অনিদ্রায় ভুগলে কখন ডাক্তারের পরামর্শ নেবেন
ব্যস্ত জীবন, কাজের চাপ, দুশ্চিন্তা - এসব কারণে অনেকেই মাঝেমধ্যে ঘুমের সমস্যায় ভোগেন। এক-দুই রাত ঘুম না হওয়া সাধারণ ঘটনা। কিন্তু যদি এই সমস্যা দীর্ঘদিন ধরে চলতে থাকে, তাহলে সেটিকে আর হালকাভাবে নেওয়া উচিত নয়। চিকিৎসাবিজ্ঞানে দীর্ঘদিন ঘুম না হওয়া বা বারবার ঘুম ভেঙে যাওয়ার সমস্যাকে অনিদ্রা বা ইনসোমনিয়া বলা হয়। এটি শুধু ক্লান্তি তৈরি করে না, বরং মানসিক ও শারীরিক স্বাস্থ্যের ওপরও বড় প্রভাব ফেলতে পারে। অনিদ্রা কেন হয়? ঘুমের সমস্যা নানা কারণে হতে পারে। যেমন অতিরিক্ত মানসিক চাপ, উদ্বেগ, বিষণ্নতা, অনিয়মিত জীবনযাপন, রাত জেগে স্ক্রিন ব্যবহার বা কিছু শারীরিক অসুস্থতা। গবেষণায় দেখা গেছে, দীর্ঘদিন ঘুমের অভাব থাকলে শরীরে কর্টিসল নামের স্ট্রেস হরমোন বেড়ে যায়, যা হৃদরোগ, উচ্চ রক্তচাপ ও রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা কমে যাওয়ার ঝুঁকি বাড়াতে পারে। কখন ডাক্তারের পরামর্শ নেওয়া জরুরি? ঘুমের সমস্যা যদি কয়েকদিনের বেশি স্থায়ী হয়, তাহলে বিষয়টি গুরুত্ব দেওয়া প্রয়োজন। বিশেষজ্ঞরা কয়েকটি লক্ষণের দিকে নজর রাখতে বলেন - ১. তিন সপ্তাহের বেশি ঘুমের সমস্যা থাকলে যদি টানা কয়েক সপ্তাহ ঘুমাতে সমস্যা হয় বা মাঝরাতে বারবার ঘুম ভেঙে যায়, ত
ব্যস্ত জীবন, কাজের চাপ, দুশ্চিন্তা - এসব কারণে অনেকেই মাঝেমধ্যে ঘুমের সমস্যায় ভোগেন। এক-দুই রাত ঘুম না হওয়া সাধারণ ঘটনা। কিন্তু যদি এই সমস্যা দীর্ঘদিন ধরে চলতে থাকে, তাহলে সেটিকে আর হালকাভাবে নেওয়া উচিত নয়।
চিকিৎসাবিজ্ঞানে দীর্ঘদিন ঘুম না হওয়া বা বারবার ঘুম ভেঙে যাওয়ার সমস্যাকে অনিদ্রা বা ইনসোমনিয়া বলা হয়। এটি শুধু ক্লান্তি তৈরি করে না, বরং মানসিক ও শারীরিক স্বাস্থ্যের ওপরও বড় প্রভাব ফেলতে পারে।
অনিদ্রা কেন হয়?
ঘুমের সমস্যা নানা কারণে হতে পারে। যেমন অতিরিক্ত মানসিক চাপ, উদ্বেগ, বিষণ্নতা, অনিয়মিত জীবনযাপন, রাত জেগে স্ক্রিন ব্যবহার বা কিছু শারীরিক অসুস্থতা।
গবেষণায় দেখা গেছে, দীর্ঘদিন ঘুমের অভাব থাকলে শরীরে কর্টিসল নামের স্ট্রেস হরমোন বেড়ে যায়, যা হৃদরোগ, উচ্চ রক্তচাপ ও রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা কমে যাওয়ার ঝুঁকি বাড়াতে পারে।
কখন ডাক্তারের পরামর্শ নেওয়া জরুরি?
ঘুমের সমস্যা যদি কয়েকদিনের বেশি স্থায়ী হয়, তাহলে বিষয়টি গুরুত্ব দেওয়া প্রয়োজন। বিশেষজ্ঞরা কয়েকটি লক্ষণের দিকে নজর রাখতে বলেন -
১. তিন সপ্তাহের বেশি ঘুমের সমস্যা থাকলে
যদি টানা কয়েক সপ্তাহ ঘুমাতে সমস্যা হয় বা মাঝরাতে বারবার ঘুম ভেঙে যায়, তাহলে এটি দীর্ঘস্থায়ী অনিদ্রার লক্ষণ হতে পারে।
২. দিনের কাজ ব্যাহত হলে
ঘুম না হওয়ার কারণে যদি দিনের বেলা অতিরিক্ত ক্লান্তি, মনোযোগের অভাব বা বিরক্তি দেখা দেয়, তাহলে চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া উচিত।
৩. মানসিক সমস্যা বাড়তে থাকলে
অনিদ্রার সঙ্গে উদ্বেগ, বিষণ্নতা বা অতিরিক্ত দুশ্চিন্তা বাড়তে থাকলে তা মানসিক স্বাস্থ্যের জন্য ঝুঁকিপূর্ণ হতে পারে।
৪. শ্বাসকষ্ট বা অস্বাভাবিক নাকডাকা থাকলে
অনেক সময় স্লিপ অ্যাপনিয়া নামের ঘুমের একটি জটিল সমস্যা থেকেও অনিদ্রা হতে পারে। এতে ঘুমের মধ্যে শ্বাসপ্রশ্বাস বারবার বন্ধ হয়ে যায়।
৫. ঘুমের জন্য নিয়মিত ওষুধ খেতে হলে
যদি ঘুমানোর জন্য প্রায়ই ওষুধের ওপর নির্ভর করতে হয়, তাহলে অবশ্যই চিকিৎসকের সঙ্গে কথা বলা প্রয়োজন।
অনিদ্রা কমাতে কী করতে পারেন?
ঘুমের সমস্যা কমাতে কিছু সহজ অভ্যাস সাহায্য করতে পারে। যেমন - প্রতিদিন নির্দিষ্ট সময়ে ঘুমাতে যাওয়া, ঘুমানোর আগে মোবাইল বা কম্পিউটার ব্যবহার কমানো, সন্ধ্যার পর অতিরিক্ত ক্যাফেইন এড়িয়ে চলা এবং নিয়মিত শরীরচর্চা করা।
বিশেষজ্ঞরা বলেন, অনেক সময় জীবনযাপনের ছোট পরিবর্তনই ঘুমের মান উন্নত করতে পারে। তবে সমস্যা দীর্ঘস্থায়ী হলে দেরি না করে চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়াই সবচেয়ে নিরাপদ।
ভালো ঘুম শুধু বিশ্রামের জন্য নয়, এটি শরীর ও মস্তিষ্কের স্বাভাবিক কাজের জন্যও অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। তাই অনিদ্রাকে অবহেলা না করে সময়মতো ব্যবস্থা নেওয়া জরুরি।
সূত্র: আমেরিকান একাডেমি অব স্লিপ মেডিসিন, ন্যাশনাল ইনস্টিটিউট অব মেন্টাল হেলথ, স্লিপ ফাউন্ডেশন, হার্ভার্ড মেডিকেল স্কুল
এএমপি/জেআইএম
What's Your Reaction?