‘অপারেশন সার্চলাইট’ অনুমোদন

তৎকালীন প্রেসিডেন্ট ইয়াহিয়া খান ঢাকায় সেনানিবাসে এক জরুরি বৈঠক করেন, যেখানে সামরিক উপদেষ্টা জেনারেল হামিদ খান, পূর্ব পাকিস্তানের সামরিক প্রশাসক টিক্কা খান, এবং অন্যান্য উচ্চপদস্থ সেনা কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন। বৈঠকে সামরিক প্রস্তুতি পর্যালোচনা করা হয় এবং শেখ মুজিবুর রহমানের সঙ্গে আলোচনায় ব্যর্থতার পর ‘অপারেশন সার্চলাইট’ অনুমোদন করা হয়।  মার্চের দ্বিতীয় সপ্তাহ থেকে ঢাকায় প্রতিদিন ৬ থেকে ১৭টি পিআইএ ফ্লাইটে সৈন্য ও রসদ আসে। চট্টগ্রাম বন্দরে জাহাজেও সৈন্য ও অস্ত্রশস্ত্র নোঙর করে। অসহযোগ আন্দোলনের শুরুতে বাংলাদেশে পাকিস্তানি স্থলবাহিনীর সংখ্যা এক ডিভিশন ছিল, ২০ মার্চ পর্যন্ত তা দুই ডিভিশনের বেশি হয়। শিক্ষার্থী সংগঠন ছাত্র সংগ্রাম পরিষদ পশ্চিম পাকিস্তান থেকে সামরিক বাহিনী ও অস্ত্র সরবরাহ বন্ধের জন্য প্রতিবেশী দেশগুলোর প্রতি আহ্বান জানায়। এদিন সকালে রমনার প্রেসিডেন্ট ভবনে শেখ মুজিবুর রহমান এবং প্রেসিডেন্ট ইয়াহিয়ার চতুর্থ দফা বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। বৈঠকে শেখ মুজিবুর রহমানের সঙ্গে ছিলেন তার ছয় শীর্ষ সহযোগী- সৈয়দ নজরুল ইসলাম, তাজউদ্দীন আহমদ, এ এইচ এম কামরুজ্জামান, এম মনসুর আলী, খন্দকার মোশতাক আহ

‘অপারেশন সার্চলাইট’ অনুমোদন

তৎকালীন প্রেসিডেন্ট ইয়াহিয়া খান ঢাকায় সেনানিবাসে এক জরুরি বৈঠক করেন, যেখানে সামরিক উপদেষ্টা জেনারেল হামিদ খান, পূর্ব পাকিস্তানের সামরিক প্রশাসক টিক্কা খান, এবং অন্যান্য উচ্চপদস্থ সেনা কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন। বৈঠকে সামরিক প্রস্তুতি পর্যালোচনা করা হয় এবং শেখ মুজিবুর রহমানের সঙ্গে আলোচনায় ব্যর্থতার পর ‘অপারেশন সার্চলাইট’ অনুমোদন করা হয়। 

মার্চের দ্বিতীয় সপ্তাহ থেকে ঢাকায় প্রতিদিন ৬ থেকে ১৭টি পিআইএ ফ্লাইটে সৈন্য ও রসদ আসে। চট্টগ্রাম বন্দরে জাহাজেও সৈন্য ও অস্ত্রশস্ত্র নোঙর করে। অসহযোগ আন্দোলনের শুরুতে বাংলাদেশে পাকিস্তানি স্থলবাহিনীর সংখ্যা এক ডিভিশন ছিল, ২০ মার্চ পর্যন্ত তা দুই ডিভিশনের বেশি হয়।

শিক্ষার্থী সংগঠন ছাত্র সংগ্রাম পরিষদ পশ্চিম পাকিস্তান থেকে সামরিক বাহিনী ও অস্ত্র সরবরাহ বন্ধের জন্য প্রতিবেশী দেশগুলোর প্রতি আহ্বান জানায়।

এদিন সকালে রমনার প্রেসিডেন্ট ভবনে শেখ মুজিবুর রহমান এবং প্রেসিডেন্ট ইয়াহিয়ার চতুর্থ দফা বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। বৈঠকে শেখ মুজিবুর রহমানের সঙ্গে ছিলেন তার ছয় শীর্ষ সহযোগী- সৈয়দ নজরুল ইসলাম, তাজউদ্দীন আহমদ, এ এইচ এম কামরুজ্জামান, এম মনসুর আলী, খন্দকার মোশতাক আহমদ ও কামাল হোসেন। সোয়া দুই ঘণ্টার বৈঠক শেষে শেখ মুজিবুর রহমান জানান, আলোচনা কিছু অগ্রগতি দেখিয়েছে।

রাতে দেওয়া এক বিবৃতিতে তিনি বলেন, ‘মুক্তি অর্জিত না হওয়া পর্যন্ত সংগ্রাম চলবে। বাংলাদেশ আজ বিশ্ব দরবারে এক অনুপ্রেরণাদায়ী দৃষ্টান্ত।’ অসহযোগ আন্দোলনের ১৯তম দিনেও ঢাকায় বাঙালিদের পদচারণা উদ্বুদ্ধ ছিল। কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে সাবেক নৌসেনারা সমাবেশ করে মুক্তি সংগ্রামের প্রতি সংহতি প্রকাশ করেন এবং সশস্ত্র বাহিনীর সাবেক বাঙালি সৈনিকদের আহ্বান জানানো হয়।

এদিন একের পর এক শোভাযাত্রা ধানমন্ডি ৩২ নম্বরে শেখ মুজিবুর রহমানের বাসভবনে যায়। জনসম্মুখে শেখ মুজিবুর রহমান বলেন, ‘মুক্তিপাগল সাড়ে সাত কোটি বাঙালির চূড়ান্ত বিজয়কে পৃথিবীর কোনো শক্তিই রুখতে পারবে না।’

একই সময়ে, করাচির পিপিপি নেতা জুলফিকার আলী ভুট্টো জানান, তিনি প্রেসিডেন্টের আমন্ত্রণে সন্তোষজনক জবাব পেয়ে ঢাকা যাচ্ছেন। সুপ্রিম কোর্টের প্রখ্যাত আইনজীবী ও আগরতলা ষড়যন্ত্র মামলার অন্যতম কৌঁসুলি এ কে ব্রোহি করাচি থেকে ঢাকায় আসেন।

তথ্যসূত্র: রবীন্দ্রনাথ ত্রিবেদীর ‘৭১ এর দশমাস’, বাংলাদেশ মুক্তিযুদ্ধ জাদুঘর ও ১৯৭১ সালে প্রকাশিত সংবাদপত্র

এমএএস/জেএইচ

What's Your Reaction?

like

dislike

love

funny

angry

sad

wow