এআই বিপ্লবের টিকি বাঁধা মধ্যপ্রাচ্যের অদৃশ্য গ্যাসে!
রসায়নে পর্যায় সারণির দ্বিতীয় মৌলের নাম হিলিয়াম। এর প্রতীক He এবং পারমাণবিক সংখ্যা ২। এটি একটি বর্ণহীন, গন্ধহীন ও স্বাদহীন নিষ্ক্রিয় গ্যাস। হাইড্রোজেনের পরে মহাবিশ্বের সবচেয়ে হালকা ও দ্বিতীয় সর্বাধিক প্রাপ্ত উপাদান। সূর্যের বর্ণালি থেকে এটি প্রথম আবিষ্কৃত হয় ১৮৬৮ সালে। তবে, এটি শুধু পার্টি বা বেলুনে ব্যবহৃত গ্যাস নয়। সেমিকন্ডাক্টর বা উন্নত চিপ উৎপাদন, উন্নত বৈজ্ঞানিক গবেষণা, মহাকাশ প্রযুক্তি এবং কোয়ান্টাম কম্পিউটিং এমনকি চিকিৎসা বিজ্ঞানের বিভিন্ন চিত্রায়নের ক্ষেত্রেও হিলিয়ামের গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রয়েছে। আর হিলিয়াম কূটনীতি এমন একটি অবস্থার নির্দেশ করছে যেখানে মধ্যপ্রাচ্যের ভূরাজনীতি কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার ভূরাজনীতির সঙ্গে মিলিত হয়েছে। আর ভবিষ্যতের পরবর্তী বড় প্রযুক্তিগত সরবরাহ সংকটের সূচনাও এখান থেকেই হতে পারে। মধ্যপ্রাচ্যকে সাধারণত হাইড্রোকার্বন অর্থনীতির ইঞ্জিনরুম হিসেবে বর্ণনা করা হয়। এই ধারণার বাইরেও এই অঞ্চলটি ডিজিটাল অবকাঠামোর সঙ্গে গভীরভাবে কিন্তু নিঃশব্দে জড়িয়ে আছে। ২০২৬ সালের ২৮ ফেব্রুয়ারি ইরানে হামলা চালায় যুক্তরাষ্ট্র। এই সংঘাত কারণে মার্চ মাসে কাতারের প্রাকৃতিক গ্যাস প্র
রসায়নে পর্যায় সারণির দ্বিতীয় মৌলের নাম হিলিয়াম। এর প্রতীক He এবং পারমাণবিক সংখ্যা ২। এটি একটি বর্ণহীন, গন্ধহীন ও স্বাদহীন নিষ্ক্রিয় গ্যাস। হাইড্রোজেনের পরে মহাবিশ্বের সবচেয়ে হালকা ও দ্বিতীয় সর্বাধিক প্রাপ্ত উপাদান। সূর্যের বর্ণালি থেকে এটি প্রথম আবিষ্কৃত হয় ১৮৬৮ সালে।
তবে, এটি শুধু পার্টি বা বেলুনে ব্যবহৃত গ্যাস নয়। সেমিকন্ডাক্টর বা উন্নত চিপ উৎপাদন, উন্নত বৈজ্ঞানিক গবেষণা, মহাকাশ প্রযুক্তি এবং কোয়ান্টাম কম্পিউটিং এমনকি চিকিৎসা বিজ্ঞানের বিভিন্ন চিত্রায়নের ক্ষেত্রেও হিলিয়ামের গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রয়েছে।
আর হিলিয়াম কূটনীতি এমন একটি অবস্থার নির্দেশ করছে যেখানে মধ্যপ্রাচ্যের ভূরাজনীতি কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার ভূরাজনীতির সঙ্গে মিলিত হয়েছে। আর ভবিষ্যতের পরবর্তী বড় প্রযুক্তিগত সরবরাহ সংকটের সূচনাও এখান থেকেই হতে পারে।
