অনিন্দ্য ফুলে প্রকৃতি মাতাচ্ছে মেঘশিরীষ

কুমিল্লার ব্রাহ্মণপাড়া উপজেলার গ্রামীণ সড়কসহ বিভিন্ন সড়কের দুপাশে, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের প্রাঙ্গণ ও বিভিন্ন জলাশয়ের দুপাশজুড়ে এখন দৃষ্টিনন্দন মেঘশিরীষ ফুলের সমারোহ। এ ফুলের নয়নাভিরাম সৌন্দর্য প্রকৃতিকে প্রাণবন্ত করে তুলেছে। প্রকৃতির এমন অপরূপ সৌন্দর্যে মুগ্ধ হচ্ছেন শিক্ষার্থী, পথচারী, প্রকৃতিপ্রেমী ও স্থানীয়রা। সরেজমিনে উপজেলার বিভিন্ন এলাকা ঘুরে দেখা গেছে, বিভিন্ন সড়কের পাশে, বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের পাশে, জলাশয়ের পাড়ে দাঁড়িয়ে থাকা বিশালাকৃতির মেঘশিরীষ গাছজুড়ে ফুটে আছে চোখজুড়ানো ফুল। এসব ফুলের নৈসর্গিক সৌন্দর্য উপভোগ করছেন সব বয়সী মানুষ। এই ফুলের সৌন্দর্যে প্রকৃতিও যেন সেজেছে অপরূপ সাজে। কিশোরী ও তরুণীদের চুলের বেনি ও খোঁপায়ও শোভা পাচ্ছে এ ফুল। সৌন্দর্য ধরে রাখতে কেউ কেউ মোবাইল ফোনে তুলছেন এ ফুলের ছবি।  জানা গেছে, মেঘশিরীষ গাছের বৈজ্ঞানিক নাম আলবিজিয়া সামান। এটি ঝোপালো শাখাপ্রশাখা বিশিষ্ট বৃহদাকার বৃক্ষ। এ গাছের ফুলের রঙ গোলাপি ও সাদার মিশেল এবং আকৃতি গুচ্ছবদ্ধ। প্রতিটি গুচ্ছে অসংখ্য ফুল ফোটে। এ ফুলের সৌন্দর্য মূলত বিকীর্ণ পরাগ-কেশরে নিহিত। ফুলের অগ্রভাগ গোলাপি এবং নিচের অংশ সাদা

