অবৈধভাবে ইতালি যাত্রা: ৪৩ লাখ টাকা দিয়েও হদিস নেই যুবকের

অবৈধভাবে ইতালি যাওয়ার পথে মাদারীপুরের যুবক আলভী খান (২৫) ১৮ দিন ধরে নিখোঁজ রয়েছেন। তার সঙ্গে কোনো প্রকার যোগাযোগ করতে না পেরে ভেঙে পড়েছেন পরিবারের লোকজন। বুধবার (২২ এপ্রিল) দুপুরে নিখোঁজের বাড়িতে সংবাদ সম্মেলন করে তার পরিবার। এসময় তারা অভিযুক্ত দালালের বিচার দাবি করেন। নিখোঁজ আলভী খান মাদারীপুর সদর উপজেলার ঘটমাঝি ইউনিয়নের কুন্তিপাড়া গ্রামের এমদাদ হোসেন খানের ছেলে। অভিযুক্ত রাতুল হাওলাদার (২৮) মাদারীপুরের ডাসার উপজেলার বালিগ্রাম ইউনিয়নের ধুলগ্রামের সরোয়ার হাওলাদারের ছেলে। সংবাদ সম্মেলনে নিখোঁজের পরিবার জানায়, আলভীকে সরাসরি বিমানে করে ইতালি নেওয়ার প্রলোভন দেখান মানবপাচারকারী চক্রের সক্রিয় সদস্য রাতুল হাওলাদার। ২১ লাখ টাকায় চুক্তি হয়। এরপর ২০২৫ সালের ১৫ অক্টোবর পুরো টাকা পরিশোধ করে আলভীর পরিবার। এর ৪ দিন পর ১৯ অক্টোবর আলভীকে আকাশ পথে সৌদি আরব নিয়ে যাওয়া হয়। পরে সেখান থেকে দালালচক্র তাকে লিবিয়ায় নিয়ে বন্দি করে। যুবককে নির্যাতন করে অডিও ভয়েস পাঠিয়ে পরিবার থেকে মুক্তিপণ চাওয়া হয়। বাধ্য হয়ে আলভীর পরিবার ৪ নভেম্বর বিভিন্ন ব্যাংকের মাধ্যমে ২২ লাখ টাকা মুক্তিপণ দেন। এরপর আরও মুক্তিপণ চাওয়া হলে

অবৈধভাবে ইতালি যাত্রা: ৪৩ লাখ টাকা দিয়েও হদিস নেই যুবকের

অবৈধভাবে ইতালি যাওয়ার পথে মাদারীপুরের যুবক আলভী খান (২৫) ১৮ দিন ধরে নিখোঁজ রয়েছেন। তার সঙ্গে কোনো প্রকার যোগাযোগ করতে না পেরে ভেঙে পড়েছেন পরিবারের লোকজন।

বুধবার (২২ এপ্রিল) দুপুরে নিখোঁজের বাড়িতে সংবাদ সম্মেলন করে তার পরিবার। এসময় তারা অভিযুক্ত দালালের বিচার দাবি করেন।

নিখোঁজ আলভী খান মাদারীপুর সদর উপজেলার ঘটমাঝি ইউনিয়নের কুন্তিপাড়া গ্রামের এমদাদ হোসেন খানের ছেলে।

অভিযুক্ত রাতুল হাওলাদার (২৮) মাদারীপুরের ডাসার উপজেলার বালিগ্রাম ইউনিয়নের ধুলগ্রামের সরোয়ার হাওলাদারের ছেলে।

সংবাদ সম্মেলনে নিখোঁজের পরিবার জানায়, আলভীকে সরাসরি বিমানে করে ইতালি নেওয়ার প্রলোভন দেখান মানবপাচারকারী চক্রের সক্রিয় সদস্য রাতুল হাওলাদার। ২১ লাখ টাকায় চুক্তি হয়। এরপর ২০২৫ সালের ১৫ অক্টোবর পুরো টাকা পরিশোধ করে আলভীর পরিবার। এর ৪ দিন পর ১৯ অক্টোবর আলভীকে আকাশ পথে সৌদি আরব নিয়ে যাওয়া হয়। পরে সেখান থেকে দালালচক্র তাকে লিবিয়ায় নিয়ে বন্দি করে।

যুবককে নির্যাতন করে অডিও ভয়েস পাঠিয়ে পরিবার থেকে মুক্তিপণ চাওয়া হয়। বাধ্য হয়ে আলভীর পরিবার ৪ নভেম্বর বিভিন্ন ব্যাংকের মাধ্যমে ২২ লাখ টাকা মুক্তিপণ দেন। এরপর আরও মুক্তিপণ চাওয়া হলে অস্বীকৃতি জানায় পরিবার। এতে ক্ষিপ্ত হয়ে ৪ এপ্রিল থেকে আলভীর সঙ্গে তার পরিবারের যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন করে দেয় দালালচক্র। নিরুপায় হয়ে আলভীর বাবা বাদী হয়ে গত ১৯ এপ্রিল রাতুলসহ ৬ জনের নামে মানবপাচার আইনে মামলা করেন। পরে ছেলের সন্ধানের পাশাপাশি দোষীদের বিচার চেয়ে সংবাদ সম্মেলন করে নিখোঁজের পরিবার।

নিখোঁজের বাবা এমদাদ হোসেন খান বলেন, আমার ছেলেকে দালাল রাতুল সরাসরি ইতালি নিয়ে যাওয়ার কথা বলেছে। সেই মতে কথা হয় তার সঙ্গে। কিন্তু দালাল ইতালি না নিয়ে লিবিয়ায় বন্দি করে রাখে। আমাদের কাছ থেকে কয়েক দফায় মুক্তিপণ নেয়। এরপরও গত ১৮ দিন ধরে আমার ছেলের সঙ্গে কোনো যোগাযোগ হয়নি। ও কেমন আছে তাও জানি না। তাই আমি দালালের বিচার চাই ও আমার ছেলের সন্ধান চাই।

মাদারীপুর সদর মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আবুল কালাম আজাদ বলেন, আলভী নামে এক যুবককে লিবিয়ায় আটকে রেখে নির্যাতনের ঘটনায় মামলা হয়েছে। মামলায় মূল আসামি রাতুল হাওলাদারকে গ্রেফতার করা হয়েছে। বাকি আসামিদের ধরতে অভিযান চলছে।

আয়শা সিদ্দিকা আকাশী/এফএ/এএসএম

What's Your Reaction?

like

dislike

love

funny

angry

sad

wow