অজান্তেই ত্বক বুড়িয়ে দিচ্ছে যে তিন অভ্যাস

ত্বকের বয়স বাড়া একটি স্বাভাবিক প্রক্রিয়া। তবে অনেকের ক্ষেত্রেই বয়সের তুলনায় অনেক আগেই মুখে দেখা দেয় ক্লান্ত ভাব, সূক্ষ্ম বলিরেখা, নিস্তেজতা কিংবা ত্বকের টানটান ভাব হারিয়ে যাওয়ার মতো লক্ষণ। আশ্চর্যের বিষয় হলো, এর জন্য সব সময় বয়স দায়ী নয়। বরং প্রতিদিনের কিছু সাধারণ অভ্যাসই নীরবে ত্বকের ক্ষতি করে যেতে পারে। দীর্ঘ সময় স্ক্রিনে চোখ রাখা, অতিরিক্ত মানসিক চাপ কিংবা রোদের ক্ষতিকর প্রভাব-এসব কারণে অজান্তেই ত্বক হারাতে পারে তার স্বাভাবিক তারুণ্য। জেনে নিন এমন তিনটি অভ্যাস সম্পর্কে, যা আপনার ত্বককে সময়ের আগেই বুড়িয়ে দিতে পারে। ডিজিটাল স্ক্রিনের প্রভাব কতটা? বর্তমান সময়ে স্মার্টফোন, কম্পিউটার, ট্যাব কিংবা বিভিন্ন কৃত্রিম আলোর ব্যবহার আমাদের জীবনের অবিচ্ছেদ্য অংশ। এসব ডিভাইস থেকে নির্গত ব্লু লাইট দীর্ঘ সময় ত্বকের সংস্পর্শে এলে তা নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা। এই আলো ত্বকের গভীরে গিয়ে অক্সিডেটিভ স্ট্রেস সৃষ্টি করতে পারে, যা কোলাজেন ও ইলাস্টিনের ক্ষয়কে ত্বরান্বিত করে। ফলে ধীরে ধীরে ত্বকের দৃঢ়তা কমে যায় এবং দেখা দেয় মলিনতা, অসম ত্বকের গঠন ও সূক্ষ্ম রেখা। আরও পড়ুন বেয়ার

অজান্তেই ত্বক বুড়িয়ে দিচ্ছে যে তিন অভ্যাস

ত্বকের বয়স বাড়া একটি স্বাভাবিক প্রক্রিয়া। তবে অনেকের ক্ষেত্রেই বয়সের তুলনায় অনেক আগেই মুখে দেখা দেয় ক্লান্ত ভাব, সূক্ষ্ম বলিরেখা, নিস্তেজতা কিংবা ত্বকের টানটান ভাব হারিয়ে যাওয়ার মতো লক্ষণ।

আশ্চর্যের বিষয় হলো, এর জন্য সব সময় বয়স দায়ী নয়। বরং প্রতিদিনের কিছু সাধারণ অভ্যাসই নীরবে ত্বকের ক্ষতি করে যেতে পারে। দীর্ঘ সময় স্ক্রিনে চোখ রাখা, অতিরিক্ত মানসিক চাপ কিংবা রোদের ক্ষতিকর প্রভাব-এসব কারণে অজান্তেই ত্বক হারাতে পারে তার স্বাভাবিক তারুণ্য। জেনে নিন এমন তিনটি অভ্যাস সম্পর্কে, যা আপনার ত্বককে সময়ের আগেই বুড়িয়ে দিতে পারে।

ডিজিটাল স্ক্রিনের প্রভাব কতটা?

বর্তমান সময়ে স্মার্টফোন, কম্পিউটার, ট্যাব কিংবা বিভিন্ন কৃত্রিম আলোর ব্যবহার আমাদের জীবনের অবিচ্ছেদ্য অংশ। এসব ডিভাইস থেকে নির্গত ব্লু লাইট দীর্ঘ সময় ত্বকের সংস্পর্শে এলে তা নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা। এই আলো ত্বকের গভীরে গিয়ে অক্সিডেটিভ স্ট্রেস সৃষ্টি করতে পারে, যা কোলাজেন ও ইলাস্টিনের ক্ষয়কে ত্বরান্বিত করে। ফলে ধীরে ধীরে ত্বকের দৃঢ়তা কমে যায় এবং দেখা দেয় মলিনতা, অসম ত্বকের গঠন ও সূক্ষ্ম রেখা।

