অবিশ্বাস্য জয়ের পরও কেন রেগে গিয়েছিলেন মেসি?
বিশ্বকাপের শেষ ষোলোয় মিশরের বিপক্ষে নাটকীয় ও অবিশ্বাস্য জয়ের পরও আর্জেন্টাইন অধিনায়ক লিওনেল মেসির মুখে হাসি ছিল না। দল ২-০ গোলে পিছিয়ে থেকে দুর্দান্ত প্রত্যাবর্তনে ৩-২ ব্যবধানে জয় পেয়েছে, কোয়ার্টার ফাইনাল নিশ্চিত করেছে আর্জেন্টিনা। তবুও নিজের পারফরম্যান্স নিয়ে গভীর হতাশ ছিলেন আর্জেন্টাইন অধিনায়ক। বিশেষ করে গুরুত্বপূর্ণ সময়ে পেনাল্টি মিস করার কারণে নিজের ওপরই প্রচণ্ড ক্ষুব্ধ ছিলেন তিনি। আটলান্টায় অনুষ্ঠিত ম্যাচে শুরুটা ভালো হয়নি বর্তমান বিশ্বচ্যাম্পিয়নদের। ১৫ মিনিটে ইয়াসির ইব্রাহিমের গোলে এগিয়ে যায় মিশর। পিছিয়ে পড়ার পর দ্রুত সমতায় ফেরার সুযোগ আসে আর্জেন্টিনার সামনে। ২১ মিনিটে পেনাল্টি পায় তারা। দায়িত্ব নেন মেসি। কিন্তু তার নেওয়া স্পটকিক ডানদিকে ঝাঁপিয়ে দুর্দান্তভাবে ঠেকিয়ে দেন মিশরের গোলরক্ষক মোস্তফা শোবেইর। পেনাল্টি মিসের পর মাঠেই হতাশা প্রকাশ করেন মেসি। ম্যাচ শেষে নিজের অনুভূতি জানাতে গিয়ে আর্জেন্টাইন তারকা বলেন, পেনাল্টি থেকে গোল করতে না পারায় তিনি খুবই রাগান্বিত ও হতাশ ছিলেন। মেসি বলেন, ‘পেনাল্টি মিস করার কারণে আমি নিজের ওপর খুবই রাগান্বিত ছিলাম, খুব হতাশ ছিলাম। ওই মুহূর্তে যদি গ
বিশ্বকাপের শেষ ষোলোয় মিশরের বিপক্ষে নাটকীয় ও অবিশ্বাস্য জয়ের পরও আর্জেন্টাইন অধিনায়ক লিওনেল মেসির মুখে হাসি ছিল না। দল ২-০ গোলে পিছিয়ে থেকে দুর্দান্ত প্রত্যাবর্তনে ৩-২ ব্যবধানে জয় পেয়েছে, কোয়ার্টার ফাইনাল নিশ্চিত করেছে আর্জেন্টিনা। তবুও নিজের পারফরম্যান্স নিয়ে গভীর হতাশ ছিলেন আর্জেন্টাইন অধিনায়ক। বিশেষ করে গুরুত্বপূর্ণ সময়ে পেনাল্টি মিস করার কারণে নিজের ওপরই প্রচণ্ড ক্ষুব্ধ ছিলেন তিনি।
আটলান্টায় অনুষ্ঠিত ম্যাচে শুরুটা ভালো হয়নি বর্তমান বিশ্বচ্যাম্পিয়নদের। ১৫ মিনিটে ইয়াসির ইব্রাহিমের গোলে এগিয়ে যায় মিশর। পিছিয়ে পড়ার পর দ্রুত সমতায় ফেরার সুযোগ আসে আর্জেন্টিনার সামনে। ২১ মিনিটে পেনাল্টি পায় তারা। দায়িত্ব নেন মেসি। কিন্তু তার নেওয়া স্পটকিক ডানদিকে ঝাঁপিয়ে দুর্দান্তভাবে ঠেকিয়ে দেন মিশরের গোলরক্ষক মোস্তফা শোবেইর।
পেনাল্টি মিসের পর মাঠেই হতাশা প্রকাশ করেন মেসি। ম্যাচ শেষে নিজের অনুভূতি জানাতে গিয়ে আর্জেন্টাইন তারকা বলেন, পেনাল্টি থেকে গোল করতে না পারায় তিনি খুবই রাগান্বিত ও হতাশ ছিলেন।
মেসি বলেন, ‘পেনাল্টি মিস করার কারণে আমি নিজের ওপর খুবই রাগান্বিত ছিলাম, খুব হতাশ ছিলাম। ওই মুহূর্তে যদি গোল করতে পারতাম, তাহলে ম্যাচের চিত্রই বদলে যেত।’
তবে সেই হতাশা বেশিক্ষণ স্থায়ী হয়নি। ২-০ গোলে পিছিয়ে পড়ার পর আর্জেন্টিনা ঘুরে দাঁড়ায় মেসির নেতৃত্বেই। ৭৯ মিনিটে মেসির অ্যাসিস্ট থেকে ক্রিস্তিয়ান রোমেরো গোল করে ব্যবধান কমান। এরপর ৮৩ মিনিটে দুর্দান্ত এক গোল করে নিজেই সমতা ফেরান আর্জেন্টাইন অধিনায়ক। যোগ করা সময়ে এনজো ফার্নান্দেজের গোলে ৩-২ ব্যবধানে জয় নিশ্চিত করে আর্জেন্টিনা।
