অনুমোদনহীন পণ্য বিক্রি-চিকিৎসক পরিচয়ে প্রতারণার দায়ে ৩ জনের কারাদণ্ড
চুয়াডাঙ্গার আলমডাঙ্গায় অনুমোদনহীন পণ্য বিক্রি ও চিকিৎসক পরিচয়ে প্রতারণার অভিযোগে তিয়ানশি কোম্পানির দুই প্রতিনিধি ও কথিত এক ভুয়া চিকিৎসককে কারাদণ্ড দিয়েছেন ভ্রাম্যমাণ আদালত। অভিযানে তিয়ানশি কোম্পানির বিভিন্ন পণ্য ও মালামাল জব্দ করে পরে ঘটনাস্থলেই পুড়িয়ে ধ্বংস করা হয়েছে। শনিবার (১৫ আগস্ট) বিকেলে আলমডাঙ্গা পৌর এলাকার মিয়াপাড়ায় একটি ভাড়া করা ভবনে তিয়ানশি কোম্পানির কার্যক্রম চলাকালে স্থানীয়রা তিনজনকে আটক করে প্রশাসনকে খবর দেন। তাদের কার্যক্রম পরিচালনার অনুমোদন, প্রয়োজনীয় কাগজপত্র ও পণ্যের বৈধতা নিয়ে অসংগতি পাওয়ার অভিযোগে এ অভিযান চালানো হয়। খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে উপস্থিত হন আলমডাঙ্গা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট শাহিনুর আক্তার। পরে সেখানে ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করা হয়। আদালতে কথিত ভুয়া চিকিৎসক মো. হুমায়ূন কবীরকে (৪৫) চার মাসের কারাদণ্ড ও ৫ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়। একই সঙ্গে তিয়ানশি কোম্পানির প্রতিনিধি মাসুদ করিম ও আব্দুর রহমানকে দুই মাস করে কারাদণ্ড এবং ৫ হাজার টাকা করে জরিমানা করা হয়। অভিযোগের বিষয়ে মো. হুমায়ূন কবীর নিজেকে ‘অল্টারনেটিভ এমবিবিএস’ চিকিৎসক হিসেবে দাবি ক
চুয়াডাঙ্গার আলমডাঙ্গায় অনুমোদনহীন পণ্য বিক্রি ও চিকিৎসক পরিচয়ে প্রতারণার অভিযোগে তিয়ানশি কোম্পানির দুই প্রতিনিধি ও কথিত এক ভুয়া চিকিৎসককে কারাদণ্ড দিয়েছেন ভ্রাম্যমাণ আদালত। অভিযানে তিয়ানশি কোম্পানির বিভিন্ন পণ্য ও মালামাল জব্দ করে পরে ঘটনাস্থলেই পুড়িয়ে ধ্বংস করা হয়েছে।
শনিবার (১৫ আগস্ট) বিকেলে আলমডাঙ্গা পৌর এলাকার মিয়াপাড়ায় একটি ভাড়া করা ভবনে তিয়ানশি কোম্পানির কার্যক্রম চলাকালে স্থানীয়রা তিনজনকে আটক করে প্রশাসনকে খবর দেন। তাদের কার্যক্রম পরিচালনার অনুমোদন, প্রয়োজনীয় কাগজপত্র ও পণ্যের বৈধতা নিয়ে অসংগতি পাওয়ার অভিযোগে এ অভিযান চালানো হয়।
খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে উপস্থিত হন আলমডাঙ্গা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট শাহিনুর আক্তার। পরে সেখানে ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করা হয়। আদালতে কথিত ভুয়া চিকিৎসক মো. হুমায়ূন কবীরকে (৪৫) চার মাসের কারাদণ্ড ও ৫ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়। একই সঙ্গে তিয়ানশি কোম্পানির প্রতিনিধি মাসুদ করিম ও আব্দুর রহমানকে দুই মাস করে কারাদণ্ড এবং ৫ হাজার টাকা করে জরিমানা করা হয়।
অভিযোগের বিষয়ে মো. হুমায়ূন কবীর নিজেকে ‘অল্টারনেটিভ এমবিবিএস’ চিকিৎসক হিসেবে দাবি করেন। তার দাবি, সংশ্লিষ্ট সিভিল সার্জন তাকে মৌখিকভাবে চিকিৎসা দেওয়ার অনুমতি দিয়েছেন। তবে এ দাবির পক্ষে কোনো লিখিত অনুমোদন বা বৈধ কাগজপত্র ভ্রাম্যমাণ আদালতের কাছে উপস্থাপন করতে পারেননি বলে জানা গেছে।
দণ্ডপ্রাপ্ত হুমায়ূন কবীর ঝিনাইদহের মহেশপুর উপজেলার সিরাজুল ইসলামের ছেলে। তিয়ানশি কোম্পানির ‘গোল্ড স্টার’ প্রতিনিধি মাসুদ করিম কুষ্টিয়ার হরিসপুর গ্রামের মহাসিন আলীর ছেলে এবং আব্দুর রহমান আলমডাঙ্গার ডম্বলপুর গ্রামের মোজাম আলীর ছেলে।
স্থানীয়দের অভিযোগ, তিয়ানশি কোম্পানির ‘গোল্ড স্টার’ প্রতিনিধি মাসুদ করিম দীর্ঘদিন ধরে ডম্বলপুর গ্রামের আব্দুর রহমানের মাধ্যমে আলমডাঙ্গার বিভিন্ন এলাকায় চীনে তৈরি পেস্ট, কফি, ডায়াবেটিসের ওষুধ ও বিভিন্ন ধরনের ফুড সাপ্লিমেন্ট বিক্রি করে আসছিলেন। স্থানীয় কয়েকজন ব্যক্তিকে কাজে লাগিয়ে এসব পণ্যের ব্যবসা সম্প্রসারণের অভিযোগও রয়েছে।
অভিযোগ রয়েছে, গ্রামাঞ্চলের সাধারণ মানুষকে বিভিন্নভাবে প্রভাবিত করে এসব পণ্য বিক্রির পাশাপাশি কথিত চিকিৎসাসেবার নামেও অর্থ আদায় করা হতো। রোগীপ্রতি কমিশনের ভিত্তিতে বিভিন্ন এলাকায় প্রতিনিধি পাঠানোর অভিযোগও করেন স্থানীয়রা। এ কার্যক্রমে কুমারী ইউনিয়ন পরিষদের একজন নারী সদস্যকে সম্পৃক্ত করার অভিযোগও ওঠে।
এদিকে অভিযানে জব্দ করা তিয়ানশি কোম্পানির বিভিন্ন পণ্যের বিএসটিআই অনুমোদন না থাকলেও সেগুলোতে বিএসটিআইয়ের সিল ব্যবহার করে বিক্রি করা হতো বলে প্রাথমিকভাবে প্রমাণ পাওয়ার কথা জানিয়েছে প্রশাসন।
আলমডাঙ্গা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট শাহিনুর আক্তার বলেন, অনুমোদনহীনভাবে চিকিৎসাসেবা ও পণ্য বিক্রির অভিযোগে ভ্রাম্যমাণ আদালতের মাধ্যমে তিনজনকে কারাদণ্ড ও অর্থদণ্ড দেওয়া হয়েছে। একই সঙ্গে জব্দ করা পণ্য আইন অনুযায়ী ধ্বংস করা হয়েছে।
হুসাইন মালিক/কেএইচকে
What's Your Reaction?