অবৈধ পশুখাদ্য মিলে অভিযানে গিয়ে তোপের মুখে ম্যাজিস্ট্রেট
নওগাঁয় অনুমোদনহীন পশুখাদ্য তৈরির কারখানায় অভিযান চালাতে গিয়ে স্থানীয় ব্যবসায়ী নেতাদের তোপের মুখে পড়েছেন ভ্রাম্যমাণ আদালতের এক নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট। তবে বৈধ কোনো কাগজপত্র দেখাতে না পারায় শেষ পর্যন্ত সংশ্লিষ্ট মিল মালিককে ১৫ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়েছে। বৃহস্পতিবার (২ এপ্রিল) বিকেলে সদর উপজেলার রজাকপুর এলাকায় ‘সাদ গুঁড়া ও চালনি মিলে’ এই অভিযান পরিচালনা করা হয়। অভিযান পরিচালনা করেন সদর উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট শেখ নওশাদ হাসান। সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে রজাকপুর এলাকার মল্লিকা ইনের পাশের ওই মিলে অভিযান চালায় ভ্রাম্যমাণ আদালত। সেখানে দেখা যায়, দুটি বিশাল গুদামে ধানের তুষ স্তূপ করে রাখা হয়েছে এবং শ্রমিকরা তা দিয়ে পশুখাদ্য তৈরি ও প্যাকেটজাত করছেন। স্থানীয়রা জানান, এই কারখানায় বাইরের কাউকে প্রবেশ করতে দেওয়া হতো না, ফলে ভেতরে কী কাজ হয় তা নিয়ে ধোঁয়াশা ছিল। এদিকে অভিযান চলাকালে নওগাঁ গুঁড়া চালনি-মালিক সমিতির উপদেষ্টা মতিউর মতিন সেখানে উপস্থিত হয়ে ভ্রাম্যমাণ আদালতের কাজে বাধা দেওয়ার চেষ্টা করেন। তিনি ম্যাজিস্ট্রেটকে জরিমানা না করার জন্য অনুরো
নওগাঁয় অনুমোদনহীন পশুখাদ্য তৈরির কারখানায় অভিযান চালাতে গিয়ে স্থানীয় ব্যবসায়ী নেতাদের তোপের মুখে পড়েছেন ভ্রাম্যমাণ আদালতের এক নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট। তবে বৈধ কোনো কাগজপত্র দেখাতে না পারায় শেষ পর্যন্ত সংশ্লিষ্ট মিল মালিককে ১৫ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়েছে।
বৃহস্পতিবার (২ এপ্রিল) বিকেলে সদর উপজেলার রজাকপুর এলাকায় ‘সাদ গুঁড়া ও চালনি মিলে’ এই অভিযান পরিচালনা করা হয়। অভিযান পরিচালনা করেন সদর উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট শেখ নওশাদ হাসান।
সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে রজাকপুর এলাকার মল্লিকা ইনের পাশের ওই মিলে অভিযান চালায় ভ্রাম্যমাণ আদালত। সেখানে দেখা যায়, দুটি বিশাল গুদামে ধানের তুষ স্তূপ করে রাখা হয়েছে এবং শ্রমিকরা তা দিয়ে পশুখাদ্য তৈরি ও প্যাকেটজাত করছেন।
স্থানীয়রা জানান, এই কারখানায় বাইরের কাউকে প্রবেশ করতে দেওয়া হতো না, ফলে ভেতরে কী কাজ হয় তা নিয়ে ধোঁয়াশা ছিল।
এদিকে অভিযান চলাকালে নওগাঁ গুঁড়া চালনি-মালিক সমিতির উপদেষ্টা মতিউর মতিন সেখানে উপস্থিত হয়ে ভ্রাম্যমাণ আদালতের কাজে বাধা দেওয়ার চেষ্টা করেন। তিনি ম্যাজিস্ট্রেটকে জরিমানা না করার জন্য অনুরোধ করেন এবং দীর্ঘ ২৫-৩০ বছর ধরে এভাবেই ব্যবসা চালিয়ে আসছেন বলে দাবি করেন। একপর্যায়ে প্রাণিসম্পদ অধিদপ্তরের লাইসেন্স কেন লাগবে এবং কেন আগে জানানো হয়নি—এমন সব প্রশ্ন তুলে তিনি ম্যাজিস্ট্রেটের সঙ্গে তর্কে লিপ্ত হন। এসময় সেখানে উত্তেজনাকর পরিস্থিতি তৈরি হয় এবং বিষয়টি স্থানীয় সংসদ সদস্যকে জানানো হবে বলে হুঁশিয়ারি দেন তিনি।
এ বিষয়ে নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট শেখ নওশাদ হাসান বলেন, অনুমোদন ছাড়াই এখানে পশুখাদ্য উৎপাদন করা হচ্ছিল। মিল মালিক ওমর ফারুক তপন উৎপাদনের সপক্ষে কোনো লাইসেন্স বা কাগজপত্র দেখাতে পারেননি। এ অপরাধে তাকে ১৫ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়েছে। অন্য ব্যবসায়ীরাও যেন এখান থেকে শিক্ষা নিয়ে বৈধভাবে ব্যবসা করেন, সেই বার্তা দেওয়া হয়েছে।
মিল মালিক ওমর ফারুক (তপন) বলেন, শুধুমাত্র ট্রেড লাইসেন্স দিয়ে তিনটি মিলে গত প্রায় ১৫-২০ বছর যাবত ব্যবসা করে আসছি। যেখানে প্রায় ২০ জন নারী-পুরুষ কাজ করেন। সরকারি দপ্তর থেকে লাইসেন্স নিতে হবে আমার জানা ছিল না।
এ বিষয়ে জানতে চাইলে নওগাঁ ‘গুড়া চালনি’ মালিক সমিতির উপদেষ্টা মতিউর মতিন বলেন, আমরা যে এলাকায় ব্যবসা করি, সেখানকার পৌরসভা বা ইউনিয়নের ট্রেড লাইসেন্স আছে। এভাবে আমরা গত ২৫-৩০ বছর থেকে ৩৬ জন ব্যবসায়ি ব্যবসা করে আসছি। কিন্তু সংশ্লিষ্ট দপ্তর থেকে লাইসেন্স নিতে হবে এমনটা জানা ছিল না বা কোনো দপ্তর আমাদের জানায়নি। এখন অভিযানে এসে প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা বলছেন লাইসেন্স করতে হবে। এটা আগে কেন আমাদের জানানো হলো না।
অভিযানে সদর উপজেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা আমিনুল ইসলামসহ সদর থানা পুলিশের একটি টিম উপস্থিত ছিলেন।
আরমান হোসেন রুমন/কেএইচকে/এএসএম
What's Your Reaction?