস, জেলা পরিষদ, এলজিইডি, জেলা কারাগার, গণপূর্ত অধিদপ্তর, পাসপোর্ট অফিস, বিআরটিএ অফিস, বিজিবি-৬২, পিবিআই অফিস, পরিবেশ অধিদপ্তর, মাদক নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তর, যুব উন্নয়ন অধিদপ্তরসহ অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ সরকারি-বেসরকারি প্রতিষ্ঠান রয়েছে। সড়কের মধ্যবর্তী স্থানে রয়েছে রিয়াগোপ স্টেডিয়াম।
ঢাকার পাশের এ অঞ্চলে গড়ে উঠেছে অসংখ্য শিল্পকারখানা ও নতুন বসতি। ফলে বিদ্যমান সড়কে যানবাহন সংখ্যা ক্রমান্বয়ে বেড়ে চলেছে। গত কয়েক বছরে নারায়ণগঞ্জ জেলা সদরে বেসরকারি হাসপাতাল, বেসরকারি ই-বর্জ্য ব্যবস্থাপনা প্রতিষ্ঠানসহ বড় আকারের বেসরকারি আবাসন প্রকল্প গড়ে উঠেছে। লিংক রোডের উভয় পাশে গড়ে উঠেছে রপ্তানিমুখী গার্মেন্টসসহ বিভিন্ন শিল্প কারখানা।
‘দীর্ঘদিন ধরে বহু স্থানে সড়কবাতি অচল থাকায় সংশ্লিষ্ট এলাকাগুলো নিয়মিত অন্ধকারে ডুবে থাকছে। যার সরাসরি প্রভাব পড়ছে জননিরাপত্তায়। রাতের বেলা অন্ধকার অংশগুলোতে মাদকের আখড়া, চুরি, ছিনতাই ও সড়ক দুর্ঘটনা যেন নিত্যদিনের ঘটনা’
সড়ক ও জনপথ বিভাগ সূত্র বলছে, ২০২৫ সালের জুনে সড়কবাতির সংযোগ দেওয়ার মাত্র অল্প দিনের মাথায় তার চুরি শুরু হয়। এরপর কয়েকবার নতুন তার স্থাপন করা হলেও অল্পদিনের মধ্যেই তা আবার উধাও হয়ে যাচ্ছে। ফলে সংস্কার কার্যক্রম চলমান থাকলেও স্থায়ী সমাধান মিলছে না। প্রায় আট কিলোমিটার দীর্ঘ এ সড়কে মোট ৭৪৮টি সড়কবাতি রয়েছে।
আরও পড়ুন:
সড়কবাতি অকেজো, সন্ধ্যা নামলেই ঘটছে অপরাধ
৩ কিমি রাস্তায় ১০০০ সড়কবাতি!
নৌকা আকৃতির সড়ক বাতিতে আলোকিত ময়মনসিংহ
ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়ক যেন ছিনতাই-ডাকাতির অভয়াশ্রম
দীর্ঘদিন ধরে বহু স্থানে বাতি অচল থাকায় সংশ্লিষ্ট এলাকাগুলো নিয়মিত অন্ধকারে ডুবে থাকছে। যার সরাসরি প্রভাব পড়ছে জননিরাপত্তায়। রাতের বেলা অন্ধকার অংশগুলোতে মাদকের আখড়া, চুরি, ছিনতাই ও সড়ক দুর্ঘটনা যেন নিত্যদিনের ঘটনা।
জেলা পরিষদ এলাকার বাসিন্দা আওরঙ্গজেব লাবলু ক্ষোভ প্রকাশ করে জাগো নিউজকে বলেন, ‘রেজিস্ট্রি অফিসের সামনে ইউটার্নে প্রায়ই দুর্ঘটনা ঘটছে। রাতে সড়কবাতি না থাকায় পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ হয়ে উঠেছে। অথচ বিষয়টি দেখার যেন কেউ নেই।’
আরেক বাসিন্দা আরিফুল ইসলাম জাগো নিউজকে বলেন, ‘জানতে পেরেছি ১৬ কোটি টাকা ব্যয়ে এ সড়কে বাতি স্থাপন করা হয়েছে। অথচ এক বছর যেতে না যেতেই বারবার বৈদ্যুতিক তার ও যন্ত্রপাতি চুরি হয়ে যাচ্ছে। যে কারণে বেশিরভাগ সড়কবাতি জ্বলছে না। ফলে পুরো লিংক রোডই রাতের বেলা অন্ধকারে ডুবে থাকে। অন্ধকারে চুরি, ছিনতাই এবং দুর্ঘটনা বেড়েছে।’
নারায়ণগঞ্জ চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রির সহ-সভাপতি মো. আবু জাফর বলেন, ‘সড়কটিতে অনেক টাকা খরচ করে লাইটিং করা হয়েছে। কিন্তু দুঃখজনক বিষয় বর্তমানে অনেক জায়গাতে লাইট নেই। কারণ হিসেবে বলা হচ্ছে তার চুরি হয়ে যায়। এটা সুষ্ঠু সমাধান না। কীভাবে সুষ্ঠু সমাধান করা যায়, সেজন্য ব্যবসায়ীদের পক্ষ থেকে জোর দাবি জানাই।’
সড়কবাতির তার চুরি রোধে বিভিন্ন পদক্ষেপ নেওয়ার কথা জানান নারায়ণগঞ্জ জেলা প্রশাসক মো. রায়হান কবির।
তিনি বলেন, ‘কোন কোন পয়েন্টগুলোতে চুরি হয় তা শনাক্ত করার জন্য টেকনিক্যাল কমিটি করে দেওয়া হয়েছে। তবে প্রায় আট কিলোমিটার রাস্তা সিসি ক্যামেরার আওতায় কঠিন কাজ। আমাদের বাজেট নেই। সমাজের বিত্তশালীদের কাছে অনুরোধ করেছি। চুরিপ্রবণ এলাকাগুলোতে সিসি ক্যামেরা লাগানো হবে। আমাদের কার্যক্রম চলছে ‘
এসআর/এএসএম
What's Your Reaction?