চট্টগ্রাম বোর্ডে এসএসসির ফলাফলে বড় ধস

চলতি বছরের মাধ্যমিক স্কুল সার্টিফিকেট (এসএসসি) পরীক্ষায় চট্টগ্রাম শিক্ষা বোর্ডে ফলাফলে বড় ধরনের অবনতি হয়েছে। গত বছরের তুলনায় এবার পাসের হার কমেছে ১৩ দশমিক ২২ শতাংশ। একই সঙ্গে জিপিএ-৫ পাওয়া শিক্ষার্থীর সংখ্যাও কমেছে ২ হাজারের বেশি।  এবার বোর্ডে পাসের হার ৫৯ দশমিক ৪৮ শতাংশ এবং জিপিএ-৫ পেয়েছে ৯ হাজার ৬৯৮ জন। গত বছর পাসের হার ছিল ৭২ দশমিক ৭ শতাংশ এবং জিপিএ-৫ পেয়েছিল ১১ হাজার ৮৪৩ জন। সোমবার (১০ আগস্ট) সকাল ১০টায় চট্টগ্রাম শিক্ষা বোর্ড মিলনায়তনে ফলাফলের বিভিন্ন দিক তুলে ধরেন পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক পারভেজ সাজ্জাদ চৌধুরী। চট্টগ্রাম শিক্ষা বোর্ডের অধীনে চট্টগ্রাম ছাড়াও কক্সবাজার, রাঙামাটি, বান্দরবান ও খাগড়াছড়ি জেলার শিক্ষার্থীরা এসএসসি পরীক্ষায় অংশ নেয়। এবার মোট পরীক্ষার্থী ছিল ১ লাখ ৩০ হাজার ৬৮২ জন। এর মধ্যে পরীক্ষায় উপস্থিত ছিল ১ লাখ ৩০ হাজার ২১৯ জন। পাস করেছে ৭৭ হাজার ৪৫৩ জন। মহানগরেও কমেছে পাসের হার ফলাফল বিশ্লেষণে দেখা গেছে, চট্টগ্রাম মহানগরে এবার পাসের হার ৭৪ শতাংশ। গত বছর এ হার ছিল ৮১ দশমিক ০৩ শতাংশ। অর্থাৎ মহানগরেও পাসের হার কমেছে ৭ দশমিক ০৩ শতাংশীয় পয়েন্ট। মহানগরের বাইরে চট্টগ্রাম জেল