অনিন্দ্য ফুলে প্রকৃতি মাতাচ্ছে মেঘশিরীষ
কুমিল্লার ব্রাহ্মণপাড়া উপজেলার গ্রামীণ সড়কসহ বিভিন্ন সড়কের দুপাশে, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের প্রাঙ্গণ ও বিভিন্ন জলাশয়ের দুপাশজুড়ে এখন দৃষ্টিনন্দন মেঘশিরীষ ফুলের সমারোহ। এ ফুলের নয়নাভিরাম সৌন্দর্য প্রকৃতিকে প্রাণবন্ত করে তুলেছে। প্রকৃতির এমন অপরূপ সৌন্দর্যে মুগ্ধ হচ্ছেন শিক্ষার্থী, পথচারী, প্রকৃতিপ্রেমী ও স্থানীয়রা। সরেজমিনে উপজেলার বিভিন্ন এলাকা ঘুরে দেখা গেছে, বিভিন্ন সড়কের পাশে, বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের পাশে, জলাশয়ের পাড়ে দাঁড়িয়ে থাকা বিশালাকৃতির মেঘশিরীষ গাছজুড়ে ফুটে আছে চোখজুড়ানো ফুল। এসব ফুলের নৈসর্গিক সৌন্দর্য উপভোগ করছেন সব বয়সী মানুষ। এই ফুলের সৌন্দর্যে প্রকৃতিও যেন সেজেছে অপরূপ সাজে। কিশোরী ও তরুণীদের চুলের বেনি ও খোঁপায়ও শোভা পাচ্ছে এ ফুল। সৌন্দর্য ধরে রাখতে কেউ কেউ মোবাইল ফোনে তুলছেন এ ফুলের ছবি।  জানা গেছে, মেঘশিরীষ গাছের বৈজ্ঞানিক নাম আলবিজিয়া সামান। এটি ঝোপালো শাখাপ্রশাখা বিশিষ্ট বৃহদাকার বৃক্ষ। এ গাছের ফুলের রঙ গোলাপি ও সাদার মিশেল এবং আকৃতি গুচ্ছবদ্ধ। প্রতিটি গুচ্ছে অসংখ্য ফুল ফোটে। এ ফুলের সৌন্দর্য মূলত বিকীর্ণ পরাগ-কেশরে নিহিত। ফুলের অগ্রভাগ গোলাপি এবং নিচের অংশ সাদা। এ ফুলের মৃদু গন্ধ রয়েছে। এ গাছের নাম মেঘশিরীষ ছাড়াও বিলাতি শিরীষ, বুনো শিরীষ, রেইন ট্রি, রেইন ট্রি কড়ই, রেন্ডি কড়ই বা চটকা নামেও পরিচিত। গ্রামীণ সড়কসহ বিভিন্ন সড়কের দুই পাশে এ গাছ বেশি দেখা যায়। প্রকৃতিতে শিরীষের অনেক প্রজাতির মধ্যে মেঘশিরীষের সংখ্যাই তুলনামূলক বেশি। এই গাছের ওষুধি গুণাগুণ রয়েছে। এই গাছটি বাতাসে দূষণ কমাতে সহায়ক হওয়ায় এটি পরিবেশের জন্যও গুরুত্বপূর্ণ। স্থানীয় বাসিন্দা আবিদুর রহমান বলেন, রেন্ডি কড়ই ফুল দেখতে অনেক সুন্দর ও ব্যতিক্রমধর্মী। আমাদের সড়কের বেশকিছু জায়গায় এ গাছ রয়েছে। এসব গাছে ফুল ফুটেছে। গাছভর্তি ফুলে ফুলে প্রকৃতি যেন রঙিন হয়ে উঠেছে। বাড়ি থেকে বের হলে সহসাই চোখে পড়ে এ ফুলের সৌন্দর্য।  কলেজ শিক্ষার্থী জুবাইদা ইসলাম মীম বলেন, এ সময়টায় গোলাপি ও সাদা রঙের গুচ্ছবদ্ধ ফুলে সেজে উঠেছে ছায়াদানকারী বিশাল এ গাছ। কলেজে আসা-যাওয়ার পথে এ ফুলের সৌন্দর্য উপভোগ করি। এ ফুলগুলোকে দূর থেকে দেখলে মনে হয় যেন গাছের ডালে ডালে ভেসে আছে সাদা-গোলাপি মেঘের দল। এ ফুলের এমন মনোমুগ্ধকর দৃশ্য সববয়সী মানুষকেই আকৃষ্ট করছে।  স্থানীয় শিক্ষক নাজির আহমেদ বলেন, মেঘশিরীষ গাছ শুধু ফুলের মাধ্যমে প্রকৃতির সৌন্দর্যই বাড়ায় না, এটি পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষায়ও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। এ গাছে প্রায় সারাবছরই ফুল ফোটে, তবে এ সময়টায় গাছে গাছে বেশি ফুল ফুটতে দেখা যায়। যার ফলে এ সময়টায় এ গাছের ফুল মানুষকে আকৃষ্ট করে।  ব্রাহ্মণপাড়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের মেডিকেল অফিসার (ইউনানি) সোহেল রানা কালবেলাকে বলেন, মেঘশিরীষ গাছের বিভিন্ন অংশ ভেষজ চিকিৎসায় ব্যবহার করা হয়। তবে এ গাছের কোনো অংশই সংশ্লিষ্টদের পরামর্শ ছাড়া সরাসরি গ্রহণ করা উচিত নয়। তিনি আরও বলেন, মেঘশিরীষ গাছের ফুল ভিন্ন রকমের হওয়ায় এ ফুলের প্রতি মানুষের আকর্ষণ রয়েছে। সড়কে যাতায়াতের সময় এ ফুল চোখে পড়ে। পুরো গাছজুড়ে ফুলের সৌন্দর্য মন কেড়ে নেয়। মেঘশিরীষ গাছ পরিবেশের ভারসাম্যের জন্যও গুরুত্বপূর্ণ। 

What's Your Reaction?

like

dislike

love

funny

angry

sad

wow