মানসিক চাপও বাড়ায় ত্বকের বয়স

অফিসের কাজ, ব্যক্তিগত জীবন কিংবা নানা ধরনের উদ্বেগ-দীর্ঘদিনের মানসিক চাপ শুধু মনের ওপর নয়, ত্বকের ওপরও প্রভাব ফেলে। চাপের কারণে শরীরে কর্টিসল হরমোনের মাত্রা বেড়ে যায়, যা ত্বকের স্বাভাবিক প্রতিরোধক্ষমতাকে দুর্বল করতে পারে। এর ফলে ত্বক সংবেদনশীল হয়ে ওঠে, আর্দ্রতা হারায় এবং ক্লান্ত দেখায়। অনেকের ক্ষেত্রে ব্রণ, লালচে ভাব বা দীর্ঘস্থায়ী নিষ্প্রভতাও দেখা দিতে পারে। এমনকি নিয়মিত ত্বকের যত্ন নেওয়ার পরও প্রত্যাশিত ফল না পাওয়ার পেছনে মানসিক চাপ গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে।

‘বার্নআউট স্কিন’ কেন আলোচনায়?

পর্যাপ্ত বিশ্রামের অভাব এবং দীর্ঘ সময় মানসিক চাপে থাকার কারণে ত্বকের স্বাভাবিক পুনর্গঠন প্রক্রিয়া ব্যাহত হয়। এ অবস্থাকে বর্তমানে অনেক বিশেষজ্ঞ ‘বার্নআউট স্কিন’ নামে অভিহিত করছেন। এ ধরনের ত্বক সাধারণত বেশি ক্লান্ত, প্রদাহপ্রবণ এবং সহজেই বিভিন্ন সমস্যায় আক্রান্ত হয়। আয়নায় নিজেকে আগের চেয়ে বেশি অবসন্ন বা প্রাণহীন মনে হওয়ার কারণও হতে পারে এটি।

সূর্যের আলো এখনো সবচেয়ে বড় ঝুঁকি

অকাল বার্ধক্যের ক্ষেত্রে সূর্যের অতিবেগুনি রশ্মির প্রভাব সবচেয়ে বেশি বলে মনে করেন ত্বক বিশেষজ্ঞরা। ইউভিএ রশ্মি ত্বকের গভীরে প্রবেশ করে কোলাজেন ভাঙতে সাহায্য করে, আর ইউভিবি রশ্মি ত্বকের কোষের ক্ষতি করে ট্যান ও পিগমেন্টেশনের ঝুঁকি বাড়ায়। দক্ষিণ এশিয়ার আবহাওয়ায় দীর্ঘদিন সূর্যের আলোতে থাকার ফলে অল্প বয়সেই ত্বকে কালচে দাগ, রুক্ষতা এবং অসম রঙের সমস্যা দেখা দিতে পারে।

এখন জোর দেওয়া হচ্ছে প্রতিরোধে

ত্বকের ক্ষতি হওয়ার পর তা ঠিক করার চেয়ে আগে থেকেই সুরক্ষা নিশ্চিত করাকে বেশি গুরুত্ব দিচ্ছেন বিশেষজ্ঞরা। এ কারণে অ্যান্টিঅক্সিডেন্টসমৃদ্ধ উপাদান, বিশেষ করে ভিটামিন সি সমৃদ্ধ পণ্যের জনপ্রিয়তা বাড়ছে। পাশাপাশি ত্বকের সুরক্ষা স্তরকে শক্তিশালী রাখা, পর্যাপ্ত আর্দ্রতা নিশ্চিত করা এবং কোলাজেন উৎপাদনকে উৎসাহিত করে এমন পরিচর্যা পদ্ধতির প্রতিও গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে।

সুস্থ ও তারুণ্যময় ত্বকের জন্য করণীয়

ত্বকের দীর্ঘমেয়াদি সুরক্ষার জন্য প্রতিদিন ব্রড-স্পেকট্রাম সানস্ক্রিন ব্যবহার করা প্রয়োজন। একই সঙ্গে পর্যাপ্ত পানি পান, নিয়মিত ঘুম, মানসিক চাপ নিয়ন্ত্রণ এবং কোমল ও উপযুক্ত স্কিনকেয়ার রুটিন অনুসরণ করা জরুরি।

মনে রাখতে হবে, সুন্দর ও সুস্থ ত্বক শুধু প্রসাধনীর ওপর নির্ভর করে না। স্বাস্থ্যকর জীবনযাপন, পর্যাপ্ত বিশ্রাম এবং মানসিক সুস্থতাও এর সঙ্গে ওতপ্রোতভাবে জড়িত। তাই ত্বকের যত্নের শুরু হোক দৈনন্দিন অভ্যাস থেকেই।

তথ্যসূত্র: ইন্ডিয়া টুডে

জেএস/

What's Your Reaction?

like

dislike

love

funny

angry

sad

wow