মধ্যপ্রাচ্যকে সাধারণত হাইড্রোকার্বন অর্থনীতির ইঞ্জিনরুম হিসেবে বর্ণনা করা হয়। এই ধারণার বাইরেও এই অঞ্চলটি ডিজিটাল অবকাঠামোর সঙ্গে গভীরভাবে কিন্তু নিঃশব্দে জড়িয়ে আছে। ২০২৬ সালের ২৮ ফেব্রুয়ারি ইরানে হামলা চালায় যুক্তরাষ্ট্র। এই সংঘাত কারণে মার্চ মাসে কাতারের প্রাকৃতিক গ্যাস প্রক্রিয়াজাতকরণ ব্যাহত হয়।
ফলে, আন্তর্জাতিক মনোযোগ মূলত তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস(এলএনজি) ওপর পড়ে। এতে গ্যাসের পাশাপাশি আরও হিলিয়াম খাতের রপ্তানিতে বাধার সৃষ্টি হয় যা এর আগে প্রায় লোক দৃষ্টির অন্তরালে ছিলো।
হিলিয়াম উত্তোলন এবং রপ্তানিতে বিশ্বের শীর্ষে রয়েছে কাতার। রয়টার্সের প্রকাশিত যুক্তরাষ্ট্রের ভূতাত্ত্বিক জরিপ সংস্থা (USGS)-এর তথ্য অনুযায়ী, ২০২৫ সালে বিশ্বজুড়ে প্রায় ১৯ কোটি ঘনমিটার হিলিয়াম উৎপাদিত হয়। এর মধ্যে কাতার একাই উৎপাদন করেছে প্রায় ৬ কোটি ৩০ লাখ ঘনমিটার অর্থাৎ বিশ্বের মোট উৎপাদনের প্রায় এক-তৃতীয়াংশ।
ইরান-মার্কিন যুদ্ধের কারণে কাতারে উৎপাদন বন্ধ হলে হিলিয়ামের তাৎক্ষণিক বাজারমূল্য বেড়ে যায়। এমন অবস্থায় জ্বালানি খাতের বাইরেও বিভিন্ন শিল্প খাত তাদের সরবরাহব্যবস্থা কতটা ঝুঁকির মধ্যে রয়েছে তা নতুন করে মূল্যায়ন শুরু করে।
মধ্যপ্রাচ্যে সৃষ্ট এই সংকট একটি উপেক্ষিত বাস্তবতাকে সামনে এনেছে। কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার (AI) অর্থনীতি শুধু অ্যালগরিদম, চিপ ও বিদ্যুতের ওপর নির্ভরশীল নয়; এর পেছনে রয়েছে এই হিলিয়াম গ্যাস। আর হিলিয়ামের উৎপাদন রাজনৈতিকভাবে ঝুঁকিপূর্ণ অল্প কয়েকটি অঞ্চলে কেন্দ্রীভূত হয়ে পড়েছে।
এআই কেন হিলিয়ামের ওপর নির্ভরশীল?
কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা সরাসরি হিলিয়াম ব্যবহার করে না। নির্ভরশীলতার বিষয়টি রয়েছে সরবরাহব্যবস্থার আরও ওপরের স্তরে। যেসব কারখানায় এআই ব্যবস্থার জন্য প্রয়োজনীয় অত্যাধুনিক চিপ তৈরি হয় সেখানেই এর গল্প বুনার কাজ শুরু হয়। মূলত হিলিয়ামের রাসায়নিক স্থিতিশীলতা, অত্যন্ত উচ্চ তাপ পরিবাহিতা এবং সেমিকন্ডাক্টর উৎপাদনের বিভিন্ন ধাপে এর ব্যাবহার এটিকে মূল্যবান করে তুলেছে। ওয়েফারের তাপমাত্রা নিয়ন্ত্রণ, নিষ্ক্রিয় পরিবেশ তৈরি, ভ্যাকুয়াম ব্যবস্থা পরিচালনা, গ্যাস লিক শনাক্ত করা এবং অত্যন্ত সূক্ষ্ম ও নির্ভুল উৎপাদন প্রক্রিয়ায় বিশুদ্ধ হিলিয়াম ব্যবহৃত হয়।