এ বিষয়ে মেসি বলেন, ‘সত্যি বলতে, আমরা যেভাবে জিতেছি এবং পরের পর্বে উঠেছি, সেটাই সবচেয়ে বড় আনন্দের বিষয়। ২-০ ব্যবধানে পিছিয়ে পড়ার পর পরিস্থিতি কঠিন হয়ে গিয়েছিল। সেখান থেকে ফিরে আসতে পারাটা ছিল দারুণ রোমাঞ্চকর। আমরা আবারও অনেক কষ্ট করেছি। কিন্তু এটাই বিশ্বকাপ। এখানে সব ম্যাচই প্রায় একই রকম, সব দলই খুব কাছাকাছি মানের। আমি খুবই খুশি।’
ম্যাচ শেষে মেসি জানান, দলের জন্য গুরুত্বপূর্ণ মুহূর্তে অবদান রাখতে পারাটাই তার কাছে সবচেয়ে বড় বিষয়। তিনি বলেন, ‘আমরা ভালো খেলছিলাম। পেনাল্টির বাইরে আরও পরিষ্কার কয়েকটি সুযোগ তৈরি করেছিলাম। তাদের গোলরক্ষক অসাধারণ কিছু সেভ করেছে। শেষ পর্যন্ত সুযোগ পেয়ে আমি গোল করতে পেরেছি। যা ঘটেছিল, তার পরও এই দলকে সাহায্য করতে পারাটা আমার জন্য খুবই বিশেষ অনুভূতি।’
মিশরের বিপক্ষে এই ম্যাচে মেসি শুধু গোলই করেননি, একাধিক সুযোগ তৈরি করে দলের আক্রমণভাগকে নেতৃত্ব দিয়েছেন। যদিও পেনাল্টি মিসের কারণে বিশ্বকাপে একটি অনাকাঙ্ক্ষিত রেকর্ডেও নাম উঠেছে তার। টাইব্রেকার বাদে এক বিশ্বকাপে দুটি পেনাল্টি মিস করা প্রথম ফুটবলার হয়েছেন আর্জেন্টাইন অধিনায়ক। এর আগে গ্রুপ পর্বে অস্ট্রিয়ার বিপক্ষেও স্পটকিক থেকে গোল করতে ব্যর্থ হয়েছিলেন তিনি।
এ ছাড়া মিশরের বিপক্ষে তার নেওয়া একটি ফ্রি-কিকও পোস্টে লেগে ফিরে আসে। গোলরক্ষক শোবেইরের দুর্দান্ত পারফরম্যান্সে আরও কয়েকটি সুযোগ হাতছাড়া হয় মেসির।
তবে সবকিছুর পরও মেসির পারফরম্যান্স ছিল অনন্য। ১৯৮৬ বিশ্বকাপে দিয়েগো ম্যারাডোনার পর প্রথম ফুটবলার হিসেবে একই বিশ্বকাপ ম্যাচে গোল করা, পাঁচটির বেশি সফল ড্রিবল করা এবং ওপেন প্লে থেকে পাঁচটির বেশি গোলের সুযোগ তৈরি করার কীর্তি গড়েছেন তিনি।
মিশরের বিপক্ষে গোল করে বিশ্বকাপে নিজের গোলসংখ্যা ২১টি করেছেন মেসি। বিশ্বকাপ ইতিহাসে সর্বোচ্চ গোলদাতার তালিকায় নিজের অবস্থান আরও শক্ত করেছেন তিনি। একই সঙ্গে রোমেরোর গোলে অ্যাসিস্ট করে বিশ্বকাপে তার মোট অ্যাসিস্টের সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ৯-এ, ছাড়িয়ে গেছেন আর্জেন্টাইন কিংবদন্তি দিয়েগো ম্যারাডোনাকে।
চলতি বিশ্বকাপেও দুর্দান্ত ছন্দে আছেন মেসি। মিশরের বিপক্ষে গোলটি ছিল এবারের আসরে তার অষ্টম গোল। এর মাধ্যমে তিনি গোলদাতাদের তালিকার শীর্ষে উঠে গেছেন। একই সঙ্গে ১৯৩০ বিশ্বকাপে গিয়ের্মো স্তাবিলের করা এক বিশ্বকাপে আর্জেন্টিনার হয়ে সর্বোচ্চ ৮ গোলের রেকর্ডে ভাগ বসিয়েছেন তিনি।
দলের প্রত্যাবর্তনের প্রশংসা করে মেসি বলেন, ‘২-০ ব্যবধানে পিছিয়ে পড়ার পর ফিরে আসা সহজ ছিল না। কিন্তু এটাই এই দলের চরিত্র। আমরা কখনো হাল ছাড়ি না। শেষ মুহূর্ত পর্যন্ত লড়াই করি। আজকের জয় আমাদের গর্ব করার মতো একটি মুহূর্ত।’
এই নাটকীয় জয়ে টানা দ্বিতীয় বিশ্বকাপ শিরোপার স্বপ্ন ধরে রেখেছে আর্জেন্টিনা। লিওনেল স্কালোনির দলের সবচেয়ে বড় শক্তি হয়ে উঠেছে প্রতিকূল পরিস্থিতি থেকে ঘুরে দাঁড়ানোর মানসিকতা।
বাংলাদেশ সময় আগামী রোববার কোয়ার্টার ফাইনালে সুইজারল্যান্ডের মুখোমুখি হবে আর্জেন্টিনা। মেসির নেতৃত্বে শিরোপা ধরে রাখার অভিযান এখন আরও এক ধাপ এগিয়ে গেল।
What's Your Reaction?