চট্টগ্রাম বোর্ডে এসএসসির ফলাফলে বড় ধস
চলতি বছরের মাধ্যমিক স্কুল সার্টিফিকেট (এসএসসি) পরীক্ষায় চট্টগ্রাম শিক্ষা বোর্ডে ফলাফলে বড় ধরনের অবনতি হয়েছে। গত বছরের তুলনায় এবার পাসের হার কমেছে ১৩ দশমিক ২২ শতাংশ। একই সঙ্গে জিপিএ-৫ পাওয়া শিক্ষার্থীর সংখ্যাও কমেছে ২ হাজারের বেশি।  এবার বোর্ডে পাসের হার ৫৯ দশমিক ৪৮ শতাংশ এবং জিপিএ-৫ পেয়েছে ৯ হাজার ৬৯৮ জন। গত বছর পাসের হার ছিল ৭২ দশমিক ৭ শতাংশ এবং জিপিএ-৫ পেয়েছিল ১১ হাজার ৮৪৩ জন। সোমবার (১০ আগস্ট) সকাল ১০টায় চট্টগ্রাম শিক্ষা বোর্ড মিলনায়তনে ফলাফলের বিভিন্ন দিক তুলে ধরেন পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক পারভেজ সাজ্জাদ চৌধুরী। চট্টগ্রাম শিক্ষা বোর্ডের অধীনে চট্টগ্রাম ছাড়াও কক্সবাজার, রাঙামাটি, বান্দরবান ও খাগড়াছড়ি জেলার শিক্ষার্থীরা এসএসসি পরীক্ষায় অংশ নেয়। এবার মোট পরীক্ষার্থী ছিল ১ লাখ ৩০ হাজার ৬৮২ জন। এর মধ্যে পরীক্ষায় উপস্থিত ছিল ১ লাখ ৩০ হাজার ২১৯ জন। পাস করেছে ৭৭ হাজার ৪৫৩ জন। মহানগরেও কমেছে পাসের হার ফলাফল বিশ্লেষণে দেখা গেছে, চট্টগ্রাম মহানগরে এবার পাসের হার ৭৪ শতাংশ। গত বছর এ হার ছিল ৮১ দশমিক ০৩ শতাংশ। অর্থাৎ মহানগরেও পাসের হার কমেছে ৭ দশমিক ০৩ শতাংশীয় পয়েন্ট। মহানগরের বাইরে চট্টগ্রাম জেলায় ফলাফলের অবনতি আরও স্পষ্ট। এবার এ অঞ্চলে পাসের হার ৫৭ দশমিক ১৩ শতাংশ, যা গত বছর ছিল ৭১ দশমিক ২৯ শতাংশ। এক বছরে পাসের হার কমেছে ১৪ দশমিক ১৬ শতাংশীয় পয়েন্ট। চার জেলাতেও বড় পতন চট্টগ্রামের বাইরে বোর্ডের অধীন চার জেলাতেও এবার পাসের হার উল্লেখযোগ্যভাবে কমেছে। কক্সবাজারে এবার পাসের হার ৫৭ দশমিক ৩০ শতাংশ, গত বছর ছিল ৭০ দশমিক ৭৬ শতাংশ। রাঙামাটিতে এবার ৪১ দশমিক ১৭ শতাংশ, গত বছর ছিল ৫৬ দশমিক ৫৫ শতাংশ। খাগড়াছড়িতে এবার পাসের হার মাত্র ৩৪ দশমিক ৯৯ শতাংশ, যেখানে গত বছর ছিল ৬০ দশমিক ৭৭ শতাংশ। আর বান্দরবানে এবার পাসের হার ৪৭ দশমিক ৮৮ শতাংশ, গত বছর ছিল ৬৩ দশমিক ১২ শতাংশ। এই হিসাবে সবচেয়ে বড় পতন হয়েছে খাগড়াছড়িতে। এক বছরের ব্যবধানে সেখানে পাসের হার কমেছে ২৫ দশমিক ৭৮ শতাংশীয় পয়েন্ট। রাঙামাটিতে কমেছে ১৫ দশমিক ৩৮ এবং বান্দরবানে ১৫ দশমিক ২৪ শতাংশীয় পয়েন্ট। বিজ্ঞান বিভাগে ভালো, মানবিকে দুর্বল ফল বিভাগভিত্তিক ফলাফলেও বড় ধরনের পার্থক্য দেখা গেছে। বিজ্ঞান বিভাগে পাসের হার ৮৪ দশমিক ৪১ শতাংশ। ব্যবসায় শিক্ষা বিভাগে পাস করেছে ৬০ দশমিক ১২ শতাংশ শিক্ষার্থী। তবে মানবিক বিভাগে ফলাফল তুলনামূলকভাবে অনেক দুর্বল- এ বিভাগে পাসের হার মাত্র ৩৮ দশমিক ৭৯ শতাংশ। শতভাগ পাসের বিদ্যালয় কমেছে, বেড়েছে শূন্য পাস বিদ্যালয়ভিত্তিক ফলাফলও এবার উদ্বেগজনক চিত্র তুলে ধরেছে। শতভাগ শিক্ষার্থী পাস করেছে এমন বিদ্যালয়ের সংখ্যা গত বছরের তুলনায় উল্লেখযোগ্যভাবে কমেছে। এবার ২১টি বিদ্যালয়ের শতভাগ শিক্ষার্থী পাস করেছে। গত বছর এ সংখ্যা ছিল ৩৩টি। অন্যদিকে কোনো শিক্ষার্থী পাস করেনি- এমন বিদ্যালয়ের সংখ্যা বেড়েছে ব্যাপকভাবে। এবার আটটি বিদ্যালয়ের কোনো শিক্ষার্থী পাস করতে পারেনি। গত বছর এমন বিদ্যালয় ছিল মাত্র একটি। ছাত্রদের চেয়ে ছাত্রীদের ফল ভালো লিঙ্গভিত্তিক ফলাফলেও ছাত্রীদের এগিয়ে থাকার প্রবণতা অব্যাহত রয়েছে। এবার ছাত্রদের পাসের হার ৫৮ দশমিক ৭৬ শতাংশ। বিপরীতে ছাত্রীদের পাসের হার ৬০ দশমিক ০৩ শতাংশ। অর্থাৎ ছাত্রদের তুলনায় ছাত্রীদের পাসের হার ১ দশমিক ২৭ শতাংশীয় পয়েন্ট বেশি। নির্ধারিত সময়ের প্রায় তিন সপ্তাহ পর ফল চলতি বছরের এসএসসি ও সমমানের পরীক্ষা শুরু হয় ২১ এপ্রিল। সাধারণ শিক্ষা বোর্ডগুলোর লিখিত পরীক্ষা শেষ হয় ২০ মে। প্রচলিত নিয়ম অনুযায়ী, লিখিত পরীক্ষা শেষ হওয়ার ৬০ দিনের মধ্যে এসএসসি ও সমমানের ফল প্রকাশের কথা। সে হিসাবে গত ২০ জুলাইয়ের মধ্যে ফল প্রকাশ হওয়ার কথা ছিল। তবে নির্ধারিত সময়ের প্রায় তিন সপ্তাহ পর আজ ১০ আগস্ট ফল প্রকাশ করা হলো। চট্টগ্রাম শিক্ষা বোর্ডের এবারের ফলাফল বিশ্লেষণে দেখা গেছে, শুধু সামগ্রিক পাসের হারই নয়, মহানগর থেকে প্রত্যন্ত জেলা, বিভিন্ন বিভাগ এবং বিদ্যালয়ভিত্তিক ফলাফলেও গত বছরের তুলনায় অবনতি হয়েছে। বিশেষ করে খাগড়াছড়ি, রাঙামাটি ও বান্দরবানের মতো পার্বত্য জেলাগুলো এবং মানবিক বিভাগের ফলাফল পরিস্থিতির একটি বড় দুর্বল দিক হিসেবে সামনে এসেছে। একই সঙ্গে শূন্য পাসের বিদ্যালয়ের সংখ্যা এক থেকে আটে বেড়ে যাওয়ায় শিক্ষার মান ও বিদ্যালয়ভিত্তিক ফলাফল নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন তৈরি হয়েছে।

What's Your Reaction?

like

dislike

love

funny

angry

sad

wow