সেমিকন্ডাক্টর ইন্ডাস্ট্রি অ্যাসোসিয়েশন (SIA) সতর্ক করে জানিয়েছে, এসব কাজে ব্যবহার উপযোগী এবং সহজসাধ্য এমন কার্যকর বিকল্প আর নেই। এমনকি কয়েক দিনের স্থায়ী সাপ্লাই বাধা পুরো উৎপাদন ব্যবস্থাকে ধীর করে দিতে পারে। আর দীর্ঘমেয়াদি সংকট দেখা দিলে একটি সেমিকন্ডাক্টর কারখানা পুরোপুরি বন্ধ করতেও বাধ্য হতে পারে।এআই হার্ডওয়্যারের চাহিদা দ্রুত বাড়তে থাকায় এই ঝুঁকি আরও গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠছে।
আন্তর্জাতিক জ্বালানি সংস্থা (IEA) জানিয়েছে, ২০২৫ সালে এআই-কেন্দ্রিক ডেটা সেন্টারগুলোর বিদ্যুৎ ব্যবহার ৫০ শতাংশ বেড়েছে। সংস্থাটি ধারণা করছে, ২০২৫ থেকে ২০৩০ সালের মধ্যে এই বিদ্যুৎ ব্যবহার তিনগুণ হতে পারে।
কেন্দ্রীভূত একটি বাজার
হিলিয়ামকে সাধারণ কোনো পণ্যের মতো বিবেচনা করা যায় না। সাধারণত হিলিয়াম আলাদাভাবে উৎপাদন করা হয় না; এটি প্রাকৃতিক গ্যাস উৎপাদনের একটি উপজাত হিসেবে সংগ্রহ করা হয়।
ফলে বাজারে দাম বেড়ে গেলেও রাতারাতি নতুন উৎপাদন সক্ষমতা তৈরি করা সম্ভব নয়। কোনো বড় সরবরাহকারী উৎপাদন বন্ধ করলে কিংবা চাহিদা হঠাৎ বেড়ে গেলে নতুন সরবরাহ দ্রুত বাজারে আনা কঠিন।
বিশ্বের হিলিয়াম উৎপাদনও ভৌগোলিকভাবে অত্যন্ত কেন্দ্রীভূত। যুক্তরাষ্ট্র ও কাতার বৈশ্বিক উৎপাদনে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ অবস্থানে রয়েছে। এদের পাশাপাশি আলজেরিয়া ও রাশিয়া গুরুত্বপূর্ণ সরবরাহকারী।
USGS-এর এক পূর্বাভাস অনুযায়ী, ২০২৯ সাল পর্যন্ত বিশ্বে হিলিয়াম উৎপাদন সক্ষমতা মোটামুটি স্থিতিশীল থাকতে পারে। অন্যদিকে সেমিকন্ডাক্টর উৎপাদন, স্বাস্থ্যসেবা এবং নতুন প্রযুক্তি খাতে হিলিয়ামের চাহিদা বাড়তে থাকবে। সংরক্ষণ ও পরিবহন ব্যবস্থাও এই সরবরাহব্যবস্থাকে আরও ঝুঁকিপূর্ণ করে তুলেছে।
তরল হিলিয়ামকে অত্যন্ত কম তাপমাত্রায় সংরক্ষণ করতে হয় এবং বিশেষায়িত কনটেইনারে পরিবহন করতে হয়। পরিবহনের সময় এর একটি অংশ ধীরে ধীরে বাষ্পীভূতও হয়ে যায়।
কোনো সরবরাহকারী দেশ উৎপাদন বন্ধ করলে বিকল্প হিলিয়াম হয়ত অন্য কোথাও পাওয়া যেতে পারে। কিন্তু সেটি সঠিক জায়গায়, প্রয়োজনীয় বিশুদ্ধতায় এবং নির্ধারিত সীমিত সময়ের মধ্যে পৌঁছাবে-এমন নিশ্চয়তা নেই। এটাই এমন একটি কৌশলগত সংকট যা সবার চোখের সামনে থাকলেও দীর্ঘদিন উপেক্ষিত হয়েছে।
কাতারের উপেক্ষিত কৌশলগত সম্পদ
কাতারকে সাধারণত এলএনজির ভূরাজনীতির দৃষ্টিকোণ থেকে দেখা হয়। দেশটির নর্থ ফিল্ডের বিশাল গ্যাস মজুত, দীর্ঘমেয়াদি চুক্তি এবং এশিয়া ও ইউরোপের ক্রেতাদের সঙ্গে সম্পর্ক দোহাকে বৈশ্বিক গ্যাস কূটনীতির কেন্দ্রে নিয়ে এসেছে।
সেমিকন্ডাক্টর সরবরাহব্যবস্থায় হিলিয়াম সরবরাহের মাধ্যমে কাতার পূর্ব এশিয়ার এমন সব উৎপাদনব্যবস্থাকে সহায়তা করছে যেগুলো যুক্তরাষ্ট্র, ইউরোপ ও চীনের এআই, প্রতিরক্ষা এবং ডিজিটাল-শিল্প কৌশলের সঙ্গে গভীরভাবে যুক্ত।
অর্থাৎ উপসাগরীয় অঞ্চলে প্রাকৃতিক গ্যাসের সঙ্গে উপজাত হিসেবে উত্তোলিত একটি গ্যাস হাজার হাজার কিলোমিটার দূরের সেমিকন্ডাক্টর কারখানার উৎপাদনকে প্রভাবিত করতে পারে। এর জন্য কাতারের পক্ষ থেকে কোনো ইচ্ছাকৃত চাপ প্রয়োগের প্রয়োজন নেই। নির্ভরশীলতা নিজে থেকেই কূটনৈতিক প্রভাব তৈরি করতে পারে।
সরবরাহের স্থিতিশীলতা যখন বিশ্বের বড় শক্তিগুলোর কৌশলগত হিসাবের অংশ হয়ে ওঠে তখন নির্ভরযোগ্যতা, ধারাবাহিকতা এবং দীর্ঘমেয়াদি চুক্তিই প্রভাব বিস্তারের হাতিয়ার হয়ে উঠতে পারে। এমনকি কোনো রাজনৈতিক শর্ত আরোপ না করেও তা বড় ধরণের কূটনৈতিক প্রভাব বিস্তারত করে।।
ফলে, হিলিয়াম কাতারের কৌশলগত গুরুত্ব আরও বাড়িয়ে দিয়েছে। এখন দেশটির সঙ্গে সংশ্লিষ্ট পক্ষ শুধু গ্যাস ক্রেতা ও জ্বালানি মন্ত্রণালয় নয়; এর মধ্যে রয়েছে চিপ উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠান, হাসপাতাল, গবেষণা প্রতিষ্ঠান এবং প্রযুক্তিগত সক্ষমতা ও সরবরাহব্যবস্থার স্থিতিস্থাপকতা নিশ্চিত করতে চাওয়া বিভিন্ন দেশের সরকারও।
মধ্যপ্রাচ্যের ভূরাজনীতির জন্য বিষয়টি গুরুত্বপূর্ণ কারণ এটি অঞ্চলটির কৌশলগত গুরুত্বকে শুধু হাইড্রোকার্বনের মধ্যে সীমাবদ্ধ রাখে না। উপসাগরীয় অঞ্চল শুধু বৈশ্বিক অর্থনীতিকে জ্বালানি সরবরাহ করছে না; একই সঙ্গে এটি এআই যুগের বস্তুগত অবকাঠামোর সঙ্গেও গভীরভাবে যুক্ত হয়ে পড়ছে।
জ্বালানি নিরাপত্তা থেকে সরবরাহব্যবস্থা নিরাপত্তা
সরকারগুলো বহু বছর ধরে কৌশলগত তেল মজুত গড়ে তুলেছে, এলএনজি টার্মিনাল বৈচিত্র্যময় করেছে এবং নিজেদের দেশে সেমিকন্ডাক্টর উৎপাদন বাড়াতে বিপুল অর্থ বিনিয়োগ করেছে। কিন্তু হিলিয়াম সাধারণত একই মাত্রার কূটনৈতিক মনোযোগ পায়নি। বর্তমান বাস্তবতায় দেশগুলো হিলিয়ামের উৎপাদন ও সরবরাহে কূটনৈতিক তৎপরতা বাড়াচ্ছে।
একটি দেশ সেমিকন্ডাক্টর কারখানা ও ডেটা সেন্টারে বিলিয়ন বিলিয়ন ডলার বিনিয়োগ করতে পারে। কিন্তু শেষ পর্যন্ত দেখা যেতে পারে, সেই উৎপাদনব্যবস্থা এমন একটি আমদানি করা গ্যাসের ওপর নির্ভরশীল যার নিজস্ব মজুত সীমিত এবং যার বিকল্প সরবরাহকারীও খুব বেশি নেই।
অর্থাৎ শুধু ডেটা সেন্টার সুরক্ষিত করলেই প্রযুক্তিগত স্থিতিস্থাপকতা নিশ্চিত হয় না। এর পেছনের শিল্প-উপকরণ ও কাঁচামালের সরবরাহব্যবস্থা নিরাপদ না হলে সেই নিরাপত্তা অনেকাংশেই একটি মিথ্যা নিরাপত্তাবোধ তৈরি করতে পারে।
এই পরিস্থিতি মোকাবিলায় অন্তত তিনটি পদক্ষেপ প্রয়োজন।
প্রথমত, সরকার এবং বড় শিল্পপ্রতিষ্ঠানগুলোর হিলিয়াম মজুত, আমদানির ওপর নির্ভরতা এবং জরুরি পরিস্থিতিতে বিকল্প সরবরাহ পরিকল্পনা সম্পর্কে আরও স্বচ্ছ তথ্য থাকা প্রয়োজন।
দ্বিতীয়ত, সেমিকন্ডাক্টর উৎপাদকদেরকে হিলিয়ামের প্রযুক্তিগতভাবে সম্ভাব্য পুনর্ব্যবহার ও পুনরুদ্ধারের ব্যবস্থা আরও বাড়াতে হবে।
তৃতীয়ত, পরবর্তী সংকট আসার আগেই উৎপাদক ও ভোক্তা দেশগুলোর মধ্যে জরুরি পরিস্থিতিতে পরামর্শ ও সমন্বয়ের ব্যবস্থা গড়ে তুলতে হবে। এর মধ্যে হাসপাতাল, সেমিকন্ডাক্টর কারখানা এবং বৈজ্ঞানিক গবেষণা প্রতিষ্ঠানগুলোর জন্য সরবরাহের অগ্রাধিকার নির্ধারণও থাকতে হবে।
তবে এসব ব্যবস্থা যেন সহযোগিতার পরিবর্তে নতুন প্রযুক্তিগত বিভাজন তৈরি না করে সেটিও নিশ্চিত করা জরুরি। রাজনৈতিক উদ্দেশ্যে সরবরাহ বণ্টন এবং ব্যাপক রপ্তানি নিয়ন্ত্রণ সরবরাহব্যবস্থাকে আরও খণ্ডিত করতে পারে।
অ্যালগরিদমের পেছনে গ্যাস
এআই প্রতিযোগিতাকে সাধারণত ডেটা, কম্পিউটিং ক্ষমতা এবং অত্যাধুনিক চিপের প্রতিযোগিতা হিসেবে বর্ণনা করা হয়। কিন্তু এই বর্ণনা সরবরাহব্যবস্থার অনেক পরে গিয়ে শুরু হয়। একটি চিপ ডেটা সেন্টারে পৌঁছানোর আগেই এর উৎপাদনের জন্য প্রয়োজন হয় বিদ্যুৎ, বিভিন্ন খনিজ, বিশেষায়িত যন্ত্রপাতি, অতি বিশুদ্ধ রাসায়নিক পদার্থ—এবং হিলিয়াম।
কাতারের ঘটনাটি এই অর্থে সতর্কবার্তা। এর মানে এই নয় যে, কোনো একটি স্থানে সরবরাহ বন্ধ হলেই বৈশ্বিক এআই শিল্প স্বয়ংক্রিয়ভাবে থেমে যাবে। চিপ উৎপাদকদের হাতে মজুত থাকে, তারা হিলিয়াম পুনর্ব্যবহার করতে পারে এবং বিভিন্ন সরবরাহকারীর ওপর নির্ভরতা ছড়িয়ে দিতে পারে।
তবে গভীরতর সতর্কবার্তাটি হলো-একটি কৌশলগত স্থানে দীর্ঘস্থায়ী সরবরাহ বিঘ্ন মধ্যপ্রাচ্যের একটি জ্বালানি স্থাপনা থেকে চাপকে হাজার হাজার কিলোমিটার দূরের ডিজিটাল অর্থনীতির কেন্দ্রস্থলে পৌঁছে দিতে পারে।
বিংশ শতাব্দীতে সরকারগুলো শিখেছিল, তেল শিল্পোন্নত অর্থনীতির ভাগ্য নির্ধারণ করতে পারে। একবিংশ শতাব্দীতে সেই ক্ষমতা হয়ত আরও ছোট, নীরব এবং কম দৃশ্যমান কিছু সম্পদের মধ্যেও নিহিত থাকবে।
কেএম
What's Your Reaction?